বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:২০ পূর্বাহ্ন
উত্তর : ফকীর-মিসকীন শ্রেণীর মানুষকে ফিদইয়া দিবে। নবী করীম (ﷺ) বলেছেন, ‘সে ব্যক্তি প্রকৃত মিসকীন নয়, যাকে এক-দু’লোকমা ফিরিয়ে দেয় (যথেষ্ট হয়) বরং সে-ই প্রকৃত মিসকীন যার কোন সম্পদ নেই, অথচ সে চাইতে লজ্জাবোধ করে অথবা লোকদেরকে আঁকড়ে ধরে যাচ্ঞা করে না’ (ছহীহ বুখারী হা/১৪৭৬,; ছহীহ মুসলিম, হা/১০৩৯)। আর ইমাম ইবনু হাযম (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘ফক্বীর বলতে বুঝায় যার কোন মাল-সম্পত্তি নেই’ (আল-মুহাল্লা, ৬/১৪৮ পৃ.)। এই মিসকীনের বালিগ তথা প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া শর্ত নয়। বরং যে ছোট শিশু খাবার খেতে পারে তাকেও ফিদিয়া দেয়া যাবে। দুগ্ধপোষ্য শিশুকে ফিদিয়া দেয়া যাবে (আল-মুগনী, ১৩/৫০৮; আল-ইনছাফ, ২৩/৩৪২; আল-মাওসূ‘আতুল ফিক্বহিয়্যাহ, ৩৫/১০১-১০৩ পৃ.)। তাই মিসকীনের সন্তান-সন্ততি, স্ত্রী ও পরিবারবর্গ যাদের ভরণপোষণ দেয়া তার উপর ওয়াজিব, তারাও এই সংখ্যার অন্তর্ভুক্ত হবে- যখন তারা তাদের যতটুকু প্রয়োজন ততটুকু পাবে না এবং এই মিসকীন ব্যতীত তাদের উপর খরচ করার আর কেউ না থাকে। সেজন্য কোন মিসকীনকে যাকাতের সম্পদ থেকে ততটুকু দেয়া হয় যা তার নিজের জন্য ও তার পরিবারের জন্য যথেষ্ট হয় (ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎয়া নং-৬৬৮৮৬)। আর ফক্বীর ও মিসকীনকে ততটুকু পরিমাণ যাকাত দিতে হবে যতটুকু তাদের নিজের জন্য ও তাদের পরিবারের জন্য পূর্ণভাবে যথেষ্ট হয় (রাউযুল মুরবি, ৩/৩১১ পৃ.)।

প্রত্যেক দিনের পরিবর্তে একজন করে মিসকীনকে খাদ্যদ্রব্য হতে অর্ধ ছা‘ (দেড় কেজি) পরিমাণ খাবার প্রদান করতে হবে। যেমন চাল, খেজুর বা অন্যকিছু। আর যদি এর সাথে কোন তরকারী বা গোশত দেয়া হয় তবে সেটা আরো উত্তম। অথবা খাবার বানিয়ে মিসকীনদেরকে দাওয়াত দিয়ে খাওয়ানোর ব্যবস্থাও করা যায় (ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-৬৬৮৮৬)। ইমাম বুখারী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘আর যে বয়োবৃদ্ধ ব্যক্তি ছিয়াম পালনে অক্ষম সে মিসকীন খাওয়াবে। যেমন আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বৃদ্ধ হওয়ার পর ছিয়াম পালনে অক্ষম হয়ে পড়লে তিনি এক বছর অথবা দু’বছর প্রতিদিনের পরিবর্তে একজন দরিদ্র ব্যক্তিকে রুটি ও গোশত খেতে দিতেন এবং ছিয়াম ত্যাগ করতেন’ (তা‘লীকু ছহীহিল বুখারী, হা/৪৫০৫-এর অধ্যায়; ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-৪৯৯৪৪)। শায়খ ইবনু বায (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘তাকে প্রতিদিনের বদলে একজন মিসকীনকে অর্ধ ছা‘ স্থানীয় খাবার খাওয়াতে হবে। যেমন খেজুর, চাল বা অন্য কোন খাদ্যদ্রব্য। ওজন হিসাবে যার পরিমাণ হল প্রায় দেড় (১.৫) কিলোগ্রাম।

নবী করীম (ﷺ)-এর একদল ছাহাবী এই মর্মে ফাতাওয়া দিয়েছেন, যাঁদের মাঝে ইবনু আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)ও রয়েছেন। আর যদি সে ব্যক্তি হতদরিদ্র হয় অর্থাৎ মিসকীন খাওয়াতে সক্ষম না হয়, তবে তার উপর অন্যকিছু বর্তাবে না। উল্লেখিত এই ফিদিয়া একজন মিসকীনকেও দেয়া যেতে পারে, আবার একাধিক মিসকীনকেও দেয়া যেতে পারে। মাসের শুরুতেও দেয়া যেতে পারে, মাঝখানেও দেয়া যেতে পারে, আবার শেষেও দেয়া যেতে পারে’ (মাজমূঊ ফাতাওয়া ইবনে বায, ১৫/২০৪ পৃ.)। শায়খ উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘সুতরাং স্থায়ী রোগে আক্রান্ত রোগী, অতিশয় বৃদ্ধ ও বৃদ্ধাদের মধ্যে যারা ছিয়াম পালনে অক্ষম, তাদের উপর প্রতিদিনের ছিয়ামের পরিবর্তে একজন মিসকীন খাওয়ানো ওয়াজিব। সেটা খাদ্য দ্রব্য দান করার মাধ্যমে হোক অথবা রামাযান মাসের দিনের সমান সংখ্যক মিসকীনকে দাওয়াত করে খাওয়ানোর মাধ্যমে হোক। ঠিক যেমনটি আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বৃদ্ধ হওয়ার পর করেছেন। তিনি ৩০ জন মিসকীনকে একত্রে দাওয়াত করে খাওয়াতেন। এতে তাঁর এক মাসের ছিয়ামের কাফফারা হয়ে যেত (ফাতাওয়াউছ ছিয়াম, পৃ. ১১১)।

খাদ্যের পরিবর্তে সমমূল্যের অর্থ দ্বারা ফিদইয়া প্রদান করা যাবে না। কারণ আল্লাহ তা‘আলা স্পষ্টভাবে খাদ্যের কথা উল্লেখ করেছেন (ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-৬৬৮৮৬)। শায়খ ছালিহ আল-ফাওযান (হাফিযাহুল্লাহ) বলেছেন, ‘যেমনটি আমি পূর্বেই উল্লেখ করেছি যে, অর্থকড়ি প্রদানের মাধ্যমে ইত্ব‘আম তথা মিসকীন খাওয়ানোর বিধান আদায় হবে না। মিসকীনকে খাদ্য খাওয়ানো বা প্রদান করা হবে স্থানীয় খাদ্যদ্রব্য দিয়ে। প্রতিদিনের ছিয়ামের পরিবর্তে স্থানীয় এলাকায় প্রচলিত খাদ্যদ্রব্যের অর্ধ ছা‘ প্রদান করতে হবে। অর্ধ ছা‘ এর পরিমাণ প্রায় ১.৫ কেজি। তাই যে পরিমাণের কথা আমরা উল্লেখ করেছি সেই পরিমাণ স্থানীয় খাদ্যদ্রব্য দিয়ে আপনাকে কাফ্‌ফারা দিতে হবে, অর্থ দিয়ে নয়। যেহেতু আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন, وَ عَلَی الَّذِیۡنَ یُطِیۡقُوۡنَہٗ فِدۡیَۃٌ طَعَامُ مِسۡکِیۡنٍ ‘আর যাদের জন্য ছিয়াম রাখা কষ্টকর হবে, তাদের কর্তব্য হল এর পরিবর্তে ফিদিয়া স্বরূপ একজন মিসকীনকে খাদ্য প্রদান করা’ (সূরা আল-বাক্বারাহ : ১৮৪)। এ আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা পরিষ্কারভাবে খাদ্যের কথা উল্লেখ করেছেন’ (আল-মুনতাক্বা মিন ফাতাওয়া শায়খ ছালিহ আল-ফাওযান, ৩/১৪০ পৃ.)।


প্রশ্নকারী : মোখলেছুর রহমান, সাতক্ষীরা।





প্রশ্ন (৩১) : মুহাম্মাদ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মাটির তৈরি, না-কি নূরের তৈরি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২২) : মুসলিমরা আল্লাহ মানে এবং রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে অনুসরণ করে। ইয়াহুদীরা কাকে মানে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৯) : ‘ষাট বছরের জীবনে কেউ এক ওয়াক্ত ছালাত ছেড়ে দিলেও সে কাফের’। সালাফদের থেকে এরকম কোন বক্তব্য পাওয়া যায় কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৮) : কোন মুসলিম ব্যক্তি যদি বলেন, মুসলিমরা খুব খারাপ। এর চেয়ে হিন্দু, খ্রিস্টানরা ভালো। মুসলিমরা অসাধু এবং আরো অনেক নিন্দাসূচক মন্তব্য। তাহলে কী ঐ ব্যক্তি ইসলাম থেকে খারিজ হয়ে যাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪১) : স্বামী-স্ত্রীর মাঝে দ্বন্দ্ব হলে ‘মীমাংসামূলক ছালাত’ নামে ছালাত পড়া হয়। উক্ত ছালাতের কোন দলীল আছে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৮) : যার চরিত্র যেমন, তার জীবনসঙ্গী বা স্ত্রী তেমন হবে। এটা কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩) : পবিত্র কুরআন ওযূ ছাড়া স্পর্শ যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৭) : মক্কায় একদিনের ছিয়াম বাইরের এক লক্ষ ছিয়ামের সমতুল্য। সেখানে এক দেরহাম খরচ করলে এক লক্ষ দেরহামের সমান এবং একটি নেকী করলে এক লক্ষ নেকীর সমান ছওয়াব পাওয়া যায়। বিভিন্ন হাদীছে মসজিদে নববীর ছওয়াব সমজিদে আক্বছার চেয়ে অধিক এসেছে। অথচ এখানে উভয় মসজিদের ছওয়াব পঞ্চাশ হাজার বলা হয়েছে। এর অর্থ করা হয়েছে, প্রত্যেক মসজিদের ছওয়াব পূর্ববর্তী মসজিদ হিসাবে বলা হইয়াছে অর্থাৎ জামে মসজিদের ছওয়াব পাঁচশ’ ছালাত নয়, বরং মহল্লার মসজিদ হতে পাঁচশ’ গুণ বেশী। এই হিসাব মতে জামে মসজিদে বার হাজার পাঁচশ’ (১২৫০০) ছালাতের ছওয়াব। মসজিদে আকছার ছওয়াব বাষট্টি কোটি পঞ্চাশ লক্ষ (৬২৫০০০০০০), মদীনার মসজিদের ছওয়াব তিন নিল বার খর্ব পঞ্চাশ আরব (৩১২৫০০০০০০০০০০) এবং হারাম শরীফের ছওয়াব একত্রিশ শঙ্ঘ পঁচিশ পদ্ম, (৩১২৫০০০০০০০০০০০০০০০) (ফাযায়েলে হজ্জ, পৃ. ৯২)। তাবলীগী নিসাবের ‘ফাযায়েলে হজ্জ’ কিতাবে বর্ণিত উক্ত ফযীলত কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৯) : যারা পানের সাথে সাদা পাতা খায় এবং ২০ বছর বা ২৫ বছর ধরে ছালাত আদায় করে, তাদের ছালাত কবুল হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩২) : কোন মুসলিম যখন তার কোন অসুস্থ মুসলিম ভাইকে দেখতে যেতে থাকে, তখন সে জান্নাতের ফল আহরণ করতে থাকে। হাদীছটি কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৯) : হজ্জের সময় মক্কায় প্রবেশ করার পূর্বে যদি তার মাসিক শুরু হয়ে যায়, তাহলে তিনি কী করবেন? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৮) : কাউকে বিদায় দেয়ার সময় কোন দু‘আ পড়তে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

ফেসবুক পেজ