বৃহস্পতিবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৫, ০১:৩৯ অপরাহ্ন
উত্তর : আল্লাহ তা‘আলার সুন্দর সুন্দর নাম বা গুণবাচক নামসমূহ ও বৈশিষ্ট্যসমূহ তথা আসমা ওয়াছ ছিফাত ব্যতীত অন্য কিছুর মাধ্যমে কসম খাওয়া জায়েয নয়। কুরআন হল আল্লাহর কালাম বা বাণী, যা তার বৈশিষ্ট্য সমূহের একটি। তা কিন্তু আল্লাহর সৃষ্টি জগতের অন্তর্ভুক্ত নয়, বরং এটি তার যাত বা সত্তার এক অবিচ্ছেদ্য বৈশিষ্ট্য। ছিফাত বা বৈশিষ্ট্য কখনো যাত বা সত্তা থেকে আলাদা হয় না। তার যাত বা সত্তা যেমন, অনাদী ও অবিনশ্বর তার প্রতিটি ছিফাতও (যেমন কথা বলা, দেখা, শোনা, হাত, চোখ ইত্যাদি) অনুরূপ। সুতরাং আল্লাহর কালামকে আল্লাহর অন্যান্য সৃষ্টিজগতের মত একটি সৃষ্ট বস্তু বলার মানে হল- আল্লাহর কথা বলার ছিফাতকে অস্বীকার করা এবং অন্যান্য সৃষ্টি যেমন একদিন ধ্বংস হয়ে যাবে, ঠিক তেমনি আল্লাহর কালামও একদিন ধ্বংস হয়ে যাবে! নাউযুবিল্লাহ। এটি যে একটি কুফরী আক্বীদা-বিশ্বাস তাতে কোন সন্দেহ নেই। সুতরাং বুঝা গেল, কুরআন আল্লাহর কালাম এবং তা আল্লাহর সৃষ্টি নয়। এ ব্যাপারে সালাফদের মাঝে কোন দ্বিমত ছিল না এবং আলহামদুলিল্লাহ এখনো পর্যন্ত হক্বপন্থীদের মাঝে কোন দ্বিমত নেই। অতএব কুরআনের কসম খাওয়া বলতে কেউ যদি আল্লাহর কালামের কসম খাওয়া উদ্দেশ্য নেয়, তাহলে এই ধরণের কসম খাওয়া শরী‘আত সম্মত।

পক্ষান্তরে ক্বুরআনের কসম খাওয়া বলতে কেউ যদি কাগজ ও কালির কসম খাওয়া উদ্দেশ্য নেয়, তাহলে এই ধরণের কসম খাওয়া শরী‘আত সম্মত নয়, বরং তা শিরক। সা‘দ ইবনু উবাইদাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, ইবনু উমার (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) একজন লোককে বলতে শুনলেন, কা‘বার শপথ! ইবনু উমার (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেন, ‘আল্লাহ তা‘আলার নাম ব্যতীত অন্য কিছুর নামে শপথ করা যাবে না। কেননা রাসূল (ﷺ)-কে আমি বলতে শুনেছি, আল্লাহ তা‘আলার নাম ব্যতীত অন্য কিছুর নামে যে লোক শপথ করল সে যেন কুফরী করল অথবা শিরক করল’ (তিরমিযী, হা/১৫৩৫)। তিনি আরো বলেন, ‘কাউকে কসম খেতে হলে সে যেন আল্লাহর নামেই কসম করে, নতুবা চুপ করে থাকে’ (ছহীহ বুখারী, হা/২৬৭৯, ৩৮৩৬)। সেই জন্য মানুষের উচিত মুছহাফ বা পবিত্র কুরআনের কসম না খাওয়া। কেননা এর মধ্যে যেমন, আল্লাহর কালাম রয়েছে, ঠিক তেমনি কাগজ ও কালিও রয়েছে। সামান্য নিয়তের পার্থক্যের কারণে তা শিরক হয়ে যেতে পারে। অপরদিকে কুরআনকে স্পর্শ করে অথবা কুরআনের উপর হাত রেখে কসম খাওয়া বিদ‘আত (ফাতাওয়া ইসলামিয়াহ, ৩/৪৬৩ পৃ.; ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-৯৮১৯৪; ফাতাওয়া নূরুন আলাদ র্দাব ইবনে উছাইমীন)।


প্রশ্নকারী : আরিফ দেওয়ান, চাঁদপুর।





প্রশ্ন (১৫) : জনৈকা গর্ভবতী মহিলাকে ডাক্তার পরামর্শ দিয়েছেন যে, রামাযানের ছিয়াম পালন করা যাবে না। কারণ ক্ষতি হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। এক্ষেত্রে করণীয় কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৭) : নবী-রাসূল, ছাহাবায়ে কেরামের বিভিন্ন ইতিহাস নিয়ে নির্মিত ভিডিও চিত্র দেখা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১১) : হালাক্বায়ে যিকির কাকে বলে? সম্মিলিত যিকির করা কি জায়েয? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২১) : আমি ছালাতের পদ্ধতি ও নিয়ম জানি না। আমি যদি জামা‘আতে ছালাত আদায় করি, তাহলে কি আমার ছালাত হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১) : ছালাতের ওয়াক্ত শুরু হওয়ার পর ছালাত বিলম্বে আদায় করার সময় যদি কোন মহিলা ঋতুবতী হয়ে যায়, তাহলে ঐ ছালাত কখন আদায় করবে? পবিত্র হওয়ার পর কি ঐ ছালাত ক্বাযা করতে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৯): জনৈক বক্তা বলেন যে, ‘জান্নাতে একটি কনফারেন্স হবে। সেই কনফারেন্সের সভাপতি হবেন স্বয়ং আল্লাহ। আর সেখানে উপস্থিত থাকবেন আমাদের নবী (ﷺ) ও নূহ (আলাইহিস সালাম)। আর পরিশেষে আল্লাহ তা‘আলা কুরআন তেলাওয়াত করবেন’। উক্ত বক্তব্য কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৯) : স্ত্রী ছালাত আদায় না করলে করণীয় কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২০) : তাওহীদ কাকে বলে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩) : পেনশনের টাকা দিয়ে হজ্জ, ওমরাহ আদায় করলে সেটা কি কবুল হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২): হায়েযের সময়সীমা ব্যাপারে একেক হাদীছে একেক রকম বর্ণনা পাওয়া যায়। প্রশ্ন হল- ঠিক কতদিন পর্যন্ত ছালাত আদায় করা যাবে না? যদিও একেক মাসে একেক সময়সীমা থাকে। কখনো ৪ দিন আবার কখনো ৭ দিন। বিষয়টি বুঝিয়ে বলবেন। - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২) : যে ব্যক্তি ক্বিয়ামতের মাঠে স্থাপিত মীযানকে অস্বীকার করে তার পরিণাম হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩১) : এক ব্যক্তির উপর গোসল ফরয হয়েছে। সে সাধারণভাবে গোসল করেছে কিন্তু ফরয গোসলের নিয়ত করেনি। অতঃপর সে ওযূ করে ওয়াক্তের ছালাত আদায় করেছে। তার ছালাত কি শুদ্ধ হয়েছে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

ফেসবুক পেজ