রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:১২ অপরাহ্ন
উত্তর : ইসলামে সত্য গোপন করা একটি মারাত্মক গুনাহ এবং এটি আলেম ও জ্ঞানীদের ওপর আল্লাহ্‌র পক্ষ থেকে দেয়া আমানতের খেয়ানত। সত্য প্রকাশ না করলে যদি মানুষের দ্বীনী ক্ষতি হয়, তবে তা প্রকাশ করা ওয়াজিব। আল্লাহ তা‘আলা আহলে কিতাবদের (ইহুদী ও খ্রিস্টান) সত্য গোপন করার কারণে তীব্র নিন্দা করেছেন। তিনি বলেন, ‘নিশ্চয় যারা গোপন করে সুস্পষ্ট প্রমাণাদি ও হেদায়াত, যা আমি মানুষের জন্য কিতাবে সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করার পরও, তাদের প্রতি আল্লাহ অভিসম্পাত করেন এবং অভিসম্পাতকারীরাও অভিসম্পাত করে’ (সূরা আল-বাক্বারাহ : ১৫৯)।
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আখেরাতের শাস্তির ভয় দেখিয়েছেন, مَنْ سُئِلَ عَنْ عِلْمٍ فَكَتَمَهُ أُلْجِمَ بِلِجَامٍ مِنْ نَارٍ يَوْمَ الْقِيَامَةِ ‘যাকে কোন জ্ঞান সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলো, আর সে তা গোপন করল, ক্বিয়ামতের দিন তাকে আগুনের লাগাম পরানো হবে’ (তিরমিযী, হা/২৬৪৯)। এই দলীলগুলোর ভিত্তিতে স্পষ্ট যে, সত্য গোপন করা মূলত হারাম (নিষিদ্ধ)।

ফিতনার আশঙ্কায় সত্য প্রকাশের নীতি :  শরী‘আতের একটি গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতি হল, বড় ক্ষতি বা বিশৃঙ্খলা এড়ানোর জন্য সাময়িকভাবে ছোট ক্ষতি বা সুবিধা ত্যাগ করা যেতে পারে। যখন কোন সত্য প্রকাশ করলে সমাজে তার চেয়ে বড় ধরনের ফিতনা (যেমন, মুসলিমদের মধ্যে রক্তপাত, অনৈক্য বা চরম ধর্মীয় বিচ্ছেদ) সৃষ্টি হওয়ার নিশ্চিত আশঙ্কা থাকে, তখন সাময়িক কৌশল হিসাবে সেই সত্য প্রকাশে বিলম্ব করা যেতে পারে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) চেয়েছিলেন কা‘বা ঘরকে ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম)-এর মূল ভিত্তির ওপর নির্মাণ করতে, কিন্তু তিনি তা করেননি। তিনি এর কারণ উল্লেখ করে বলেন, ‘যদি তোমার ক্বওমের লোকেরা সম্প্রতি ইসলাম গ্রহণ না করত, তাহলে আমি কা‘বা ভেঙ্গে ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম)-এর ভিত্তির ওপর নির্মাণ করতাম’ (ছহীহ বুখারী, হা/১২৬)। রাসূল (ﷺ) এই ক্ষেত্রে সদ্য ইসলাম গ্রহণকারীদের মধ্যে ফিতনা বা বিভ্রান্তি সৃষ্টির আশঙ্কায় একটি সত্য বাস্তবায়ন থেকে বিরত থেকেছেন।


প্রশ্নকারী : মোস্তফা মনোয়ার, রংপুর।





প্রশ্ন (২০) : ছাগীরা গুনাহের পরিচয় ও পরিণাম কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩০) : ওযূ করার সময় মুখে ও নাকে পানি দেয়ার সঠিক পদ্ধতি কোনটি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৭) : তারাবীহর ছালাত দীর্ঘ করে পড়া ভাল, না-কি সংক্ষিপ্ত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৪) : স্বর্ণ ও রৌপ্যের নিছাব কত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৭) : আমি একজন অটো ড্রাইভার। অভাব-অনটনের কারণে বছর খানেক আগে NGO থেকে দুই লাখ টাকা লোন নিয়েছিলাম, যার কিস্তি এখনো চলমান। পরবর্তীতে জানতে পারি যে, সূদ ভিত্তিক লোন দেয়া-নেয়া দুটোই হারাম কাজ। এখন আমি তাওবাহ করতে চাচ্ছি। সেক্ষেত্রে কি লোন শোধ করে তাওবাহ করতে হবে, না-কি কিস্তি চলমান অবস্থায় তাওবাহ করলে হয়ে যাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১০) : হাদীছে এসেছে, ‘যা তোমার হাতে নেই তা বিক্রি করো না’ (আবূ দাঊদ, হা/৩৫০৩)। এই হাদীছের সঠিক ব্যাখ্যা কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩০) : আট বছর বয়সে শিশু মারা গেলে তার কি গোসল দিতে হবে ও তার জানাযার ছালাত পড়তে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২১) : তামাক চাষ করে সেই তামাক বিক্রি করা টাকা দিয়ে কুরবানী করা জায়েয হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪) : কুরআন এবং ছহীহ হাদীছে কয়টি আসমান ও কয়টি যমীনের কথা বলা হয়েছে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪) : জন্মদিন লিখে কেক তৈরি করা ও তা বিপণন করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৮) : কেউ যদি কবিরাজ দ্বারা টাকার বিনিময়ে জাদু করায়, তাহলে সে কি কাফির হয়ে যায়? শরী‘আতে জাদুর বিধান কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩১) : ‘ইহুদীরা সালাম দেয় আঙ্গুলের ইশারায় আর খ্রিষ্টানরা সালাম দেয় হাতের তালুর ইশারায়’ মর্মে বর্ণিত হাদীছটি কি সহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

ফেসবুক পেজ