রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:১৫ অপরাহ্ন
উত্তর : একটি আদর্শ দম্পতির কর্তব্য হল, একে অপরের সঙ্গে ভাল ব্যবহার করা এবং অনুগত হওয়া। পৃথিবীর মধ্যে সর্বাধিক ভালোবাসা ও মধুর সম্পর্ক হল স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক। যেমন রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, لَمْ نَرَ لِلْمُتَحَابَّيْنِ مِثْلَ النِّكَاحِ ‘দু’জনের পারস্পরিক ভালোবাসা স্থাপনের জন্য বিবাহের বিকল্প নেই’ (ইবনু মাজাহ, হা/১৮৪৭; আবূ ই‘আলা, হা/২৭৪৭; মুসনাদু বাযযার, হা/৪৮৩৬; সনদ ছহীহ, সিলসিলা ছহীহাহ, হা/৬২৪)। অথচ আজ সিংহভাগ পরিবারের মধ্যে অশান্তি বিরাজ করছে। নির্বুদ্ধিতা, নিয়ন্ত্রণহীন ক্রোধ, জিদ ও আকাশচুম্বী চাহিদাই এ জন্য দায়ী।

স্ত্রীর সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা জায়েয নয়। কেননা আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন, ‘আর তোমরা তাদের (স্ত্রীদের) সাথে সৎভাবে জীবন-যাপন কর, তোমরা যদি তাদেরকে (স্ত্রীদেরকে) ঘৃণা কর, তাহলে এমনও হতে পারে যে, আল্লাহ যার মধ্যে প্রভূত কল্যাণ রেখেছেন, তোমরা তাকে ঘৃণা করছ’ (সূরা আন-নিসা : ১৯)। রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, وَإِنَّ لِزَوْجِكَ عَلَيْكَ حَقًّا ‘তোমার উপর তোমার স্ত্রীর অধিকার রয়েছে’ (ছহীহ বুখারী, হা/১৯৭৪, ১৯৭৫, ১৯৭৭, ৫১৯৯, ৬১৩৪; ছহীহ মুসলিম, হা/১১৫৯)। ইমাম ইবনু কাছীর (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘স্ত্রীর সঙ্গে উৎকৃষ্ট পন্থায় বার্তালাপ করা এবং উত্তম আচরণ প্রদর্শন করা স্বামীর উপর অপরিহার্য। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন, ‘পুরুষদের যেমন নারীদের উপর অধিকার রয়েছে, ঠিক তেমনি নারীদের রয়েছে পুরুষদের উপর ন্যায়-সঙ্গত অধিকার’ (সূরা আল-বাক্বারাহ : ২২৮)। রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, خَيْرُكُمْ خَيْرُكُمْ لِأَهْلِهِ وَأَنَا خَيْرُكُمْ لِأَهْلِيْ وَإِذَا مَاتَ صَاحِبُكُمْ فَدَعُوْهُ ‘তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি উত্তম যে নিজের পরিবারের কাছে উত্তম। আর আমি তোমাদের চেয়ে আমার পরিবারের কাছে অধিক উত্তম। আর তোমাদের কোন সঙ্গী মৃত্যুবরণ করলে তার সমালোচনা পরিত্যাগ কর’ (তিরমিযী, হা/৩৮৯৫; ইবনু মাজাহ, হা/১৯৭৭)।

শায়খুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘পুণ্যময়ী নারীরা অনুগতা এবং পুরুষের অনুপস্থিতিতে লোক-চক্ষুর অন্তরালে (স্বামীর ধন ও নিজেদের ইজ্জত) রক্ষাকারিণী; আল্লাহর হিফাযতে (তাওফীকে) তারা তা হিফাযত করে’ (সূরা আন-নিসা : ৩৪)। সুতরাং পুরোপুরিভাবে স্বামীর আনুগত্য করা স্ত্রীর উপর অপরিহার্য। যেমন সেবা-যত্নে, ভ্রমণে, শক্তিশালীকরণে এবং অন্যান্য বিষয়ে যা ছহীহ সুন্নাহর আলোকে প্রমাণিত। বিবাহের পূর্বে যেমন পিতা-মাতার আনুগত্য করা ওয়াজিব ছিল, বিবাহের পর ঠিক তেমনি স্বামীর আনুগত্য করা অপরিহার্য। পিতা-মাতার কাছ থেকে সমস্ত আনুগত্য স্বামীর কাছে স্থানান্তরিত হয়েছে। পিতা-মাতার আর কোন আনুগত্য অবশিষ্ট নেই’ (মাজমূঊল ফাতাওয়া, ৩২তম খণ্ড, পৃ. ২৬০-২৬১)।

হুসাইন ইবনু মিহছান (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর ফুফু রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে কোন কাজে এসে ছিলেন, প্রয়োজনীয় কাজ ও কথা সম্পন্ন করলে নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে বললেন, হে অমুক! তোমার কি স্বামী আছে? সে বলল, হ্যাঁ, আছে। তিনি বললেন, তুমি তার জন্য কেমন? সে বলল, আমি অসমর্থ ও অপারগ হওয়া ব্যতীত তার আনুগত্য ও খিদমতে কমতি করি না।  তখন রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তুমি লক্ষ্য করে দেখবে যে, তুমি তার হৃদয়ের কোথায় অবস্থান করছ? কেননা সেই তোমার জান্নাত ও জাহান্নাম (মুসনাদে আহমাদ, হা/১৯০২৫; সনদ হাসান; সিলসিলা ছহীহাহ, হা/২৬১২; আদাবুয যিফাফ, হা/২১৩; হাকিম, হা/২৭৬৯, সনদ হাসান)।


প্রশ্নকারী : আয়েশা আকতার, নারায়ণগঞ্জ।





প্রশ্ন (১৯) : প্রত্যেক রোগের ঔষধ আছে। এ কথা কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৭) : যিলহজ্জ মাসে আইয়ামে বীযের নফল ছিয়াম কিভাবে রাখবো? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৫) : দুর্নামের ভয়ে ভালো কাজ করলে রিয়া হয় কি?  - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৬) : জনৈক ব্যক্তি বাকী গোরস্থান থেকে পাথর এনে ছওয়াবের আশায় মসজিদে স্থাপন করেছেন। উক্ত মসজিদে ছালাত আদায় করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৭) : জনৈক ব্যক্তি কোল্ড এলার্জির রোগী। শীতের মধ্যে রোগটা বেড়ে যায়। ওযূতে নাকের মধ্যে পানি দিলে হাঁচি হতে হতে অসুস্থ হয়ে যায়? এমতাবস্থায় কী করা উচিত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১০) : মসজিদে বা মসজিদের আঙ্গিনায় ফুটবল, ক্রিকেট, বলিবল ইত্যাদি খেলা কি জায়েয? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২১) : মোবাইল থেকে কিংবা মুখস্থ থেকে কুরআন পড়লে এবং মুছহাফ (গ্রন্থ) থেকে না পড়লে কি ছওয়াব কম হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৭) : স্বামী তার স্ত্রীকে বলেছে, তার মায়ের প্রতিটি কথা মেনে চলতে হবে। কিন্তু শাশুড়ি চান যে, তার ছেলের বউ তার দেবর, চাচা, চাচাতো ভাই, খালাত ভাই সবার সাথেই সাধারণভাবেই চলুক। এক্ষেত্রে স্ত্রীর করণীয় কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩২) : কুরবানীর দিন দুপুর পর্যন্ত না খেয়ে থাকা সুন্নাত। উক্ত বক্তব্য কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৫) : অনেক সময় আমরা মসজিদে দুখূলুল মসজিদ বা অন্য কোন সুন্নাত ছালাত আরম্ভ করি এমতাবস্থায় ইক্বামত দিয়ে দেয়। তখন আমরা সুন্নাত ছেড়ে দিয়ে জামা‘আতে শামিল হয়ে যাই। ফরয ছালাতের পরে সেই ছুটে যাওয়া সুন্নাত কি আবার পড়তে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৬) : মুক্তাদীরা ফরয ছালাতের জন্য কখন দাঁড়াবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩): আমি একজন চাকুরিজীবী। আমার মাসিক বেতন ২০,০০০/- টাকা। আমার পরিবারে সবাই আমার উপর নির্ভর করে। আমি আমার বেতন থেকে সব খরচ প্রদান করি। আমার স্ত্রী, মেয়ে, বাবা, ভাই ও বোন আছে, যাদের খরচ আমি বহন করি। কিন্তু আমার প্রশ্ন হলো আমি আমার সম্পদের যাকাত কীভাবে দিব? আমার সম্পদের উৎস শুধু এই বেতন। কিন্তু আমার সমস্ত বেতন আমার পরিবারে ব্যয় হয়ে যায়। অতএব, আমি কখন যাকাত দিব? কিছু মানুষ বলে যে, বেতন কৃষি ফসলের মত। এতে বর্ষপূর্তির বিষয়টি বিবেচ্য নয়। সুতরাং যখন বেতন পাবেন তখনই যাকাত আবশ্যক হবে। - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

ফেসবুক পেজ