রবিবার, ০৭ Jun ২০২৬, ০৩:০৪ অপরাহ্ন
উত্তর : যে ব্যক্তি মদপানের ভয়াবহতা সম্পর্কে অবগত থাকার পরও স্বেচ্ছায় মদপান করেছে, এমন নেশাগ্রস্ত ব্যক্তির ত্বালাক্ব সংঘটিত হয়ে যাবে। কেননা গুনাহের কারণে তার বুদ্ধিমত্তা লোপ পেয়েছে। সুতরাং তাকে সতর্ক করার জন্য এবং তার শাস্তি স্বরূপ ত্বালাক্ব সংঘটিত হয়ে যাবে (কানযুদ দাক্বাঈক্ব, পৃ. ২৬৯; ফাতাওয়া আল-হিন্দিয়্যাহ, ১/৩৫৩ পৃ.; হাশিয়াতু ইবনে আবিদীন, ৩/২৪০; আল-কাফী, ২/৫৭১; আশ-শারহুল কাবীর, ২/৩৬৫; রাওযাতুত্ব ত্বালিবীন, ৮/২৩, ৬২; আল-মুবদি‘, ৭/২৩৩; কাশশাফুল ক্বিনা‘, ৫/২৩৪; শারহু মুনতাহাল ইরাদাত, ৩/৭৪; নায়নুল আওত্বার, ৬/২৮০; আল-মুগনী, ৭/২৮৯ পৃ.)।

তবে হানাফী, শাফিঈ ও হাম্বালী মাযহাবের একাংশ, যাহিরী মাযহাব এবং সালাফে ছলিহীনের একাংশের মতানুযায়ী ত্বালাক্ব সংঘটিত হবে না (আল-বানায়াতু শারহিল হিদায়াহ, ৫/৩০১; আল-মুহাল্লা, ৯/৪৭১; সুবুলুস সালাম, ২/২৬৫; মাজমূঊল ফাতাওয়া ইবনে তাইমিয়্যাহ, ৩৩/১০২ পৃ.)। তাদের দলীল হল আল্লাহ তা‘আলার নিম্নোক্ত বাণী:

یٰۤاَیُّهَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا لَا تَقۡرَبُوا الصَّلٰوۃَ وَ اَنۡتُمۡ سُکٰرٰی حَتّٰی تَعۡلَمُوۡا مَا تَقُوۡلُوۡنَ

‘হে মুমিনগণ! নেশাগ্রস্ত অবস্থায় তোমরা ছালাতের নিকটবর্তী হয়ো না, যতক্ষণ না তোমরা যা বল তা বুঝতে পার...’ (সূরা আন-নিসা : ৪৩)। আল্লাহ তা‘আলা নেশাগ্রস্ত ব্যক্তির কথাকে গ্রহণযোগ্য করেননি। কেননা সে কী বলে তা নিজেই জানে না। যেমন, মাইয ইবনু মালিক নবী (ﷺ)-এর নিকট এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! আমাকে পবিত্র করুন। আমি যিনা করে ফেলেছি। রাসূল (ﷺ) তাঁর ছাহাবীদের জিজ্ঞেস করলেন, সে কি পাগল? ছাহাবীরা বললেন, জি-না, সে পাগল নয়। অতঃপর তিনি জিজ্ঞেস করলেন, সে কি মদ্যপান করেছে? তখন এক ব্যক্তি দণ্ডায়মান হল এবং তার মুখ শুকে দেখল, সে তার মুখ থেকে মদের গন্ধ পেল না। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর রাসূল (ﷺ) ঐ ব্যক্তিকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি যিনা করেছ? প্রতি উত্তরে সে বলল, জী- হ্যাঁ। অতএব রাসূল (ﷺ) তার প্রতি (ব্যভিচারের শক্তি প্রদানের) নির্দেশ দিলেন। এরপর তাকে পাথর নিক্ষেপ করা হল... (ছহীহ মুসলিম, হা/১৬৯৫)।

এই হাদীছ প্রমাণ করে যে, যদি সে মদ্যপ অবস্থায় থাকত, তাহলে তার সাক্ষ্য গ্রহণ করা হত না। সুতরাং নেশাগ্রস্ত ব্যক্তির ত্বালাক্বও সংঘটিত হবে না। ইমাম বুখারী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, তৃতীয় খলীফা উছমান ইবনু আফফান (রাযিয়াল্লাহু আনহু) ও আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেছেন, ‘নেশাগ্রস্ত ব্যক্তির ত্বালাক্ব‌‌‌ সংঘটিত হয় না’। ইবনুল মুনযির (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘ছাহাবীদের মধ্যে কোন একজন ছাহাবী উছমান (রাযিয়াল্লাহু আনহু) ও ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর এই মতের বিরোধিতা করেননি। যে ব্যক্তি নেশাগ্রস্ত সে তো পাগল অথবা ঘুমন্ত ব্যক্তির আওতাধীন (মাজাল্লাতুল বুহূছিল ইসলামিয়্যাহ্ ৩২/২৫২; আল-মাওসূ‘আতুল ফিক্বহিয়্যাহ, ২৯/১৮; আল-ইনছাফ, ৮/৪৩৩ পৃ.)। অসংখ্য আলেম যেমন শায়খুল ইসলাম ইমাম ইবনু তাইমিয়্যাহ, ইমাম ইবনুল ক্বাইয়িম, শায়খ ইবনে বায, শায়খ আল-উছাইমীন (রাহিমাহুমুল্লাহ) ও শায়খ ছালিহ আল-মুনাজ্জিদ (হাফিযাহুল্লাহ) দ্বিতীয় মতটিকেই প্রাধান্য দিয়েছেন। অর্থাৎ নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ত্বালাক্ব সংঘটিত হবে না (মাজমুউল ফাতাওয়া ইবনে তাইমিয়্যাহ, ৩৩/১০২; ইগাছাতুল লাহফান, পৃ. ২৬; ফাতাওয়া নূরুন আলাদ র্দাব ইবনে বায, ২২/৪০; ফাতাওয়া নূরুন আলাদ র্দাব ইবনে উছাইমীন, ১০/৩৭২;)।


প্রশ্নকারী : আব্দুল্লাহ যায়েদ, লক্ষ্মীপুর।





প্রশ্ন (৩১) : তাবলীগ জামায়াতের ‘ফাযায়েলে হজ্জ’ বইয়ের ৯২ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে যে, জামে মসজিদে বার হাজার পাঁচশ’ (১২,৫০০) ছালাতের ছওয়াব। মসজিদে আকছার ছওয়াব বাষট্টি কোটি পঞ্চাশ লক্ষ (৬২,৫০০০০০০), মদীনার মসজিদের ছওয়াব তিন নিল বার খর্ব পঞ্চাশ আরব (৩১২৫০০০০০০০০০০) এবং হারাম শরীফের ছওয়াব একত্রিশ শঙ্ঘ পঁচিশ পদ্ম, (৩১২৫০০০০০০০০০০০০০০০)। উক্ত বর্ণনা কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৬) : মহিলাদের স্বপ্নদোষ হলে গোসল ফরজ হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২১) : জনৈক ইমাম সাহেব, মুছল্লীদের উদ্দেশ্যে জুমু‘আর বয়ানে বলেছিলেন যে, আপনারা হজ্জের জন্য আল্লাহর কাছে খাছ দিলে দু‘আ করুন, আল্লাহ অবশ্যই দু‘আ কবুল করবেন। কেননা পিপিলিকা এবং কবুতর আল্লাহর কাছে কা‘বা ঘর ত্বাওয়াফ করতে চেয়েছিল, আল্লাহ তাদের দু‘আ কবুল করে জিবরীলকে আদেশ দিলেন তাদেরকে কা‘বা ঘরে পৌঁছে দিতে। এ ঘটনাটি কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৮) : জানাযার ছালাতে ইমাম মুক্তাদী উভয় কি সূরা ফাতিহা, অন্য একটি সূরা, দরূদে ইবরাহীম ও জানাযার দু‘আ পড়তেই হবে, না-কি শুধু ইমাম পড়লেই হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৮): হাদীছে শুধু সোনা ও রূপার নিছাব বর্ণিত হয়েছে। এমতাবস্থায় আমরা টাকার বা কাগুজে মুদ্রার নিছাব কিভাবে নির্ণয় করব, স্বর্ণের নিছাবের ভিত্তিতে, না-কি রৌপ্যের নিছাবের ভিত্তিতে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৭) : সানস্ক্রিন ক্রীম সূর্যের ক্ষতিকর আলো থেকে ত্বককে রক্ষা করে এবং এতে ত্বক ফর্সা হওয়ার লেয়ার থাকে। পুরুষের জন্য এ ধরনের ক্রীম ব্যবহার করা কি বৈধ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২০) : মুহাম্মাদ (ﷺ) দিনের কোন্ কোন্ সময় ঘুমাতেন? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৬) : ইসলামে মানুষের মুখের উপর তার প্রশংসা করতে নিষেধ করা হয়েছে। কিন্তু বিভিন্ন মাহফিলে প্রধান বক্তা বা অতিথির আগমনে তার সম্মানার্থে উচ্চ প্রশংসা করা হয় বা শ্লোগান দেয়া হয়। এগুলো কি জায়েয? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৬) : পাঁচটি রাত জেগে ইবাদত করলে তার জন্য জান্নাত যরূরী হয়ে যাবে। (১) তারবিয়ার রাত বা যিলহজ্জের ৮ তারিখের রাত (২) ‘আরাফার রাত (৩) কুরবানীর রাত (৪) ঈদুল ফিতরের রাত ও (৫) ১৫ শা‘বানের রাত। উক্ত হাদীছটি কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৫) : কোন্ দু‘আ পড়লে সারাদিন যিকির করার নেকী পাওয়া যায়? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১) : জনৈক ব্যক্তি বিশেষ ফযীলত মনে করে প্রতি শুক্রবার ছিয়াম পালন করেন। এভাবে ছিয়াম রাখা যাবে কি? ক্বাযা ছিয়াম শুক্রবারে আদায় করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৯) : জামা‘আতে ছালাত আদায় করলে একাকী ছালাত আদায়ের চাইতে ২৫-২৭ গুন ছাওয়াব হয়। এখন কেউ যদি শেষ বৈঠকে এসে ছালাত পায় এবং সেখান থেকে ছালাত শুরু করে, তাহলে সে কি জামা‘আতে ছালাত আদায়ের সবটুকু ছাওয়াব পাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ