বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৪৮ পূর্বাহ্ন
উত্তর : লুঙ্গি, পায়জামা, প্যান্ট, জুব্বা ইত্যাদি টাখনুর নীচে পরিধান করা হারাম। অহংকারবশত হোক বা না হোক। নবী করীম(ﷺ) বলেন,

ثَلَاثَةٌ لَا يُكَلّمُهُمُ اللهُ يَوْمَ الْقِياَمَةِ وَلَا يَنْظُرُ إلَيْهِمْ وَلَا يُزَكّيْهِمْ وَلَهُمْ عَذاَبٌ ألِيْم: المُسْبِلُ وَالمَنَّانُ وَالْمُنْفِقُ سِـلْعَتَهُ بـاِلْحَلِفِ الكـاَذِبِ

‘ক্বিয়ামত দিবসে আল্লাহ তা‘আলা তিন ব্যক্তির সাথে কথা বলবেন না, তাদের দিকে তাকাবেন না, তাদেরকে পবিত্র করবেন না এবং তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। সেই তিনি ব্যাক্তি হল: (১) পায়ের টাখনুর নিচে কাপড় ঝুলিয়ে পরিধানকারী (২) দান করে খোঁটাদানকারী (৩) মিথ্যা শপথ করে পন্য বিক্রয়কারী’ (ছহীহ মুসলিম, হা/১০৬)। আবূ হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, নবী (ﷺ) বলেন, مَا أَسْفَلَ مِنَ الْكَعْبَيْنِ مِنَ الإِزَارِ فَفِى النَّارِ ‘যে টাখনুদ্বয়ের নিচে কাপড় ঝুলিয়ে পরা হত তা আগুনের মধ্যে জ্বলবে’ (ছহীহ বুখারী, হা/৫৭৮৭)। উক্ত হাদীছদ্বয়ে অহংকারের কথা নেই। টাখনুর নীচে কাপড় ঝুলিয়ে পরলেই জাহান্নাম। অন্যত্র রাসূল (ﷺ) বলেন, مَنْ جَرَّ ثَوْبَهُ خُيَلَاءَ لَمْ يَنْظُرِ الله إلَيْهِ يَوْمَ الْقِياَمَـةِ ‘যে ব্যাক্তি অহংকারবশতঃ কাপড় ঝুলিয়ে পরিধান করবে ক্বিয়ামত দিবসে আল্লাহ্ তাঁর দিকে দৃষ্টিপাত করবেন না’ (ছহীহ বুখারী, হা/৩৬৬৫; আবূ দাঊদ, হা/৪০৮৫)। আবূ সাঈদ খুদরী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন,

إِزْرَةُ الْمُسْلِمِ إِلَى نِصْفِ السَّاقِ وَلَا حَرَجَ أَوْ لَا جُنَاحَ فِيْمَا بَيْنَهُ وَبَيْنَ الْكَعْبَيْنِ مَا كَانَ أَسْفَلَ مِنَ الْكَعْبَيْنِ فَهُوَ فِى النَّارِ مَنْ جَرَّ إِزَارَهُ بَطَرًا لَمْ يَنْظُرِ اللهُ إِلَيْهِ

‘মুসলিমের পরিধেয় লুঙ্গি-পাজামা নলার মধ্যভাগ পর্যন্ত থাকবে, তবে টাখনুদ্বয় পর্যন্ত রাখলেও কোন গুনাহ হবে না। কিন্তু টাখনুদ্বয়ের নিচে গেলে তা জাহান্নামের আগুনে যাবে। যে অহংকারবশে নিজের লুঙ্গি হেঁচড়িয়ে চলে, আল্লাহ তার প্রতি ভ্রƒক্ষেপ করবেন না’ (আবূ দাঊদ, হা/৪০৯৩, সনদ ছহীহ) ।

অনেকে কাপড় ঝুলিয়ে পরিধান করে এবং যুক্তি দেখায় যে আমি তো অহংকারবশতঃ ঝুলিয়ে পরিনি। উল্লিখিত হাদীছগুলো থেকে স্পষ্ট হয়ে গেল যে, এ ব্যক্তির যুক্তি সম্পূর্ণ শয়তানী কুমন্ত্রণা। অহংকার ছাড়াই কেউ কাপড় টাখনুর নিচে ঝুলিয়ে পরলে জাহান্নামে যেতে হবে। তাঁর সাথে যদি অহংকার যুক্ত হয় তবে তাঁর শাস্তি আরও কঠিন হবে।

কেউ কেউ আবুবকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদীছ পেশ করে বৈধ করার চেষ্টা করে। অথচ তাদের যুক্তি সঠিক নয়। প্রথম কথা: আবূ বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন, ‘আমার কাপড়ের এক পার্শ্ব (অনিচ্ছাকৃত) ঝুলে পড়ে, কিন্তু আমি তা বারবার উঠিয়ে নেয়ার চেষ্টা করি’। অতএব তিনি তো ইচ্ছাকৃত একাজ করতেন না। বরং তাঁর শরীর অধিক ক্ষীণ হওয়ার কারণে অনিচ্ছাকৃত কাপড় ঝুলে যেত। তাছাড়া তিনি তা উঠিয়ে নেয়ার চেষ্টা করতেন। কিন্তু যারা কাপড় ঝুলিয়ে পরে এবং ধারণা করে যে তারা অহংকার করে না, তারা তো ইচ্ছাকৃত একাজ করে। অতএব তাদের ক্ষেত্রে আমরা বলব, অহংকারের উদ্দেশ্য ব্যতীত ইচ্ছাকৃত কাপড় ঝুলিয়ে পরলে তার টাখনু জাহান্নামের আগুনে জ্বলবে।

যেমনটি আবূ হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদীছে বর্ণিত হয়েছে। আর যদি অহংকারবশতঃ হয় তবে তার শাস্তি হচ্ছে, আল্লাহ্‌ তাঁর সাথে কথা বলবেন না, তাঁর দিকে তাকাবেন না, তাকে পবিত্র করবেন না এবং তাঁর জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। দ্বিতীয় কথা: নবী (ﷺ) নিজেই আবূ বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে পরিশুদ্ধ করেছেন এবং সাক্ষ্য দিয়েছেন যে, তিনি সেই সকল লোকদের অন্তর্ভুক্ত নন, যারা অহংকারবশতঃ একাজ করে থাকে। অতএব বর্তমানে এরা কি নবীজীর পক্ষ থেকে এরূপ সচ্চরিত্রের সনদ ও তাঁর সাক্ষ্য লাভ করেছে? কিন্তু শয়তান প্রবৃত্তির অনুসারী লোকদেরকে কুরআন-সুন্নাহ‌ থেকে সামঞ্জস্যপূর্ণ উক্তি সমূহকে খেয়াল-খুশির উপর ব্যবহার করতে উদ্বুদ্ধ করে। তখন তারা বিভ্রান্ত হয়। আল্লাহ‌ যাকে ইচ্ছা সঠিক পথে পরিচালিত করে থাকেন (শাইখ ইবনু উছায়মীন, ফাতাওয়া আরকানুল ইসলাম)।


প্রশ্নকারী : মীযানুর রহমান, মোমেনশাহী।





প্রশ্ন (২৬) : আমি এইচএসসি ১ম বর্ষে পড়ি। বর্তমানে কলেজ বন্ধ থাকায় বাসায় পরীক্ষা হয়। ক্লাস না করায় অনেক সাবজেক্ট সম্পর্কে আমার ধারণা নেই এবং অলসতাবশতঃ আমি পড়ালেখা করি না। এখন বই দেখে পরীক্ষা দেয়া জায়েয হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৭) : মসজিদে প্রবেশের সময় এবং বের হওয়ার সময় উচ্চৈঃস্বরে সালাম দেয়া যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৫) : কোন ব্যক্তি যদি কুরআনের মাছহাফ ব্যতীত মুখস্থ কুরআন তেলাওয়াত করে, তাহলে তার জন্য এক হাযার মর্যাদার সমান নেকী রয়েছে। আর যদি মাছহাফে কুরআন পড়া মুখস্থ পড়ার চেয়ে দুই হাজার মর্যাদার সমান রয়েছে (ত্বাবারাণী, আল-জামেঊল কাবীর হা/৬০১)। বর্ণনাটি কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২১) : ইসলামে বোবা জিনের অস্তিত্ব আছে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৮) : স্বর্ণের নিছাব টাকা দিয়ে পূরণ করা যাবে কি? কারো স্বর্ণ আছে ৫ ভরি এবং টাকা আছে ২,০০,০০০। এ ক্ষেত্রে স্বর্ণের যাকাতের বিধান কী হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৯) : শরী‘আতের দৃষ্টিতে খাওয়া ও ছাদাক্বাহ করার ক্ষেত্রে কুরবানীর পশুর গোশত বণ্টন করার পদ্ধতি কীরূপ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৭) : কুরবানীর চামড়ার টাকা মসজিদ ও মাদরাসায় দেয়া যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৩) : রাসূল (ﷺ)-এর আবির্ভাবের পূর্বে সমস্ত নবীর ক্বিবলাহ বাইতুল মাক্বদিছ ছিল এই কথাটি কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২) : জনৈক বক্তা বলেন, বাক্বী গোরস্থানে কবর দেয়া হয়েছে এমন সত্তর হাজার মানুষ বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশ করবে, যাদের মুখমণ্ডল হবে পূর্ণিমা চাঁদের মত। উক্ত বক্তব্য সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৯) : প্রত্যেক রোগের ঔষধ আছে। এ কথা কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৬) : মৃত ব্যক্তির নামে খাওয়ানো, চার দিন পর দু‘আ অনুষ্ঠান, চল্লিশা উৎযাপন, মৃত্যু বার্ষিকী উৎযাপন ইত্যাদির মাধ্যমে কি মৃত ব্যক্তি শাস্তিপ্রাপ্ত হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১) : কোন্ সময় সত্য গোপন করা যায়? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

ফেসবুক পেজ