বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:২৫ পূর্বাহ্ন
উত্তর : আল্লাহ তা‘আলার সুন্দর সুন্দর নাম বা গুণবাচক নামসমূহ ও বৈশিষ্ট্যসমূহ তথা আসমা ওয়াছ ছিফাত ব্যতীত অন্য কিছুর মাধ্যমে কসম খাওয়া জায়েয নয়। কুরআন হল আল্লাহর কালাম বা বাণী, যা তার বৈশিষ্ট্য সমূহের একটি। তা কিন্তু আল্লাহর সৃষ্টি জগতের অন্তর্ভুক্ত নয়, বরং এটি তার যাত বা সত্তার এক অবিচ্ছেদ্য বৈশিষ্ট্য। ছিফাত বা বৈশিষ্ট্য কখনো যাত বা সত্তা থেকে আলাদা হয় না। তার যাত বা সত্তা যেমন, অনাদী ও অবিনশ্বর তার প্রতিটি ছিফাতও (যেমন কথা বলা, দেখা, শোনা, হাত, চোখ ইত্যাদি) অনুরূপ। সুতরাং আল্লাহর কালামকে আল্লাহর অন্যান্য সৃষ্টিজগতের মত একটি সৃষ্ট বস্তু বলার মানে হল- আল্লাহর কথা বলার ছিফাতকে অস্বীকার করা এবং অন্যান্য সৃষ্টি যেমন একদিন ধ্বংস হয়ে যাবে, ঠিক তেমনি আল্লাহর কালামও একদিন ধ্বংস হয়ে যাবে! নাউযুবিল্লাহ। এটি যে একটি কুফরী আক্বীদা-বিশ্বাস তাতে কোন সন্দেহ নেই। সুতরাং বুঝা গেল, কুরআন আল্লাহর কালাম এবং তা আল্লাহর সৃষ্টি নয়। এ ব্যাপারে সালাফদের মাঝে কোন দ্বিমত ছিল না এবং আলহামদুলিল্লাহ এখনো পর্যন্ত হক্বপন্থীদের মাঝে কোন দ্বিমত নেই। অতএব কুরআনের কসম খাওয়া বলতে কেউ যদি আল্লাহর কালামের কসম খাওয়া উদ্দেশ্য নেয়, তাহলে এই ধরণের কসম খাওয়া শরী‘আত সম্মত।

পক্ষান্তরে ক্বুরআনের কসম খাওয়া বলতে কেউ যদি কাগজ ও কালির কসম খাওয়া উদ্দেশ্য নেয়, তাহলে এই ধরণের কসম খাওয়া শরী‘আত সম্মত নয়, বরং তা শিরক। সা‘দ ইবনু উবাইদাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, ইবনু উমার (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) একজন লোককে বলতে শুনলেন, কা‘বার শপথ! ইবনু উমার (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেন, ‘আল্লাহ তা‘আলার নাম ব্যতীত অন্য কিছুর নামে শপথ করা যাবে না। কেননা রাসূল (ﷺ)-কে আমি বলতে শুনেছি, আল্লাহ তা‘আলার নাম ব্যতীত অন্য কিছুর নামে যে লোক শপথ করল সে যেন কুফরী করল অথবা শিরক করল’ (তিরমিযী, হা/১৫৩৫)। তিনি আরো বলেন, ‘কাউকে কসম খেতে হলে সে যেন আল্লাহর নামেই কসম করে, নতুবা চুপ করে থাকে’ (ছহীহ বুখারী, হা/২৬৭৯, ৩৮৩৬)। সেই জন্য মানুষের উচিত মুছহাফ বা পবিত্র কুরআনের কসম না খাওয়া। কেননা এর মধ্যে যেমন, আল্লাহর কালাম রয়েছে, ঠিক তেমনি কাগজ ও কালিও রয়েছে। সামান্য নিয়তের পার্থক্যের কারণে তা শিরক হয়ে যেতে পারে। অপরদিকে কুরআনকে স্পর্শ করে অথবা কুরআনের উপর হাত রেখে কসম খাওয়া বিদ‘আত (ফাতাওয়া ইসলামিয়াহ, ৩/৪৬৩ পৃ.; ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-৯৮১৯৪; ফাতাওয়া নূরুন আলাদ র্দাব ইবনে উছাইমীন)।


প্রশ্নকারী : আরিফ দেওয়ান, চাঁদপুর।





প্রশ্ন (৮) : ইসলামী উপায়ে হিকমাহ বা প্রজ্ঞা বৃদ্ধির উপায় কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (০৮) : পুরুষের জন্য পরচুলার বিধান কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৮) : জনৈক আলেম বলেন, বান্দা যখন ছাদাক্বাহ প্রদান করে, তখন যেন সে তার চোয়াল থেকে সত্তর জন শয়তানকে বিতাড়িত করল। উক্ত বক্তব্য কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৫) : ‘যে ব্যক্তি কোন হাজীকে চল্লিশ কদম এগিয়ে দিবে, অতঃপর আলিঙ্গন  করে তাকে বিদায় করবে, উভয়ে পৃথক হওয়ার পূর্বেই আল্লাহ তার গোনাহ মাফ করে দিবেন’ বক্তব্য কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৫) : প্রত্যেক রফউল ইয়াদাইনে ১০টি করে নেকী লাভ হয় সংক্রান্ত হাদীছ কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৯) : প্রচলিত আছে যে, আল্লাহর দু’হাতই ডান হাত। কিন্তু মিশকাতে একটি হাদীছে বর্ণিত হয়েছে, আল্লাহর ডান ও বাম দু’হাতই রয়েছে। কোনটি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২) : ‘ক্বা‘বা ঘরের দিকে তাকানো ইবাদত’ এ কথা কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৪) : আযান চলাকালীন ভুলবশত হারাম কাজে লিপ্ত থাকলে কি ঈমান নষ্ট হয়ে যায়? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৬) : পিতা-মাতার অনুমতি ছাড়া ছেলে বিবাহ করতে পারবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১) : ‘আহলেহাদীছ’ নামে কোন মসজিদের নামকরণ করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩১) : ছালাতুল ইশরাক, ছালাতু যোহা, ছালাতুল আউয়াবীন কোন্ সময় পড়তে হয়? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৮) : রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ৮ রাক‘আত তারাবীহ পড়লেও ওমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) ২০ রাক‘আত পড়ার নির্দেশ দিয়েছেন এবং ২০ রাক‘আতের উপর ইজমা হয়েছে। উক্ত বক্তব্য কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

ফেসবুক পেজ