রবিবার, ০৭ Jun ২০২৬, ০৩:৩৪ অপরাহ্ন
উত্তর : কুরবানীদাতার জন্য সুন্নাত হল- তিনি নিজে খাবেন, আত্মীয়-স্বজনকে হাদিয়া দেবেন এবং গরীব মিসকীনদেরকে ছাদাক্বাহ করবেন। আল্লাহ্ তা‘আলা বলেন, فَكُلُوْا مِنْهَا وَ اَطْعِمُوا الْبَآىِٕسَ الْفَقِيْر ‘অতঃপর তোমরা তা হতে ভক্ষণ কর এবং নিঃস্ব অভাবগ্রস্তদেরকে ভক্ষণ করাও’ (সূরা আল-হজ্জ: ২৮)। অন্যত্র তিনি বলেন, فَكُلُوْا مِنْهَا وَ اَطْعِمُوا الْقَانِعَ وَ الْمُعْتَرَّ ‘অতঃপর তোমরা তা হতে আহার কর এবং আহার করাও ধৈর্যশীল অভাবগ্রস্তকে ও যাাাকারী অভাবগ্রস্তকে’ (সূরা আল-হজ্জ: ৩৬)। জাবির (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, প্রথমদিকে নবী (ﷺ) তিনদিনের পরেও কুরবানীর গোশত খেতে বারণ করেছিলেন। অতঃপর পরবর্তীকালে তিনি বলেছেন, এখন তোমরা খেতে পার, পাথেয় হিসাবে ব্যবহার করতে পার এবং সঞ্চয় করে রাখতে পার (ছহীহ মুসলিম, হা/১৯৭২)।

উপরিউক্ত আয়াত বা হাদীছে কিন্তু খাওয়া, হাদিয়া করা ও দান করার কোন নির্দিষ্ট পরিমাণ বিবৃত হয়নি। এখানে শুধু বলা হয়েছে, ‘কুরবানীর গোশত তিন শ্রেণীর ব্যক্তিদের মধ্যে বণ্টিত হবে। তবে অধিকাংশ আলেম মনে করেন যে, সমস্ত গোশতকে তিন ভাগ করে এক ভাগ খাওয়া, এক ভাগ আত্মীয়-স্বজনকে হাদিয়া করা এবং এক ভাগ গরীবদেরকে দান করা উত্তম। প্রয়োজনে ভাগে কম-বেশী করা যাবে। কিংবা সবটুকু ছাদাক্বাহ্ করলেও কোন দোষ নেই’ (মির‘আত, ৫/১২০ পৃ.; আল-মুগনী, ১১/১০৮-০৯ পৃ.)। সুতরাং কেউ চাইলে সে তার কুরবানীর সমস্ত গোশতকে বিতরণ করে দিতে পারে। আর তা করলে উক্ত আয়াতের বিরোধিতা হবে না। কারণ, ঐ আয়াতে নিজে খাওয়ার আদেশ হল মুস্তাহাব বা সুন্নাত। সে যুগের মুশরিকরা তাদের কুরবানীর মাংস খেত না বলে মহান আল্লাহ উক্ত আদেশ দিয়ে মুসলিমদেরকে তা খাবার অনুমতি দিয়েছেন। অবশ্য কেউ কেউ খাওয়া ওয়াজিবও বলেছেন (তাফসীরে ইবনে কাছীর, ৩/২৯২-৩০০; আল-মুগনী, ১৩/৩৮০; আশ-শারহুল মুমতি‘, ৭/৫২৫ পৃ.)।

কুরবানীর গোশত হতে কাফিরদেরকে দেয়া বৈধ। আর তা ইসলামের এক মহানুভবতা (আল-মুগনী, ১৩/ ৩৮১; ফাৎহুল বারী, ১০/৪৪২ পৃ.)। উল্লেখ্য, তিনদিনের অধিক কুরবানীর গোশত খাওয়া নিষিদ্ধ হওয়া সংক্রান্ত হাদীছটি মানসুখ (রহিত) হলেও যেখানে দুর্ভিক্ষ থাকে, সেখানে তিন দিনের অধিক গোশত জমা রাখা বৈধ নয় (ফাৎহুল বারী, ১০/২৮; আল-ইনসাফ, ৪/১০৭ পৃ.)।


প্রশ্নকারী : তারিক হাসান, মোহনপুর, রাজশাহী।





প্রশ্ন (২) : কেউ অনিয়মিতভাবে ছালাত পড়লে তার ছাদাক্বাহর ছাওয়াব কি বিফলে যাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৯) : অফিসের প্রধান কর্মকর্তা হিন্দু। তাকে সম্মানার্থে সালাম না দিয়ে বরং আদাব দেয়া হয়। আবার অনেকেই নমস্কারও বলে থাকে। এভাবে সম্বোধন করলে গুনাহ হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৭) : যেসব মুসলিম দাবীদারদের আক্বীদাগত বিরাট ভুল-ভ্রান্তি আছে। ক্বিয়ামতের দিন তাদের পাপপুণ্যের ওযন করা হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৩) : জনৈক আলেম বলেন, যে ব্যক্তি ছালাত না পড়ে ইচ্ছা করে ঘুমিয়ে থাকে ক্বিয়ামত পর্যন্ত তারা মাথায় ফেরেশতা পাথর মারতে থাকবে। উক্ত বক্তব্য কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২) : কেক ও চকলেটের উপর ‘আল্লাহ’ লেখা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২০) : একজন সদ্য ইসলাম গ্রহণ করেছে। তিনি কি তার পিতার সম্পদের ওয়ারিছ হতে পারবে? অসহায় হলে তিনি কি তার ভাইদের কাছে চাইতে পারবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১) : বর্তমানে শিশুদেরকে তাহনীক্ব করানো যাবে কি? কেউ কেউ বলেন, এটি রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে খাছ ছিল। - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২২) : ইবনু তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘রামাযানের শেষ দশকের বেজোড় কোন রাত যদি জুম‘আহ বারে পড়ে, তাহলে সে রাত্রি লাইলাতুল ক্বদর হওয়ার সম্ভাবনা অধিক’। এ কথা কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪) : অসাবধানতাবসত পেশাবের ফোঁটা শরীরে বা কাপড়ে লেগে গেলে করণীয় কী? আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইলে ক্ষমা হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৫) : একজন সমাজনেতা যদি মুসলিম হয়, তাহলে অমুসলিমদের আচার-অনুষ্ঠানে, ধর্মীয় রীতিতে দাওয়াত দেয়া হলে তার কী করণীয়? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৯) : কোন ব্যক্তি যদি হজ্জের সফরে গিয়ে ওমরাহ আদায় করে মদীনা বা মীক্বাতের বাইরে কোন স্থানে সফর করে, তবে তিনি কি মক্কায় আগমনের সময় পুনরায় ওমরাহ করতে পারবেন? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৯) : প্রথম স্ত্রী ইন্তিকালের পর তার গহনা দিয়ে দ্বিতীয় স্ত্রীর মোহর আদায় করা কিংবা হাদিয়া দেয়া যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ