বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:২৪ পূর্বাহ্ন
উত্তর : প্রচলিত কোর্টের মাধ্যমে স্ত্রী স্বামীকে ত্বালাক্ব দিতে পারবে না। কারণ স্ত্রী ত্বালাক্ব দিতে পারে না, খোলার মাধ্যমে বিবাহ বিচ্ছিন্ন করতে পারে। স্বামী স্ত্রীকে স্বাধীনভাবে ত্বালাক্ব দিতে পারে, আর স্ত্রী স্বামীর কাছ থেকে খুলা’ ত্বালাক্ব নিতে পারে, দিতে পারে না। ত্বালাক্ব হচ্ছে স্বামীর অধিকার। তাই স্বামী ত্বালাক্ব দিলে তবেই ত্বালাক্ব সংঘটিত হবে। নবী (ﷺ)-এর বাণী: ‘ত্বালাক্ব তারই অধিকার যার রয়েছে সহবাসের অধিকার’ অর্থাৎ স্বামীর (ইবনু মাজাহ, হা/১৭০৫, ২০৮১; সনদ হাসান, ইরওয়াউল গালীল, হা/২০৪১)।

‘খুলা‘ ত্বালাক্ব বলতে বুঝায়- কোন কিছুর বিনিময়ে স্ত্রীর বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া। এক্ষেত্রে স্বামী উক্ত বিনিময় গ্রহণ করে স্ত্রীকে বিদায় করে দেবেন। এক্ষেত্রে সমাজের দ্বীনদার নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি ও আলেমদের সহযোগিতা নিবে। শাইখ মুহাম্মাদ ছালিহ আল-মুনাজ্জিদ বলেন, ‘মানব রচিত আইনের মাধ্যমে স্ত্রী নিজেই নিজেকে ত্বালাক্ব দেয়া শরী‘আত সম্মত নয়। স্বামীর অনুমতি ব্যতীত যদি কোর্ট ত্বালাক্ব কার্যকর করেও তবুও সেটা ইসলামী শরী‘আতে ত্বালাক্ব হিসাবে বিবেচিত হবে না। বরং ঐ মহিলা তার স্বামীর স্ত্রী হিসাবেই বলবৎ থাকবে। এক্ষেত্রে মূল সমস্যাটা হল- যদিও ঐ মহিলা আইনের দৃষ্টিতে ত্বালাক্বপ্রাপ্তা, ইদ্দত শেষ হলে হয়ত সে অন্যত্র বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে যাবে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে সে ত্বালাক্বপ্রাপ্তা নয়, বরং সে এখনো তার স্বামীর বিবাহাধীন রয়েছে (ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-২৬২৪৭)।

তিনি আরো বলেন, ‘যখন আপনি মানবরচিত আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। সুতরাং আদালত স্বামীকে ত্বালাক্ব দিতে আদেশ করেছে। ফলস্বরূপ স্বামী ত্বালাক্বের শব্দ মুখে উচ্চারণ করেছেন অথবা ত্বালাক্বের নিয়তে ত্বালাক্ব শব্দটি লিখিত দিয়েছেন, এক্ষেত্রে কিন্তু ত্বালাক্ব প্রতিষ্ঠিত হয়ে যাবে। পক্ষান্তরে স্বামী যদি ত্বালাক্বের শব্দ মুখে উচ্চারণ না করেন অথবা ত্বালাক্বের নিয়তে ত্বালাক্ব শব্দটি লিখিত আকারে না দেন, বরং আদালত নিজের পক্ষ থেকে ত্বালাক্বের ফয়সালা করে দেয়, সেক্ষেত্রে কিন্তু কাফির বিচারকের ত্বালাক্ব প্রতিষ্ঠিত হবে না। কেননা ফক্বীহ্গণের সর্বসম্মতিক্রমে মুসলিমদের মীমাংসাকারী বিচারককে অবশ্যই মুসলিম হতে হবে। কেননা ক্বাযী এক প্রকারের ওয়ালী বা অভিভাবক, আর কোন কাফির ব্যক্তি কোন মুসলিম ব্যক্তির ওয়ালী হতে পারে না।

ইবনু ফারহুন (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, ‘ক্বাযী আয়ায (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, যে শর্তসমূহ ছাড়া কোন ব্যক্তির কাযী এবং ওয়ালী হওয়া সম্ভবপর নয়, সেগুলো দশটি। যথা: (১) ইসলাম (২) বুদ্ধিসম্পন্ন (৩) পুরুষ (৪) স্বাধীন (৫) প্রাপ্তবয়স্ক (৬) ন্যায়পরায়ণ (৭) জ্ঞানী (৮) এক হওয়া (৯) শ্রবণশক্তি ও দৃষ্টিশক্তি সম্পূর্ণ (১০) এবং বাকশক্তিহীন না হওয়া। এই জন্যই কাফির ও পাগল ব্যক্তির অভিভাবকত্ব বিশুদ্ধ নয় (তাবছীরাতুল হুক্কাম, ১/২৬; আল-মাওসূ‘আতুল ফিক্বহিয়্যাহ বা ইসলামিক ফিক্বাহ বিশ্বকোষ, ৩৩/২৯৫ পৃ.; ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-১২৭১৭৯)।

শাইখ ইবনু উছাইমীন (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) এই জটিল সমস্যার সমাধান সম্পর্কে বলেন, ‘আমরা এখন কোর্ট ত্বালাক্ব নামক এক জটিল সমস্যার সম্মুখীন হয়েছি। প্রকৃতপক্ষে এই মহিলা এখনো তার স্বামীর বিবাহাধীনে থাকায় অন্য কোন পুরুষের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারবে না। কিন্তু অপরদিকে কোর্টের রায়ের ভিত্তিতে সে ত্বালাক্বপ্রাপ্তা নারী হিসাবে বিবেচিত। যখনই তার ইদ্দত পূর্ণ হবে তার জন্য অন্য স্বামী গ্রহণ করা অনুমোদিত। এ সমস্যা নিরসনে আমার দৃষ্টিভঙ্গি হচ্ছে, এ ক্ষেত্রে কিছু দ্বীনদার ও সৎ মানুষকে উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। যাতে করে তারা স্বামী-স্ত্রীর মাঝে শারঈ মীমাংসা করতে পারে। আর সমঝোতা সম্ভবপর না হলে, স্ত্রী তার স্বামীকে বিনিময় দিয়ে সম্পর্ক ছিন্ন করবে, যাতে ইসলামী শরী‘আতের দৃষ্টিতে এটি খুলা’ ত্বালাক্ব হিসাবে গণ্য হয়’ (লিক্বাউল বাব আল-মাফতূহ, লিক্বা নং-৫৪, ৩/১৭৪ পৃ.)।

শাইখ ইবনু বায (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) ও শাইখ মুহাম্মাদ ছালিহ আল-মুনাজ্জিদ (হাফিযাহুল্লাহ) বলেন, ‘প্রকৃতপক্ষে স্বামীর অগোচরে বা অজ্ঞাতসারে ত্বালাক্ব বা খুলা’ ত্বালাক্ব কোনটাই সংঘটিত হবে না। তবে হ্যাঁ, স্বামী যদি উপস্থিত না হয় অথবা খুলা‘ ত্বালাক্ব দিতে সম্মত না হয়, অথবা স্ত্রীর ক্ষতিসাধনে প্রয়াসী হয়। সেক্ষেত্রে মুসলিম বিচারক তার পক্ষ থেকে ফায়সালা করতে পারেন। আর যদি মুসলিম কাজী না থাকে তাহলে একটি ন্যায়পরায়ণ মুসলিম জামা‘আত তাঁর স্থলাভিষিক্ত হবে’ (মাজমূঊ ফাতাওয়া ইবনে বায, ২১/২৫৬; কিফায়াতুত্ব- ত্বালীব আর-রাব্বানী, ২/১৩৩; ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-৩২৪১৯৯)।


প্রশ্নকারী : জাহিদুর রহমান, সাতক্ষীরা।





প্রশ্ন (৩৮) : ‘আমার ছাহাবীগণ তারকার ন্যায়, তোমরা যারই অনুসরণ কর সঠিক পথ পাবে’। হাদীছটি কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪) : মূর্তি পূজার হুকুম কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪০) : কোন ব্যক্তি যদি কুরআনের মুছহাফ ব্যতীত মুখস্থ কুরআন তেলাওয়াত করে, তাহলে তার জন্য এক হাযার মর্যাদার সমান নেকী রয়েছে। আর যদি মাছহাফে কুরআন পড়া মুখস্থ পড়ার চেয়ে দুই হাজার মর্যাদার সমান রয়েছে (ত্বাবারাণী, আল-জামেঊল কাবীর হা/৬০১)। বর্ণনাটি কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৫) : জন্মের পর পরেই একটি ছেলেকে একজন দত্তক হিসাবে নিয়ে নেয়। ঐ ব্যক্তি তার বাবা-মায়ের নাম জানতে পারেননি। এখন কিভাবে তার পরিচয় দিবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৮) : হায়েযগ্রস্ত নারী ক্বদরের রাতগুলো কিভাবে জাগবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৯) : মসজিদের শিক্ষাগত ও গঠনমূলক পরিচালনার দিক দিয়ে ইমাম ও মসজিদের কমিটির কী কী দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে? মসজিদ ও মাদরাসার কমিটির সদস্যদের কী কী গুণ থাকা আবশ্যক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৯) : অফিসে কোন ব্যক্তির কাজ করার পর যদি খুশি হয়ে আমি টাকা না নেয়া সত্ত্বেও ঐ ব্যক্তি জোর করে আমাকে টাকা দেয় এবং বলে আমার মন থেকে হাদিয়া দিয়েছি। তাহলে এইটা জায়েয হবে কিনা? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৭) : জনৈক মা তার সন্তানকে কারণে-অকারণে অভিশাপ দিয়ে থাকে। তাকে অভিশাপ দিতে নিষেধ করলেও শোনে না। এক্ষণে অভিশাপের ক্ষতি যেন সন্তানের জীবনে না আসে সেজন্য কী কারণীয়? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৫) : ‘ওশর’ শব্দের অর্থ কী? কৃষিপণ্যের যাকাতের নিছাব ও পরিমাণ কত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৩) : ছালাতে রুকূ থেকে উঠে দুই হাত উত্তোলন করার পর হাত ছেড়ে দিতে হবে, না-কি আবার বুকে হাত বাঁধতে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩০) : জনৈক ব্যক্তি আগে মিউজিসিয়ান ছিল। আল্লাহর রহমতে সেগুলো এখন সব বাদ দিয়েছে। কিন্তু আগের কিছু বাদ্যযন্ত্র রয়েছে। সেগুলো বিক্রয় করে প্রাপ্ত অর্থ কল্যাণকর কাজে লাগাতে পারবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৩): অপচয় ও অপব্যয় এর মধ্যে কোন পার্থক্য আছে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

ফেসবুক পেজ