রবিবার, ০৭ Jun ২০২৬, ০৩:২৯ অপরাহ্ন
উত্তর : প্রচলিত কোর্টের মাধ্যমে স্ত্রী স্বামীকে ত্বালাক্ব দিতে পারবে না। কারণ স্ত্রী ত্বালাক্ব দিতে পারে না, খোলার মাধ্যমে বিবাহ বিচ্ছিন্ন করতে পারে। স্বামী স্ত্রীকে স্বাধীনভাবে ত্বালাক্ব দিতে পারে, আর স্ত্রী স্বামীর কাছ থেকে খুলা’ ত্বালাক্ব নিতে পারে, দিতে পারে না। ত্বালাক্ব হচ্ছে স্বামীর অধিকার। তাই স্বামী ত্বালাক্ব দিলে তবেই ত্বালাক্ব সংঘটিত হবে। নবী (ﷺ)-এর বাণী: ‘ত্বালাক্ব তারই অধিকার যার রয়েছে সহবাসের অধিকার’ অর্থাৎ স্বামীর (ইবনু মাজাহ, হা/১৭০৫, ২০৮১; সনদ হাসান, ইরওয়াউল গালীল, হা/২০৪১)।

‘খুলা‘ ত্বালাক্ব বলতে বুঝায়- কোন কিছুর বিনিময়ে স্ত্রীর বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া। এক্ষেত্রে স্বামী উক্ত বিনিময় গ্রহণ করে স্ত্রীকে বিদায় করে দেবেন। এক্ষেত্রে সমাজের দ্বীনদার নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি ও আলেমদের সহযোগিতা নিবে। শাইখ মুহাম্মাদ ছালিহ আল-মুনাজ্জিদ বলেন, ‘মানব রচিত আইনের মাধ্যমে স্ত্রী নিজেই নিজেকে ত্বালাক্ব দেয়া শরী‘আত সম্মত নয়। স্বামীর অনুমতি ব্যতীত যদি কোর্ট ত্বালাক্ব কার্যকর করেও তবুও সেটা ইসলামী শরী‘আতে ত্বালাক্ব হিসাবে বিবেচিত হবে না। বরং ঐ মহিলা তার স্বামীর স্ত্রী হিসাবেই বলবৎ থাকবে। এক্ষেত্রে মূল সমস্যাটা হল- যদিও ঐ মহিলা আইনের দৃষ্টিতে ত্বালাক্বপ্রাপ্তা, ইদ্দত শেষ হলে হয়ত সে অন্যত্র বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে যাবে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে সে ত্বালাক্বপ্রাপ্তা নয়, বরং সে এখনো তার স্বামীর বিবাহাধীন রয়েছে (ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-২৬২৪৭)।

তিনি আরো বলেন, ‘যখন আপনি মানবরচিত আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। সুতরাং আদালত স্বামীকে ত্বালাক্ব দিতে আদেশ করেছে। ফলস্বরূপ স্বামী ত্বালাক্বের শব্দ মুখে উচ্চারণ করেছেন অথবা ত্বালাক্বের নিয়তে ত্বালাক্ব শব্দটি লিখিত দিয়েছেন, এক্ষেত্রে কিন্তু ত্বালাক্ব প্রতিষ্ঠিত হয়ে যাবে। পক্ষান্তরে স্বামী যদি ত্বালাক্বের শব্দ মুখে উচ্চারণ না করেন অথবা ত্বালাক্বের নিয়তে ত্বালাক্ব শব্দটি লিখিত আকারে না দেন, বরং আদালত নিজের পক্ষ থেকে ত্বালাক্বের ফয়সালা করে দেয়, সেক্ষেত্রে কিন্তু কাফির বিচারকের ত্বালাক্ব প্রতিষ্ঠিত হবে না। কেননা ফক্বীহ্গণের সর্বসম্মতিক্রমে মুসলিমদের মীমাংসাকারী বিচারককে অবশ্যই মুসলিম হতে হবে। কেননা ক্বাযী এক প্রকারের ওয়ালী বা অভিভাবক, আর কোন কাফির ব্যক্তি কোন মুসলিম ব্যক্তির ওয়ালী হতে পারে না।

ইবনু ফারহুন (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, ‘ক্বাযী আয়ায (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, যে শর্তসমূহ ছাড়া কোন ব্যক্তির কাযী এবং ওয়ালী হওয়া সম্ভবপর নয়, সেগুলো দশটি। যথা: (১) ইসলাম (২) বুদ্ধিসম্পন্ন (৩) পুরুষ (৪) স্বাধীন (৫) প্রাপ্তবয়স্ক (৬) ন্যায়পরায়ণ (৭) জ্ঞানী (৮) এক হওয়া (৯) শ্রবণশক্তি ও দৃষ্টিশক্তি সম্পূর্ণ (১০) এবং বাকশক্তিহীন না হওয়া। এই জন্যই কাফির ও পাগল ব্যক্তির অভিভাবকত্ব বিশুদ্ধ নয় (তাবছীরাতুল হুক্কাম, ১/২৬; আল-মাওসূ‘আতুল ফিক্বহিয়্যাহ বা ইসলামিক ফিক্বাহ বিশ্বকোষ, ৩৩/২৯৫ পৃ.; ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-১২৭১৭৯)।

শাইখ ইবনু উছাইমীন (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) এই জটিল সমস্যার সমাধান সম্পর্কে বলেন, ‘আমরা এখন কোর্ট ত্বালাক্ব নামক এক জটিল সমস্যার সম্মুখীন হয়েছি। প্রকৃতপক্ষে এই মহিলা এখনো তার স্বামীর বিবাহাধীনে থাকায় অন্য কোন পুরুষের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারবে না। কিন্তু অপরদিকে কোর্টের রায়ের ভিত্তিতে সে ত্বালাক্বপ্রাপ্তা নারী হিসাবে বিবেচিত। যখনই তার ইদ্দত পূর্ণ হবে তার জন্য অন্য স্বামী গ্রহণ করা অনুমোদিত। এ সমস্যা নিরসনে আমার দৃষ্টিভঙ্গি হচ্ছে, এ ক্ষেত্রে কিছু দ্বীনদার ও সৎ মানুষকে উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। যাতে করে তারা স্বামী-স্ত্রীর মাঝে শারঈ মীমাংসা করতে পারে। আর সমঝোতা সম্ভবপর না হলে, স্ত্রী তার স্বামীকে বিনিময় দিয়ে সম্পর্ক ছিন্ন করবে, যাতে ইসলামী শরী‘আতের দৃষ্টিতে এটি খুলা’ ত্বালাক্ব হিসাবে গণ্য হয়’ (লিক্বাউল বাব আল-মাফতূহ, লিক্বা নং-৫৪, ৩/১৭৪ পৃ.)।

শাইখ ইবনু বায (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) ও শাইখ মুহাম্মাদ ছালিহ আল-মুনাজ্জিদ (হাফিযাহুল্লাহ) বলেন, ‘প্রকৃতপক্ষে স্বামীর অগোচরে বা অজ্ঞাতসারে ত্বালাক্ব বা খুলা’ ত্বালাক্ব কোনটাই সংঘটিত হবে না। তবে হ্যাঁ, স্বামী যদি উপস্থিত না হয় অথবা খুলা‘ ত্বালাক্ব দিতে সম্মত না হয়, অথবা স্ত্রীর ক্ষতিসাধনে প্রয়াসী হয়। সেক্ষেত্রে মুসলিম বিচারক তার পক্ষ থেকে ফায়সালা করতে পারেন। আর যদি মুসলিম কাজী না থাকে তাহলে একটি ন্যায়পরায়ণ মুসলিম জামা‘আত তাঁর স্থলাভিষিক্ত হবে’ (মাজমূঊ ফাতাওয়া ইবনে বায, ২১/২৫৬; কিফায়াতুত্ব- ত্বালীব আর-রাব্বানী, ২/১৩৩; ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-৩২৪১৯৯)।


প্রশ্নকারী : জাহিদুর রহমান, সাতক্ষীরা।





প্রশ্ন (২৫) : ওযূ করে ছালাত চলাকালীন সময় বা ছালাত আদায়ের পর যদি জানতে পারি যে আমার দাঁতে সামান্য কিছু খাবার অবশিষ্ট আছে। তাহলে ওযূ করে পুনরায় ছালাত আদায় করতে হবে কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৩) : ইমামের সূরা ফাতিহা পড়ার সাথে সাথে মুছল্লীগণও তা পড়বে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৫) : সম্মিলিত দু‘আ করে এমন মাযহাবী ইমামের পিছনে ছালাত শুদ্ধ হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২) : লোকসানের অংশীদার হবে এমন শর্তে কোন ইসলামী ব্যাংকে টাকা রেখে তার লভ্যাংশ গ্রহণ করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৪) : বিয়েতে মেয়েকে কবুল বলাতে হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪) : আক্বীদা ও মানহাজার মধ্যে পার্থক্য কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২১) : সম্মেলন, সমাবেশ, সভা-সমিতি, খতমে বুখারী ও বিভিন্ন অনুষ্ঠান শেষে দলবদ্ধ মুনাজাত করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১২) : বাবা-মা পরিবারের বড় ছেলের তুলনায় ছোট ভাই-বোনদেরকে সবকিছুই বেশি দিয়ে থাকেন। তারা মোটেও ইনছাফ করেন না। এজন্য কি তাদেরকে জবাবদিহি করতে হবে না আল্লাহ তা‘আলার কাছে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৬) : রামাযান মাসে মৃত ব্যক্তির নামে কুরআন খতম করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৮) : চরমপন্থা সম্পর্কে ইসলামের বক্তব্য কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৩) : সুস্থ সক্ষম পিতা-মাতার জন্য বদলি ওমরাহ করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৬) : ঘুষের বিনিময়ে চাকরি নিলে সেই চাকরির বেতন কি হালাল হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ