বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:২৫ পূর্বাহ্ন
উত্তর : এ ধরনের পদ্ধতি থেকে বিরত থাকা উচিত। এ মর্মে আলিমদের মধ্যে দু’টি প্রসিদ্ধ মত পরিলক্ষিত হয়। প্রথম অভিমত: সঊদী আরবের স্থায়ী ফাতাওয়া কমিটির আলেমগণ বলেন, ‘এরূপ করা সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ। কেননা এটি নিষিদ্ধ জুয়ার অন্তর্ভুক্ত। আর এর নিষিদ্ধতা কুরআন, সুন্নাহ এবং ইজমা' থেকে প্রমাণিত (ফাতাওয়া আল-লাজনা আদ-দায়িমা, ১৫/১৯১ পৃ., ফৎওয়া নং-৫৮৪৭)। অন্যত্র তাঁরা বলেন, ‘বিভিন্ন প্রকারের ভয়াবহতা, আশঙ্কা, ঝুঁকি, প্রতারণা,  প্রবঞ্চনা, ধোঁকাবাজি, ঠকবাজি, জুয়াচুরি ও শঠতার কারণে হারাম করা হয়েছে। এবং এর মধ্যে অবৈধ ও অন্যায়ভাবে অন্যের সম্পদ ভক্ষণ করাও শামিল আছে। যেমন: আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন, ‘হে মুমিনগণ! মদ, জুয়া, পূর্তিপূজার বেদী ও ভাগ্য নির্ণয় করার শর তো কেবল ঘৃণার বস্তু, শয়তানের কাজ। কাজেই তোমরা সেগুলোকে বর্জন কর, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার’ (সূরা আল-মায়িদা: ৯০)। অন্যত্র তিনি বলেন, ‘হে মুমিনগণ! তোমরা একে অপরের সম্পত্তি অন্যায়ভাবে গ্রাস করো না...’ (সূরা আন-নিসা: ২৯)। হাদীছের মধ্যে নবী (ﷺ) প্রতারণামূলক ক্রয়-বিক্রয় করতে এবং কাঁকর নিক্ষেপে ক্রয়-বিক্রয় নির্ধারিত করতে নিষেধ করেছেন’ (ছহীহ মুসলিম, হা/১৫১৩; আবূ দাঊদ, হা/৩৩৭৬; তিরমিযী, হা/১২৩০; নাসাঈ, হা/৪৫১৮; ইবনু মাজাহ, হা/২১৯৪)। আল্লাহ তা‘আলা আমাদের সকলকে ভালো ও কল্যাণকর কাজ করার তাওফীক্ব দান করুন (ফাতাওয়া আল-লাজনা আদ-দায়িমা, ১৫/১৯৫-১৯৬ পৃ., ফৎওয়া নং-১৮৩২৪, ১৯৫৬০)। শায়খ ইবনে বায (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘এরূপ ক্রয়-বিক্রয় জুয়া ও প্রতারণার অন্তর্ভুক্ত। সূরা আল-মায়িদার মধ্যে আল্লাহ তা‘আলা একে হারাম ঘোষণা করেছেন (৫: ৯০)। সুতরাং শাসক, দায়িত্বশীল ও বুদ্ধিজীবীদের উচিত এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং নিষিদ্ধ ঘোষণা করা। কেননা এটি কুরআনের আদেশের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও অন্যায়ভাবে অন্যের সম্পদ ভক্ষণ করার অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ তা‘আলা সকলকে হিদায়াত দান করুন এবং সত্যের উপর প্রতিষ্ঠিত রাখুন (মাজাল্লাতুদ দাওয়াহ, সংখ্যা ১১৪৫, তারিখ ২৯/১০/১৪০৮ হি.)।

দ্বিতীয় অভিমতঃ শায়খ মুহাম্মাদ ইবনু ছালিহ আল-উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) ক্রেতার জন্য কুপনের মাধ্যমে লটারি ড্র করে পুরস্কার জেতার বিষয়টি বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করার পর দু’টি শর্ত সাপেক্ষে জায়েয করেছেন। তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে কোম্পানীগুলো তাদের ক্রেতাদের যে সমস্ত পুরস্কার দিয়ে থাকে, আমরা বলি: দু’টি শর্ত সাপেক্ষে তা দোষনীয় নয়। যথা: (ক) দ্রব্যমূল্যটা প্রকৃত অর্থেই পণ্যের বর্তমান বাজার দর হতে হবে। পুরস্কারের কারণে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি করা যাবে না। যদি পুরস্কারের কারণে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি করা হয়, তাহলে এটি জুয়া হয়ে যাবে, যা জায়েয নয়। (খ) মানুষ যেন শুধু পুরস্কার জেতার জন্য পণ্যটি ক্রয় না করে। কেউ যদি শুধু পুরস্কার জেতার জন্য ক্রয় করে, আদতে পণ্য ক্রয় করা উদ্দেশ্য না হয়, তাহলে এটি জায়েয নয়। কেননা এর মধ্যে অর্থের অপচয় রয়েছে (লিক্বাউল বাব আল-মাফতূহ, লিক্বা নং ১১৬২)। এক্ষেত্রে আমরা বিক্রেতার উদ্দেশ্যে বলব: আপনি পুরস্কারের জন্য দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি করেছেন কি-না? যদি করে থাকেন, তাহলে জায়েয নয়। কেননা যদি দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি করা হয়, আর মানুষ তা ক্রয় করে, সেক্ষেত্রে তারা হয় ক্ষতিগ্রস্ত হবে নতুবা লাভবান। উদাহরণ স্বরূপ যদি পণ্যের বাজার দর ১০ রিয়াল হয়, আর পুরস্কারের জন্য যদি তার মূল্য ১২ রিয়াল করে দেয়, তাহলে তা জায়েয নয়। কেননা এক্ষেত্রে ক্রেতা জিতলে লাভবান হবে আর না জিতলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে, আর এটাই তো জুয়া ও প্রতারণা। পক্ষান্তরে বিক্রেতা যদি বাজার দর থেকে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি না করে, সেক্ষেত্রে তার অধিকার আছে মানুষকে আকৃষ্ট ও প্রলুব্ধ করার জন্য পুরস্কার দেয়ার। অতঃপর আমরা ক্রেতার উদ্দেশ্যে বলব: আপনি কি আপনার প্রয়োজনেই পণ্যটি ক্রয় করেছেন? যদি পুরস্কার না থাকতো তবুও কি আপনি ক্রয় করতেন? না-কি আপনি শুধু পুরস্কার প্রাপ্তির জন্য ক্রয় করেছেন? যদি তিনি প্রয়োজনে ক্রয় করেছেন, তাহলে তা দোষনীয় নয়। যেহেতু দ্রব্যমূল্য বাজার দর হিসেবেই আছে এবং আপনি আপনার প্রয়োজনেই পণ্যটি ক্রয় করেছেন, সেক্ষেত্রে আপনি হয় লাভবান হবেন নতুবা নিরাপদ থাকবেন। ক্ষতির কোন ভয় নেই। পক্ষান্তরে যদি আপনি শুধু পুরস্কার জেতার জন্য ক্রয় করেছেন। সেক্ষেত্রে এটি জুয়া ও অপচয়ের অন্তর্ভুক্ত হবে। কেননা আপনি জানেন না যে, আপনি পুরস্কার পাবেন কি-না! (লিক্বাউল বাব আল-মাফতূহ, লিক্বা নং ৪৯, প্রশ্ন নং ৫)।

শায়খ ছালিহ আল-মুনাজ্জিদ (হাফিযাহুল্লাহ) বলেন, ইনশাআল্লাহ এই মতটিই দলীলের অধিক নিকটবর্তী। সুতরাং ক্রেতার অন্তর যদি এ বিষয়ে পরিতৃপ্ত হয় যে, তিনি উপরিউক্ত দু’টি শর্ত সাপেক্ষেই ক্রয়-বিক্রয় করেছেন, তবে তা দোষনীয় নয় (ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-২২৮৬২, ৯৭৬৪৮)। মোদ্দাকথা হল- যদি পুরস্কারের কুপনের কারণে পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি করা না হয় কিংবা এর মাধ্যমে ক্রেতাদেরকে ধোঁকা দেয়ার ইচ্ছা না থাকে এবং ক্রেতা শুধু পুরস্কার পাওয়ার উদ্দেশ্যেই ক্রয় করে না থাকে তাহলে, এ ধরনের কোম্পানী থেকে ক্রয়-বিক্রয় করা জায়েয হবে। সেই সাথে লটারিতে বিজয়ী হলে পুরস্কার গ্রহণ করাও জায়েয হবে। এটি মূলত মূল্য ছাড়েরই একটি পদ্ধতি। আল্লাহ তা‘আলাই অধিক অবগত।


প্রশ্নকারী : আব্দুল মালেক, রাজশাহী।





প্রশ্ন (২) : অর্থ বুঝে কুরআন তেলাওয়াত করা কি অপরিহার্য? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১০) : সূরা আল-বাক্বারাহ ২৬৯ নং আয়াতে ‘হিকমাহ’ বলতে কী বুঝানো হয়েছে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৯) : ‘ফাযায়েলে কুরআন’ গ্রন্থে উল্লেখ আছে যে, ‘ছালাতে কুরআন তেলাওয়াত করা ছালাতের বাইরে কুরআন তেলাওয়াত করা অপেক্ষা উত্তম। ছালাতের বাইরে কুরআন তেলাওয়াত করা ‘সুবহানাল্লাহ’ ও ‘আল্লাহু আকবার’ বলার চেয়ে উত্তম। ‘সুবহানাল্লাহ’ বলা ছাদাক্বাহ হতে উত্তম; ছাদাক্বাহ ছিয়াম হতে উত্তম। আর ছিয়াম হচ্ছে জাহান্নামের ঢাল স্বরূপ’ (বায়হাক্বী, শু‘আবুল ঈমান, হা/২০৯৫; মিশকাত, হা/২১৬৬; বঙ্গানুবাদ মিশকাত, হা/২০৬২; ফাযায়েলে আমল, পৃ. ২৩০)। উল্লিখিত বক্তব্যগুলো কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩) : রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কি সামনে ও পিছনে উভয় দিকে দেখতে পেতেন? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৩) : ‘আমি তখনও ছিলাম নবী; আদম (আলাইহিস সালাম) যখন রূহ এবং দেহের মধ্যে ছিলেন’ (আহমাদ, হা/১৭১৬৩; সিলসিলা ছহীহাহ, হা/৩৭৩) মর্মে হাদীছটি কি ছহীহ? এই হাদীছের সঠিক ব্যাখ্যা কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৫) : জনৈক ব্যক্তির আয়-উপার্জন থাকা সত্ত্বেও পিঠের নিচের অংশে তীব্র ব্যথার কারণে বিবাহ করার ক্ষেত্রে পেরেশানে আছে। বিয়ে করবে; না-কি করব না? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৯) : কবরে মৃত ব্যক্তি কী ধরনের প্রশ্নের মুখোমুখি হয়ে থাকে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৭) : ইজমা ও ক্বিয়াসের হুকুম কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১২) : ‘সূরা ফাতেহা সকল রোগের ঔষধ’ কথাটি কি ঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৯) : জামে মসজিদের কমিটির পদ নিয়ে দুই দলের মধ্যে কোন্দল হয়। ২য় দলটির মনের মত প্রার্থীকে কমিটিতে না নেয়ায় তারা উক্ত মসজিদ থেকে ১০০ বা ২০০ মিটার দূরে নতুন জামে মসজিদ তৈরি করেছে এবং তারা সেখানে জুম‘আহ আরম্ভ করেছে। প্রশ্ন হল- উক্ত কারণে মসজিদ বিভক্ত করা এবং নতুন মসজিদে ছালাত আদায় করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৭) : রজব মাসের নির্দিষ্ট কোন ইবাদত আছে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৫০) : কারো কাছে জমানো টাকা এবং ব্যবসায় বিনিয়োগ করা টাকা মিলে যাকাতের নিছাবের চেয়ে বেশি অর্থ আছে। কিন্তু ঋণ রয়েছে উক্ত অর্থের চেয়ে বেশি। এখন কি তার উপর যাকাত ফরয? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

ফেসবুক পেজ