বৃহস্পতিবার, ২৩ Jul ২০২৬, ১২:৩২ পূর্বাহ্ন
উত্তর : বিষয়টি নিয়তের উপর নির্ভরশীল। যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে নিহত হয়, সে শহীদ। আর ‘আল্লাহর পথে’ (في سبيل الله)- এর অর্থ হল- সে যুদ্ধ করে এই উদ্দেশ্যে যে, আল্লাহর কালেমা সমুন্নত হোক। এটাই যুদ্ধের ময়দানের শহীদের পরিচয়, যেমনটি নবী (ﷺ) স্পষ্ট করে বর্ণনা করেছেন। আবূ মূসা আশ‘আরী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, এক বেদুঈন নবী (ﷺ)-কে জিজ্ঞেস করল- এক ব্যক্তি যুদ্ধ করে গনীমতের জন্য, আরেক ব্যক্তি যুদ্ধ করে যেন তার নাম ছড়িয়ে পড়ে, আরেক ব্যক্তি যুদ্ধ করে যাতে তার অবস্থান দেখা যায়- এদের মধ্যে কে আল্লাহর পথে? তখন নবী (ﷺ) বললেন, مَنْ قَاتَلَ لِتَكُوْنَ كَلِمَةُ اللهِ هِيَ الْعُلْيَا فَهُوَ فِيْ سَبِيْلِ اللهِ ‘যে ব্যক্তি যুদ্ধ করে আল্লাহর কালেমা সমুন্নত করার জন্য, প্রকৃতপক্ষে সে-ই আল্লাহর পথে’ (ছহীহ বুখারী, হা/৩১২৬; ছহীহ মুসলিম, হা/১৯০৪)। তাই মুসলিম হয়েও যদি আল্লাহর কালেমাকে সুউচ্চ করার উদ্দেশ্য না করে, নিজের দুনিয়াবী স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য লড়াই করে নিহত হয়, সেই ব্যক্তি শহীদ নয়। বরং শহীদ হল সেই ব্যক্তি, যে আল্লাহর কালেমাকে উঁচু করার জন্য লড়াই করে নিহত হয় (শারহু রিয়াযিছ ছালিহীন, ইবনু উছাইমীন, ১/৬৬ পৃ.)।

শাইখ ইবনে বায (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, ‘.. নিঃসন্দেহে দ্বীন, জীবন, পরিবার, সম্পদ এবং দেশ ও দেশের জনগণকে রক্ষা করা শরী‘আততসম্মত জিহাদের অন্তর্ভুক্ত। আর যে মুসলিম এসব রক্ষায় নিহত হয়, সে শহীদ হিসাবে গণ্য হয়। নবী (ﷺ) বলেছেন, ‘যে লোক নিজের ধনমাল রক্ষা করতে গিয়ে মৃত্যুবরণ করে সে শহীদ। যে লোক নিজের দ্বীনের হিফাযত করতে গিয়ে মারা যায় সে শহীদ। যে লোক নিজের প্রাণ বাঁচাতে গিয়ে মৃত্যুবরণ করে সে শহীদ। যে লোক তার পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে গিয়ে মারা যায় সেও শহীদ’ (তিরমিযী, হা/১৪১৮-১৪২১)।

অতএব, হে প্রহরীরা! আমরা তোমাদেরকে আল্লাহভীতি অবলম্বনের, সকল কাজে একমাত্র আল্লাহর জন্য ইখলাছ বজায় রাখার, পাঁচ ওয়াক্ত ছালাত জামা‘আতের সঙ্গে আদায় করার, আল্লাহর অধিক যিকির করার, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্যে অবিচল থাকার, ঐক্য বজায় রাখার ও বিরোধ থেকে দূরে থাকার, শান্ত হৃদয়ে ধৈর্য ও দৃঢ়তা অবলম্বনের, আল্লাহর প্রতি উত্তম ধারণা রাখার এবং সকল গুনাহ থেকে সতর্ক থাকার উপদেশ দিচ্ছি’ (মাজমূঊ ফাতাওয়া ওয়া মাক্বালাতুশ শাইখ ইবনে বায, ১৮/৯২ পৃ.)।

অন্যত্র তিনি বলেন, ‘যুদ্ধ বিভিন্ন প্রকারের। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ও সর্বশ্রেষ্ঠ প্রকার হল- আল্লাহর কালেমাকে সুউচ্চ করার উদ্দেশ্যে যুদ্ধ করা। এটিই আল্লাহর পথে সংগ্রাম এবং যারা যুদ্ধ করবে তাদের প্রত্যেকের উপর এই নিয়ত আবশ্যক। যদি কেউ নিজের দেশের প্রতিরক্ষায় যুদ্ধ করে, কিন্তু তার উদ্দেশ্য হয় আল্লাহর কালেমাকে সর্বোচ্চ করা- তাহলে সেটিও আল্লাহ্র পথে সংগ্রামের অন্তর্ভুক্ত। কারণ কাফিরদের হাত থেকে দেশ মুক্ত করা আল্লাহর দ্বীন ও মুসলিমদের জন্য বিজয়।

সুতরাং সে তার যুদ্ধের নিয়ত করবে- আল্লাহর কালেমাকে সমুন্নত করা, মুসলিম ভূখণ্ডের পরিসর বৃদ্ধি করা এবং মুসলিমদের শক্তি বৃদ্ধি করা। কেবল দেশপ্রেমের জন্যই যুদ্ধ করবে- এমনটি হওয়া উচিত নয়। তবে কেউ যদি নিজের প্রাণের জন্য, নিজের ঘরের জন্য, নিজের পরিবার-পরিজনের জন্য, নিজের সন্তানদের জন্য বা নিজের দেশের জন্য লড়াই করে- তাহলে সে একজন মাযলূম (অত্যাচারিত)। আর সে যদি মুসলিম অবস্থায় নিহত হয়, তবে সে শহীদ হিসাবে গণ্য হবে। কিন্তু সে ‘আল্লাহর পথে জিহাদকারী’ নয়। আল্লাহর পথে জিহাদকারী সে-ই, যে যুদ্ধ করে এই উদ্দেশ্যে যে আল্লাহর কালেমা সুউচ্চ হোক। আর যে ব্যক্তি প্রতিরক্ষামূলকভাবে লড়াই করে, সে মাযলূম- সে নিহত হলে শহীদ; কিন্তু সে মুজাহিদ হিসাবে মুজাহিদদের পূর্ণ ফযীলত পায় না, যতক্ষণ না তার যুদ্ধের উদ্দেশ্য আল্লাহর কালেমাকে সমুন্নত করা হয়।

আর এমন কিছু যুদ্ধের ধরন আছে, যা এই স্তরের নয়। যেমন- কেউ নিজের প্রাণ রক্ষার জন্য যুদ্ধ করে, কারণ তার উপর আক্রমণ করা হয়েছে; সে নিহত হলে শহীদ। কেউ নিজের পরিবার ও সম্মান রক্ষার জন্য যুদ্ধ করে; সে নিহত হলে শহীদ ও মাযলূম। কেউ নিজের সম্পদ রক্ষার জন্য যুদ্ধ করে; সে নিহত হলে শহীদ। যেমন, নবী (ﷺ) সেই ব্যক্তিকে বলেছিলেন, যে জিজ্ঞেস করেছিল, হে আল্লাহর রাসূল! যদি কেউ আমার কাছে এসে জোরপূর্বক আমার সম্পদ নিতে চায়? তিনি বললেন, তাকে তোমার সম্পদ দিও না। সে বলল, যদি সে আমার সঙ্গে যুদ্ধ করে? তিনি বললেন, তুমিও তার সঙ্গে যুদ্ধ করো। সে বলল, যদি আমি তাকে হত্যা করি? তিনি বললেন, সে জাহান্নামে যাবে। সে বলল, আর যদি সে আমাকে হত্যা করে? তিনি বললেন, ‘তাহলে তুমি শহীদ’ (ছহীহ মুসলিম, হা/১৪০)।

অতএব প্রমাণিত হল, যে ব্যক্তি নিজের সম্পদ, নিজের প্রাণ বা নিজের নারীদের (পরিবারের সম্মান) রক্ষায় মাযলূম অবস্থায় নিহত হয়, সে শহীদ। এভাবেই যারা কাফিরদের হাত থেকে নিজেদের দেশ মুক্ত করার জন্য, অথবা কাফিরদের কবলে পতিত দেশ উদ্ধার করার জন্য, কিংবা নিজেদের ইসলামিক দলকে সাহায্য করার জন্য যুদ্ধ করে- তারা মাযলূম। কিন্তু তাদের এই যুদ্ধ সেই জিহাদ নয়, যার সম্পর্কে নবী (ﷺ) বলেছেন, যে যুদ্ধ করে যাতে আল্লাহ্র কালেমা সমুন্নত হয়, সে আল্লাহর পথে (দুরূসুশ শাইখ আব্দুল আযীয ইবন বায, ৫/১৬ পৃ.)।

তবে উমার ফারুক্ব (ﷺ) একদা খুত্ববায় বলেন, তোমরা বলে থাক যে, অমুক শহীদ, অমুক শহীদ। তোমরা এরূপ বলো না। বরং ঐরূপ বলো যেরূপ রাসূল (ﷺ) বলতেন। তা হল, যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় মৃত্যুবরণ করেছে বা নিহত হয়েছে, সে ব্যক্তিই শহীদ (আহমাদ, হা/২৮৫, সনদ হাসান; ফাৎহুল বারী, ৬/৯০ পৃ.)।


প্রশ্নকারী : আব্দুল্লাহ, বরিশাল।





প্রশ্ন (২২) : হজ্জের সময় শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ করতে হয় কী কারণে? সেখানে কি শয়তানকে বেঁধে রাখা হয়েছে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২১) : তায়াম্মুমের সঠিক পদ্ধতি কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৪) : বিবাহের অনুষ্ঠানে বা খাৎনার অনুষ্ঠানে দাওয়াত দিয়ে টাকা নেয়ার শারয়ী বিধান কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৩) : জনৈক আলেম বলেন, ফজরের পর ঘুমানো যাবে না। কারণ এই সময় বরকত নাযিল হয়। উক্ত বক্তব্য কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৯): ব্যাংকে সূদ নেয়া ব্যতীত টাকা রাখা বা সঞ্চয় করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২০) : নবী করীম (ﷺ)-এর ই‘তিকাফ কেমন ছিল? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১২) : এমন আত্মীয়-স্বজন, যারা কুফরি কালাম বা যাদু-টোনার মাধ্যমে সংসার ভেঙ্গে দেয়ার চেষ্টা করে, সংসারে অশান্তি সৃষ্টি করে, সংসারের সদস্যদের শারীরিক, মানসিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতির সম্মুখীন করে। এ ধরণের আত্মীয়দের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করলে এবং যোগাযোগ না করলে গুনাহ হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩২): ইসলামী সম্মেলনকে লক্ষ্য করে যাকাত ও উশরের টাকা আদায় করা যাবে কী? অর্থাৎ যাকাত ও উশরের টাকা দিয়ে ইসলামী সম্মেলন করা যাবে কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৯) :  ছালাতুল ইসতিখারা, ছালাতুল ইসতিসকা, ছালাতুল হাজাত, ছালাতুত তাওবাহ, সূর্য ও চন্দ্র গ্রহণের ছালাত, ইশরাক ও চাশতের ছালাত, ছালাতুয যোহা ইত্যাদি ছালাতগুলো সুন্নাতে মুওয়াক্কাদা, সুন্নাতে গায়ের মুওয়াক্কাদা, না-কি নফল ছালাত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৬) : আমার স্ত্রী ২০২২ এর মার্চ মাসে সন্তান প্রসব করেন, সে জন্য এপ্রিলে ছিয়াম রাখতে পারেননি। পরের বছর সন্তানের বয়স কম থাকায় এবং বাচ্চা যথেষ্ট বুকের দুধ পাবে না, এই জন্য ২০২৩ এর ছিয়াম ও রাখেননি বা রাখতে পারেননি। এমতাবস্থায় আবার সে কনসেপ করে এবং এই রামাযানের (২০২৪) পরেই ডেলিভারি সম্ভব্য সময়। সে জন্য এই বছরের (২০২৪) ছিয়াম রাখতেও পারবে না। তাহলে তার মোট ৩ বারের ছিয়াম ক্বাযা হচ্ছে। এই অবস্থায় শারঈ বিধান কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৪) : স্বামীর একার উপার্জনে দুই সন্তানসহ, মা-বাবা, অবিবাহিত বোন এবং একজন ভাগ্নের মোট ৮ জনের সংসার চলে। স্বামীর উপার্জন দিয়ে সবার খরচ মেটাতে গিয়ে স্ত্রীকে ন্যূনতম প্রয়োজন (মৌলিক পোশাক-প্রসাধনী) থেকেও বঞ্চিত করা হয়। অথচ অন্যদের জন্য বিলাসবহুল ভাবেই মেটানো হয়। স্বামীর বাবার ব্যাংকে ৩০ লক্ষ টাকা জমা আছে। প্রতি মাসে নতুন করে সেখানে প্রায় ১৫ হাজার টাকা জমা করা হয়। স্বামীর সংসারে তাঁর বাবা কোন খরচ করেন না। পরিবারের সমস্ত ব্যয়ভার স্বামীকে একাই বহন করতে হয়। প্রশ্ন হল- স্ত্রী ও সন্তানদের বঞ্চিত করে বাবার টাকা ব্যাংকে জমিয়ে পরিবারের সকল সদস্যের ব্যয় বহন করা কি স্ত্রী ও সন্তানদের উপর যুলম নয়? স্বামীর পক্ষে এত বড় সংসারের ব্যয়ভার বহন করতে খুবই কষ্ট হয়। কিন্তু তার বাবা-মায়ের অভিশাপের ভয়ে অমানসিক কষ্ট সহ্য করতে হয়। কারণ বাবা-মাকে কিছু বললেই তারা সংসারে অশান্তি তৈরি করেন। এই বিষয়ে ইসলাম কী বলে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১১) : যে ঘরে কুরআন আছে, সে ঘরে সম্পূর্ণ নগ্ন হয়ে কাপড় পরিবর্তন করা যাবে কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ