রবিবার, ০৭ Jun ২০২৬, ০৩:৩৪ অপরাহ্ন
উত্তর : এ ধরনের পদ্ধতি থেকে বিরত থাকা উচিত। এ মর্মে আলিমদের মধ্যে দু’টি প্রসিদ্ধ মত পরিলক্ষিত হয়। প্রথম অভিমত: সঊদী আরবের স্থায়ী ফাতাওয়া কমিটির আলেমগণ বলেন, ‘এরূপ করা সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ। কেননা এটি নিষিদ্ধ জুয়ার অন্তর্ভুক্ত। আর এর নিষিদ্ধতা কুরআন, সুন্নাহ এবং ইজমা' থেকে প্রমাণিত (ফাতাওয়া আল-লাজনা আদ-দায়িমা, ১৫/১৯১ পৃ., ফৎওয়া নং-৫৮৪৭)। অন্যত্র তাঁরা বলেন, ‘বিভিন্ন প্রকারের ভয়াবহতা, আশঙ্কা, ঝুঁকি, প্রতারণা,  প্রবঞ্চনা, ধোঁকাবাজি, ঠকবাজি, জুয়াচুরি ও শঠতার কারণে হারাম করা হয়েছে। এবং এর মধ্যে অবৈধ ও অন্যায়ভাবে অন্যের সম্পদ ভক্ষণ করাও শামিল আছে। যেমন: আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন, ‘হে মুমিনগণ! মদ, জুয়া, পূর্তিপূজার বেদী ও ভাগ্য নির্ণয় করার শর তো কেবল ঘৃণার বস্তু, শয়তানের কাজ। কাজেই তোমরা সেগুলোকে বর্জন কর, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার’ (সূরা আল-মায়িদা: ৯০)। অন্যত্র তিনি বলেন, ‘হে মুমিনগণ! তোমরা একে অপরের সম্পত্তি অন্যায়ভাবে গ্রাস করো না...’ (সূরা আন-নিসা: ২৯)। হাদীছের মধ্যে নবী (ﷺ) প্রতারণামূলক ক্রয়-বিক্রয় করতে এবং কাঁকর নিক্ষেপে ক্রয়-বিক্রয় নির্ধারিত করতে নিষেধ করেছেন’ (ছহীহ মুসলিম, হা/১৫১৩; আবূ দাঊদ, হা/৩৩৭৬; তিরমিযী, হা/১২৩০; নাসাঈ, হা/৪৫১৮; ইবনু মাজাহ, হা/২১৯৪)। আল্লাহ তা‘আলা আমাদের সকলকে ভালো ও কল্যাণকর কাজ করার তাওফীক্ব দান করুন (ফাতাওয়া আল-লাজনা আদ-দায়িমা, ১৫/১৯৫-১৯৬ পৃ., ফৎওয়া নং-১৮৩২৪, ১৯৫৬০)। শায়খ ইবনে বায (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘এরূপ ক্রয়-বিক্রয় জুয়া ও প্রতারণার অন্তর্ভুক্ত। সূরা আল-মায়িদার মধ্যে আল্লাহ তা‘আলা একে হারাম ঘোষণা করেছেন (৫: ৯০)। সুতরাং শাসক, দায়িত্বশীল ও বুদ্ধিজীবীদের উচিত এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং নিষিদ্ধ ঘোষণা করা। কেননা এটি কুরআনের আদেশের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও অন্যায়ভাবে অন্যের সম্পদ ভক্ষণ করার অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ তা‘আলা সকলকে হিদায়াত দান করুন এবং সত্যের উপর প্রতিষ্ঠিত রাখুন (মাজাল্লাতুদ দাওয়াহ, সংখ্যা ১১৪৫, তারিখ ২৯/১০/১৪০৮ হি.)।

দ্বিতীয় অভিমতঃ শায়খ মুহাম্মাদ ইবনু ছালিহ আল-উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) ক্রেতার জন্য কুপনের মাধ্যমে লটারি ড্র করে পুরস্কার জেতার বিষয়টি বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করার পর দু’টি শর্ত সাপেক্ষে জায়েয করেছেন। তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে কোম্পানীগুলো তাদের ক্রেতাদের যে সমস্ত পুরস্কার দিয়ে থাকে, আমরা বলি: দু’টি শর্ত সাপেক্ষে তা দোষনীয় নয়। যথা: (ক) দ্রব্যমূল্যটা প্রকৃত অর্থেই পণ্যের বর্তমান বাজার দর হতে হবে। পুরস্কারের কারণে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি করা যাবে না। যদি পুরস্কারের কারণে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি করা হয়, তাহলে এটি জুয়া হয়ে যাবে, যা জায়েয নয়। (খ) মানুষ যেন শুধু পুরস্কার জেতার জন্য পণ্যটি ক্রয় না করে। কেউ যদি শুধু পুরস্কার জেতার জন্য ক্রয় করে, আদতে পণ্য ক্রয় করা উদ্দেশ্য না হয়, তাহলে এটি জায়েয নয়। কেননা এর মধ্যে অর্থের অপচয় রয়েছে (লিক্বাউল বাব আল-মাফতূহ, লিক্বা নং ১১৬২)। এক্ষেত্রে আমরা বিক্রেতার উদ্দেশ্যে বলব: আপনি পুরস্কারের জন্য দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি করেছেন কি-না? যদি করে থাকেন, তাহলে জায়েয নয়। কেননা যদি দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি করা হয়, আর মানুষ তা ক্রয় করে, সেক্ষেত্রে তারা হয় ক্ষতিগ্রস্ত হবে নতুবা লাভবান। উদাহরণ স্বরূপ যদি পণ্যের বাজার দর ১০ রিয়াল হয়, আর পুরস্কারের জন্য যদি তার মূল্য ১২ রিয়াল করে দেয়, তাহলে তা জায়েয নয়। কেননা এক্ষেত্রে ক্রেতা জিতলে লাভবান হবে আর না জিতলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে, আর এটাই তো জুয়া ও প্রতারণা। পক্ষান্তরে বিক্রেতা যদি বাজার দর থেকে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি না করে, সেক্ষেত্রে তার অধিকার আছে মানুষকে আকৃষ্ট ও প্রলুব্ধ করার জন্য পুরস্কার দেয়ার। অতঃপর আমরা ক্রেতার উদ্দেশ্যে বলব: আপনি কি আপনার প্রয়োজনেই পণ্যটি ক্রয় করেছেন? যদি পুরস্কার না থাকতো তবুও কি আপনি ক্রয় করতেন? না-কি আপনি শুধু পুরস্কার প্রাপ্তির জন্য ক্রয় করেছেন? যদি তিনি প্রয়োজনে ক্রয় করেছেন, তাহলে তা দোষনীয় নয়। যেহেতু দ্রব্যমূল্য বাজার দর হিসেবেই আছে এবং আপনি আপনার প্রয়োজনেই পণ্যটি ক্রয় করেছেন, সেক্ষেত্রে আপনি হয় লাভবান হবেন নতুবা নিরাপদ থাকবেন। ক্ষতির কোন ভয় নেই। পক্ষান্তরে যদি আপনি শুধু পুরস্কার জেতার জন্য ক্রয় করেছেন। সেক্ষেত্রে এটি জুয়া ও অপচয়ের অন্তর্ভুক্ত হবে। কেননা আপনি জানেন না যে, আপনি পুরস্কার পাবেন কি-না! (লিক্বাউল বাব আল-মাফতূহ, লিক্বা নং ৪৯, প্রশ্ন নং ৫)।

শায়খ ছালিহ আল-মুনাজ্জিদ (হাফিযাহুল্লাহ) বলেন, ইনশাআল্লাহ এই মতটিই দলীলের অধিক নিকটবর্তী। সুতরাং ক্রেতার অন্তর যদি এ বিষয়ে পরিতৃপ্ত হয় যে, তিনি উপরিউক্ত দু’টি শর্ত সাপেক্ষেই ক্রয়-বিক্রয় করেছেন, তবে তা দোষনীয় নয় (ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-২২৮৬২, ৯৭৬৪৮)। মোদ্দাকথা হল- যদি পুরস্কারের কুপনের কারণে পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি করা না হয় কিংবা এর মাধ্যমে ক্রেতাদেরকে ধোঁকা দেয়ার ইচ্ছা না থাকে এবং ক্রেতা শুধু পুরস্কার পাওয়ার উদ্দেশ্যেই ক্রয় করে না থাকে তাহলে, এ ধরনের কোম্পানী থেকে ক্রয়-বিক্রয় করা জায়েয হবে। সেই সাথে লটারিতে বিজয়ী হলে পুরস্কার গ্রহণ করাও জায়েয হবে। এটি মূলত মূল্য ছাড়েরই একটি পদ্ধতি। আল্লাহ তা‘আলাই অধিক অবগত।


প্রশ্নকারী : আব্দুল মালেক, রাজশাহী।





প্রশ্ন (১৫) : আমাদের দেশে অসংখ্য মহিলা গার্মেন্টস কর্মী কাজ করে থাকেন। তারা যখন কাজ করেন, তখন অনেক ক্ষেত্রেই পর্দার লঙ্ঘন হয়। তাদের ব্যাপারে ইসলামের দিক-নির্দেশনা কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩১) : এক ব্যক্তির উপর গোসল ফরয হয়েছে। সে সাধারণভাবে গোসল করেছে কিন্তু ফরয গোসলের নিয়ত করেনি। অতঃপর সে ওযূ করে ওয়াক্তের ছালাত আদায় করেছে। তার ছালাত কি শুদ্ধ হয়েছে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৫) : দু‘আ ইউনুস খতম করা কি শরী‘আত সম্মত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৪) : খুলা ত্বালাক্বের কোন ইদ্দত আছে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৩) : যদি কোন পুরুষের ছবি এডিট করে মহিলাতে রুপান্তরিত করা হয়, তাহলে কি তার কারণে কাবীরা গুনাহ হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৭) : ফজরের আযানের পর মসজিদে গিয়ে সময় থাকলে মসজিদে প্রবেশের ২ রাক‘আত পড়া যাবে কি, না সরাসরি ২ রাক‘আত সুন্নাত পড়তে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩২): ইসলামী সম্মেলনকে লক্ষ্য করে যাকাত ও উশরের টাকা আদায় করা যাবে কী? অর্থাৎ যাকাত ও উশরের টাকা দিয়ে ইসলামী সম্মেলন করা যাবে কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২) : দেশের অধিকাংশ মসজিদের মেহরাবের দক্ষিণ দেয়ালে থুথু ফেলার জন্য ছোট্ট একটি জানালা রাখা হয়। এটা কি শরী‘আত সম্মত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৫) : কাবিননামায় ত্বালাকের অধিকার দেয়া না থাকলে স্বামী তার স্ত্রীকে ত্বালাক্ব দিতে পারবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪৪) : জ্যোতির্বিদ্যা শিক্ষা করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৮) : কিডনি বা চক্ষু বিক্রি করা কি জায়েয? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৭) : সাত আসমানে সাতজন মুহাম্মাদ (ﷺ) আছেন। এই দাবী কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ