বৃহস্পতিবার, ২৩ Jul ২০২৬, ১২:৩৪ পূর্বাহ্ন
উত্তর : এক্ষেত্রে বাবা তার মৃত সন্তানের সম্পত্তি থেকে কুরআনুল কারীমে বর্ণিত নির্ধারিত অংশ পাবেন। বাবার অংশ: সন্তানের উপস্থিতিতে বাবা পরিত্যক্ত সম্পত্তির এক-ষষ্ঠমাংশ (১/৬) পাবেন। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

وَ لِاَبَوَیۡہِ لِکُلِّ وَاحِدٍ مِّنۡہُمَا السُّدُسُ مِمَّا تَرَکَ اِنۡ کَانَ لَہٗ  وَلَدٌ ۚ فَاِنۡ لَّمۡ  یَکُنۡ لَّہٗ وَلَدٌ وَّ وَرِثَہٗۤ اَبَوٰہُ فَلِاُمِّہِ الثُّلُثُ

‘তার (মৃতের) সন্তান থাকলে, তার পিতা-মাতা প্রত্যেকের জন্য পরিত্যক্ত সম্পত্তির এক-ষষ্ঠাংশ। আর সে নিঃসন্তান হলে এবং কেবল পিতামাতাই উত্তরাধিকারী হলে, তার মাতার জন্য এক-তৃতীয়াংশ’ (সূরা আন-নিসা: ১১)। অর্থাৎ মৃত ব্যক্তির যদি সন্তানাদি থাকে, তাহলে তার (মৃত ব্যক্তির) পিতা ও মাতা উভয়েই মালের এক ষষ্ঠাংশ (ছয় ভাগের এক ভাগ) করে পাবে। অবশিষ্ট মাল সন্তানদের মধ্যে বণ্টন হবে।

পিতা এবং চাচাদের অবর্তমানে নাতি-নাতনিরা দাদুর সম্পত্তিতে সরাসরি অংশীদার হবে। কিন্তু যদি দাদুর কোন পুত্র সন্তান থাকে, সেটি তাদের বাবা হোক কিংবা অন্যান্য চাচা, তাহলে তারা সরাসরি অংশীদার হবে না (আত-তাহক্বীক্বাতুল মারযিয়্যাহ ফিল মাবাহিছিল ফারযিয়্যাহ, পৃ. ৬৫ ও ১২৫)। শাইখ আব্দুল্লাহ ইবনু জিবরীন (হাফিযাহুল্লাহ) বলেন, ‘এখানে নাতি-নাতনি বলতে ছেলের সন্তানদের বুঝানো হয়েছে, মেয়ের সন্তানরা নয়। যদি তাদের পিতা তাদের দাদুর পূর্বে মারা যায়, তাহলে তাদের দাদুর ঔরসজাত সন্তানের উপস্থিতিতে তারা ওয়ারিশ হবে না। কেননা সন্তান নাতি-নাতনিদের থেকে অধিক নিকটবর্তী। তবে যদি দাদুর কন্যা সন্তান ব্যতীত কোন পুত্র সন্তান না থাকে, তাহলে কন্যাদের অংশ দেয়ার পর অবশিষ্ট অংশ তারা পাবে। অনুরূপভাবে যদি বাবা ব্যতীত দাদুর অন্য কোন সন্তান না থাকে, তাহলে তারাই সমস্ত সম্পত্তির মালিক হবে (মাজাল্লাতুল হারাছিল ওয়াত্বানী, সংখ্যা ২৬৪, তারিখ ১/৬/২০০৪)। শায়খ ছালিহ আল-মুনাজ্জিদ (হাফিযাহুল্লাহ) বলেন, ‘শরী‘আত সম্মত বিধান অনুযায়ী বাবার মৃত্যুর পর চাচাদের উপস্থিতিতে নাতি-নাতনিরা সরাসরি দাদুর সম্পত্তিতে অংশীদার হয় না। সুতরাং দাদুর আগে বাবা মারা গেলে জোর করে দাদুর সম্পত্তি থেকে নিয়ে নাতি-নাতনিকে দেয়া জায়েয নয়। তবে চাচাদের উপস্থিতিতে সম্পদ থেকে বঞ্চিত নাতি-নাতনিরা দু’টি পদ্ধতিতে দাদুর পরিত্যক্ত সম্পত্তির কিছু অংশ পেতে পারে। যথা:

প্রথম পদ্ধতিঃ দাদুর উচিত মৃত্যুর পূর্বে তাদের জন্য মোট সম্পত্তির এক-তৃতীয়াংশ অথবা তার থেকে কিছু কম ওয়াছিয়্যাত করা। আলহামদুলিল্লাহ, এমন হলে তাদের অনেক মাল হয়ে যাবে। এই প্রকারের ওয়াছিয়্যাতকে কিছু উলামা অপরিহার্য বলেছেন, আবার অনেকে মুস্তাহাব বলেছেন। এই মতের পক্ষে দলীল হল আল্লাহ তা‘আলার কালাম। তিনি বলেন,

کُتِبَ عَلَیۡکُمۡ  اِذَا حَضَرَ اَحَدَکُمُ الۡمَوۡتُ اِنۡ تَرَکَ خَیۡرَۨا ۚۖ  الۡوَصِیَّةُ لِلۡوَالِدَیۡنِ وَ الۡاَقۡرَبِیۡنَ بِالۡمَعۡرُوۡفِ ۚ حَقًّا عَلَی الۡمُتَّقِیۡنَ

‘তোমাদের আদেশ দেয়া হয়েছে যে, তোমাদের মধ্যে যখন কারো মৃত্যু উপস্থিত হয় এবং সে যদি ধন-সম্পত্তি রেখে যায়, তবে পিতা-মাতা ও আত্মীয়-স্বজনের জন্য বৈধভাবে ‘ওয়াছিয়্যাত’ করার বিধান দেয়া হল। ধর্মভীরুদের জন্য এটা অবশ্য পালনীয়’ (সূরা আল-বাক্বারাহ:১৮০)। শাইখ মুহাম্মাদ ইবনু ছালিহ আল-উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘এই আয়াতের শিক্ষণীয় বিষয় হল- যে ব্যক্তি অনেক মালধন রেখে যাচ্ছে, তার জন্য অপরিহার্য হল, পিতা-মাতা ও আত্মীয়-স্বজনের জন্য বৈধভাবে ওয়াছিয়্যাত করা। কেননা আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন, (کُتِبَ عَلَیۡکُمۡ) ‘তোমাদের উপর বিধান দেয়া হল’। এই আয়াতটি মিরাছের আয়াত দ্বারা রহিত করা হয়েছে কি-না? মিরাছের আয়াতে প্রত্যেক অংশীদারের অংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ব্যাপারে আলেমদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। অধিকাংশ আলেম বলেন, ‘এই আয়াতটি মানসূখ বা রহিত করা হয়েছে’। তবে সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য মতানুযায়ী এটি মানসূখ করা হয়নি। কেননা এখানে নির্দিষ্টকরণ সম্ভব। সুতরাং বলা যায় যে, যদি তারা অংশীদার হয়, তাহলে তাদেরকে ওয়াছিয়্যাত করা যাবে না। কেননা আল্লাহ তা‘আলা তাদের জন্য পূর্ব থেকেই অংশ নির্ধারণ করে রেখেছেন। তাই ওয়ারিছ বা উত্তরাধিকারদের নামে উইল করা বৈধ নয়। কেননা রাসূল (ﷺ) বলেছেন, ‘অবশ্যই আল্লাহ তা‘আলা প্রত্যেক হক্বদারের হক্ব (নির্দিষ্ট করে) দিয়েছেন। সুতরাং কোন ওয়ারিশের নামে ওয়াছিয়্যাত করা যাবে না (তিরমিযী, হা/২১২০; আবূ দাঊদ, হা/২৮৭০, ৩৫৬৫)। অতএব এই আয়াত অবশিষ্ট থাকছে তাদের জন্য, যারা সরাসরি অংশীদার নয়। সুতরাং বুঝা যাচ্ছে যে, ওয়ারিছ ব্যতীত অন্য যে কোন ব্যক্তির নামে নির্ধারিত পরিমাণের মাল ওয়াছিয়্যাত করা জায়েয। সা‘দ ইবনু আবী ওয়াক্কাছ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, আমি বললাম, ‘আমি অর্ধেক সম্পত্তি ওয়াছিয়্যাত করতে চাই’। রাসূল (ﷺ) বললেন, অর্ধেক অনেক অধিক। আমি বললাম, এক-তৃতীয়াংশ। তিনি বললেন, আচ্ছা এক-তৃতীয়াংশ এবং এক-তৃতীয়াংশও অধিক বা তিনি বলেছেন বিরাট। সা‘দ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, অতঃপর লোকেরা এক-তৃতীয়াংশ ওয়াছিয়্যাত করতে লাগল। আর তা-ই তাদের জন্য জায়েয হয়ে গেল’ (ছহীহ বুখারী, হা/২৭৪৪, ১২৯৫, ২৭৪২, ৩৯৩৬; ছহীহ মুসলিম, হা/১৬২৮)। সুতরাং এক-তৃতীয়াংশের অধিক ওয়াছিয়্যাত করা যাবে না। উক্ত আয়াতকে হাদীছ দ্বারা শর্তযুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া আরো বুঝা যাচ্ছে যে, তাদের উপর ওয়াছিয়্যাত করা অপরিহার্য, যারা পিছনে অনেক ধন-সম্পদ রেখে যাচ্ছে। কেননা আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন, (اِنۡ تَرَکَ خَیۡرَۨا) ‘সে যদি ধন-সম্পত্তি রেখে যায়’। পক্ষান্তরে যদি কেউ অল্প পরিমাণে সম্পদ রেখে যাচ্ছেন এবং তার ওয়ারিশও আছে, এক্ষেত্রে তার জন্য উত্তম হল, ওয়াছিয়্যাত না করা। যেমন রাসূল (ﷺ) সা‘দ ইবনু আবী ওয়াক্কাছ (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে সম্বোধন করে বলেন,

إِنَّكَ أَنْ تَذَرَ وَرَثَتَكَ أَغْنِيَاءَ، خَيْرٌ مِنْ أَنْ تَذَرَهُمْ عَالَةً يَتَكَفَّفُوْنَ النَّاسَ

‘তোমার ওয়ারিশদের অভাবমুক্ত রেখে যাওয়া, তাদেরকে খালি হাতে পরমুখাপেক্ষী অবস্থায় রেখে যাওয়ার চেয়ে অধিক উত্তম’ (ছহীহ বুখারী, হা/১২৯৫; তাফসীরু সূরাতিল বাক্বারাহ লি ইবনে উছাইমীন, ২/৩০৬, ৩০৭ পৃ.)।

দ্বিতীয় পদ্ধতিঃ দাদু ওয়াছিয়্যাত না করলে, চাচাদের উচিত তাদের ভাগ থেকে কিছু কিছু করে এদের জন্য হাদিয়া করা। তাদের বাবার অংশ মনে করে তাদের দিয়ে দেবে। নিঃসন্দেহে এতে তাদের জীবন আটকে যাবে না। তবে জোর করে বা কানুন বানিয়ে ছিনিয়ে নেয়া বৈধ হবে না (ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-৭০৫৭৫)।


প্রশ্নকারী : ফারুক হোসেন, সগুনিয়া মান্দা, নওগাঁ।





প্রশ্ন (১২) : ‘একই বিক্রয়ে দু’টি শর্ত বৈধ নয়’ (তিরমিযী, হা/১২৩৪) হাদীছের সঠিক ব্যাখ্যা কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৭) : কোন ব্যক্তি নেশাদার দ্রব্য পান করলে কি সরাসরি মুশরিক হয়ে যাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৫) : হিজড়ারা জিনের সন্তান। এ দাবী কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৩) : কোন ব্যক্তি যদি আরোগ্য লাভের আশায় নিজে কুরআন তেলাওয়াত করে বা কুরআন খতম করে পানিতে ফুঁ দিয়ে তা খায়, তাহলে জায়েয হবে কি? মৃত ব্যক্তির জন্য কি কুরআন খতম করা যাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৯) : ‘তোমরা রাতের বেলায় রাস্তার মধ্যভাগে অবস্থান নেয়া থেকে সাবধান থাক। কেননা উহা হল, সাপ ও হিংস্র প্রাণীদের আশ্রয়স্থল’ মর্মে বর্ণিত হাদীছ কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১২) : ‘দাসী তার মুনিবকে জন্ম দিবে’ হাদীছটির ব্যাখ্যা কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৭) : আমার উপর হজ্জ ফরয হয়নি। আমি কি উমরাহ করতে পারব? জনৈক ব্যক্তি বলেন, কারো যদি হজ্জ করার সামর্থ্য না থাকে সে কখনো উমরাহ করতে পারবে না। কথাটি কতটুকু সত্য? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৮) : সব শী‘আ কি কাফের? অনেক আলেমও বলে থাকেন যে, শী‘আরা কাফের। কিন্তু সালাফী আলেমগণ ঐভাবে বলতে নিষেধ করেন, কারণ অনেক শী‘আ আছে যারা কাফের নয়। প্রকৃত বিষয়টি কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৯) : কোন ব্যক্তি সর্বদা আউয়াল ওয়াক্তে ৫ ওয়াক্ত ছালাত ক্বায়েম করে কিন্তু মাঝে মধ্যে অশ্লীলতায় মগ্ন হয়ে যায় এবং ২/৩ ওয়াক্ত ছালাত ক্বাযা হয়ে যায়। এমন ব্যক্তির হুকুম কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৭) : কোর্ট ম্যারেজ এবং কোর্টের মাধ্যমে ত্বালাক্ব দেয়া সম্পর্কে ইসলামের বিধান কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩) : কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার অপারেটর পদে চাকুরি করার কারণে অনেক সময় হিন্দু, বৌদ্ধ বা খ্রিষ্টান ধর্মের প্রশ্নপত্র টাইপ করতে হয়। এমন কাজ করলে কি গুনাহ হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১০) : ইমাম জুম‘আর দিন মিম্বরে বসার সময় সালাম দিবেন মর্মে কোন দলীল আছে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ