বৃহস্পতিবার, ২৩ Jul ২০২৬, ০১:২৪ পূর্বাহ্ন
উত্তর : প্রচলিত কোর্টের মাধ্যমে স্ত্রী স্বামীকে ত্বালাক্ব দিতে পারবে না। কারণ স্ত্রী ত্বালাক্ব দিতে পারে না, খোলার মাধ্যমে বিবাহ বিচ্ছিন্ন করতে পারে। স্বামী স্ত্রীকে স্বাধীনভাবে ত্বালাক্ব দিতে পারে, আর স্ত্রী স্বামীর কাছ থেকে খুলা’ ত্বালাক্ব নিতে পারে, দিতে পারে না। ত্বালাক্ব হচ্ছে স্বামীর অধিকার। তাই স্বামী ত্বালাক্ব দিলে তবেই ত্বালাক্ব সংঘটিত হবে। নবী (ﷺ)-এর বাণী: ‘ত্বালাক্ব তারই অধিকার যার রয়েছে সহবাসের অধিকার’ অর্থাৎ স্বামীর (ইবনু মাজাহ, হা/১৭০৫, ২০৮১; সনদ হাসান, ইরওয়াউল গালীল, হা/২০৪১)।

‘খুলা‘ ত্বালাক্ব বলতে বুঝায়- কোন কিছুর বিনিময়ে স্ত্রীর বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া। এক্ষেত্রে স্বামী উক্ত বিনিময় গ্রহণ করে স্ত্রীকে বিদায় করে দেবেন। এক্ষেত্রে সমাজের দ্বীনদার নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি ও আলেমদের সহযোগিতা নিবে। শাইখ মুহাম্মাদ ছালিহ আল-মুনাজ্জিদ বলেন, ‘মানব রচিত আইনের মাধ্যমে স্ত্রী নিজেই নিজেকে ত্বালাক্ব দেয়া শরী‘আত সম্মত নয়। স্বামীর অনুমতি ব্যতীত যদি কোর্ট ত্বালাক্ব কার্যকর করেও তবুও সেটা ইসলামী শরী‘আতে ত্বালাক্ব হিসাবে বিবেচিত হবে না। বরং ঐ মহিলা তার স্বামীর স্ত্রী হিসাবেই বলবৎ থাকবে। এক্ষেত্রে মূল সমস্যাটা হল- যদিও ঐ মহিলা আইনের দৃষ্টিতে ত্বালাক্বপ্রাপ্তা, ইদ্দত শেষ হলে হয়ত সে অন্যত্র বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে যাবে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে সে ত্বালাক্বপ্রাপ্তা নয়, বরং সে এখনো তার স্বামীর বিবাহাধীন রয়েছে (ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-২৬২৪৭)।

তিনি আরো বলেন, ‘যখন আপনি মানবরচিত আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। সুতরাং আদালত স্বামীকে ত্বালাক্ব দিতে আদেশ করেছে। ফলস্বরূপ স্বামী ত্বালাক্বের শব্দ মুখে উচ্চারণ করেছেন অথবা ত্বালাক্বের নিয়তে ত্বালাক্ব শব্দটি লিখিত দিয়েছেন, এক্ষেত্রে কিন্তু ত্বালাক্ব প্রতিষ্ঠিত হয়ে যাবে। পক্ষান্তরে স্বামী যদি ত্বালাক্বের শব্দ মুখে উচ্চারণ না করেন অথবা ত্বালাক্বের নিয়তে ত্বালাক্ব শব্দটি লিখিত আকারে না দেন, বরং আদালত নিজের পক্ষ থেকে ত্বালাক্বের ফয়সালা করে দেয়, সেক্ষেত্রে কিন্তু কাফির বিচারকের ত্বালাক্ব প্রতিষ্ঠিত হবে না। কেননা ফক্বীহ্গণের সর্বসম্মতিক্রমে মুসলিমদের মীমাংসাকারী বিচারককে অবশ্যই মুসলিম হতে হবে। কেননা ক্বাযী এক প্রকারের ওয়ালী বা অভিভাবক, আর কোন কাফির ব্যক্তি কোন মুসলিম ব্যক্তির ওয়ালী হতে পারে না।

ইবনু ফারহুন (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, ‘ক্বাযী আয়ায (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, যে শর্তসমূহ ছাড়া কোন ব্যক্তির কাযী এবং ওয়ালী হওয়া সম্ভবপর নয়, সেগুলো দশটি। যথা: (১) ইসলাম (২) বুদ্ধিসম্পন্ন (৩) পুরুষ (৪) স্বাধীন (৫) প্রাপ্তবয়স্ক (৬) ন্যায়পরায়ণ (৭) জ্ঞানী (৮) এক হওয়া (৯) শ্রবণশক্তি ও দৃষ্টিশক্তি সম্পূর্ণ (১০) এবং বাকশক্তিহীন না হওয়া। এই জন্যই কাফির ও পাগল ব্যক্তির অভিভাবকত্ব বিশুদ্ধ নয় (তাবছীরাতুল হুক্কাম, ১/২৬; আল-মাওসূ‘আতুল ফিক্বহিয়্যাহ বা ইসলামিক ফিক্বাহ বিশ্বকোষ, ৩৩/২৯৫ পৃ.; ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-১২৭১৭৯)।

শাইখ ইবনু উছাইমীন (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) এই জটিল সমস্যার সমাধান সম্পর্কে বলেন, ‘আমরা এখন কোর্ট ত্বালাক্ব নামক এক জটিল সমস্যার সম্মুখীন হয়েছি। প্রকৃতপক্ষে এই মহিলা এখনো তার স্বামীর বিবাহাধীনে থাকায় অন্য কোন পুরুষের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারবে না। কিন্তু অপরদিকে কোর্টের রায়ের ভিত্তিতে সে ত্বালাক্বপ্রাপ্তা নারী হিসাবে বিবেচিত। যখনই তার ইদ্দত পূর্ণ হবে তার জন্য অন্য স্বামী গ্রহণ করা অনুমোদিত। এ সমস্যা নিরসনে আমার দৃষ্টিভঙ্গি হচ্ছে, এ ক্ষেত্রে কিছু দ্বীনদার ও সৎ মানুষকে উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। যাতে করে তারা স্বামী-স্ত্রীর মাঝে শারঈ মীমাংসা করতে পারে। আর সমঝোতা সম্ভবপর না হলে, স্ত্রী তার স্বামীকে বিনিময় দিয়ে সম্পর্ক ছিন্ন করবে, যাতে ইসলামী শরী‘আতের দৃষ্টিতে এটি খুলা’ ত্বালাক্ব হিসাবে গণ্য হয়’ (লিক্বাউল বাব আল-মাফতূহ, লিক্বা নং-৫৪, ৩/১৭৪ পৃ.)।

শাইখ ইবনু বায (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) ও শাইখ মুহাম্মাদ ছালিহ আল-মুনাজ্জিদ (হাফিযাহুল্লাহ) বলেন, ‘প্রকৃতপক্ষে স্বামীর অগোচরে বা অজ্ঞাতসারে ত্বালাক্ব বা খুলা’ ত্বালাক্ব কোনটাই সংঘটিত হবে না। তবে হ্যাঁ, স্বামী যদি উপস্থিত না হয় অথবা খুলা‘ ত্বালাক্ব দিতে সম্মত না হয়, অথবা স্ত্রীর ক্ষতিসাধনে প্রয়াসী হয়। সেক্ষেত্রে মুসলিম বিচারক তার পক্ষ থেকে ফায়সালা করতে পারেন। আর যদি মুসলিম কাজী না থাকে তাহলে একটি ন্যায়পরায়ণ মুসলিম জামা‘আত তাঁর স্থলাভিষিক্ত হবে’ (মাজমূঊ ফাতাওয়া ইবনে বায, ২১/২৫৬; কিফায়াতুত্ব- ত্বালীব আর-রাব্বানী, ২/১৩৩; ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-৩২৪১৯৯)।


প্রশ্নকারী : জাহিদুর রহমান, সাতক্ষীরা।





প্রশ্ন (১৩) : কোন ব্যক্তি যদি আরোগ্য লাভের আশায় নিজে কুরআন তেলাওয়াত করে বা কুরআন খতম করে পানিতে ফুঁ দিয়ে তা খায়, তাহলে জায়েয হবে কি? মৃত ব্যক্তির জন্য কি কুরআন খতম করা যাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১২) : চোখের যিনা করলে ক্বিয়ামতের দিন চোখে গরম শিশা ঢালা হবে এই রকম কোন হাদীছ আছে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৫) : জন্মের পর পরেই একটি ছেলেকে একজন দত্তক হিসাবে নিয়ে নেয়। ঐ ব্যক্তি তার বাবা-মায়ের নাম জানতে পারেননি। এখন কিভাবে তার পরিচয় দিবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৯) : কোন ব্যক্তি টাকা ধার নিয়ে সময়মত টাকা পরিশোধ করতে ব্যর্থ হয়। যাকাত দেয়ার সময় উক্ত টাকা বাদ দিয়ে যাকাত দিলে হবে কি? উল্লেখ্য, যে টাকা ধার দেয়, সে দেয়ার সময়ই নিয়ত করে যে, যদি সেই ব্যক্তি কোন কারণে টাকা ফেরত দিতে ব্যর্থ হয়, তাহলে উক্ত টাকা সে যাকাতের টাকা ধরে বাদ দিবে। এটা কি শরী‘আত সম্মত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩১) : মৃত্যুর প্রস্তুতি স্বরূপ কেউ কাফনের কাপড় কিনে রাখতে পারবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৯) : কাঁকড়া খাওয়া যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১০) : ইসলামের দৃষ্টিতে ছেলে-মেয়েদের সহশিক্ষা কি বৈধ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৮) : জ্বালানি তেল জাতীয় পদার্থ যেমন পেট্রোল, অকটেন, ডিজেল, কেরোসিন ইত্যাদি কাপড়ে লাগলে নাপাক হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৮) : এক ব্যক্তির পৈত্রিক কিছু সম্পদ আত্মীয়-স্বজন অবৈধভাবে ভোগ করছে। ফিরিয়ে নিতে গেলে সম্পর্ক নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা শরী‘আতে নিষিদ্ধ। এখন সে কোনটা প্রাধান্য দিবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৭) : মূসা (আলাইহিস সালাম) যখন আল্লাহ্র সাথে সাক্ষাৎ করলেন তখন তিনি প্রশ্ন করলেন, হে আল্লাহ! আমি আপনার যত নিকটবর্তী হয়েছি আর কেউ কি এতো নিকটবর্তী হতে পারবে। আল্লাহ বললেন, মুহাম্মাদ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর উম্মত ইফতারের সময় এর চেয়েও বেশী নিকটবর্তী হবে। উক্ত ঘটনা কোন হাদীছ গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৭) : আমি একজন বেসরকারি চাকুরিজীবী। মাসে ৮-১০ দিন আমাকে টানা ২৪ ঘন্টা অফিস করতে হয়। এই দীর্ঘ সময়ে ইচ্ছায়-অনিচ্ছায় অফিসের অনেক হক্ব নষ্ট হয় যেমন অলসতা, গাফেলতি, ঘুম, ছলচাতুরী ও নেট ব্রাউজিং এর মাধ্যমে (যা চেষ্টা করলেও শতভাগ রক্ষা করা প্রায়ই অসম্ভব)। এমতাবস্থায় উপার্জনে হারামের সংশয় নিরসনে- এই হক্ব নষ্টের কোন কাফ্ফারা আছে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৬) : ফের্কাবন্দীর হুকুম কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ