রবিবার, ০৭ Jun ২০২৬, ০৫:২৪ অপরাহ্ন
উত্তর : শরী‘আতের মূলনীতি হল- لَا يَحِلُّ مَالُ امْرِئٍ مُسْلِمٍ إِلَّا بِطِيبِ نَفْسٍ مِنْهُ ‘কোন মুসলিমের সম্পদ তার সন্তুষ্টি ছাড়া হালাল নয়’ (ছহীহুল জামে, হা/৭৬৬২, সনদ ছহীহ)। এ মূলনীতির আলোকে পাইরেটেড বা ক্র্যাক করা সফটওয়্যার ব্যবহারের বিধান বিশ্লেষণ করলে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো প্রাসঙ্গিক হয়:
১. চুক্তি ও অধিকারের লঙ্ঘন: বাণিজ্যিক সফটওয়্যারগুলোর ক্ষেত্রে নির্মাতা কোম্পানি সাধারণত ব্যবহারকারীদের একটি নির্দিষ্ট লাইসেন্স বা চুক্তির আওতায় সফটওয়্যার ব্যবহারের অনুমতি দেয়। পাইরেটেড বা ক্র্যাক সফটওয়্যার ব্যবহারের মাধ্যমে ঐ চুক্তি লঙ্ঘন করা হয়, যা প্রতারণা ও অন্যের অধিকার হরণ করার শামিল। ইসলাম অন্যের অধিকার লঙ্ঘনকে হারাম করেছে।

২. হাক্কুল ইবাদ বা মানুষের অধিকারের বিষয়: পাইরেটেড সফটওয়্যার সাধারণত সফটওয়্যার কোম্পানির মালিকানা হয় এবং এটি তাদের মেহনত ও বিনিয়োগের ফল। ইসলামে মানুষের মালিকানাধীন সম্পদ অন্যের জন্য হালাল নয়, যদি না মালিক স্বেচ্ছায় তা দান বা হেবা করে দেয়। যেহেতু সফটওয়্যার নির্মাতারা তাদের পণ্যের বিনিময়ে মূল্য নির্ধারণ করেছেন, তাই বিনা অনুমতিতে তা ব্যবহার করা তাদের হক লঙ্ঘনের শামিল।

৩. হারাম উপায়ে সম্পদ উপার্জন: যারা পাইরেটেড সফটওয়্যার বিক্রি করে, তারা মূলত অন্যের মালের উপর অন্যায়ভাবে হাত দিচ্ছে এবং তা দিয়ে ব্যবসা করছে। ইসলামে হারাম পদ্ধতিতে উপার্জিত সম্পদ গ্রহণ ও উপার্জন করা নিষিদ্ধ। রাসূল (ﷺ) বলেছেন, كلُّ جَسَدٍ نبتَ مِنْ سُحْتٍ فالنارُ أولَى بِهِ ‘যে গোশত হারাম উপার্জন থেকে গঠিত হয়েছে, তার জন্য জান্নাত উপযুক্ত নয়’ (ছহীহুল জামে‘, হা/৪৫১৯, সনদ ছহীহ)।

৪. আইনি এবং সামাজিক পরিণতি: কিছু দেশে পাইরেটেড সফটওয়্যার ব্যবহারে আইনগত শাস্তি রয়েছে, যা একজন মুসলিমের জন্য দুর্নাম ও সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। পাশাপাশি এটি সফটওয়্যার নির্মাতাদের ক্ষতির কারণ হয়, যা নৈতিক ও ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে নিন্দনীয়। তবে যদি সফটওয়্যার নির্মাতা অনুমতি দেয় অর্থাৎ কিছু সফটওয়্যার নির্মাতা ব্যক্তিগত বা শিক্ষামূলক উদ্দেশ্যে বিনামূল্যে সফটওয়্যার ব্যবহারের অনুমতি দেয়। যদি তারা স্পষ্টভাবে অনুমতি দিয়ে থাকে, তবে তা ব্যবহার করা বৈধ হবে।


প্রশ্নকারী: তাহসিন আল-মাহী, রাজশাহী।





প্রশ্ন (১২) : যেকোন মসজিদে ই‘তিকাফ করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১) : যিনাকারীর শাস্তি কি দুনিয়ার জীবনে কার্যকর করতে হবে, না-কি খালিছ অন্তরে তাওবা করলে মাফ হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৮) : মোবাইলের রিংটোন হিসাবে দু‘আ বা কুরআনের আয়াত ব্যবহার করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৯) : জামে মসজিদের কমিটির পদ নিয়ে দুই দলের মধ্যে কোন্দল হয়। ২য় দলটির মনের মত প্রার্থীকে কমিটিতে না নেয়ায় তারা উক্ত মসজিদ থেকে ১০০ বা ২০০ মিটার দূরে নতুন জামে মসজিদ তৈরি করেছে এবং তারা সেখানে জুম‘আহ আরম্ভ করেছে। প্রশ্ন হল- উক্ত কারণে মসজিদ বিভক্ত করা এবং নতুন মসজিদে ছালাত আদায় করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৮) : গালি নির্দেশ করে এমন কথাকে রসিকতা করে বলা; সিরিয়াসলি নয়। এ ব্যক্তিও কি কুফুরী করবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৮): সালাম ফিরানোর পর যে যিকির করা হয়, তাকে যিকির বলা হয়, না-কি দু‘আ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৬) : প্রচলিত আছে যে, শিশুর বয়স ৫/৭ মাসে পড়লে কোন মসজিদে গিয়ে হুজুরের মাধ্যমে শিন্নি খাওয়াতে হবে এবং ঐ শিশুর সাথে আরেকটি শিশুর বন্ধু পাতাতে হবে। এমন প্রথা কি শরী‘আতসম্মত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১০) : বাকপ্রতিবন্ধী কেউ পশু যব্হ করলে তার গোশত খাওয়া যাবে কি? তিনি ‘বিসমিল্লাহ’ বা ‘আল্লাহু আকবার’ বলছেন কি-না তা বুঝা যায় না। - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৭) : উবাই ইবনু কা‘ব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, যে ছেলেটিকে খিযির হত্যা করেছিলেন, তাকে কাফির হিসাবেই সীলমোহর করা হয়েছিল। সে বেঁচে থাকলে তার পিতা-মাতাকে সীমালঙ্ঘন ও কুফরীর দ্বারা বিব্রত করত। উক্ত হাদীছের ব্যাখ্যা কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২) : জুমু‘আর দিনে বেলা ১১-১২ টা পর্যন্ত কুরআন শিক্ষা দেয়া যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৭) : প্রচলিত ইফতারের সময়সূচীগুলোতে সূর্যাস্তের সময়ের সাথে আরো ৩/৪/৫ মিনিট যোগ করা থাকে। প্রশ্ন হল- ছিয়াম পালনকারী কোন্ সময় ইফতার করবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১০) : এলাকাবাসী কোন মৃত ব্যক্তির জানাযায় উপস্থিত হয়ে তার ব্যাপারে ভাল গুণ আলোচনা করলে কোন উপকারে আসবে কি? যদিও সে জুমু‘আর ছালাত ব্যতীত পাঁচ ওয়াক্ত ছালাত আদায় করত না। - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ