উত্তর : লুঙ্গি, পায়জামা, প্যান্ট, জুব্বা ইত্যাদি টাখনুর নীচে পরিধান করা হারাম। অহংকারবশত হোক বা না হোক। নবী করীম(ﷺ) বলেন,
ثَلَاثَةٌ لَا يُكَلّمُهُمُ اللهُ يَوْمَ الْقِياَمَةِ وَلَا يَنْظُرُ إلَيْهِمْ وَلَا يُزَكّيْهِمْ وَلَهُمْ عَذاَبٌ ألِيْم: المُسْبِلُ وَالمَنَّانُ وَالْمُنْفِقُ سِـلْعَتَهُ بـاِلْحَلِفِ الكـاَذِبِ
‘ক্বিয়ামত দিবসে আল্লাহ তা‘আলা তিন ব্যক্তির সাথে কথা বলবেন না, তাদের দিকে তাকাবেন না, তাদেরকে পবিত্র করবেন না এবং তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। সেই তিনি ব্যাক্তি হল: (১) পায়ের টাখনুর নিচে কাপড় ঝুলিয়ে পরিধানকারী (২) দান করে খোঁটাদানকারী (৩) মিথ্যা শপথ করে পন্য বিক্রয়কারী’ (ছহীহ মুসলিম, হা/১০৬)। আবূ হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, নবী (ﷺ) বলেন, مَا أَسْفَلَ مِنَ الْكَعْبَيْنِ مِنَ الإِزَارِ فَفِى النَّارِ ‘যে টাখনুদ্বয়ের নিচে কাপড় ঝুলিয়ে পরা হত তা আগুনের মধ্যে জ্বলবে’ (ছহীহ বুখারী, হা/৫৭৮৭)। উক্ত হাদীছদ্বয়ে অহংকারের কথা নেই। টাখনুর নীচে কাপড় ঝুলিয়ে পরলেই জাহান্নাম। অন্যত্র রাসূল (ﷺ) বলেন, مَنْ جَرَّ ثَوْبَهُ خُيَلَاءَ لَمْ يَنْظُرِ الله إلَيْهِ يَوْمَ الْقِياَمَـةِ ‘যে ব্যাক্তি অহংকারবশতঃ কাপড় ঝুলিয়ে পরিধান করবে ক্বিয়ামত দিবসে আল্লাহ্ তাঁর দিকে দৃষ্টিপাত করবেন না’ (ছহীহ বুখারী, হা/৩৬৬৫; আবূ দাঊদ, হা/৪০৮৫)। আবূ সাঈদ খুদরী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন,
إِزْرَةُ الْمُسْلِمِ إِلَى نِصْفِ السَّاقِ وَلَا حَرَجَ أَوْ لَا جُنَاحَ فِيْمَا بَيْنَهُ وَبَيْنَ الْكَعْبَيْنِ مَا كَانَ أَسْفَلَ مِنَ الْكَعْبَيْنِ فَهُوَ فِى النَّارِ مَنْ جَرَّ إِزَارَهُ بَطَرًا لَمْ يَنْظُرِ اللهُ إِلَيْهِ
‘মুসলিমের পরিধেয় লুঙ্গি-পাজামা নলার মধ্যভাগ পর্যন্ত থাকবে, তবে টাখনুদ্বয় পর্যন্ত রাখলেও কোন গুনাহ হবে না। কিন্তু টাখনুদ্বয়ের নিচে গেলে তা জাহান্নামের আগুনে যাবে। যে অহংকারবশে নিজের লুঙ্গি হেঁচড়িয়ে চলে, আল্লাহ তার প্রতি ভ্রƒক্ষেপ করবেন না’ (আবূ দাঊদ, হা/৪০৯৩, সনদ ছহীহ) ।
অনেকে কাপড় ঝুলিয়ে পরিধান করে এবং যুক্তি দেখায় যে আমি তো অহংকারবশতঃ ঝুলিয়ে পরিনি। উল্লিখিত হাদীছগুলো থেকে স্পষ্ট হয়ে গেল যে, এ ব্যক্তির যুক্তি সম্পূর্ণ শয়তানী কুমন্ত্রণা। অহংকার ছাড়াই কেউ কাপড় টাখনুর নিচে ঝুলিয়ে পরলে জাহান্নামে যেতে হবে। তাঁর সাথে যদি অহংকার যুক্ত হয় তবে তাঁর শাস্তি আরও কঠিন হবে।
কেউ কেউ আবুবকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদীছ পেশ করে বৈধ করার চেষ্টা করে। অথচ তাদের যুক্তি সঠিক নয়। প্রথম কথা: আবূ বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন, ‘আমার কাপড়ের এক পার্শ্ব (অনিচ্ছাকৃত) ঝুলে পড়ে, কিন্তু আমি তা বারবার উঠিয়ে নেয়ার চেষ্টা করি’। অতএব তিনি তো ইচ্ছাকৃত একাজ করতেন না। বরং তাঁর শরীর অধিক ক্ষীণ হওয়ার কারণে অনিচ্ছাকৃত কাপড় ঝুলে যেত। তাছাড়া তিনি তা উঠিয়ে নেয়ার চেষ্টা করতেন। কিন্তু যারা কাপড় ঝুলিয়ে পরে এবং ধারণা করে যে তারা অহংকার করে না, তারা তো ইচ্ছাকৃত একাজ করে। অতএব তাদের ক্ষেত্রে আমরা বলব, অহংকারের উদ্দেশ্য ব্যতীত ইচ্ছাকৃত কাপড় ঝুলিয়ে পরলে তার টাখনু জাহান্নামের আগুনে জ্বলবে।
যেমনটি আবূ হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদীছে বর্ণিত হয়েছে। আর যদি অহংকারবশতঃ হয় তবে তার শাস্তি হচ্ছে, আল্লাহ্ তাঁর সাথে কথা বলবেন না, তাঁর দিকে তাকাবেন না, তাকে পবিত্র করবেন না এবং তাঁর জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। দ্বিতীয় কথা: নবী (ﷺ) নিজেই আবূ বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে পরিশুদ্ধ করেছেন এবং সাক্ষ্য দিয়েছেন যে, তিনি সেই সকল লোকদের অন্তর্ভুক্ত নন, যারা অহংকারবশতঃ একাজ করে থাকে। অতএব বর্তমানে এরা কি নবীজীর পক্ষ থেকে এরূপ সচ্চরিত্রের সনদ ও তাঁর সাক্ষ্য লাভ করেছে? কিন্তু শয়তান প্রবৃত্তির অনুসারী লোকদেরকে কুরআন-সুন্নাহ থেকে সামঞ্জস্যপূর্ণ উক্তি সমূহকে খেয়াল-খুশির উপর ব্যবহার করতে উদ্বুদ্ধ করে। তখন তারা বিভ্রান্ত হয়। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা সঠিক পথে পরিচালিত করে থাকেন (শাইখ ইবনু উছায়মীন, ফাতাওয়া আরকানুল ইসলাম)।
প্রশ্নকারী : মীযানুর রহমান, মোমেনশাহী।