রবিবার, ০৭ Jun ২০২৬, ০৩:২৭ অপরাহ্ন
উত্তর : সফর মাসকে কেন্দ্র করে অনেক মিথ্যা ও ভিত্তিহীন কথা সমাজে প্রচলিত আছে। এমনকি দৈনিক পত্রিকাতেও এই মিথ্যা কথাগুলো প্রচার করে থাকে। শায়খ ছালিহ আল-মুনাজ্জিদ বলেন, ‘সফর মাসের কুসংস্কার ও বিদ‘আতগুলোকে সংক্ষিপ্তাকারে জানার জন্য কয়েকটি পয়েন্ট সামনে রাখা অতীব যরূরী। যথা- (১) আরবীয় জাহিলিয়্যাতের যুগে সফর মাস ও তার বিরোধিতায় ইসলামী বিধান: জাহিলিয়্যাতের যুগে আরবরা সফর মাসকে কেন্দ্র করে দু’টি ঘৃণিত কাজ করত। যেমন (ক) তারা নিজেদের সুবিধার্থে সফর মাসকে ত্বরান্বিত বা বিলম্বিত করত। ইবনু আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, ‘লোকেরা যিলহজ্জ মাসে ‘উমরাহ করাকে দুনিয়ার সবচেয়ে ঘৃণ্য পাপের কাজ বলে মনে করত। হারামের মাস হওয়ায় মুহাররাম মাসে যুদ্ধ-বিগ্রহ নিষিদ্ধ ছিল, কিন্তু তারা মুহাররাম মাসের স্থলে সফর মাসে যুদ্ধ-বিগ্রহ নিষিদ্ধ মনে করত। তারা বলত, উটের পিঠের ক্ষত ভাল হলে, রাস্তার মুসাফিরের পদচিহ্ন  মুছে গেলে এবং সফর মাস অতিক্রান্ত হলে ‘উমরাহ করতে ইচ্ছুক ব্যক্তি ‘উমরাহ করতে পারবে। নবী (ﷺ) ও তাঁর ছাহাবীগণ যিলহজ্জ মাসে উমরাহ করে এই জঘন্য কুসংস্কারকে দূর করেন (ছহীহ বুখারী, হা/১৫৬৪; ছহীহ মুসলিম, হা/১২৪০)।

(খ) তারা এই মাসকে অশুভ ও কুলক্ষণে মনে করত। শায়খ উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘সফর মাসকে অশুভ, অকল্যাণকর অথবা বালা-মুছীবতের মাস মনে করা ইসলামী আক্বীদার ঘোর পরিপন্থী। এটা কুসংস্কার। রাসূল (ﷺ) তাদের এই কুসংস্কারের প্রতিবাদ করে বলেন, রোগে সংক্রমণ নেই, শুভ-অশুভ আলামত বলে কিছু নেই, কোন ভূত প্রেত বা অতৃপ্ত আত্মা নেই এবং সফর মাসের অশুভত্বের কোন অস্তিত্ব নেই’ (ছহীহ বুখারী, হা/৫৭০৭, ৫৭৫৭; ছহীহ মুসলিম হা/২২২০)। অথচ এর পরেও মুসলিম সমাজে অনেকের মধ্যে পূর্ববর্তী যুগের এ সকল কুসংস্কার থেকেই গেছে। এ মাসকে কেন্দ্র করে ধোঁকাবাজরা জাল বর্ণনা তৈরি করেছে। তারা জালিয়াতি করে রাসূল (ﷺ)-এর নামে বলেছে, এই মাস বালা মুছীবতের মাস। এই মাসে এত লক্ষ এত হাজার বালা নাযিল হয়। এই মাসেই আদম (আলাইহিস সালাম) ফল খেয়েছিলেন। এ মাসেই হাবীল নিহত হন। এ মাসেই নূহ (আলাইহিস সালাম)-এর ক্বওম ধ্বংস হয়। এ মাসেই ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম)-কে আগুনে ফেলা হয়। এ মাসের আগমনে রাসূল (ﷺ) ব্যথিত হতেন। এই মাস চলে গেলে খুশী হতেন। তিনি বলতেন, ‘যে ব্যক্তি আমাকে সফর মাস অতিক্রান্ত হওয়ার সুসংবাদ প্রদান করবে, আমি তাঁকে জান্নাতে প্রবেশ করার সুসংবাদ প্রদান করব’ ইত্যাদি ইত্যাদি। এছাড়াও তারা আরো অনেক কথা বানিয়েছে। মুহাদ্দিছগণ একমত যে, সফর মাসের অশুভত্ব ও বালা মুছীবত বিষয়ক সকল কথাই ভিত্তিহীন, মিথ্যা (মাজমূঊ ফাতাওয়া ওয়া রাসাইল, ২/১১৩-১১৫ পৃ.)।

(২) সফর মাস সংক্রান্ত মিথ্যা ও বানোয়াট হাদীছ : ইমাম ইবনুল ক্বাইয়িম (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘এ মাসের কুসংস্কার ও করণীয় সম্পর্কিত সমস্ত হাদীছ জাল। এই মাসের অমুক দিনে এই হয়, অমুক দিনে সেই হয় ইত্যাদি ইত্যাদি। বলা হয়, কেউ যদি সফর মাসের ১ম রাত্রিতে মাগরিবের পরে বা এশার পরে চার রাক‘আত নফল ছালাত আদায় করে, অমুক অমুক সূরা বা আয়াত এতবার পাঠ করে, তবে সে বিপদ থেকে রক্ষা পাবে, এত পুরস্কার পাবে ইত্যাদি। এগুলো সবই ভিত্তিহীন, বানোয়াট কথা (আল-মানারুল মুনীফ, পৃ. ৬৪; ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-২২৪০২৫)।


প্রশ্নকারী : মুবারক, দিনাজপুর।





প্রশ্ন (৭) : জনৈক ব্যক্তি কোল্ড এলার্জির রোগী। শীতের মধ্যে রোগটা বেড়ে যায়। ওযূতে নাকের মধ্যে পানি দিলে হাঁচি হতে হতে অসুস্থ হয়ে যায়? এমতাবস্থায় কী করা উচিত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২০) : ছালাতের শেষ বৈঠকে দরূদ ও দু‘আ মাসূরা পাঠ করার সময় তাশাহহুদ পাঠ করেছি কি করিনি এরূপ সন্দেহ হলে করণীয় কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১২) : কারো নাম পরিবর্তন করে রাখলে তার জন্য নতুন করে আক্বীক্বা করতে হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩) : কাউকে শরী‘আত মোতাবেক চলতে বললে বা হাদীছের উপর আমল করতে বললে নানা অজুহাত পেশ করে তা প্রত্যাখ্যান করে। আরো বলে, আমরা সমস্ত হাদীছ মানতে বাধ্য নই। এ ধরনের লোকের পরিণাম কী হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩০) : মাহরাম ছাড়া নারীর সফর করা হারাম। প্রশ্ন হল- শরী‘আতের দৃষ্টিতে মাহরামের শর্তাবলী কী কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৮) : পিতা মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করলেও তিনি একটি কালিমাও পারেন না। প্রশ্ন হল-তিনি কি মুসলিম? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩২) : ছুটে যাওয়া বিতর ছালাত সূর্য উঠার পর বা দিনের বেলায় পড়লে কিভাবে পড়তে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৬) : জনৈক খত্বীব বলেন, স্বামী-স্ত্রীর মিলনের সময় পর্দা না করলে নাকি ফেরেশতাগণ লজ্জায় চলে যায় এবং শয়তান এসে হাযির হয়। তাদের সন্তান হলে শয়তান তাতে ভাগ বসায়। উক্ত বক্তব্য কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৫) : হজ্জের নিয়ত করার পর যদি কোন কারণে সে বছর হজ্জ করা সম্ভব না হয়, তাহলে পাপ হবে কি এবং এজন্য কাফ্ফারা দিতে হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১২) : ঈদ ও অনুরূপ সময়ে একজন ব্যক্তির নিজের ছবি তুলে পরিবারের কাছে পাঠানো কি জায়েয? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২) : বাবার চার ছেলে, মেয়ে নেই। প্রথম ছেলে ও দ্বিতীয় ছেলে ১৫-১৬ বছর থেকে শহরে ব্যবসা করেন। ৩য় ছেলে ১৬-১৭ বছর যাবৎ বাবার সংসারে এখনো হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করে সংসার দেখাশুনা করে যাচ্ছে। প্রথম ও দ্বিতীয় ছেলে বাবার সংসার থেকে চাল ডাল প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়মিত নিয়েছেন। প্রথম ও দ্বিতীয় ছেলেকে বাবা বিভিন্নভাবে বিভিন্ন সময়ে সহযোগিতাও করেছেন, এখন তারা সাবলম্বী। চতুর্থ ছেলে ছোট হওয়ায় লেখাপড়া করে ও বর্তমানে বিবাহ করে বাবার সংসারে খায় আর সারাদিন ঘুরে বেড়ায়। প্রশ্ন হল- যখন বাবা সব ছেলেকে কিছু কিছু করে জমি লিখে দিতে চাইলেন, তখন তৃতীয় ছেলে সবার উপস্থিতিতে প্রস্তাব করল, ‘আমি যেহেতু ১৬-১৭ বছর ধরে সংসার দেখাশুনা করছি তাই এজমালিতে আমাকে এক বিঘা জমি দেয়া হোক’। উক্ত শর্তে দ্বিতীয় ও চতুর্থ ছেলের কোন দ্বিমত নেই। কিন্তু প্রথম ছেলে উক্ত প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে। ফলে তৃতীয় ছেলে বলে, আমি যেহেতু পরিশ্রম করেছি তাই এটা আমার অধিকার। পরবর্তীতে বাবা তৃতীয় ছেলেকে এক বিঘা জমি লিখে দেন। এক্ষেত্রে প্রথম ছেলে তৃতীয় জনকে ভাই হিসাবে স্বীকার করতে নারাজ এবং তাকে জাহান্নামী ও হারামখোর বলে প্রচার করতেছে। উল্লেখ্য যে, বাবার জমির পরিমাণ ৪০ বিঘার উপরে। এক্ষেত্রে বাবা কি অপরাধ করেছেন? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩) : একই পশুতে কুরবানী ও আক্বীক্বার নিয়ত করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ