উত্তর : ঋতুবতী মসজিদে বসে খুৎবা শুনতে পারবে না। কারণ ঋতুবতী মহিলার জন্য মসজিদে অবস্থান করা নিষিদ্ধ! এমনকি তার জন্য ঈদের ছালাতের জায়গাতে থাকাও নিষিদ্ধ। কারণ উম্মু আতিয়্যা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, আমি নবী (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি যে, যুবতী, পর্দানশীন ও ঋতুবতী মহিলারা ঈদগাহের উদ্দেশ্যে বের হবে এবং ভাল স্থানে ও মুমিনদের দাওয়াতে অংশ গ্রহণ করবে। অবশ্য ঋতুবতী মহিলারা ঈদগাহ হতে দূরে থাকবে। হাফসা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলাম ঋতুবতীও কি বেরুবে? তিনি বললেন, সে কি ‘আরাফাতে ও অমুক অমুক স্থানে উপস্থিত হবে না?’ (ছহীহ বুখারী, হা/৩২৪, ৯৭১, ৯৭৪; ছহীহ মুসলিম হা/৮৯০; রিসালাতুদ-দিমা‘ আত-তাবি‘ইয়াহ লিল-নিসা, পৃ. ৫২-৫৫)।
সঊদী আরবের স্থায়ী ফাতাওয়া কমিটি বলেন, ‘ঋতুস্রাবগ্রস্ত মহিলার জন্য মসজিদে প্রবেশ করা জায়েয নয়। তবে বিশেষ প্রয়োজনে একদিক থেকে অপরদিকে অতিক্রম করতে পারে (সূরা আন-নিসা: ৪৩; ফাতাওয়া আল-লাজনা আদ-দায়িমা, ৫/৩৯৮ পৃ.)। অন্যত্র তাঁরা বলেন, ‘হায়েয বা নেফাস অবস্থায় নারীদের জন্য মসজিদে প্রবেশ করা জায়েয নয়.. তবে যদি প্রয়োজন হয় এবং নিশ্চিত হয় যে মসজিদের মেঝেতে রক্তের ফোঁটা পড়বে না, তাহলে শুধু অতিক্রম করার অনুমতি আছে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘আর জুনুবী ব্যক্তিও শুধু পথ অতিক্রম করার জন্য যেতে পারবে’ (সূরা আন-নিসা: ৪৩)। হায়েয অবস্থায় নারীরা জুনুবী ব্যক্তির মতই বিধানের অন্তর্ভুক্ত, কারণ নবী (ﷺ) আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-কে হায়েয অবস্থায় মসজিদ থেকে কিছু আনতে বলেছিলেন’ (ফাতাওয়া আল-লাজনা আদ-দায়িমাহ, ৬/২৭২ পৃ.)।
শাইখ ছালিহ আল-মুনাজ্জিদ (হাফিযাহুল্লাহ) বলেন, ‘মাসিক বা ঋতুস্রাবের সময় মহিলাদের জন্য মসজিদে বসে খুত্ববাহ শোনা অনুমোদিত নয়। কারণ ঋতুবতী মহিলার মসজিদে প্রবেশ করা বৈধ নয়, তবে তিনি পাশ দিয়ে যাতায়াত করতে পারেন। পক্ষান্তরে তিনি যদি মসজিদের সাথে সংযুক্ত বা কাছাকাছি কোন স্থানে বসে খুত্ববা শুনতে চান, তাহলে তাতে কোন অসুবিধা নেই, কারণ এই ক্ষেত্রে তিনি মসজিদে প্রবেশ করছেন না’ (ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-৩৩৬৪৯)।
প্রশ্নকারী : ইয়াসমিন, ফাজিলপুর, দিনাজপুর।