বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:২৪ পূর্বাহ্ন
উত্তর : আল্লাহ তা‘আলার সুন্দর সুন্দর নাম বা গুণবাচক নামসমূহ ও বৈশিষ্ট্যসমূহ তথা আসমা ওয়াছ ছিফাত ব্যতীত অন্য কিছুর মাধ্যমে কসম খাওয়া জায়েয নয়। কুরআন হল আল্লাহর কালাম বা বাণী, যা তার বৈশিষ্ট্য সমূহের একটি। তা কিন্তু আল্লাহর সৃষ্টি জগতের অন্তর্ভুক্ত নয়, বরং এটি তার যাত বা সত্তার এক অবিচ্ছেদ্য বৈশিষ্ট্য। ছিফাত বা বৈশিষ্ট্য কখনো যাত বা সত্তা থেকে আলাদা হয় না। তার যাত বা সত্তা যেমন, অনাদী ও অবিনশ্বর তার প্রতিটি ছিফাতও (যেমন কথা বলা, দেখা, শোনা, হাত, চোখ ইত্যাদি) অনুরূপ। সুতরাং আল্লাহর কালামকে আল্লাহর অন্যান্য সৃষ্টিজগতের মত একটি সৃষ্ট বস্তু বলার মানে হল- আল্লাহর কথা বলার ছিফাতকে অস্বীকার করা এবং অন্যান্য সৃষ্টি যেমন একদিন ধ্বংস হয়ে যাবে, ঠিক তেমনি আল্লাহর কালামও একদিন ধ্বংস হয়ে যাবে! নাউযুবিল্লাহ। এটি যে একটি কুফরী আক্বীদা-বিশ্বাস তাতে কোন সন্দেহ নেই। সুতরাং বুঝা গেল, কুরআন আল্লাহর কালাম এবং তা আল্লাহর সৃষ্টি নয়। এ ব্যাপারে সালাফদের মাঝে কোন দ্বিমত ছিল না এবং আলহামদুলিল্লাহ এখনো পর্যন্ত হক্বপন্থীদের মাঝে কোন দ্বিমত নেই। অতএব কুরআনের কসম খাওয়া বলতে কেউ যদি আল্লাহর কালামের কসম খাওয়া উদ্দেশ্য নেয়, তাহলে এই ধরণের কসম খাওয়া শরী‘আত সম্মত।

পক্ষান্তরে ক্বুরআনের কসম খাওয়া বলতে কেউ যদি কাগজ ও কালির কসম খাওয়া উদ্দেশ্য নেয়, তাহলে এই ধরণের কসম খাওয়া শরী‘আত সম্মত নয়, বরং তা শিরক। সা‘দ ইবনু উবাইদাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, ইবনু উমার (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) একজন লোককে বলতে শুনলেন, কা‘বার শপথ! ইবনু উমার (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেন, ‘আল্লাহ তা‘আলার নাম ব্যতীত অন্য কিছুর নামে শপথ করা যাবে না। কেননা রাসূল (ﷺ)-কে আমি বলতে শুনেছি, আল্লাহ তা‘আলার নাম ব্যতীত অন্য কিছুর নামে যে লোক শপথ করল সে যেন কুফরী করল অথবা শিরক করল’ (তিরমিযী, হা/১৫৩৫)। তিনি আরো বলেন, ‘কাউকে কসম খেতে হলে সে যেন আল্লাহর নামেই কসম করে, নতুবা চুপ করে থাকে’ (ছহীহ বুখারী, হা/২৬৭৯, ৩৮৩৬)। সেই জন্য মানুষের উচিত মুছহাফ বা পবিত্র কুরআনের কসম না খাওয়া। কেননা এর মধ্যে যেমন, আল্লাহর কালাম রয়েছে, ঠিক তেমনি কাগজ ও কালিও রয়েছে। সামান্য নিয়তের পার্থক্যের কারণে তা শিরক হয়ে যেতে পারে। অপরদিকে কুরআনকে স্পর্শ করে অথবা কুরআনের উপর হাত রেখে কসম খাওয়া বিদ‘আত (ফাতাওয়া ইসলামিয়াহ, ৩/৪৬৩ পৃ.; ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-৯৮১৯৪; ফাতাওয়া নূরুন আলাদ র্দাব ইবনে উছাইমীন)।


প্রশ্নকারী : আরিফ দেওয়ান, চাঁদপুর।





প্রশ্ন (৪) : কোন দেশের রাষ্টপ্রধানের অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে ইসলামে কোন নিষেধাজ্ঞা আছে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৮) : অনেক হানাফি আলেম বলেন, দাড়ি না রাখলে নবী (ﷺ) সুপারিশ করবেন না! একথা কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৫) : ডাক্তারগণ বলে থাকেন যে, শিশু খাদ্য জুস, চিপস ইত্যাদি খাওয়া শরীরের জন্য ক্ষতিকর। প্রশ্ন হল- এগুলো বিক্রি করা জায়েয হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৪) : নারীরা সাজগোজ করে মাহরাম ব্যতীত অন্য পুরুষদের সামনে যেতে পারবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন(২৮) : ‘রামাযানের প্রথম দশক রহমত, মধ্য দশক মাগফিরাত এবং শেষ দশক নাজাত’ মর্মে আবূ হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত হাদীছটি কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১) : কোন্ সময় সত্য গোপন করা যায়? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩১) : সা‘দ ইবনু আবী ওয়াক্কাছ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) এর মাতৃভক্তি প্রসঙ্গ সমাজে একটি কাহিনী প্রচলিত আছে। এর সত্যতা কতটুকু? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৪) : তাক্বদীর সম্পর্কে মনে কু-চিন্তার উদয় হলে করণীয় কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৬) : এনজিও থেকে লোন নিয়ে ব্যবসা শুরু করি। পরবর্তীতে বিষয়টি বুঝতে পেরে খুবই অনুতপ্ত হই। এখন পিতার সম্পদ বিক্রয় করে যদি ‘এনজিও’-এর টাকা পরিশোধ করি, তাহলে কি ঐ ব্যবসা থেকে অর্জিত টাকা হালাল হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৩) : রাসূল (ﷺ) ফরয ছালাতের পর যে সমস্ত যিকির ও দু‘আ করতেন তা কি সুন্নাত ও নফল ছালাতের পর করা যাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৩) : অধিকাংশ মানুষ ছালাতের সময় লুঙ্গি, প্যান্ট গুটিয়ে নিয়ে ছালাত আদায় করে থাকে। প্রশ্ন হল- শুধু ছালাতের সময় লুঙ্গি, প্যান্ট ইত্যাদি গুটিয়ে রাখা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২০) : রাসূল (ﷺ) ফরয গোসলের ওযূর পর আর ছালাতের জন্য ওযূ করতেন না (তিরমিযী, হা/১০৭; আবূ দাঊদ, হা/২৫০; নাসাঈ, হা/২৫২; ইবনু মাজাহ, হা/৫৭৯)। প্রশ্ন হল- আমি তো ফরয গোসলের নিয়তে এই ওযূ করি কিন্তু ছালাত পড়ার নিয়তে ওযূ করি না। এখন আমি কি পুনরায় ছালাতের নিয়তে ওযূ করব, না-কি ফরয গোসলের নিয়তে যে ওযূ করেছি তাতেই হয়ে যাবে। - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

ফেসবুক পেজ