বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:২৬ পূর্বাহ্ন
উত্তর : মৃত ব্যক্তির তিন কন্যা ও স্ত্রীর নির্ধারিত অংশ দেয়ার পর অবশিষ্ট অংশে ‘আছাবা’ সূত্রে নিকটাত্মীয়রা অংশীদার হবেন।

কন্যাদের অংশ: এক্ষেত্রে কন্যারা মোট পরিত্যক্ত সম্পত্তির দুই-তৃতীয়াংশ (২/৩) পাবেন। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন, ‘কিন্তু দু-এর অধিক কন্যা থাকলে, তাদের জন্য পরিত্যক্ত সম্পত্তির দুই-তৃতীয়াংশ, আর মাত্র একটি কন্যা থাকলে, তার জন্য অর্ধাংশ’ (সূরা আন-নিসা: ১১)। তাহলে এখানে তিন কন্যা পাবেন সমস্ত সম্পত্তির দুই-তৃতীয়াংশ অর্থাৎ পরিত্যক্ত সম্পত্তির তিন ভাগের দুই ভাগ। এবার ঐ দুই ভাগ সম্পত্তি তিন কন্যার মধ্যে সমানভাবে ভাগ করতে হবে।

স্ত্রীর অংশ: সন্তানের উপস্থিতিতে স্ত্রী পরিত্যক্ত সম্পত্তির এক-অষ্টমাংশ (১/৮) পাবেন। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘তোমাদের সন্তান না থাকলে তাদের (স্ত্রীদের) জন্য তোমাদের পরিত্যক্ত সম্পত্তির এক-চতুর্থাংশ, আর তোমাদের সন্তান থাকলে তাদের (স্ত্রীদের) জন্য তোমাদের পরিত্যক্ত সম্পত্তির এক-অষ্টমাংশ। তোমরা যা ওয়াছিয়াত কর তা কার্যকর ও ঋণ পরিশোধ করার পর’ (সূরা আন-নিসা: ১২)। অর্থাৎ যদি স্বামী মারা যায় এবং তার কোন সন্তান না থাকে, তবে ঋণ পরিশোধ ও ওয়াছিয়াত কার্যকর করার পর স্ত্রীরা মোট সম্পত্তির এক-চতুর্থাংশ পাবেন। আর যদি মৃত স্বামীর সন্তান থাকে, এ স্ত্রীর গর্ভজাত হোক কিংবা অন্য স্ত্রীর, তবে ঋণ পরিশোধ ও ওয়াছিয়াত কার্যকর করার পর স্ত্রীরা এক-অষ্টমাংশ পাবেন। স্ত্রী একাধিক হলেও উপরিউক্ত বিবরণ অনুযায়ী এক অংশ সকল স্ত্রীর মধ্যে সমহারে বণ্টন করা হবে। স্ত্রীর অংশ দেয়ার পর যা অবশিষ্ট থাকবে, তা তাদের অন্যান্য ওয়ারিশের মধ্যে বণ্টন করতে হবে।

তবে প্রথমে দেখতে হবে, স্ত্রীর মোহরানা পরিশোধ করা হয়েছে কি-না, যদি না হয় তবে অন্যান্য ঋণের মতই প্রথমে মোট পরিত্যক্ত সম্পত্তি থেকে মোহরানা পরিশোধ করতে হবে। অতঃপর ওয়ারিশদের মধ্যে বণ্টন করা হবে। মোহরানা পরিশোধ করার পর যদি মৃত স্বামীর সম্পত্তি অবশিষ্ট না থাকে, তবে অন্যান্য ঋণের মত সম্পূর্ণ সম্পত্তি মোহরানা বাবদ স্ত্রীকে সমর্পণ করা হবে এবং কোন ওয়ারিশই অংশ পাবে না। যেমন রাসূল (ﷺ) বলেছেন, ‘শর্তসমূহের মধ্যে যা পূর্ণ করার সর্বাধিক দাবী রাখে তা হল- সেই শর্ত যার দ্বারা তোমরা তোমাদের স্ত্রীদের হালাল করেছ’ (বুখারী, হা/২৭২১, ৫১৫১; মুসলিম, হা/১৪১৮; আহমাদ, ১৭৩০৪; মাজমূঊ ফাতাওয়া ওয়া রাসাইল ইবনে উছাইমীন, ১৮/৩১; ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-১৪৫৮৫৫; ইসলাম ওয়েব, ফৎওয়া নং-১৩১৩৪৬)।

জাবির ইবনু আব্দুল্লাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, সা‘দ ইবনু রাবী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর স্ত্রী সা‘দের ঔরসজাত তাঁর দুই কন্যাসহ রাসূল (ﷺ)-এর নিকট উপস্থিত হয়ে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! এরা সা‘দ ইবনু রাবীর দুই মেয়ে। এদের বাবা উহুদের যুদ্ধে আপনার সাথে অংশগ্রহণ করে শহীদ হয়েছেন। এদের সমস্ত ধন-সম্পদ এদের চাচা নিয়ে নিয়েছে, এদের জন্য সামান্য কিছুও রাখেনি। এদের কোন ধন-সম্পদ না থাকলে এদের বিয়েও তো হবে না। তিনি বললেন, এ বিষয়টি আল্লাহ তা‘আলাই সমাধান করে দিবেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে মীরাছ বণ্টন বিষয়ক আয়াত অবতীর্ণ হয়। তাদের চাচাকে রাসূল (ﷺ) ডেকে এনে বললেন, সা‘দের দুই মেয়েকে দুই-তৃতীয়াংশ সম্পত্তি এবং তাদের মাকে এক-অষ্টমাংশ সম্পত্তি দিয়ে দাও, তারপর যেটুকু অবশিষ্ট থাকবে তা তোমার (তিরমিযী, হা/২০৯২; আবূ দাঊদ, হা/২৮৯১; ইবনু মাজাহ, হা/২৭২০; মুসনাদে মুসনাদে আহমাদ, হা/১৪৮৪০)।

শাইখ ইবনু বায (রাহিমাহুল্লাহ) ও শাইখ মুহাম্মাদ ছালিহ আল-মুনাজ্জিদ (হাফিযাহুল্লাহ) বলেন, ‘অতঃপর অবশিষ্ট সম্পত্তি ‘আছাবা’ সূত্রে অর্থাৎ সবচেয়ে নিকটাত্মীয় উত্তরাধিকারী হিসাবে ভাই ও বোনদের মধ্যে বণ্টন করা হবে। যেমন ইবনু আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, নবী (ﷺ) বলেন, সুনির্দিষ্ট অংশের অধিকারীদের নিকট মীরাছ পৌঁছে দাও। অতঃপর যা বাকী থাকবে তা (মৃতের) নিকটতম পুরুষের জন্য (ছহীহ বুখারী, হা/৬৭৩২, ৬৭৩৫, ৬৭৩৭, ৬৭৪৬; ছহীহ মুসলিম, হা/১৬১৫)। সুতরাং অবশিষ্ট সম্পত্তি ‘আছাবা’ অর্থাৎ সবচেয়ে নিকটাত্মীয় উত্তরাধিকারী হিসাবে ভাই ও বোনের মধ্যে বণ্টন করা হবে এবং বোনেরা ভাইদের অর্ধেক পাবেন। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন, ‘আর যদি ভাই-বোন উভয়ই থাকে, তবে এক পুরুষের অংশ দুই নারীর অংশের সমান’ (সূরা আন-নিসা: ১৭৬; মাজমূঊ ফাতাওয়া ওয়া মাক্বালাতুশ শাইখ ইবনে বায, ২০/১৯৫-১৯৭; ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-১৩০৯৬১)।

প্রশ্নকারী : আয়েশা পারভীন (রিনা), যশোর।





প্রশ্ন (১৬) : জামা‘আতের এক রাক‘আত ছুটে গেলে ইমামের সাথে শেষ রাক‘আতে তাওয়াররুক করতে হবে কি এবং উঠে রাফ‘ঊল ইয়াদাইন করতে হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৮) : ঋতু হতে পবিত্র হওয়ার পদ্ধতি কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৯) : এশার ছালাতের পর দু’রাক‘আত নফল ছালাত দু’শ রাক‘আত ছালাতের ছওয়াবের সমান। কথাটির সত্যতা আছে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২) : ইসলামে বায়ে মুয়াজ্জালের বিধান কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২০) : কবরের কাছে গিয়ে কোন্ দু‘আ পড়তে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৪) : বিয়েতে মেয়েকে কবুল বলাতে হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩০) : জুম‘আর খুতবা ও ছালাতের সময় এবং অন্যান্য ছালাতের সময় সামনে, পিছনে কিংবা উপর থেকে ভিডিও করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৭) : নবী (ﷺ)-এর ছাহাবী দাহিয়া কালবী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) ইসলাম গ্রহণের পূর্বে তার নিজের মেয়েকে নিষ্ঠুরভাবে পর্বতে নিয়ে হত্যা করেছিল। এই বিষয়টি তিনি ইসলাম গ্রহণের পর নবী (ﷺ)-এর কাছে বর্ণনা করেন। উক্ত ঘটনাটি কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৫) : ইসলামে মৃত্যু সংবাদ প্রচার করা নিষেধ। কিন্তু ইদানিং অনলাইনে ব্যাপকভাবে ‘মৃত্যু সংবাদ’ প্রচার করা হয়। প্রশ্ন হল, অনলাইনে মৃত্যুসংবাদ প্রচার করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৮) : আমি বাংলাদেশ জেলে কারারক্ষী পদে (সৈনিক পদে ভর্তি হয়ে) চাকুরী করি। সাধারণ পদে কিছুদিন ডিউটি পালন করার পর খেলোয়াড় (খেলোয়াড় কোটায়) হিসাবে চাকুরি শুরু করেছি। পেশা হিসাবে এটা করা কি সঠিক হয়েছে? আমি চাইলে অন্য বিভাগেও চাকুরী করতে পারব। - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২১) : ‘আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী জান্নাতে প্রবেশ করবে না’ বলে হাদীছে উল্লেখ হয়েছে। প্রশ্ন হল- ইসলামের দৃষ্টিতে সে সব আত্মীয় কারা? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৯) : ‘যে বিয়েতে খরচ যত কম, সেই বিয়েতে বরকত তত বেশি’ মর্মে বর্ণিত হাদীছ কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

ফেসবুক পেজ