বৃহস্পতিবার, ২৩ Jul ২০২৬, ০১:২৬ পূর্বাহ্ন
উত্তর : কুরবানীদাতার জন্য সুন্নাত হল- তিনি নিজে খাবেন, আত্মীয়-স্বজনকে হাদিয়া দেবেন এবং গরীব মিসকীনদেরকে ছাদাক্বাহ করবেন। আল্লাহ্ তা‘আলা বলেন, فَكُلُوْا مِنْهَا وَ اَطْعِمُوا الْبَآىِٕسَ الْفَقِيْر ‘অতঃপর তোমরা তা হতে ভক্ষণ কর এবং নিঃস্ব অভাবগ্রস্তদেরকে ভক্ষণ করাও’ (সূরা আল-হজ্জ: ২৮)। অন্যত্র তিনি বলেন, فَكُلُوْا مِنْهَا وَ اَطْعِمُوا الْقَانِعَ وَ الْمُعْتَرَّ ‘অতঃপর তোমরা তা হতে আহার কর এবং আহার করাও ধৈর্যশীল অভাবগ্রস্তকে ও যাাাকারী অভাবগ্রস্তকে’ (সূরা আল-হজ্জ: ৩৬)। জাবির (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, প্রথমদিকে নবী (ﷺ) তিনদিনের পরেও কুরবানীর গোশত খেতে বারণ করেছিলেন। অতঃপর পরবর্তীকালে তিনি বলেছেন, এখন তোমরা খেতে পার, পাথেয় হিসাবে ব্যবহার করতে পার এবং সঞ্চয় করে রাখতে পার (ছহীহ মুসলিম, হা/১৯৭২)।

উপরিউক্ত আয়াত বা হাদীছে কিন্তু খাওয়া, হাদিয়া করা ও দান করার কোন নির্দিষ্ট পরিমাণ বিবৃত হয়নি। এখানে শুধু বলা হয়েছে, ‘কুরবানীর গোশত তিন শ্রেণীর ব্যক্তিদের মধ্যে বণ্টিত হবে। তবে অধিকাংশ আলেম মনে করেন যে, সমস্ত গোশতকে তিন ভাগ করে এক ভাগ খাওয়া, এক ভাগ আত্মীয়-স্বজনকে হাদিয়া করা এবং এক ভাগ গরীবদেরকে দান করা উত্তম। প্রয়োজনে ভাগে কম-বেশী করা যাবে। কিংবা সবটুকু ছাদাক্বাহ্ করলেও কোন দোষ নেই’ (মির‘আত, ৫/১২০ পৃ.; আল-মুগনী, ১১/১০৮-০৯ পৃ.)। সুতরাং কেউ চাইলে সে তার কুরবানীর সমস্ত গোশতকে বিতরণ করে দিতে পারে। আর তা করলে উক্ত আয়াতের বিরোধিতা হবে না। কারণ, ঐ আয়াতে নিজে খাওয়ার আদেশ হল মুস্তাহাব বা সুন্নাত। সে যুগের মুশরিকরা তাদের কুরবানীর মাংস খেত না বলে মহান আল্লাহ উক্ত আদেশ দিয়ে মুসলিমদেরকে তা খাবার অনুমতি দিয়েছেন। অবশ্য কেউ কেউ খাওয়া ওয়াজিবও বলেছেন (তাফসীরে ইবনে কাছীর, ৩/২৯২-৩০০; আল-মুগনী, ১৩/৩৮০; আশ-শারহুল মুমতি‘, ৭/৫২৫ পৃ.)।

কুরবানীর গোশত হতে কাফিরদেরকে দেয়া বৈধ। আর তা ইসলামের এক মহানুভবতা (আল-মুগনী, ১৩/ ৩৮১; ফাৎহুল বারী, ১০/৪৪২ পৃ.)। উল্লেখ্য, তিনদিনের অধিক কুরবানীর গোশত খাওয়া নিষিদ্ধ হওয়া সংক্রান্ত হাদীছটি মানসুখ (রহিত) হলেও যেখানে দুর্ভিক্ষ থাকে, সেখানে তিন দিনের অধিক গোশত জমা রাখা বৈধ নয় (ফাৎহুল বারী, ১০/২৮; আল-ইনসাফ, ৪/১০৭ পৃ.)।


প্রশ্নকারী : তারিক হাসান, মোহনপুর, রাজশাহী।





প্রশ্ন (৪৫) : ইসলামী শরী‘আতে ‘উকীল বাবা’-এর কোন বিধান আছে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪৯) : আযানের পূর্বে ‘বিসমিল্ল­াহ’ বলা, কুরআনের আয়াত পড়া, ইসলামী গযল বলা, বিভিন্ন দু‘আ পড়া, মানুষকে ডাকাডাকি করা, ফজরের আযানের পূর্বে ‘আছ-ছালাতু খায়রুম মিনান্নাঊম’ বলা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১) : ইসলামে হালাল ও হারাম কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৪) : মামী ও খালু কি মাহরাম, না-কি গায়রে মাহরাম? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৩) বিয়ের সময় মেয়ের বাবার বাড়ী থেকে যে মালপত্র দেয়া হয় তা দেয়া কি ঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৯) : কারো স্বামী যদি ফেসবুক, ইমু, মেসেঞ্জারে অন্য মেয়েদের সাথে চ্যাট করে, প্রেমালাপ করে তবে স্বামীকে ঐ পথ থেকে ফিরিয়ে আনার জন্য স্ত্রী কী করতে পারে? স্বামীর মনে স্ত্রীর প্রতি প্রচ- ভালোবাসা সৃষ্টির জন্য বিশেষ কোন আমল আছে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৮) : মোবাইলের ব্যাকগ্রাউন্ডে কোন মৃতব্যক্তির ছবি সেট করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৫) : হঠাৎ মৃত্যু আল্লাহর গযব স্বরূপ। আবূ দাউদের ৩১১০ নং হাদীছের ব্যাখ্যা জানতে চায়। - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৬) : ছালাতে সিজদায় বাংলাতে দু‘আ করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৪) : প্রথম কাতারে ছালাত আদায়ের গুরুত্ব কেমন? মসজিদে যদি কেবল একটিই কাতার থাকে তবে সেই ফযীলত পাওয়া যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১২) : কারো স্বামী মারা গেলে তাকে গয়না খুলে রাখতে হয়, রঙিন কাপড় বাদ দিয়ে সাদা কাপড় পড়তে হয়। এ ব্যাপারে ইসলামের দিক-নির্দেশনা কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৫) : তাহিয়াতুল ওযূ, তাহিয়্যাতুল মাসজিদ এবং ৫ ওয়াক্ত ফরয ছালাতের সুন্নাত ছালাত কি এক নিয়তে সব আদায় করা যাবে? যেমন তাহিয়াতুল ওযূর ২ রাকা‘আত ছালাত এবং তাহিয়্যাতুল মাসজিদের ২ রাকা‘আত ছালাত মোট ৪ রাকা‘আত ছালাত ও যোহরের ৪ রাকা‘আত ছালাত একসাথে সর্বমোট ৪ রাকা‘আত ছালাত কি পড়া যাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ