উত্তর : ইসলামে সত্য গোপন করা একটি মারাত্মক গুনাহ এবং এটি আলেম ও জ্ঞানীদের ওপর আল্লাহ্র পক্ষ থেকে দেয়া আমানতের খেয়ানত। সত্য প্রকাশ না করলে যদি মানুষের দ্বীনী ক্ষতি হয়, তবে তা প্রকাশ করা ওয়াজিব। আল্লাহ তা‘আলা আহলে কিতাবদের (ইহুদী ও খ্রিস্টান) সত্য গোপন করার কারণে তীব্র নিন্দা করেছেন। তিনি বলেন, ‘নিশ্চয় যারা গোপন করে সুস্পষ্ট প্রমাণাদি ও হেদায়াত, যা আমি মানুষের জন্য কিতাবে সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করার পরও, তাদের প্রতি আল্লাহ অভিসম্পাত করেন এবং অভিসম্পাতকারীরাও অভিসম্পাত করে’ (সূরা আল-বাক্বারাহ : ১৫৯)।
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আখেরাতের শাস্তির ভয় দেখিয়েছেন, مَنْ سُئِلَ عَنْ عِلْمٍ فَكَتَمَهُ أُلْجِمَ بِلِجَامٍ مِنْ نَارٍ يَوْمَ الْقِيَامَةِ ‘যাকে কোন জ্ঞান সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলো, আর সে তা গোপন করল, ক্বিয়ামতের দিন তাকে আগুনের লাগাম পরানো হবে’ (তিরমিযী, হা/২৬৪৯)। এই দলীলগুলোর ভিত্তিতে স্পষ্ট যে, সত্য গোপন করা মূলত হারাম (নিষিদ্ধ)।
ফিতনার আশঙ্কায় সত্য প্রকাশের নীতি : শরী‘আতের একটি গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতি হল, বড় ক্ষতি বা বিশৃঙ্খলা এড়ানোর জন্য সাময়িকভাবে ছোট ক্ষতি বা সুবিধা ত্যাগ করা যেতে পারে। যখন কোন সত্য প্রকাশ করলে সমাজে তার চেয়ে বড় ধরনের ফিতনা (যেমন, মুসলিমদের মধ্যে রক্তপাত, অনৈক্য বা চরম ধর্মীয় বিচ্ছেদ) সৃষ্টি হওয়ার নিশ্চিত আশঙ্কা থাকে, তখন সাময়িক কৌশল হিসাবে সেই সত্য প্রকাশে বিলম্ব করা যেতে পারে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) চেয়েছিলেন কা‘বা ঘরকে ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম)-এর মূল ভিত্তির ওপর নির্মাণ করতে, কিন্তু তিনি তা করেননি। তিনি এর কারণ উল্লেখ করে বলেন, ‘যদি তোমার ক্বওমের লোকেরা সম্প্রতি ইসলাম গ্রহণ না করত, তাহলে আমি কা‘বা ভেঙ্গে ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম)-এর ভিত্তির ওপর নির্মাণ করতাম’ (ছহীহ বুখারী, হা/১২৬)। রাসূল (ﷺ) এই ক্ষেত্রে সদ্য ইসলাম গ্রহণকারীদের মধ্যে ফিতনা বা বিভ্রান্তি সৃষ্টির আশঙ্কায় একটি সত্য বাস্তবায়ন থেকে বিরত থেকেছেন।
প্রশ্নকারী : মোস্তফা মনোয়ার, রংপুর।