শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬, ০১:৫১ অপরাহ্ন
উত্তর : কুরবানীদাতার জন্য সুন্নাত হল- তিনি নিজে খাবেন, আত্মীয়-স্বজনকে হাদিয়া দেবেন এবং গরীব মিসকীনদেরকে ছাদাক্বাহ করবেন। আল্লাহ্ তা‘আলা বলেন, فَكُلُوْا مِنْهَا وَ اَطْعِمُوا الْبَآىِٕسَ الْفَقِيْر ‘অতঃপর তোমরা তা হতে ভক্ষণ কর এবং নিঃস্ব অভাবগ্রস্তদেরকে ভক্ষণ করাও’ (সূরা আল-হজ্জ: ২৮)। অন্যত্র তিনি বলেন, فَكُلُوْا مِنْهَا وَ اَطْعِمُوا الْقَانِعَ وَ الْمُعْتَرَّ ‘অতঃপর তোমরা তা হতে আহার কর এবং আহার করাও ধৈর্যশীল অভাবগ্রস্তকে ও যাাাকারী অভাবগ্রস্তকে’ (সূরা আল-হজ্জ: ৩৬)। জাবির (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, প্রথমদিকে নবী (ﷺ) তিনদিনের পরেও কুরবানীর গোশত খেতে বারণ করেছিলেন। অতঃপর পরবর্তীকালে তিনি বলেছেন, এখন তোমরা খেতে পার, পাথেয় হিসাবে ব্যবহার করতে পার এবং সঞ্চয় করে রাখতে পার (ছহীহ মুসলিম, হা/১৯৭২)।

উপরিউক্ত আয়াত বা হাদীছে কিন্তু খাওয়া, হাদিয়া করা ও দান করার কোন নির্দিষ্ট পরিমাণ বিবৃত হয়নি। এখানে শুধু বলা হয়েছে, ‘কুরবানীর গোশত তিন শ্রেণীর ব্যক্তিদের মধ্যে বণ্টিত হবে। তবে অধিকাংশ আলেম মনে করেন যে, সমস্ত গোশতকে তিন ভাগ করে এক ভাগ খাওয়া, এক ভাগ আত্মীয়-স্বজনকে হাদিয়া করা এবং এক ভাগ গরীবদেরকে দান করা উত্তম। প্রয়োজনে ভাগে কম-বেশী করা যাবে। কিংবা সবটুকু ছাদাক্বাহ্ করলেও কোন দোষ নেই’ (মির‘আত, ৫/১২০ পৃ.; আল-মুগনী, ১১/১০৮-০৯ পৃ.)। সুতরাং কেউ চাইলে সে তার কুরবানীর সমস্ত গোশতকে বিতরণ করে দিতে পারে। আর তা করলে উক্ত আয়াতের বিরোধিতা হবে না। কারণ, ঐ আয়াতে নিজে খাওয়ার আদেশ হল মুস্তাহাব বা সুন্নাত। সে যুগের মুশরিকরা তাদের কুরবানীর মাংস খেত না বলে মহান আল্লাহ উক্ত আদেশ দিয়ে মুসলিমদেরকে তা খাবার অনুমতি দিয়েছেন। অবশ্য কেউ কেউ খাওয়া ওয়াজিবও বলেছেন (তাফসীরে ইবনে কাছীর, ৩/২৯২-৩০০; আল-মুগনী, ১৩/৩৮০; আশ-শারহুল মুমতি‘, ৭/৫২৫ পৃ.)।

কুরবানীর গোশত হতে কাফিরদেরকে দেয়া বৈধ। আর তা ইসলামের এক মহানুভবতা (আল-মুগনী, ১৩/ ৩৮১; ফাৎহুল বারী, ১০/৪৪২ পৃ.)। উল্লেখ্য, তিনদিনের অধিক কুরবানীর গোশত খাওয়া নিষিদ্ধ হওয়া সংক্রান্ত হাদীছটি মানসুখ (রহিত) হলেও যেখানে দুর্ভিক্ষ থাকে, সেখানে তিন দিনের অধিক গোশত জমা রাখা বৈধ নয় (ফাৎহুল বারী, ১০/২৮; আল-ইনসাফ, ৪/১০৭ পৃ.)।


প্রশ্নকারী : তারিক হাসান, মোহনপুর, রাজশাহী।





প্রশ্ন (২৪) : হজ্জ মানুষের পাপকে ধুয়ে দেয়, যেভাবে পানি ময়লাকে ধুয়ে দেয়। এই হাদীছটি কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৭) : ইয়াতীমের সম্পদ গ্রাস করার পরিণাম কী? ইয়াতীমের মাল দেখাশোনা বা ব্যবসায় খাটালে তা থেকে লভ্যাংশ নেয়া কি জায়েয? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৫) : হিজড়ারা জিনের সন্তান। এ দাবী কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৬) : জনৈক খত্বীব বলেন, পাঁচটি রাতের দু‘আ ফেরত দেয়া হয় না। রজবের প্রথম রাত্রি, শা‘বানের মধ্য রাত্রি, জুমু‘আর রাত্রি, ঈদুল ফিতরের রাত্রি এবং ঈদুল আযহার রাত্রি (ইবনু আসাকির, তারীখে দিমাষ্ক ১০/২৭৫ পৃঃ)। উক্ত দাবী কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১২) : মোট সম্পদ ৪৮ শতাংশ। মৃতের ২ মেয়ে, স্ত্রী আছে, কোন ছেলে নেই। আর তার আপন ২ ভাই ১ বোন আছে। ১ ভাই মৃত ব্যক্তির মৃত্যুর পূর্বেই মারা গেছে। উনার দুই সন্তান আছে। কে কতটুকু সম্পদ পাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৯) : তাজা মাছ কাটার সময় কি যব্হ করার দু‘আ বলতে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৫) : মৃত ব্যক্তিকে দাফন করার পর আমাদের সমাজে অনেকে সম্মিলিত মুনাজাত করে। এটা করা কতটুকু জায়েয? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২) : জনৈক আলেম বলেন, রাতে ঘুম ভেঙ্গে যাওয়ার পর যে ব্যক্তি নিম্নের দু‘আটি পাঠ করবে, তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হবে। যদি সে দু‘আ করে, তবে তার দু‘আ কবুল হবে। আর সে যদি উঠে ওযয় করে ছালাত আদায় করে, তাহলে তার ছালাত কবুল হবে। উক্ত বক্তব্য কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৫) : নিম্নের হাদীছটি কি ছহীহ? لَا تَقْرَأِ الحَائِضُ وَلَا الجُنُبُ مِنَ القُرْآنِ شَيْئًا ‘ঋতুবতী নারী ও জুনুবী ব্যক্তি (যার ওপর গোসল ফরয) কুরআনের কিছুই পাঠ করবে না’। - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩) : বাংলাদেশের অনেক যুবক আমেরিকার বিভিন্ন সার্ভেসাইটে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে। কিন্তু তারা বাংলাদেশে বসে আমেরিকার আইপি এড্রেস ব্যবহার করে এবং আমেরিকার নাগরিকের তথ্য ব্যবহার করে কাজ করে। এভাবে ইনকাম হালাল হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৮) : ফেতনা-ফাসাদ যেভাবে ছড়িয়ে চরম আকার ধারণ করেছে এর থেকে বাঁচার জন্য কেউ কি মদীনাতে আশ্রয় নিতে পারবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৩) : বিদেশে কাজের কারণে আমরা কয়েকজন জুমু‘আর ছালাতে অংশগ্রহণ করতে পারি না। এখন আমরা কি যোহরের ছালাত আদায় পারব, না-কি জুমু‘আর ছালাত আদায় করব? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ