বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:২৪ পূর্বাহ্ন
উত্তর : কুরবানী করা সুন্নাতে মুআক্কাদাহ’। ইমাম তিরমিযী, ইমাম ইবনে হায্ম, ইমাম ইবনে কুদামাহ ও ইমাম নববী (রাহিমাহুমুল্লাহ) বলেন, ‘কুরবানী করা ওয়াজিব নয়, বরং এটি রাসুল (ﷺ)-এর সুন্নাতসমূহের মধ্যে একটি অন্যতম সুন্নাত’। আবূ বাকর ছিদ্দীক্ব, উমার ফারুক্ব, বিলাল ও আবূ মাসঊদ (রাযিয়াল্লাহু আনহুম), ইমাম সুফিয়ান ছাওরী , ইবনুল মুবারক, সাঈদ ইবনে মুসাইয়্যাব, শা‘বী, সাঈদ বিন জুবাইর, আত্বা, হাসান, ত্বাউস, আসওয়াদ, আলক্বামাহ্, মুহাম্মাদ বিন আলী বিন হাসান, উবাইদুল্লাহ বিন হাসান, ইমাম শাফিঈ, ইমাম আহমাদ বিন হাম্বাল, ইসহাক, আবু সুলাইমান, আবু ছাউর, ইবনুল মুনযির ও আবু ইউসুফ (রাহিমাহুমুল্লাহ) সহ অন্য বিদ্বানগণ একই কথা বলেছেন (আল-কাফী, ১/৪১৮; মাওয়াহিবুল জালীল, ৪/৩৬২; আল-মাজমূঊ, ৮/৩৮২; আল-মুগনী, ৯/৪৩৫; কাশশাফুল ক্বিনা‘, ৩/২১; আল-মুহাল্লা, ৭/৩৫৫, ৩৫৮; শারহুন নববী, ১৩/১১০; ফাৎহুল ক্বাদীর, ৯/৫০৬; তিরমিযী, ৪/৯২ পৃ.)। উম্মু সালামা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেন,

إِذَا دَخَلَتِ الْعَشْرُ وَأَرَادَ أَحَدُكُمْ أَنْ يُضَحِّيَ فَلَا يَمَسَّ مِنْ شَعَرِهِ وَبَشَرِهِ شَيْئًا 

‘যখন (যিলহজ্জ মাসের) প্রথম দশদিন উপস্থিত হয়, আর তোমাদের কেউ কুরবানী করার ইচ্ছা পোষণ করে, তবে সে যেন তার চুল ও নখের কিছুই স্পর্শ না করে (কর্তন না করে)’ (ছহীহ মুসলিম, হা/১৯৭৭, ৫০১১; আবূ দাঊদ, হা/২৭৯১; তিরমিযী, হা/১৫২৩; নাসাঈ, হা/৪৩৬১-৪৩৬২; ইবনু মাজাহ, হা/৩১৪৯-৩১৫০; ছহীহুল জামি‘, হা/৫২০, ৫৭৪)। এখানে রাসূল (ﷺ) কুরবানীকে ইচ্ছার সঙ্গে সম্পৃক্ত করেছেন। কোন ওয়াজিব বিষয় কখনো ইচ্ছার সঙ্গে সম্পৃক্ত হয় না। ইমাম শাফিঈ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, এ হাদীছ প্রমাণ করে যে, কুরবানী করা ওয়াজিব নয়। কেননা রাসূল (ﷺ) বলেছেন, فأراد أحَدُكم أن يضَحِّيَ ‘তোমাদের মধ্যে কেউ কুরবানী করার ইচ্ছা করলে। কুরবানী করা ওয়াজিব হলে হয়তো তিনি এভাবে বলতেন, ‘কুরবানী না হওয়া পর্যন্ত চুল ও নখ কাটবে না’ (মা‘রিফাতুস সুনান ওয়াল আছার, ১৫/১৪; আল-মাহাল্লা, ৭/৩৫৫; আল-মুগনী, ৯/৪৩৬ পৃ.)।

শাইখ ইবনে বায (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘কুরবানী ওয়াজিব হওয়ার ব্যাপারে কোন শারঈ দলীল বর্ণিত হয়নি। বরং ওয়াজিব হওয়ার কথাটি খুবই দুর্বল (মাজমূঊ ফাতাওয়া ইবনে বায, ১৮/৩৬ পৃ.)। শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) এর উত্তরে বলেন,

إن كان له وفاء فاستدان ما يضحي به فحسن ، ولا يجب عليه أن يفعل ذلك “ انتهى 

‘যদি তার পরিশোধ করার ক্ষমতা থাকে, তাহলে কুরবানী দেয়ার মত ঋণ গ্রহণ করা উত্তম। তবে এমনটি করা তার উপর অপরিহার্য নয়’ (মাজমূঊল ফাতাওয়া ইবনে তাইমিয়্যাহ, ২৬/৩০৫ পৃ.)। অনুরূপভাবে শাইখ ইবনে বায (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন,

الأضحية سنة وليست واجبة ... ولا حرج أن يستدين المسلم ليضحي إذا كان عنده القدرة على الوفاء 

‘কুরবানী করা সুন্নাত, অপরিহার্য নয়। পরিশোধ করার ক্ষমতা থাকলে মুসলিম ব্যক্তির জন্য ঋণ নিয়ে কুরবানী করা দোষনীয় নয়’ (মাজমূঊ ফাতাওয়া ইবনে বায, ১/৩৭ পৃ.)।

সুন্নাতে মুআক্কাদাহ বলতে বুঝায় এমন আমলকে বুঝায়, যা করলে আমলকারী আল্লাহ তা‘আলার নিকট ছাওয়াবের বা প্রতিদানের অধিকারী হয়, পক্ষান্তরে এটি পরিত্যাগকারী গুনাহগার হয় না। কিন্তু রাসূল (ﷺ)-এর সুন্নাত ছেড়ে দেয়ার কারণে তাকে তিরস্কার ও দোষারোপ করা হয়’ (উছূলুল ফিক্বহ, পৃ. ৩৮; আল-ওয়াসীত্ব ফী উসূলিল ফিক্বহিল ইসলামী, পৃ. ৭৯; উসূলুল ফিক্বহ্ আল-ইসলামী, পৃ. ২৩৮; কিতাবুল ওয়াজিয ফী উসূলিল ফিক্বহ, ১/৩৪১ পৃ.)।


প্রশ্নকারী : খালিদ সাইফুল্লাহ, ফরিদপুর।





প্রশ্ন (১০) : আমি সুইডেনের প্রবাসী। রাষ্ট্র থেকে ভাতা পেয়ে থাকি। বাড়ি স্কুল ও বাজার থেকে অনেক দূরে হওয়ায় গাড়ি কিনতে হয়েছে। আমার কিছু প্রতিবেশী গাড়িতে করে তাদের নিয়ে যাওয়ার জন্য আমাকে টাকা দেয়। অথচ সুইডেনের শ্রম আইন অনুযায়ী এই কাজটি অবৈধ। আমার এখনও রেসিডেন্স পারমিট না থাকায় আমি এখানে আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ করতে পারি না। প্রশ্ন হলো, আমার এই কাজটি কি ইসলামে হারাম? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৭) : একজন পুরুষ তার স্ত্রীর নিজ বোনকে নিয়ে পালিয়ে গিয়ে বিবাহ করে সংসার করছে। কিন্তু বোনকে বিবাহ করার পূর্বে স্ত্রীকে ত্বালাক্ব দেয়নি। এমতাবস্থায় উক্ত বিবাহ সঠিক হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৬) : আমাদের চট্টগ্রামে প্রায় সব মসজিদের ইমাম মাযারপূজারী বেরীলভী। আমরা জানি, মাযারপূজারী বেরীলভী ইমামের পেছনে ছালাত আদায় করা যাবে না। তবে আমাদের আশেপাশে একটি মসজিদ রয়েছে, যেখানে ইমামের আক্বীদা ছহীহ। যদিও তিনি হানাফী মাযহাব অনুসরণ করেন। কিন্তু সেই মসজিদের সীমানার ভেতরেই, ছালাতের স্থানের বাম পাশে একটি কবর রয়েছে। এ অবস্থায় আমার করণীয় কী? আমি কি ঐ মসজিদে জামা‘আতে ছালাত আদায় করব, না-কি বাসায় ছালাত আদায় করব? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৪) : জনৈক অবিবাহিত যুবক আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে ত্বালাক্বপ্রাপ্তা অসহায় মেয়েকে বিয়ে করতে চাচ্ছে। কিন্তু সম্মানবোধ উল্লেখ করে পরিবার তা মেনে নিচ্ছে না। তাদের মতের বাইরে এসে ঐ মেয়েকে বিয়ে করলে আমি কি তাদের অবাধ্য সন্তান হিসাবে পরিগণিত হব? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২২) : রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, ‘আদম সন্তানের সৌভাগ্য তিনটি আর দুর্ভাগ্যও তিনটি। সৌভাগ্য তিনটি হলো, দ্বীনদার-নেককার স্ত্রী, ভালো বাসস্থান, ভালো সওয়ারী বা বাহন। আর দুর্ভাগ্য তিনটি হলো, খারাপ স্ত্রী, খারাপ বাসস্থান ও খারাপ সওয়ারী’ (মুসনাদে আহমাদ)। হাদীছটি কী ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩০) : জনৈক আলেম বলেন, যে ব্যক্তি জুম‘আর দিন আগে আগে মসজিদে উপস্থিত হবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। এ মর্মে কোন দলীল আছে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৯) : জাহান্নামীদের পানীয় হিসাবে প্রদত্ত مَاءٌ صَدِيْدٌ وَغِسْلِيْنٌ বলতে কী বুঝানো হয়েছে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২২) : ইবনু তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘রামাযানের শেষ দশকের বেজোড় কোন রাত যদি জুম‘আহ বারে পড়ে, তাহলে সে রাত্রি লাইলাতুল ক্বদর হওয়ার সম্ভাবনা অধিক’। এ কথা কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৫) : স্বামী-স্ত্রীর মাঝে মীমাংসামূলক ছালাতের  বিশুদ্ধ আাছে কি? সেটা হচ্ছে: দুই রাক‘আত ছালাত পড়া। প্রত্যেক রাক‘আতে সূরা ফাতিহা পড়া এবং সাতবার ‘সম্ভবত আল্লাহ তোমাদের মধ্যে এবং তাদের মধ্য থেকে যাদের সাথে তোমাদের শত্রুতা আছে তাদের মধ্যে বন্ধুত্ব সৃষ্টি করে দেবেন। আল্লাহ সবকিছই করতে সক্ষম। আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু’ আয়াতটি পড়া। ছালাত শেষ করার পর এই দু‘আ করা, ‘হে আল্লাহ! অমুকের ছেলে অমুকের (স্বামীর নাম) অন্তর অমুকের মেয়ে অমুকের (স্ত্রীর নাম) উপর কোমল করে দিন; যেভাবে আপনি দাউদ (আলাইহিস সালাম)-এর জন্য লোহাকে কোমল করে দিয়েছেন। - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৩) : কেউ মূর্তি পূজা করলে ইসলামে তার হুকুম কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৭) : নবী করীম (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কোথায় কোথায় সম্মিলিত মুনাজাত করেছেন? বিস্তারিত জানতে চাই। - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৬) : ছালাতে মাঝে মধ্যে রুকূতে সিজদার তাসবীহ অথবা সিজদাতে রুকূ-র তাসবীহ পড়ে ফেলি। রুকূ‘-সিজদাহ সম্পূর্ণ হওয়ার পর মনে পড়ে আমি ভুল করেছি। এই ক্ষেত্রে করণীয় কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

ফেসবুক পেজ