ইসরায়েল কিভাবে ক্ষুধা দিয়ে মানুষ মারছে?
মাহদী হাসান মানিক*
ফিলিস্তীনের গাযা ভূখণ্ড এখন ভয়াবহ মৃত্যুপুরি। একদিকে আকাশ থেকে বোমা ফেলে ধ্বংস করা হচ্ছে বসতবাড়ি, স্কুল ও হাসপাতাল, অন্যদিকে মাটিতে স্তূপ জমেছে ক্ষুধার্ত মানুষের বিধ্বস্ত ও নিথড় দেহ। যুদ্ধের ভয়াল রূপ শুধু গোলাবারুদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই- তার চেয়েও নিষ্ঠুর এক নীরব অস্ত্র হয়ে উঠেছে ‘ক্ষুধা’।
টিভি চ্যানেলে বা স্যোসাল মিডিয়ায় যেসব ভিডিও দেখা যায়, তাতে একজন সুস্থ মস্তিকের মানুষ স্থির থাকার কথা নয়। শরণার্থী ক্যাম্পগুলোতে ত্রাণের জন্য লাইনে দাঁড়ানো নিরস্ত্র জনগণ যারা শুধু একমুঠো খাবারের আকুতি জানাচ্ছে তাদেরকেই লক্ষ্য করে নির্বিচারে গুলি চালাচ্ছে ইসরায়েলী হায়েনার দল। এইসব মানুষের অপরাধ একটাই। তারা গাযায় জন্মেছেন এবং বেঁচে থাকার চেষ্টা করছেন। দীর্ঘ সময় ক্ষুধাজনিত অপুষ্টির কারণে শিশুদের শরীর দিন দিন শুকিয়ে যাচ্ছে। চামড়া হাড়ে আটকে যাচ্ছে। মুখের ভাষা নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে দুর্বলতায়। যেসব শিশু এখনো বেঁচে আছে তারা যেন ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকেই হাঁটছে। জীবিত থাকলেও তাদের চোখে মুখে এক ধরনের নীরব মৃত্যুবোধ জমে আছে। বিশ্ব মানবতা এই সবকিছুর সাক্ষী হলেও বিভিন্ন রাষ্ট্র এবং সংস্থা গভীর উদ্বেগ আর কঠোর নিন্দা জানানো ছাড়া এই মৃত্যু থামাতে বাস্তব কোন ধরনের ব্যবস্থা নিচ্ছে না।
একদিকে চলছে দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক আলাপপন- ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি আর গাযায় যুদ্ধবিরতির আলোচনা, অন্যদিকে প্রতিনিয়ত গাযায় প্রাণ যাচ্ছে শিশুদের এবং নিঃশেষ হচ্ছে নতুন নতুন পরিবার। এখন আর গণহত্যার সংজ্ঞা কেবল বন্দুকের গুলি বা বোমার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়- ইসরাইল যেভাবে গাযায় খাদ্য সহায়তা বন্ধ করে ত্রাণ পৌঁছাতে বাধা দিয়ে মানুষকে না খাইয়ে মারছে, এটি গণহত্যার নব্য সংস্করণ। একে বলা হচ্ছে Famine by Design অর্থাৎ ইচ্ছাকৃতভাবে খাদ্যের অভাব সৃষ্টি করে ধীরে ধীরে একটি জাতিকে নিশ্চিহ্ন করার কৌশল। ইসরাইল যেভাবে ক্ষুধা, অনাহার আর অপুষ্টিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে গাযায় এক নীরব ও পরিকল্পিত গণহত্যা চালাচ্ছে সেটা প্রায় অধিকাংশ সংবাদ মাধ্যমেই প্রকাশ হচ্ছে প্রতিনিয়ত। সবচেয়ে বেশি নাড়া দিয়েছে শিশু ‘আমের’-এর মৃত্যু। বাচ্চাটি খাবারের জন্য প্রায় দুই কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে পাড়ি দিয়ে খাবার সংগ্রহ করেছিল। খাবার প্রাপ্তির পর শুধু চোখেমুখে আনন্দের বহিঃপ্রকাশ-ই ঘটেনি, বরং কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে খাবার প্রদানকারীকেও। অথচ সেই নিষ্পাপ বাচ্চাটিকে গুলি করে মারতে এতটুকু মায়া হয়নি অভিশপ্ত ইসরাইলী সামরিক বাহিনীর। এমনকি খোদ ইসরাইলের নাগরিকেরাও অতিষ্ট হয়ে বিক্ষোভ মিছিল করছে। যদিও তা তাদের নিজের স্বার্থের জন্যই। কারণ সম্প্রতি এক ভিডিওতে প্রচারিত এক ক্ষুধার্ত ইসরাইলী জিম্মির করুণ পরিণতি দেখা গেছে। সেখানে সে নিশ্চিত মৃত্যুর কথা জেনে নিজের কবর নিজেই খুড়ছে।
গাযায় যখন প্রতিদিন মানুষ অনাহারে মারা যাচ্ছে, তখন সেখানে মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর নামে চালু হয়েছে একটি নতুন সংগঠন Gaza Humanitarian Foundation বা GHF (জিএইচএফ)। নামটি শুনলে মনে হতে পারে এটি হয়তো কোন নিরপেক্ষ সহানুভূতিশীল সংস্থা যারা ক্ষুধার্থ মানুষের পাশে দাঁড়াতে এসেছে। কিন্তু বাস্তবতা অনেকটাই ভিন্ন। ‘গাযা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন’ ছাড়া জাতিসংঘ বা অন্য কোন আন্তর্জাতিক সংস্থাকে ইসরাইল ত্রাণ বিতরণ করার সুযোগ দেয় না। বিশেষজ্ঞদের মতে এই জিএইচএফ মূলত ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে গড়ে ওঠা একটি প্রতারণামূলক উদ্যোগ । জিএইচএফ তৈরি করা হয়েছে ত্রাণ প্রদানের নাটক করার জন্য, গাযাবাসীকে বাঁচানোর জন্য নয়। এমনভাবে এর কার্যক্রম চালানো হয় যেন আন্তর্জাতিক মহলের চোখে মনে হয় ইসরাইল ত্রাণ দিয়ে সহায়তা করছে এবং মানবিক সহনশীলতা দেখাচ্ছে। কিন্তু বাস্তবে এই ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রগুলোই গাযাবাসীর জন্য মৃত্যুর নতুন ফাঁদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই কেন্দ্রগুলোর অবস্থান নিয়ে উঠেছে গুরুতর অভিযোগ। জিএইচএফের প্রায় সকল কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে সামরিক এলাকার কাছাকাছি যেখানে ইসরাইলি সেনাবাহিনীর কড়া নজরদারি থাকে সবসময়। ফলে খাবার নিতে আসা মানুষগুলো একরকম অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। কোথা থেকে কখন গুলি আসবে তার কোন নিশ্চয়তা নেই। বহু মানুষ এসব ত্রাণ কেন্দ্রের আশেপাশেই গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছে বা যাচ্ছে। এছাড়াও কখনো কখনো প্লেন থেকে ত্রাণের বস্তা ফেলে দেয়, যে বস্তাগুলো কোন বাড়ির উপরে পড়লে সবাই মারা যেতে পারে। অথবা এমন দুর্গম এলাকায় পড়ছে যেখানে গিয়ে নেয়াই অসম্ভব। যদি মানুষ লড়াই করে বা প্রাণ ঝুঁকি নিয়ে হলে সেই খাদ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছে। এতে করে অনেকে মারাও যাচ্ছে।
পুষ্টিবিদদের মতে, এসব ত্রাণে শিশুদের জন্য প্রয়োজনীয় কোন সুষম খাদ্য নেই। রেডি টু ইট (Ready to Eat) ধরনের খাবারও নেই। নেই অপুষ্ট শিশুদের জন্য উপযোগী বিশেষ ফুড সাপ্লিমেন্ট। ময়দা, চাল, তেল, পাস্তা আর কিছু ডালের মত খাবার এখানে সীমিত পরিমাণে দেয়া হয় যাতে সবাই না পায়। এছাড়া এসব খাবার রান্না করার মত উপকরণ বা জ্বালানিও গাযাবাসীর কাছে নেই। এই কেন্দ্রগুলোতে নেই কোন চিকিৎসা সেবা, নেই প্রশিক্ষিত কর্মী, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থাও নেই। ফলে বয়স্ক প্রতিবন্ধী বা শিশুদের জন্য এই ত্রাণ লাইন যেন মৃত্যুর লাইনে দাঁড়ানোর মতই ভয়ঙ্কর ব্যাপার। জিএইচএফের মত তথাকথিত এই মানবিক উদ্যোগকে এখন অনেকেই বলছেন মরণকল। আমরা যেমন সামান্য খাবার দিয়ে ঘরের ইঁদুর মারি, ঠিক একইভাবে ইসরায়েলি বাহিনী গাযা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশনের ত্রাণের লোভ দেখিয়ে ফিলিস্তীনিদের উপর চালাচ্ছে দীর্ঘ পরিকল্পিত নিধনযজ্ঞ।
গাযায় যা ঘটছে তা শুধু যুদ্ধ নয় বা শুধু গোলাবারুদের তাণ্ডব নয়, বরং এটি একটি নীরব ও পরিকল্পিত গণহত্যা। বিশ্বখ্যাত দুর্ভিক্ষ বিশেষজ্ঞ অ্যালেক্স ডি ওয়াল একে বলেছেন Famine by Design অর্থাৎ পূর্বপরিকল্পিত দুর্ভিক্ষ। এটি এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে ইচ্ছাকৃতভাবে খাদ্যপ্রবাহ বন্ধ করে একটি জনগোষ্ঠীকে ধ্বংস করা হচ্ছে। আর এই ধ্বংসযজ্ঞে ইন্ধন যোগাচ্ছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আর পশ্চিমা রাজনৈতিক সুবিধাবাদীরা। এই নীরব যুদ্ধের সবচেয়ে বড় শিকার হচ্ছে গাযার শিশুরা। শুধু গত কয়েক মাসেই শত শত শিশু অপুষ্টিজনিত কারণে মারা গেছে। অনেকেই ত্রাণের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে বা খাবার আনতে গিয়ে গুলিতে নিহত হয়েছে। কেউ ক্ষুধার তাড়নায় লাইনে দাঁড়ানো অবস্থায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছে। একজন প্রাপ্তবয়স্ক সুস্থ মানুষ না খেয়ে ৬০ থেকে ৮০ দিন পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে। কিন্তু শিশুদের ক্ষেত্রে এই সময়টা অনেক কম। তাদের শরীর এতটাই নরম ও দুর্বল যে তারা অপুষ্টি, ডায়রিয়া, সংক্রমণ বা সামান্য জ্বরেই মারা যাচ্ছে। যে বয়সে তারা দুধ, শাকসবজি বা পুষ্টিকর খাবার খেয়ে বেড়ে উঠবে সেই বয়সেই তারা জীবন থেকে হারিয়ে যাচ্ছে, স্রেফ একমুঠো খাবার না পেয়ে। এই প্রক্রিয়া কোন দুর্ঘটনা নয় এটি একটি পরিকল্পিত গণহত্যার কৌশল। ইসরায়েলি বাহিনী গাযা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে যতটুকু খাদ্য গাযায় প্রবেশের অনুমতি দেয় ইসরাইলি উগ্রপন্থী ইহুদিরা সেই খাবারও গাযায় ঢুকতে দেয় না। এসব ইসরায়েলি সন্ত্রাসীরা অনাহারে থাকা শিশুদের ত্রাণ- হয় নষ্ট করে ফেলছে অথবা ত্রাণের ট্রাকে আগুন ধরিয়ে দিচ্ছে।
গাযায় ইসরাইল যে ভয়াবহ ও পরিকল্পিত গণহত্যা চালাচ্ছে তা নিয়ে কোন সন্দেহের অবকাশ নেই। অথচ পাশ্চাত্যের বড় বড় রাষ্ট্র যারা নিজেদের সভ্যতার ধারক বলে পরিচয় দেয় তারা এই নির্মম সত্যটিকে স্বীকার করতে চায় না বরং তারা গণহত্যার সংজ্ঞাকে নতুন করে ব্যাখ্যা করে ইসরাইলের অপকর্ম আড়াল করতেই ব্যস্ত। সম্প্রতি (জুলাই ২২, ২০২৫) নিউইয়র্ক টাইমস এর একটি প্রবন্ধে দাবি করা হয়, গাযায় ইসরাইল কোন গণহত্যা চালায়নি। এখানে বলা হয়, ইসরাইল যদি সত্যিই পূর্ণ কৌশল নিয়ে পুরো গাযার জনগোষ্ঠীকে ধ্বংস করতে চাইতো, তাহলে নিহতের সংখ্যা লক্ষ্য ছাড়িয়ে যেত। নিউইয়র্ক টাইমস এর প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধ যত ভয়াবহই হোক না কেন এটিকে গণহত্যা বলা যায় না। কিন্তু বাস্তবতা সম্পূর্ণ উল্টো। আনুষ্ঠানিক হিসেবে বলা হচ্ছে ইতোমধ্যে গাযায় ৬০ হাজার এর মত মানুষ মারা গেছে। যার মধ্যে ১৭০০০ এরও বেশি শিশু। কিন্তু মেডিকেল জার্নাল দ্যা ল্যান্ডসেটে প্রকাশিত একটি গবেষণায় বলা হয়েছে, গাযায় মৃত মানুষের সংখ্যা ১ লাখ ৮৬ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। অর্থাৎ ইসরাইলের সরাসরি বোমা হামলায় এবং পরোক্ষভাবে ক্ষুধা, চিকিৎসার অভাব, পানিশূন্যতা ও অনাহারের মৃত্যু মিলিয়ে মোট মৃত্যুর প্রকৃত সংখ্যা, সরকারিভাবে ঘোষিত সংখ্যার চেয়েও অনেক গুণ বেশি। সেই সাথে প্রতিদিন নতুন নতুন মৃত্যুর খবর আসছে। এমনকি অনেক লাশ শনাক্তও করা যাচ্ছে না। হাসপাতাল ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। খাদ্য ও চিকিৎসা সেবার অভাবে মানুষ দলে দলে মারা যাচ্ছে।
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ ব্যাপার হলো, এবার প্রতিবাদ শুধু বাইরের নয় বরং ইসরাইলভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থার ভেতর থেকেও এসেছে। ‘বতেসেলেম’ ও ‘ফিজিশিয়ানস ফর হিউম্যান রাইটস’ নামের ইসরাইলি দু’টি প্রভাবশালী সংগঠন একযোগে বলেছে, গাযায় যা ঘটছে তা নিছক যুদ্ধ নয়। এটি একটি সম্পূর্ণ জাতিকে ধ্বংস করার ধারাবাহিক পরিকল্পনা। তাদের ভাষায় গাযাবাসীদের শুধু শারীরিক ভাবেই নয় বরং তাদের অস্তিত্ব অধিকার ও ভবিষ্যৎকেও ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে এসব হামলা চালানো হচ্ছে। ইসরাইলি মানবাধিকার সংস্থা আরো বলেছে, এই পরিকল্পিত ধ্বংসযজ্ঞে ইসরাইল একা নয় তার পাশ্চাত্য মিত্ররাও এর সাথে জড়িত। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র-যারা সামরিক সহায়তা অস্ত্র এবং রাজনৈতিক আশ্রয় দিয়ে ইসরাইলের গণহত্যাকে কার্যত অনুমোদন দিয়ে যাচ্ছে। এমন অবস্থায় প্রশ্ন উঠছে, বিশ্ব বিবেক কি কেবল সংবাদপত্রের নিন্দা আর বিবৃতি দিয়েই চুপ থাকবে? না-কি এবার সত্যিকার অর্থে মানবতা রক্ষার নামে কিছু একটা করবে?
জাতিসংঘ আবারো আলোচনায় ফিরেছে বহু পুরনো এক রাজনৈতিক প্রস্তাব দ্বিরাষ্ট্রীয় সমাধান নিয়ে। অর্থাৎ ফিলিস্তীন ও ইসরাইল দু’টি স্বাধীন রাষ্ট্রের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান। ফ্রান্স এবং ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশ ইতোমধ্যেই ফিলিস্তীনকে একটি স্বতন্ত্র রাষ্ট্র হিসাবে স্বীকৃতি দেয়ার প্রক্রিয়া আগাচ্ছে। কিন্তু প্রশ্ন হল, এই স্বীকৃতি আসলে ফিলিস্তীনের জন্য কতটা কার্যকর? গাযার রাস্তায় প্রতিদিন গড়ে ১০০ থেকে ১৫০ মানুষ প্রাণ হারাচ্ছেন। এদের মধ্যে অনেকেই শিশু এবং বৃদ্ধ। যাদের যুদ্ধের সঙ্গে কোন সম্পৃক্ততা নেই। গাযায় এখন কোন খাদ্য নেই, চিকিৎসা নেই, বিদ্যুৎ নেই, স্কুল নেই। এখানকার মানুষ কেবল প্রতিনিয়ত বেঁচে থাকার লড়াই করছে। ড্রোন ও বিমান হামলা করে চাল, আটা, সবজি, ফলমূলের গুদাম ধ্বংস করছে। ফিলিস্তীনীদের ক্ষেতে আগুন লাগিয়ে দিচ্ছে। বিভিন্ন খামারে বোমা ফেলা হচ্ছে। এর ফলে খাদ্য উৎপাদন একেবারে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। অর্থাৎ এই ধ্বংসযজ্ঞ পরিচালিত হচ্ছে এমন একটি উদ্দেশ্য নিয়ে যার ফলে ফিলিস্তীন যেন আর কোনদিন স্বাধীন রাষ্ট্র হিসাবে দাঁড়াতে না পারে। এমন পরিস্থিতিতে জাতিসংঘের সম্মেলনগুলো যতই উচ্চমার্গীয় কূটনৈতিক ভাষায় আলোচনা করুক না কেন? সেগুলো আসলে কখনো বাস্তবতার মুখ দেখবে না। শুধু গাযা উপত্যকা নয়, ফিলিস্তীনের পশ্চিম তীরেও ইসরাইল যেভাবে অবৈধ বসতিই গড়ে তুলেছে তাতে দ্বিরাষ্ট্রীয় সমাধান আদৌ সম্ভব নয়। দ্বিরাষ্ট্র ব্যবস্থা কেবল রাজনৈতিক সময়ক্ষেপনের একটি নাটক মাত্র। জাতিসংঘের প্রচলিত রাজনৈতিক ধারায় ফিলিস্তীন কখনোই স্বাধীন দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারবে না। যা শুধুই আফসোসের!!
* প্রভাষক, কাজিহাল দহশতিয়া ফাজিল মাদ্রাসা, ফুলবাড়ী, দিনাজপুর।
প্রসঙ্গসমূহ »:
সাময়িক প্রসঙ্গ