রবিবার, ০৭ Jun ২০২৬, ০১:০০ অপরাহ্ন
উত্তর : দাড়ি রাখা ওয়াজিব। দাড়ি রাখার মাধ্যমে অগ্নিপূজক, মূর্তিপূজক, ইহুদী এবং খ্রিষ্টানদের বিরোধিতা করা হয় (ছহীহ মুসলিম, হা/২৫৯, ২৬০; মুসনাদে আহমাদ, হা/৮৬৫৭)। হাদীছ থেকে বুঝা যায়, পারস্যের অধিবাসী ও কাফের, মুশরিক, ইহুদী, খ্রীষ্টানদের অভ্যাস ছিল, তারা দাড়ি খাট করত। অতঃপর শরী‘আতে তা নিষিদ্ধ করা হয়েছে (নায়লুল আওত্বার, ১ম খণ্ড, পৃ. ১৫৯)। রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, وَأَعْفُوا اللِّحَى ‘তোমরা দাড়ি ছেড়ে দিবে’ (ছহীহ বুখারী, হা/৫৮৯৩)। দাড়ি রাখার অর্থ হল- তা বৃদ্ধি করা, পরিপূর্ণরূপে ছেড়ে দেয়া এবং কেটে না ফেলা। হাদীছে দাড়ি ছেড়ে দেয়ার নির্দেশনা সম্বলিত পাঁচটি (أَعْفُوا وَأَوْفُوا وَأَرْخُوا وَأَرْجُوا وَوَفِّرُوا) বর্ণনা এসেছে (ছহীহ বুখারী, হা/৫৮৯২; ছহীহ মুসলিম, হা/২৫৯, ২৬০; নাসাঈ, হা/৫০৪৬)। প্রত্যেকটি অর্থই হল দাড়িকে তার নিজ অবস্থায় ছেড়ে দেয়া। এটাই হাদীছের প্রকাশ্য ও স্পষ্ট অর্থ (শারহুন নববী ছহীহ মুসলিম, ৩য় খণ্ড, পৃ. ১৫১; তুহফাতুল আহওয়াযী, ৮ম খণ্ড, পৃ. ৩৮)। সালাফে ছালেহীন হাদীছের এই প্রকাশ্য ও স্পষ্ট অর্থই গ্রহণ করেছেন।

ইবনু ওমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) হজ্জ বা ‘ওমরার সময় তাঁর দাড়ির এক মুষ্টির অতিরিক্ত কেটে ফেলতেন (ছহীহ বুখারী, হা/৫৮৯২) মর্মে যে বক্তব্য এসেছে, তা তার ব্যক্তিগত আমল ও বুঝ। তাছাড়া এটা কেবল হজ্জ ও ওমরার সাথে সম্পৃক্ত। তাই রাসূল   (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বক্তব্য ও আমলকেই আঁকড়ে ধরতে হবে (আহযাব ২১)। কারণ রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে দাড়ি কাটা, ছাঁটা, একমুষ্টি রাখার পক্ষে কোন ছহীহ বর্ণিত হয়নি। ইমাম নববী (রাহিমাহুল্লাহ) দাড়ি কাটা এবং ছেড়ে দেয়ার পক্ষে-বিপক্ষে বিস্তারিত আলোচনা করার পর বলেছেন, সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য বক্তব্য হল,  تَرْكُ اللِّحْيَةِ عَلَى حَالِهَا ‘দাড়িকে তার নিজ অবস্থায় ছেড়ে দেয়া’ (শারহুন নববী ‘আলা ছহীহিল মুসলিম, ৩য় খণ্ড, পৃ. ১৫১)। অতএব দাড়িকে ছেড়ে দেয়াই রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর আদর্শের অনুসরণ। উল্লেখ্য যে, নবী করীম (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) স্বীয় দাড়ি প্রস্থ এবং দৈর্ঘ্য হতে ছেঁটে নিতেন মর্মে বর্ণনাটি জাল (তিরমিযী, হা/২৭৬২; সিলসিলা যঈফাহ, হা/২৮৮; ১ম খণ্ড, পৃ. ৪৫৬)।


প্রশ্নকারী : আহসান হাবীব, নওগাঁ।





প্রশ্ন (২২): ‘দাতা ব্যক্তি আল্লাহর নিকটবর্তী, জান্নাতের নিকটবর্তী, মানুষেরও নিকটবর্তী, জাহান্নাম হতে দূরবর্তী। আর কৃপণ ব্যক্তি আল্লাহ হতে দূরবর্তী, জান্নাত হতে দূরবর্তী, মানুষ হতেও দূরবর্তী, নিকটবর্তী। নিশ্চয় মূর্খ দানশীল কৃপণ জ্ঞানী অপেক্ষা আল্লাহর নিকট অধিক প্রিয়’- মর্মে বর্ণনাটি কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৬) : কোন্ কোন্ দিন ছিয়াম পালন করা নিষেধ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৮) : আমি দীর্ঘদিন থেকে একটি মেয়ের সাথে যেনায় লিপ্ত। অনেকবার ছাড়তে চেয়েও পারিনি। আমি লজ্জায় কিছুই করতে পারি না। কী কী কাজ করলে আমি এটা থেকে বের হয়ে আসতে পারি? কিভাবে তওবাহ করতে পারি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২২) : পাত্রীর পরিবারে কারো কারো সন্তান হচ্ছে না, বিয়ের প্রস্তাবকারী ছেলেকে এ কথা অবহিত করা কি আবশ্যক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩০) : একই পশুতে কুরবানী ও আক্বীক্বার নিয়ত করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১) : ওহাবী কাদেরকে বলা হয়? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৫) : ‘জুমু‘আহ মুবারক’- বলা কি জায়েয? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৮) : লায়লাতুল ক্বদরের দু‘আটি প্রত্যেক ফরয ছালাতের শেষে পড়া যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৯) : মৃত ব্যক্তির নামে ইফতার মাহফিল করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৬) : ছিয়ামের ফিদিয়া কোন্ ব্যক্তি পাবে? কতটুকু দিতে হবে এবং কোন্ খাদ্য দিয়ে আদায় করতে হবে? খাদ্যের পরিবর্তে টাকা দিয়ে আদায় করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২২) : জনৈক মহিলা বিয়ের সময় প্রায় ১২ ভরি স্বর্ণ পেয়েছিল। তার অন্য কোন আয় নেই। শুধু স্বামী কিছু হাত খরচ দেন। এক্ষণে ঐ স্বর্ণের যাকাত মহিলা নিজে দিবে, না তার স্বামী দিবেন? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪০) : আবূ হুরায়রাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ‘এমন সময় খুব বেশি দূরে নয়, মানুষ যখন জ্ঞানের সন্ধানে উটের কলিজায় আঘাত করবে (অর্থাৎ উটে আরোহণ করে দুনিয়া ঘুরে বেড়াবে)। কিন্তু মদীনার আলিমদের চেয়ে বড় কোন আলিম কোথাও খুঁজে পাবে না’ (তিরমিযী, হা/২৬৮০; মিশকাত, হা/২৪৬) মর্মে বর্ণিত হাদীছটি কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ