উত্তর : ইসলামী বই-পুস্তক একটির উপর অন্যটি রাখতে কোন অসুবিধা নেই। তবে মুছহাফ বা কুরআন গ্রন্থের উপরে ইসলামী বই-পুস্তক রাখা যাবে না। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ذٰلِکَ ٭ وَ مَنۡ یُّعَظِّمۡ شَعَآئِرَ اللّٰہِ فَاِنَّہَا مِنۡ تَقۡوَی الۡقُلُوۡبِ ‘আল্লাহর নিদর্শনকে যে সম্মান করে, এটা তার তাক্বওয়ার পরিচয়’ (সূরা আল-হজ্জ : ৩২)। আল-হাকীম আত-তিরমিযী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘মুছহাফের মর্যাদা হচ্ছে- মুছহাফকে খোলা না রাখা। এবং তার উপর অন্য কোন বই না রাখা; যাতে করে মুছহাফ সবসময় অন্য সকল কিতাবের উপরে থাকে’ (নাওয়াদিরুল উছূল, ৩য় খণ্ড, পৃ. ২৫৪)।
ইসলামী বই-পুস্তকের উপর সাংস্কৃতিক বই-পুস্তক কিংবা অন্য বিষয়ের বই-পুস্তক রাখা বাঞ্ছনীয় নয়। অনুরূপভাবে ইসলামী বই-পুস্তকের উপর অন্য কোন জিনিস পত্র যেমন-পাত্র, পোশাক-আশাক, খাবার-দাবার ইত্যাদি রাখা ঠিক নয়। কারণ এ সব গ্রন্থে আল্লাহর যিকির আছে ও ইসলামী জ্ঞান রয়েছে, যা সম্মানজনক। আল-হাইছামী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘হালিমীর মত বায়হাক্বীও বলেছেন, উত্তম হচ্ছে মুছহাফের উপর মুছহাফ ছাড়া অন্য কোন কিতাব বা কাপড় না রাখা। হালিমী এর সাথে আরও যুক্ত করেছেন যে, হাদীছের গ্রন্থাবলীও। অর্থাৎ হাদীছের গ্রন্থাবলীও মুছহাফের উপর রাখা যাবে না’ (আল-ফাতাওয়া আল-হাদীছাহ, পৃ. ১৬৪)। তবে কখনো কখনো এর বিধান হারাম পর্যায়ে পৌঁছে যেতে পারে। যদি শারঈ গ্রন্থাবলীর প্রতি অবজ্ঞা ও অপমান স্বরূপ সেটা করা হয়। ইবনুল মুফলিহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘ইবনু আব্দুল কাউয়্যি তাঁর লিখিত ‘মাজমাঊল বাহরাইন’ গ্রন্থে বলেন, ‘সর্বসম্মতিক্রমে মুছহাফের উপর, হাদীছের কিতাবের উপর কিংবা যে সব কিতাবে কিছু আয়াত আছে সে সব কিতাবের উপর ঠেক দেয়া হারাম’ (আল-আদাবুশ শারইয়্যাহ, ২য় খণ্ড, পৃ. ৩৯৩)।
প্রশ্নকারী : সামীউল ইসলাম, দারুশা, রাজশাহী।