রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:০৮ পূর্বাহ্ন
উত্তর : ইসলামে পুরুষদের পোশাকের ক্ষেত্রে কয়েকটি বিশেষ নীতিমালা দেয়া হয়েছে, যা মুসলিম পুরুষদের পোশাক পরিধানের জন্য অনুসরণ করা উচিত। যেমন: ১. সতর আবৃত রাখা: ইসলামে পুরুষদের জন্য নাভি থেকে হাঁটু পর্যন্ত অংশ আবৃত রাখা আবশ্যক। এটা পুরুষদের জন্য আবশ্যকীয় সতর বা আবরণ, যা ঢেকে রাখতে হবে। রাসূল (ﷺ) বলেছেন, ‘পুরুষের সতর হলো নাভি থেকে হাঁটু পর্যন্ত’ (তিরমিযী, হা/৩০৭০)। তবে ছালাত আদায়কালীন সময়ে দুই কাঁধ ও নাভী হতে হাঁটু পর্যন্ত (ছহীহ মুসলিম, হা/৫১৬; মিশকাত, হা/৭৫৫)। ২. পোশাক ঢিলেঢালা ও শালীন হওয়া: পুরুষদের পোশাক ঢিলেঢালা এবং এমনভাবে হতে হবে যাতে শরীরের আকৃতি প্রকাশিত না হয়। টাইট পোশাক পরিধান করা ইসলামী শিষ্টাচারের পরিপন্থী। নবী মুহাম্মাদ (ﷺ) বলেছেন, ‘তোমরা ঢিলেঢালা পোশাক পরিধান করো এবং শালীনতা অবলম্বন করো’। ৩. পোশাক টাখনুর উপরে রাখা: ইসলামে পুরুষদের পোশাক টাখনুর উপরে পরিধান করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। অহংকার না থাকলেও টাখনুর নিচে পোশাক ঝুলানো অনুচিত বলে বিবেচিত হয়।

রাসূল (ﷺ) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি অহংকারের সাথে তার পোশাক টাখনুর নিচে ঝুলিয়ে রাখবে, ক্বিয়ামতের দিন আল্লাহ তার দিকে তাকাবেন না’ (ছহীহ বুখারী, হা/৫৭৮৭)। ৪. পোশাক পরিচ্ছন্ন হওয়া ও পরিচ্ছন্নতার প্রতি যত্নশীল হওয়া: পোশাক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা ইসলামে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে বিবেচিত। পবিত্রতা ইসলামের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলোর একটি। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘নিশ্চয় আল্লাহ তাওবাকারীদের ভালোবাসেন এবং যারা পরিচ্ছন্ন থাকে তাদের ভালোবাসেন’ (সূরা আল-বাক্বারা: ২২২)। ৫. পোশাক অহংকার প্রদর্শন না করা: পোশাকের ক্ষেত্রে অহংকার বা গর্ব দেখানো ইসলামে নিষিদ্ধ। কোন ব্যক্তি যদি অহংকার প্রকাশ করার উদ্দেশ্যে বিলাসবহুল পোশাক পরে, তবে সেটি নিন্দনীয়। হাদীছে এসেছে, ‘যে ব্যক্তি অহংকারবশত এক হাতা কাপড় টাখনুর নিচে ঝুলাবে, ক্বিয়ামতের দিন আল্লাহ তার প্রতি রুষ্ট হবেন’ (ছহীহ মুসলিম, হা/২০৬৫)।

৬. সোনা ও রেশমের পোশাক পরিধান নিষিদ্ধ: ইসলামে পুরুষদের জন্য সোনা এবং রেশম পরিধান করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে, যদিও নারীদের জন্য তা বৈধ। রাসূল (ﷺ) বলেছেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেন, ‘সোনা ও রেশমের পোশাক পরিধান পুরুষদের জন্য নিষিদ্ধ এবং নারীদের জন্য বৈধ’ (তিরমিযী, হা/১৭২০)। ৭. নারীদের অনুকরণে পোশাক পরা নিষিদ্ধ: পুরুষরা মহিলাদের পোশাক পরিধান বা তাদের অনুকরণ করতে পারবে না। ইসলামে নারী ও পুরুষের পোশাকের মধ্যে পার্থক্য রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ‘সেই পুরুষের উপর অভিশাপ দিয়েছেন; যারা নারীর মত পোশাক পরিধান করে এবং সেই নারীর উপরও অভিশাপ দিয়েছেন; যারা পুরুষের মত পোশাক পরিধান করে’ (ছহীহ বুখারী, হা/৫৮৮৫)। ৮. শরীরের সৌন্দর্য এবং বাহ্যিক প্রভাবের জন্য পোশাক পরিধান না করা:  পোশাক এমনভাবে পরিধান করতে হবে যাতে দেহের সৌন্দর্য প্রকাশ না পায় এবং বাহ্যিকভাবে কোন প্রকার দৃষ্টি আকর্ষণ করে না।

আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেন, ‘আল্লাহ সৌন্দর্যকে ভালোবাসেন তবে অহংকার পসন্দ করেন না’ (ছহীহ মুসলিম)। ৯. পোশাকের রং এবং আকারে ইসলামের সীমারেখা মেনে চলা: পুরুষদের পোশাকের রং ও ডিজাইন শালীন এবং সাধারণ হওয়া উচিত। এমন কোন রং বা নকশা পরিহিত পোশাক না পরা, যা নারীদের জন্য সাধারণত পরা হয় বা যা সামাজিকভাবে অনুচিত। রাসূল (ﷺ) পুরুষদেরকে উজ্জ্বল রঙের পোশাক পরতে নিরুৎসাহিত করেন (ছহীহ মুসলিম, হা/২০৬৯)। ১০. পোশাক এমন না হওয়া যা অমুসলিমদের অনুসরণ করে: ইসলামে মুসলিমদের জন্য কাফির বা অমুসলিমদের বিশেষ পোশাক পরা নিষিদ্ধ। এতে মুসলিমদের আলাদা পরিচয় বজায় থাকে। হাদীছে বর্ণিত হয়েছে, ‘যে ব্যক্তি কোন জাতির অনুকরণ করে, সে তাদের মধ্যেই গণ্য’ (আবু দাঊদ, হা/৪০৩১)।


প্রশ্নকারী : সাহেব মোল্লা, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত।





প্রশ্ন (৮) : সূদ খাওয়া ও যিনার মধ্যে কোনটি বড় অপরাধ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৮) : বেশি নেকীর আশায় বড় মসজিদে গমন করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৯) : কুনূতে নাযেলা পড়ার সময় আমীন আমীন বলা যাবে কি? কুনূতে নাযেলার সাথে কুরআন বা হাদীছের অন্যান্য দু‘আ পড়া কি জায়েয? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৫) : কোন ব্যক্তি যদি রামাযানের রাত্রিতে স্ত্রী সহবাস করে ঘুমিয়ে যায় এবং অপবিত্র অবস্থায় সাহারী খেয়ে ছিয়াম রাখে, তাহলে ছিয়াম শুদ্ধ হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৫) : মিসওয়াক মুখ পরিষ্কার ও পবিত্র করার জন্য ব্যবহৃত হয়, অর্থাৎ মুখের ময়লা ও দুর্গন্ধ দূর করার জন্য। তাহলে কিছু লোক কেন ছালাতের ঠিক আগে মিসওয়াক ব্যবহার করে, কিন্তু মুখ পরিষ্কার করার জন্য বাথরুমে যায় না, বরং মিসওয়াক করার পর লালা গিলে ফেলে? এই পদ্ধতি কি সঠিক? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কি এভাবেই মিসওয়াক করতেন? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৫) : যে ব্যক্তি রামাযান মাসের শেষ জুমু‘আয় দিনে রাতে পাঁচ ওয়াক্ত ফরয ছালাত আদায় করবে তার ঐ বছরের ছুটে যাওয়া ছালাতের জন্য যথেষ্ট হয়ে যাবে। উক্ত বর্ণনা কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৮) : বিয়ের সময় পাত্র পক্ষের কাছে থেকে মসজিদ ও সমাজ খরচ হিসাবে পাত্রী পক্ষের মোড়লেরা নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা আদায় করে থাকেন। পাত্রী পক্ষের দেয়ার ক্ষমতা না থাকলে হেনস্তা বা অপমান করা হয়। এভাবে টাকা নেয়া শরী‘আত সম্মত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১১) : বিতর ছালাতে দু‘আ কুনুত কোন্ সময় পড়তে হয়? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩২) : দাওয়াতের উদ্দেশ্যে মসজিদের ভিতরে ইসলামী বই কেনা-বেচা করা যাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৮) : যঈফ হাদীছ কি সর্বক্ষেত্রেই বর্জনীয়? কোন কোন ক্ষেত্রে যঈফ হাদীছের উপর আমল করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১১) : গণতান্ত্রিক নির্বাচনে যদি অংশ গ্রহণ না করা যায়, গণতন্ত্র ছাড়া ইসলাম প্রতিষ্ঠার বিকল্প পন্থা কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৫) : ওযূতে মোজার উপর মাসাহ করতে হবে, না-কি জুতার উপর? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

ফেসবুক পেজ