উত্তর : কুরআন ও ছহীহ সুন্নাহর আলোকে হস্তমৈথুন করা হারাম। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘অবশ্যই সফলকাম হয়েছে মুমিনগণ।... আর যারা নিজেদের যৌনাঙ্গকে সংরক্ষিত রাখে। তবে নিজেদের স্ত্রী বা অধিকারভুক্ত দাসীগণ ব্যতীত, এতে তারা নিন্দিত হবে না। অতঃপর কেউ এদেরকে ছাড়া অন্যকে কামনা করলে, তারাই হবে সীমালংঘনকারী’ (সূরা আল-মুমিন : ১-৭)। ইমাম ইবনু কাছীর (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, উপরিউক্ত আয়াতসমূহের ভিত্তিতে ইমাম শাফিঈ (রাহিমাহুল্লাহ) স্বীয় গ্রন্থ ‘কিতাবুল উম্ম’-এর মধ্যে বলেছেন, অত্র আয়াত প্রমাণ করে যে, হস্তমৈথুন করা হারাম। কোন মুসলিম নিজের বিবাহিতা স্ত্রী এবং অধিকারভুক্ত দাসী ছাড়া অন্য কারো বা কিছুর মাধ্যমে কাম-তৃষ্ণা নিবারণ করতে পারে না।
অন্যত্র আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘আর যাদের বিয়ের সামর্থ্য নেই, আল্লাহ তাদেরকে নিজ অনুগ্রহে অভাবমুক্ত না করা পর্যন্ত তারা যেন সংযম অবলম্বন করে’ (সূরা আন-নূর : ৩৩)। রাসূল (ﷺ) বললেন, ‘যে ব্যক্তির সামর্থ্য আছে, সে যেন বিয়ে করে নেয়। কেননা বিয়ে চক্ষুকে অবনত রাখে এবং লজ্জাস্থানকে সংযত করে। আর যার সামর্থ্য নেই, সে যেন ছিয়াম পালন করে। কেননা ছিয়াম প্রবৃত্তিকে ও যৌন উত্তেজনাকে দমন করে’ (ছহীহ বুখারী হা/১৯০৫, ৫০৬৫, ৫০৬৬; ছহীহ মুসলিম, হা/১৪০০; তিরমিযী, হা/১০৮১; নাসাঈ, হা/৩২০৯; ইবনু মাজাহ, হা/১৮৪৫)। এখানে বিধান-প্রণেতা বিবাহে অসমর্থ যুবকদলকে ছিয়াম পালনের মাধ্যমে সংযম অবলম্বন করতে নির্দেশ দিয়েছেন। পরন্তু হস্তমৈথুন বৈধ হলে নিশ্চয় তার কোন ইঙ্গিত তিনি দিয়ে যেতেন। শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন,
أَمَّا الاسْتِمْنَاءُ فَالأَصْلُ فِيْهِ التَّحْرِيْمُ عِنْدَ جُمْهُوْرِ الْعُلَمَاءِ، وَعَلَى فَاعِلِهِ التَّعْزِيْرُ، وَلَيْسَ مِثْلَ الزِّنَا وَاَللهُ أَعْلَمُ
‘জামহূর আলেমর মতানুযায়ী হস্তমৈথুন করা হারাম। যে এটি করবে তাকে অবশ্যই শাস্তি পেতে হবে। তবে তা ব্যভিচারের মত নয়। আল্লাহই সর্বাধিক জ্ঞাত’ (আল-ফাতাওয়া আল-কুবরা, ৩/৪৩৯ পৃ.)।
একজন মানুষের যৌবন কালটাই হল তার জীবনের স্বর্ণ যুগ। কর্ম সম্পাদন, ক্যারিয়ার গঠন ও নেক আমল করার এটাই মুখ্য সময়। আর এই সময়েই একজন যুবককে হাতছানি দিয়ে ডাকতে থাকে অসংখ্য অশুভশক্তি। অতএব এই সময়টিকে যে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে এবং সৎ ও কল্যাণকর কাজে লাগাতে পারবে সেই-ই সফলকাম। মানব জীবনের এই নির্দিষ্ট সময়কালকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। যেমন, রাসুল (ﷺ) বলেছেন, ‘ক্বিয়ামাত দিবসে পাঁচটি বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ না হওয়া পর্যন্ত আদম সন্তানের পাদ্বয় আল্লাহ তা‘আলার নিকট হতে সরতে পারবে না।
(১) তার জীবনকাল সম্পর্কে, সে কিভাবে তা অতিবাহিত করেছে? (২) তার যৌবনকাল সম্পর্কে, সে কিভাবে তা বিনাশ বা ধ্বংস করেছে?
(৩-৪) তার ধন-সম্পদ সম্পর্কে, কোথা হতে তা উপার্জন করেছে এবং কোন্ কোন্ খাতে তা ব্যায় করেছে এবং সে যতটুকু জ্ঞানার্জন করেছিল সে অনুযায়ী কী আমল করেছে’ (তিরমিযী, হা/২৪১৬-২৪১৭; সিলসিলা ছহীহাহ, হা/৯৪৬)। অন্যত্র তিনি বলেন, ‘তোমরা পাঁচটি জিনিসকে পাঁচটি জিনিস আসার পূর্বে সুবর্ণ সুযোগ মনে কর। (১) তোমার যৌবনকালকে কাজে লাগাও বার্ধক্য আসার পূর্বে, (২) তোমার সুস্থতাকে কাজে লাগাও অসুস্থতার পূর্বে,
(৩) তোমার সচ্ছলতাকে কাজে লাগাও অসচ্ছলতা আসার পূর্বে, (৪) তোমার অবসর সময়কে কাজে লাগাও ব্যস্ততার পূর্বে এবং
(৫) আর তোমার জীবনকে কাজে লাগাও মৃত্যু আসার পূর্বে’ (ছহীহুত তারগীব, হা/৩৩৫৫; মিশকাত, হা/৫১০২)।
প্রশ্নকারী : মুহাম্মাদ শিমুল, ঢাকা।