উত্তর : অন্যের সম্পদ আত্মসাৎ করা নিকৃষ্ট অপরাধ এবং কাবীরা গুনাহ। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘যারা অন্যায়ভাবে ইয়াতীমদের সম্পদ খায়, তারা নিজেদের পেটে আগুন ভরে নিচ্ছে। আর তারা প্রবেশ করবে জ্বলন্ত আগুনে’ (সূরা আন-নিসা : ১০)। অর্থাৎ অন্যের হক ভক্ষণ করা জাহান্নামে প্রবেশের কারণ। যার সম্পদ আত্মসাৎ করা হয়েছে, তা ফেরত না দেয়া পর্যন্ত দায় থেকে মুক্তি নেই। যার সম্পদ নেয়া হয়েছে, সে যদি জীবিত থাকে বা তার উত্তরাধিকারী থাকে, তাহলে যতটুকু নেয়া হয়েছিল, তা ফেরত দিতে হবে। কিন্তু যদি সেই ব্যক্তিকে পাওয়া না যায় অথবা সে মারা গেছে এবং উত্তরাধিকারীদের পাওয়া না যায়, তাহলে শরী‘আতের বিধান হলো- তার পক্ষ থেকে সেই পরিমাণ অর্থ ছাদাকা করে দেয়া। এতে আশা করা যায়, আল্লাহ তা কবুল করবেন। এরপর আন্তরিকভাবে তওবা করতে হবে। সেই সাথে ভবিষ্যতে এরকম না করার দৃঢ় সংকল্প করতে হবে। আল্লাহ চাইলে ক্ষমা করে দিতে পারেন। ইমাম ইবনু তাইমিয়া (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, ‘যদি যার হক নেয়া হয়েছে তাকে পাওয়া না যায়, তাহলে তার পক্ষ থেকে ছাদাক্বাহ করে দিতে হবে; এতে আশা করা যায় আল্লাহ তা কবুল করবেন’ (মাজমূঊল ফাতাওয়া, ২৯/৩২১ পৃ.)। আল্লাহর রহমতের প্রতি আশা রাখতে হবে। তিনি বলেন, ‘নিশ্চয় আল্লাহ সব গুনাহ ক্ষমা করেন’ (সূরা আয-যুমার : ৫৩)। অর্থাৎ যদি তওবা আন্তরিক হয় এবং হক আদায়ের চেষ্টা করা হয়, তাহলে আল্লাহ তা‘আলা ক্ষমা করবেন ইনশাআল্লাহ।
প্রশ্নকারী : গোলাম রাব্বী, বরিশাল।