উত্তর : না, এভাবে কোন সূরা, আয়াত বা দু‘আ লিখে তা ঝুলিয়ে রাখা যাবে না। কেননা তা ঝুলিয়ে রাখার ব্যাপারে রাসূল (ﷺ), ছাহাবায়ে কেরাম ও তাবেঈনের পক্ষ থেকে কোন আমল পাওয়া যায় না। বরং এতে কুরআন-হাদীছের অবমাননার আশঙ্কা রয়েছে। কখনো তা পড়ে ভেঙে যায়, কখনো পায়ের নিচে পড়ে ইত্যাদি। আর যদি তা বরকত হাছিলের উদ্দেশ্যে কিংবা কোন বালা-মুছীবত হতে রক্ষা পাওয়ার উদ্দেশ্যে ঝুলিয়ে রাখা হয়, তবে শিরক হবে। মহান আল্লাহ বলেন,
وَ اِنۡ یَّمۡسَسۡکَ اللّٰہُ بِضُرٍّ فَلَا کَاشِفَ لَہٗۤ اِلَّا ہُوَ ؕ وَ اِنۡ یَّمۡسَسۡکَ بِخَیۡرٍ فَہُوَ عَلٰی کُلِّ شَیۡءٍ قَدِیۡرٌ
‘আর যদি আল্লাহ্ আপনাকে কোন দুর্দশা দ্বারা স্পর্শ করেন, তবে তিনি ছাড়া তা মোচনকারী আর কেউ নেই। আর যদি তিনি আপনাকে কোন কল্যাণ দ্বারা স্পর্শ করেন, তবে তিনি তো সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান’ (সূরা আল-আন‘আম : ১৭)।
তাবীয-কবয করা শিরক। কুরআনের আয়াত দ্বারা তাবীয ব্যবহারের ক্ষেত্রে সামান্য মতানৈক্য থাকলেও সর্বাধিক বিশুদ্ধ বক্তব্য হল এটি হারাম। তৃতীয়তঃ ঝাড়ফুঁক করা বা পানি তেল পড়া খাওয়া পান করা বৈধ, যদি কুরআন অথবা হাদীছের আয়াত অথবা দু‘আ দিয়ে করা হয় কোন শিরকী কালাম না থাকে। তিন শর্তে ঝাড়-ফুঁক করা জায়েয।
(১) ঝাড়-ফুঁক কুরআন-সুন্নাহ অথবা আল্লাহর নাম ও গুণাবলীর মাধ্যমে হতে হবে।
(২) ঝাড়-ফুঁক আরবী ভাষায় হতে হবে। আরবী ব্যতীত অন্য ভাষায় হলে তার অর্থ বোধগম্য হতে হবে এবং শিরক থেকে মুক্ত হতে হবে।
(৩) ঝাড়-ফুঁক নিজস্ব ক্ষমতা বলেই উপকার করবে- এই বিশ্বাস পোষণ করা যাবে না। বরং ঝাড়-ফুঁককারী এবং যাকে ঝাড়-ফুঁক করা হবে, সে বিশ্বাস করবে যে আল্লাহর নির্ধারণ অনুযায়ীই এটি উপকার করে অথবা অকল্যাণ প্রতিহত করে থাকে। সুতরাং ঝাড়-ফুঁক করা জায়েয।
ছহীহ হাদীছে বর্ণিত আছে যে, নবী (ﷺ) নিজেকে ঝাড়-ফুঁক করেছেন। তিনি অন্যকেও ঝাড়-ফুঁক করেছেন। তাকে ঝাড়-ফুঁক করা হয়েছে মর্মেও ছহীহ হাদীছে বর্ণিত হয়েছে। জিবরীল ফেরেশতা তাকে ঝাড়-ফুঁক করেছেন। আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)ও তাঁকে ঝাড়-ফুক করেছেন। জিবরীল ফেরেশ্তা নবী (ﷺ)-কে ঝাড়-ফুঁক করার সময় বলেছেন,
بسْمِ اللهِ أَرْقِيْكَ مِنْ كُلِّ شَيْءٍ يُؤْذِيْكَ مِنْ شَرِّ كُلِّ نَفْسٍ أَوْ عَيْنِ حَاسِدٍ اللهُ يَشْفِيْكَ بِاسْمِ اللهِ أَرْقِيْكَ
‘আল্লাহর নামে আমি আপনাকে ঝাড়ফুঁক (রুকইয়া) করছি, প্রত্যেক এমন জিনিস থেকে যা আপনাকে কষ্ট দেয়। প্রত্যেক প্রাণীর অনিষ্ট থেকে কিংবা হিংসুকের কুদৃষ্টি থেকে। আল্লাহ আপনাকে শিফা দান করুন। আল্লাহর নামেই আমি আপনাকে ঝাড়ফুঁক করছি’ (ছহীহ মুসলিম, হা/২১৮৬)।
প্রশ্নকারী : সিমিন, ময়মনসিংহ।