বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:২৫ পূর্বাহ্ন
উত্তর : ইসলামে পুরুষদের পোশাকের ক্ষেত্রে কয়েকটি বিশেষ নীতিমালা দেয়া হয়েছে, যা মুসলিম পুরুষদের পোশাক পরিধানের জন্য অনুসরণ করা উচিত। যেমন: ১. সতর আবৃত রাখা: ইসলামে পুরুষদের জন্য নাভি থেকে হাঁটু পর্যন্ত অংশ আবৃত রাখা আবশ্যক। এটা পুরুষদের জন্য আবশ্যকীয় সতর বা আবরণ, যা ঢেকে রাখতে হবে। রাসূল (ﷺ) বলেছেন, ‘পুরুষের সতর হলো নাভি থেকে হাঁটু পর্যন্ত’ (তিরমিযী, হা/৩০৭০)। তবে ছালাত আদায়কালীন সময়ে দুই কাঁধ ও নাভী হতে হাঁটু পর্যন্ত (ছহীহ মুসলিম, হা/৫১৬; মিশকাত, হা/৭৫৫)। ২. পোশাক ঢিলেঢালা ও শালীন হওয়া: পুরুষদের পোশাক ঢিলেঢালা এবং এমনভাবে হতে হবে যাতে শরীরের আকৃতি প্রকাশিত না হয়। টাইট পোশাক পরিধান করা ইসলামী শিষ্টাচারের পরিপন্থী। নবী মুহাম্মাদ (ﷺ) বলেছেন, ‘তোমরা ঢিলেঢালা পোশাক পরিধান করো এবং শালীনতা অবলম্বন করো’। ৩. পোশাক টাখনুর উপরে রাখা: ইসলামে পুরুষদের পোশাক টাখনুর উপরে পরিধান করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। অহংকার না থাকলেও টাখনুর নিচে পোশাক ঝুলানো অনুচিত বলে বিবেচিত হয়।

রাসূল (ﷺ) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি অহংকারের সাথে তার পোশাক টাখনুর নিচে ঝুলিয়ে রাখবে, ক্বিয়ামতের দিন আল্লাহ তার দিকে তাকাবেন না’ (ছহীহ বুখারী, হা/৫৭৮৭)। ৪. পোশাক পরিচ্ছন্ন হওয়া ও পরিচ্ছন্নতার প্রতি যত্নশীল হওয়া: পোশাক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা ইসলামে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে বিবেচিত। পবিত্রতা ইসলামের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলোর একটি। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘নিশ্চয় আল্লাহ তাওবাকারীদের ভালোবাসেন এবং যারা পরিচ্ছন্ন থাকে তাদের ভালোবাসেন’ (সূরা আল-বাক্বারা: ২২২)। ৫. পোশাক অহংকার প্রদর্শন না করা: পোশাকের ক্ষেত্রে অহংকার বা গর্ব দেখানো ইসলামে নিষিদ্ধ। কোন ব্যক্তি যদি অহংকার প্রকাশ করার উদ্দেশ্যে বিলাসবহুল পোশাক পরে, তবে সেটি নিন্দনীয়। হাদীছে এসেছে, ‘যে ব্যক্তি অহংকারবশত এক হাতা কাপড় টাখনুর নিচে ঝুলাবে, ক্বিয়ামতের দিন আল্লাহ তার প্রতি রুষ্ট হবেন’ (ছহীহ মুসলিম, হা/২০৬৫)।

৬. সোনা ও রেশমের পোশাক পরিধান নিষিদ্ধ: ইসলামে পুরুষদের জন্য সোনা এবং রেশম পরিধান করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে, যদিও নারীদের জন্য তা বৈধ। রাসূল (ﷺ) বলেছেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেন, ‘সোনা ও রেশমের পোশাক পরিধান পুরুষদের জন্য নিষিদ্ধ এবং নারীদের জন্য বৈধ’ (তিরমিযী, হা/১৭২০)। ৭. নারীদের অনুকরণে পোশাক পরা নিষিদ্ধ: পুরুষরা মহিলাদের পোশাক পরিধান বা তাদের অনুকরণ করতে পারবে না। ইসলামে নারী ও পুরুষের পোশাকের মধ্যে পার্থক্য রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ‘সেই পুরুষের উপর অভিশাপ দিয়েছেন; যারা নারীর মত পোশাক পরিধান করে এবং সেই নারীর উপরও অভিশাপ দিয়েছেন; যারা পুরুষের মত পোশাক পরিধান করে’ (ছহীহ বুখারী, হা/৫৮৮৫)। ৮. শরীরের সৌন্দর্য এবং বাহ্যিক প্রভাবের জন্য পোশাক পরিধান না করা:  পোশাক এমনভাবে পরিধান করতে হবে যাতে দেহের সৌন্দর্য প্রকাশ না পায় এবং বাহ্যিকভাবে কোন প্রকার দৃষ্টি আকর্ষণ করে না।

আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেন, ‘আল্লাহ সৌন্দর্যকে ভালোবাসেন তবে অহংকার পসন্দ করেন না’ (ছহীহ মুসলিম)। ৯. পোশাকের রং এবং আকারে ইসলামের সীমারেখা মেনে চলা: পুরুষদের পোশাকের রং ও ডিজাইন শালীন এবং সাধারণ হওয়া উচিত। এমন কোন রং বা নকশা পরিহিত পোশাক না পরা, যা নারীদের জন্য সাধারণত পরা হয় বা যা সামাজিকভাবে অনুচিত। রাসূল (ﷺ) পুরুষদেরকে উজ্জ্বল রঙের পোশাক পরতে নিরুৎসাহিত করেন (ছহীহ মুসলিম, হা/২০৬৯)। ১০. পোশাক এমন না হওয়া যা অমুসলিমদের অনুসরণ করে: ইসলামে মুসলিমদের জন্য কাফির বা অমুসলিমদের বিশেষ পোশাক পরা নিষিদ্ধ। এতে মুসলিমদের আলাদা পরিচয় বজায় থাকে। হাদীছে বর্ণিত হয়েছে, ‘যে ব্যক্তি কোন জাতির অনুকরণ করে, সে তাদের মধ্যেই গণ্য’ (আবু দাঊদ, হা/৪০৩১)।


প্রশ্নকারী : সাহেব মোল্লা, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত।





প্রশ্ন (২৩) : শয়তানের ওয়াসওয়াসা কি বান্দার ঈমানকে নষ্ট করে দেয়? শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে বাঁচার উপায় কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৫) : জুমু‘আর খুত্ববায় মিম্বার তৈরির আগে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) লাঠি নিয়ে খুত্ববাহ দিতেন। কিন্তু মিম্বার তৈরি হওয়ার পর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) লাঠি নিতেন না। উক্ত দাবী কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৯) : ‘ছালাতুল ইশরাক্ব’, ‘ছালাতুয যুহা’ এবং ‘ছালাতুল আউওয়াবীন’ বলতে কোন্ কোন্ ছালাতকে বুঝানো হয় এবং এই সকল ছালাতের ফযীলত কেমন? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৩) : হস্তমৈথুনকে কেন ছিয়াম ভঙ্গের কারণ হিসাবে গণ্য করা হয়? অথচ বেপর্দা ও অন্যান্য গুনাহকে ছিয়াম ভঙ্গের কারণ হিসাবে গণ্য করা হয় না। - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৩) : জিনরাও কি মৃত্যুবরণ করে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৬) : পিতা-মাতার দিকে রহমতের নযরে তাকালে একটি কবুল হজ্জের ছওয়াব পাওয়া যায়। হাদীছটি কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪) : যেখানে পানির ব্যবস্থা নেই সেখানে পেশাব করার পর শুধু টিস্যু পেপার দিয়ে পবিত্র হওয়া যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৩) : জুমু‘আর খুৎবাহ বসে বসে দেয়া যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩০) : যেসকল তাসবীহ ১০০ বার পড়তে হয়, তা যদি একসাথে না পড়ে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে পড়ি, তাহলে কি হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৬) : ফাতেমা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-কে ‘মা’ বলা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২১) : নারী-পুরুষের ছালাতের মধ্যে কোন পার্থক্য আছে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১১) : ঘুমের কারণে যদি আছরের ছালাত ছুটে যায় এবং ঘুম থেকে উঠেই আছরের ছালাত আদায় করা হয়, তাহলে কি পরিবারবর্গ ও ধন-সম্পদ ধ্বংস হয়ে যায় এই হাদীছের আওতাভুক্ত হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

ফেসবুক পেজ