সোমবার, ১৯ মে ২০২৫, ০৩:৩০ অপরাহ্ন
উত্তর : এমন প্রত্যেক গুনাহ যে সম্পর্কে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (ﷺ) ইহকালীন দণ্ড (যেমনঃ হাত কর্তন, প্রস্তরাঘাত করে মৃত্যুদণ্ড, বেত্রাঘাত ইত্যাদি) ও পরকালীন শাস্তির (যেমন কবরের আযাব, জাহান্নামের আগুনে নিক্ষেপ ইত্যাদি) ঘোষণা করা করেছেন। আর যে ব্যাপারে লা‘নত, অভিসম্পাত, রাগ, গযব, ক্রোধ অথবা আগুনের শাস্তির ঘোষণা করা হয়েছে, সেগুলোই কাবীরা বা বড় গুনাহ। পক্ষান্তরে ছাগীরা বা ছোট গুনাহের পরিচয়ের ব্যাপারে ইবনু আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, যে গুনাহ সম্পর্কে ইহকালীন দণ্ড ও পরকালীন শাস্তির ঘোষণা করা হয়েছে সেগুলো ব্যতীত অন্যান্য নিম্ন পর্যায়ের গুনাহ্, এবং যে ব্যাপারে লানত, অভিসম্পাত, রাগ, গজব, ক্রোধ অথবা আগুনের শাস্তির ঘোষণা করা হয়নি, সেগুলোই ছাগীরাহ বা গুনাহ (মাজমূঊল ফাতাওয়া ইবনে তাইমিয়্যাহ, ১১/৬৫০-৬৫২ পৃ.; ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-২৮৭৫৯২)।

সুতরাং যে সকল গুনাহ কাবীরা পর্যায়ের নয় সেগুলোই ছাগীরাহ্ গুনাহ। তাহলে ছাগীরা গুনাহের সংখ্যা সম্পর্কে জানতে হলে আগে কাবীরা গুনাহের সংখ্যা সম্পর্কে জানতে হবে। লক্ষণীয় বিষয় হল- কাবীরা গুনাহ তাওবাহ ব্যতীত মাফ হয় না। অপরদিকে যে সকল ছাগীরা গুনাহের ব্যাপারে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (ﷺ) সতর্ক করেছেন কিন্তু কোন শাস্তির কথা বলেননি, সেগুলো তাওবাহ ছাড়াও বিভিন্ন প্রকার সৎ ও নেক আমলের দ্বারা মাফ হয়ে যায়। যেমন রাসূল (ﷺ) বলেন, ‘পাঁচ ওয়াক্ত ছালাত, এক জুমু‘আহ হতে আরেক জুমু‘আহ, এক রামাযান হতে আরেক রামাযান এর মধ্যবর্তী সকল গোনাহের জন্য কাফ্ফারা হবে যদি কাবীরাহ গোনাহ সমূহ থেকে বিরত থাকা যায়’ (ছহীহ মুসলিম, হা/২৩৩; তিরমিযী, হা/২১৪)। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘যারা ছোট-খাটো অপরাধ ব্যতীত গুরুতর পাপ ও অশ্লীল কার্য হতে বিরত থাকে। নিশ্চয় তোমার প্রতিপালক অপরিসীম ক্ষমাশীল’ (সূরা আন-নাজম : ৩২)।

তবে ইমাম নববী (রাহিমাহুল্লাহ), ইমাম ইবনুল ক্বাইয়িম (রাহিমাহুল্লাহ), শায়খ আল-উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) সহ কিছু বিজ্ঞ আলিম বলেছেন, ‘ছাগীরা গুনাহ বার বার করতে থাকলে তা কাবীরা গুনাহে পরিণত হয়’ (শারহুন নাবাবী আলা মুসলিম, ২/৮৭; ইগাছাতুল লাহ্ফান, ২/১৫১; লিক্বাউল বাব আল-মাফতূহ, ৫/১৭২ পৃ.)। শায়খুল ইসলাম ইমাম ইবনু তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, যেমন, পরনারীর প্রতি দৃষ্টিপাত করা ছাগীরা গুনাহ্। কিন্তু কেউ বার বার তাকালে তা কাবীরা গুনাহে পরিণত হয় (মাজমূঊল ফাতাওয়া ইবনে তাইমিয়্যাহ, ১৫/২৯৩ পৃ.)। তাই শাস্তি বা দণ্ডের ঘোষণা করা হয়নি বলে ছাগীরা গুনাহকে তুচ্ছ মনে করা যাবে না। রাসূল (ﷺ) আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-কে সতর্ক করে বলেন, ‘হে আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)! ক্ষুদ্র গুনাহ থেকেও সাবধান হও। কারণ সেগুলোর জন্যও আল্লাহর নিকট জবাবদিহি করতে হবে’ (ইবনু মাজাহ, হা/৪২৪৩; আহমাদ, হা/২৩৮৯৪, ২৪৬৫১; সিলসিলা ছহীহাহ, হা/৫১৩)।

অন্যত্র রাসূল (ﷺ) বলেন, ‘সাবধান! তোমরা গুনাহকে তুচ্ছ মনে করার ব্যাপারে সর্তক হও। কেননা গুনাহকে তুচ্ছ মনে করার উদাহরণ হল- একদল লোক কোন এক পাহাড়ের উপত্যকায় যাত্রা বিরতি করল। অতঃপর সেখানে কেউ একটা কাঠি নিয়ে এল, আরেকজন আরেকটা কাঠি নিয়ে এল। তারপর তারা (এই ছোট ছোট কাঠিগুলো জমা করে সেগুলো দ্বারা) রুটি পাকাল। ঠিক তদ্রƒপ যে সব গুনাহকে তুচ্ছ ভাবা হয় সেগুলোই এতে লিপ্ত ব্যক্তিদেরকে ধ্বংস করে ফেলবে’ (তাখরীজুল মুসনাদ, হা/২২৮০৮; তাখরীজু শারহিস সুন্নাহ, হা/৪২০৩; ছহীহুল জামি‘, হা/২৬৮৬; ছহীহুত তারগীব, হা/২৪৭১)। তিনি আরো বলেন, ‘তোমারা ছোট গুনাহ থেকেও দূরে থাকবে। কেননা এগুলো একত্রিত হয়ে মানুষকে ধ্বংস করে ছাড়ে’ (তাখরীজুল মুসনাদ, হা/৩৮১৮; ছহীহুত তারগীব, হা/২৪৭০; ছহীহুল জামি‘, হা/২৬৮৭)। সেই সঙ্গে ছোট গুনাহগুলোকে তুচ্ছ মনে না করা আল্লাহর নির্দেশনার প্রতি সম্মান প্রদর্শনের অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘আর কেউ আল্লাহর সম্মানিত বিধানাবলীর প্রতি সম্মান প্রদর্শন করলে পালনকর্তার নিকট তা তার জন্য উত্তম’ (সূরা আল-হজ্জ : ৩০)।


প্রশ্নকারী : মাহফুজ, ফরিদপুর।





প্রশ্ন (১৮) : খুৎবাহ শুনা কি ওয়াজিব? যদি ওয়াজিব হয়, তাহলে খুৎবাহ চলাকালীন ছালাত আদায় করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৮) : তিন বছর কিংবা পাঁচ বছরের জন্য সাময়িক জন্ম নিয়ন্ত্রণ কাঠি পড়া গ্রহণ করতে পারবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৭) : কোন ভবনের দ্বিতীয় তলায় মসজিদ। নিচতলায় রংয়ের গুদাম, মসজিদের টয়লেট এবং ওযূখানা। দ্বিতীয় তলায় মসজিদের মিম্বার বরাবর নিচ তলায় হাতের বায়ে দেয়াল ঘেষে একটি কবর। প্রশ্ন হল, উক্ত মসজিদে ছালাত আদায় করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৩) : ‘ফাজায়েলে দরূদ শরীফ’ নামক বইয়ের ৬৪ নং পৃষ্ঠায় বলা হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ ফ বলেছেন, আমার উপর দরূদ পাঠকারীর জন্য পুলসিরাতে নূর হবে। আর যে ব্যক্তি জুমু‘আর দিন ৮০ বার দরূদ শরীফ পাঠ করবে, তার ৮০ বছরে গোনাহ ক্ষমা করে দেয়া হবে’ মর্মে বর্ণিত কথা কি সত্য? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৩) : রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ফজরের পূর্বে দু’রাক‘আত সুন্নাত ছালাত ও বিতর ছালাত কখনো ছাড়তেন না। প্রশ্ন হল- যদি কেউ ছেড়ে দেন, তাহলে কি তিনি গুনাহাগার হবেন? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৬) : জনৈক আলেম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি প্রত্যেক জুমু‘আর দিন তার মাতা-পিতা অথবা তাদের মধ্যে কোন একজনের কবর যিয়ারত করবে, তাকে ক্ষমা করে দেয়া হবে এবং মাতা-পিতার প্রতি সদ্ব্যবহারকারী বলে লেখা হবে’ (বায়হাক্বী, শু‘আবুল ঈমান হা/৭৯০১)। উক্ত বক্তব্য কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৩): ‘সূরা যিলযাল নেকীর দিক দিয়ে কুরআনের অর্ধেকের সমান’ (তিরমিযী, হা/২৮৯৪; মিশকাত, হা/২১৫৬) মর্মে বর্ণিত হাদীছটি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪) : অনেকেই গ্রামের বাড়ির আশেপাশে থেকে ছোট ছোট মাছ ধরে থাকে। এসব মাছ কেউ চাষ করে না কিংবা টাকা দিয়ে জমিতে ছাড়েও না। জমির মালিকের অনুমতি ছাড়া এসব মাছ ধরা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৭) : ওযূতে কান মাসাহ-এর ক্ষেত্রে কানের ভিতরের অংশ বলতে কোন্ অংশকে বুঝায়? শুধু কানের ছিদ্র, না-কি ভিতরের সম্পূর্ণ অংশ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৬) : কোন ব্যক্তি মসজিদ করে দিলে তার নামে মসজিদের নামকরণ করা যাবে কি? ঐ ব্যক্তিকে মসজিদের মুতাওয়াল্লী নির্বাচন করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৯) : আরাফার ময়দানে অনেক হাজীকে নিম্নের দু‘আটি পড়তে দেখা যায়। এই দু‘আটি কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৩) : কোন বিধবা কিংবা ডিভোর্সি মহিলা কি তার অভিভাবকের অনুমতি ছাড়া বিয়ে করতে পারবে? যদি বিয়ে করে ফেলে, তাহলে সে বিয়ে কি সঠিক হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

ফেসবুক পেজ