উত্তর : যদি আপনি কোন সূদভিত্তিক ব্যাংক থেকে সরাসরি সূদ না নিয়ে থাকেন, বরং তারা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে শিক্ষার্থীদের মেধার ভিত্তিতে বৃত্তি বা সম্মানী দিয়ে থাকে; তাহলে সেই অর্থ গ্রহণ করা বৈধ হবে, ইনশাআল্লাহ। এমন অর্থ, যার উপার্জন পদ্ধতি হারাম (যেমন ব্যাংকের সূদভিত্তিক কার্যক্রম), তা উপার্জনকারীর জন্য হারাম হয়। কিন্তু সেই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যদি কাউকে হালাল পথে অর্থ প্রদান করে যেমন বৃত্তি, উপহার, অনুদান ইত্যাদির মাধ্যমে, তাহলে তা গ্রহীতার জন্য বৈধ হয়, যদি সে নিজে হারাম উপার্জনের সঙ্গে যুক্ত না থাকে। শাইখ ইবনু উছাইমীন (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, ‘যে সম্পদ কেবল উপার্জনের কারণে হারাম, তা কেবল কাসিব (উপার্জনকারী)-এর জন্য হারাম হয়; আর কেউ যদি তা হালাল পন্থায় গ্রহণ করে, তাহলে তার জন্য তা বৈধ’ (আল-কাওলুল মুফীদ, ৩/১১২ পৃ.)।
নবী করীম (ﷺ) ইয়াহুদীদের কাছ থেকে খাবার ক্রয় করেছিলেন, উপহার গ্রহণ করেছিলেন এবং তাদের দাওয়াতও কবুল করেছিলেন, যদিও ইয়াহুদীরা সাধারণত সূদ খায় এবং হারামভাবে উপার্জন করে। এতে বোঝা যায়, এসব সম্পদ গ্রহীতার জন্য তখন বৈধ হয়, যদি তা বৈধ উপায়ে আসে। তবে আপনি যদি এমন পরিবার থেকে হন যেখানে আপনার বৃত্তির প্রয়োজন নেই, তাহলে উত্তম হলো আপনি সেই অর্থ আরও দরিদ্র কোন শিক্ষার্থীকে দিয়ে দিন অথবা সাধারণ কল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করুন। এতে আপনার মেধার ফলও থেকে যাবে এবং আপনি অন্যের উপকারের মাধ্যমেও ছওয়াব পাবেন।
প্রশ্নকারী : আব্দুছ ছবুর বাবু, নীলফামারী।