উত্তর : আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে গালাগালি করা, কুরআন, হাদীছ, ছালাত, হজ্জ, পর্দা ইত্যাদি ইসলামের বিধিবিধানকে উপহাস ও ঠাট্টা-মশকরা করা ইসলামের দৃষ্টিতে শাস্তিযোগ্য অপরাধ। কোন মুসলিম নামধারী ব্যক্তি যদি এমনটি করে তাহলে সে কাফির-মুরতাদ বলে গণ্য হবে। এ সম্পর্কে আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
قُلْ اَبِاللهِ وَ اٰيٰتِهٖ وَ رَسُوْلِهٖ كُنْتُمْ تَسْتَهْزِءُوْن-لَا تَعْتَذِرُوْا قَدْ كَفَرْتُمْ بَعْدَ اِيْمَانِكُمْ
‘আপনি বলুন, তোমরা কি আল্লাহর সাথে, তার আয়াত (নিদর্শন ও বিধিবিধান) এর সাথে এবং তাঁর রাসূলের সাথে হাসি-ঠাট্টা করছিলে? ওযর পেশ করো না, নিশ্চিতভাবে তোমরা কাফের হয়ে গেছো ঈমান আনার পর’ (সূরা আত-তাওবাহ : ৬৫-৬৬)। তিনি আরও বলেন,
‘আর তোমাদের মধ্যে কেউ যদি তার দ্বীন (ইসলাম) থেকে ফিরে যায় আর সে অবিশ্বাসী অবস্থায় মারা যায়, তাহলে দুনিয়া ও আখিরাতে তাদের সকল নেক আমল বরবাদ হয়ে যাবে। এই লোকেরাই হল জাহান্নামের অধিবাসী। তারা চিরকাল সেখানে থাকবে’ (সূরা আল-বাক্বারাহ : ২১৭)।
ইসলামী ফৌজদারি দণ্ডবিধি মোতাবেক ইসলাম ত্যাগের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড যদি সে তওবা না করে। আব্দুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, রাসূল (ﷺ) বলেছেন,
لَا يَحِلُّ دَمُ امْرِئٍ مُسْلِمٍ إِلَّا بإِحْدَى ثَلاثٍ: الثَّيِّبُ الزَّانِي، وَالنَّفْسُ بِالنَّفْسِ، وَالتَّاركُ لِدِيْنه المُفَارِقُ للجمَاعَةِ
‘তিন কারণের কোনও একটি ব্যতীত কোন মুসলিমের রক্ত প্রবাহিত করা হালাল নয়: ক. বিবাহিত যিনাকারী। খ. হত্যার বিনিময়ে হত্যা। গ. যে ব্যক্তি ইসলাম ত্যাগ করে (মুসলিমদের) জামা‘আত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়’ (ছহীহ বুখারী, হা/৬৮৭৮)। এছাড়াও এ মর্মে একাধিক হাদীছ রয়েছে।
মুরতাদের শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের ব্যাপারে কোন দ্বিমত নেই। ইবনে আব্দুল বার্র (মৃ. ৪৬৩ হি.) লিখেছেন, إن من ارتد عن دينه حل دمه، وضربت عنقه، والأمة مجتمعة على ذلك ‘যে তার দ্বীন (ইসলাম) ত্যাগ করে তাকে হত্যা করা বৈধ হয়ে যাবে এবং তার শিরশ্চেদ করা হবে। এ বিষয়ে পুরো উম্মতের মতৈক্য রয়েছে’ (আত-তামহীদ, ৫/৩০৬ পৃ.)। এ ক্ষেত্রে একজন সাধারণ মুসলিমের জন্য করণীয় হলÑ প্রথমতঃ তাকে নছীহত করা এবং সুন্দরভাবে বুঝানো যে, এসব কথাবার্তা ভ্রষ্টতা ও কুফরি। কেউ এসব কথা বললে মুরতাদ বা ইসলাম চ্যুত হিসাবে গণ্য হয়। ইসলামী আইনে তার শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। এতে তার অন্তরে পরিবর্তন আসতে পারে এবং ভুল পথ থেকে তওবা করে ইসলামের পথে ফিরে আসতে পারে যদি তার ভাগ্য ভালো হয়। ইসলাম, আল্লাহ, রাসূল, কুরআন ইত্যাদি সম্পর্কে তার সংশয় বা প্রশ্ন থাকলে উত্তর দেয়ার এবং তার সংশয় দূর করার সর্বাত্মক চেষ্টা করতে হবে। নিজে না পারলে আলেমদের সহায়তা নিতে হবে। পাশাপাশি তার হেদায়েতের জন্য আল্লাহর নিকট দু‘আও করতে হবে। দ্বিতীয়তঃ ক্ষমতা থাকলে তার অন্যায় কথাবার্তার প্রতিবাদ করতে হবে এবং বিভ্রান্তির যথোপযুক্ত জবাব দিতে হবে। তৃতীয়তঃ সে যেখানে এ সব খারাপ কথা বলবে সেখানে বসে তার কথা শুনবে না। বরং তার প্রতিবাদ করার পরও সে তার কথা অব্যাহত রাখলে স্থান ত্যাগ করতে হবে (সূরা আল-আন‘আম: ৮৬)। চতুর্থতঃ তারপর আদালতে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করতে হবে। যদি ইসলামী আদালত হয় তাহলে তাকে প্রথমতঃ সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে নিশ্চিতভাবে অপরাধ প্রমাণিত হলে তওবা করার মাধ্যমে সংশোধন করার চেষ্টা চালাবে। কিন্তু সে তওবা করতে অস্বীকৃতি জানালে শরী‘আহর নির্দেশনা মোতাবেক তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করবে। আর ইসলামী আদালত না হলে দেশীয় আইনে ‘ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত’ বা ‘কোন ধর্মকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা’র আইনে তার বিরুদ্ধে সাজামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
মুরতাদ (ইসলাম ত্যাগী) বা আল্লাহর-রাসূল, কুরআন ইত্যাদিকে গালমন্দকারীকে হত্যা ইত্যাদি সহ ইসলামের সব ধরণের হুদুদ কায়েম বা ফৌজদারি দণ্ডবিধি (যথা: মৃত্যুদণ্ড, বেত্রাঘাত, জেল, জরিমানা বা অন্যান্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ) বাস্তবায়ন করার একমাত্র অধিকারী সরকার বা তার স্থলাভিষিক্ত; সাধারণ কোন ব্যক্তি বা গোষ্ঠী নয় (বিদায়াতুল মুজতাহিদ, ২/২৩৩ পৃ.)।
প্রশ্নকারী : ইমরান, সাতক্ষীরা।