বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৪৭ পূর্বাহ্ন
উত্তর : কল্যাণের আশায় বা আরোগ্য লাভের উদ্দেশ্যে শাখা ধোয়া পানি পান করা হারাম। শায়খ ইবনু বায (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘জিন-পরী, শয়তান, বদনযর বা চোখ লাগা থেকে আরোগ্য লাভের জন্য বাচ্চাদের আশেপাশে রসূন, ম্যাচের কাঠি, শামুক, কড়ি, শঙ্খ ইত্যাদি রাখা, লটকানো বা পরিধান করা শিরকের অন্তর্ভুক্ত। এগুলো পূর্ববর্তী মুশরিকদের আমলের ন্যায়’ (মাজমূঊ ফাতাওয়া ইবনে বায, ২৮/২৯২ পৃ.)। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘(হে নবী!) আপনি বলুন, তাহলে তোমরা ভেবে দেখেছ কি? আল্লাহ আমার অনিষ্ট চাইলে তোমরা তাঁকে ছাড়া যাদেরকে আহ্বান কর, তারা কি সেই অনিষ্ট দূর করতে পারবে? অথবা তিনি আমার প্রতি অনুগ্রহ করতে চাইলে তারা কি সেই অনুগ্রহকে রোধ করতে পারবে?’ (হে নবী!) আপনি বলুন, আমার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট। নির্ভরকারীরা তাঁরই উপর নির্ভর করে থাকে’ (সূরা আয-যুমার : ৩৮)। অর্থাৎ আল্লাহ তা‘আলাই লাভ-ক্ষতি ও কল্যাণ-অকল্যাণের একচ্ছত্র ক্ষমতার অধিকারী। তাঁর একচ্ছত্র ক্ষমতায় হস্তক্ষেপ করা ও কোন ব্যক্তি বা বস্তুকে তাঁর সমতুল্য মনে করা স্পষ্ট শিরক।

আমাদের উচিত আরোগ্য লাভের জন্য বৈধ চিকিৎসা করা অথবা ঝাড়-ফুঁক করা। আবূ হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, রাসূল (ﷺ) বলেছেন, ‘আল্লাহ তা‘আলা এমন কোন ব্যাধি অবতীর্ণ করেননি, যার ঔষধ সৃষ্টি করেননি’ (ছহীহ বুখারী, হা/৫৬৭৮; নাসাঈ, সুনানুল কুবরা, হা/৬৮৬৫, ইবনু মাজাহ, হা/৩৪৩৯)। জাবির (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, রাসূল (ﷺ) বলেছেন, ‘প্রত্যেক রোগের জন্য ঔষধ রয়েছে। সুতরাং যখন রোগের জন্য সঠিক ঔষধ ব্যবহৃত হয়, তখন আল্লাহ তা‘আলার হুকুমে রোগী রোগমুক্ত হয়ে যায়’ (ছহীহ মুসলিম, হা/২২০৪; ছহীহ ইবনু হিব্বান, হা/৬০৬৩)। অনুরূপভাবে বদনযর ও জিন-শয়তানের প্রভাব থেকে মুক্তির জন্য সকাল-সন্ধ্যায় বৈধ ঝাড়-ফুঁক করা এবং সকাল ও সন্ধ্যাকালীন যিকর-আযকারের প্রতি যত্নশীল হতে হবে। আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, ‘কারো ওপর বদনযর লাগলে, কোন বিষাক্ত প্রাণী দংশন করলে এবং পাঁজরে খুঁজলি উঠলে রাসূল (ﷺ) ঝাড়ফুঁক করতে অনুমতি দিয়েছেন’ (ছহীহ বুখারী, হা/৫৭৩৮; ছহীহ মুসলিম, হা/২১৯৫-২১৯৬; ইবনু মাজাহ, হা/৩৫১২; মুসনাদে আহমাদ, হা/২৪৩৪৫)। বিশেষ করে সন্তান-সন্ততির নিরাপত্তার জন্য নিম্নোক্ত দু‘আটি পড়তে হবে। ইবনু আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, নবী (ﷺ) হাসান ও হুসাইন (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর জন্য এই বলে আশ্রয় প্রার্থনা করতেন-

أَعُوْذُ بِكَلِمَاتِ اللهِ التَّامَّةِ مِنْ كُلِّ شَيْطَانٍ وَهَامَّةٍ وَمِنْ كُلِّ عَيْنٍ لَامَّةٍ

‘আমি তোমাদের দু’জনের জন্য আল্লাহর পূর্ণাঙ্গ কালিমাসমূহের মাধ্যমে প্রত্যেক শয়তান, ক্ষতিকর কীট-পতঙ্গ ও বিষাক্ত প্রাণী থেকে এবং সকল প্রকার বদনযর থেকে মুক্তি চাইছি’। অতঃপর তিনি বলতেন, তোমাদের পিতাও (ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম) ইসমাঈল এবং ইসহাক উভয়ের জন্য এ দু‘আ পড়ে আশ্রয় চাইতেন)’ (ছহীহ বুখারী, হা/৩৩৭১; আবূ দাঊদ, হা/৪৭৩৭)। এছাড়াও সকাল-সন্ধ্যায় সূরা ফাতিহা, সূরা ইখলাছ, সূরা ফালাক, সূরা নাস এবং আয়াতুল কুরসী পড়ে বাচ্চাকে ঝাড়ফুঁক করা উচিত।


প্রশ্নকারী : হিজবুল্লাহ বাহার, নারায়ণগঞ্জ।





প্রশ্ন (২৩) : অনেকে জীব-জন্তু বা মানুষের ছবি দিয়ে শুভেচ্ছা ব্যানার তৈরি করেন। উক্ত ব্যানার বা কার্ডের ডিজাইনের কাজ করা কি হালাল হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২১) : কুরআন মাজীদ পড়ার সুন্নাতী আদবগুলো কী কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৫) : কোন অসুস্থ ব্যক্তি দু‘আ চাইলে শুক্রবারে জুমু‘আর ছালাতের পর সম্মিলিত মুনাজাত করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৯) : রুকূ অবস্থায় দৃষ্টি কোথায় রাখতে হবে এবং ইমাম যখন ‘সামি‘আল্লাহু লিমান হা‘মদাহ’ বলেন, তখন মুক্তাদীগণও কি ‘সামি‘আল্লাহু লিমান হামিদাহ’ বলবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩২) : জনৈক আলেম বলেছেন, ‘আল্লাহ তা‘আলা আসমান ও যমীন সৃষ্টির এক হাযার বছর পূর্বে সূরা ‘ত্বা-হা’ ও ‘ইয়াসীন’ পাঠ করলেন। তখন ফেরেশতারা শুনে বললেন, ধন্য সেই জাতি, যাদের উপর এটা নাযিল হবে, ধন্য সেই পেট যে সেটা ধারণ করবে এবং ধন্য সেই মুখ যে সেটা উচ্চারণ করবে’। তাঁর উক্ত বক্তব্য কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩১) : যে সকল রাষ্ট্র আল্লাহকে সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক মনে করে না, সেই রাষ্ট্রের অধীনে যারা সরকারী চাকুরী করেন তাদেরকে দেশের নির্বাচনের বিভিন্ন কাজে সহযোগিতা করতে হয়। মুসলিম হিসাবে বাধ্যগত কারণে উক্ত দায়িত্ব পালন করা কি কুফরীর অন্তর্ভুক্ত হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৩) : নেশাজাতীয় দ্রব্য ভক্ষণকারীকে সালাম দেয়া যাবে কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৫) : ঈসা (আলাইহিস সালাম) যার ইমামতিতে ছালাত আদায় করবেন তিনিই কী ইমাম মাহাদী? ছহীহ বুখারী ও মুসলিমের হাদীছে তাকে ‘মুসলিমদের নেতা’ বলা হয়েছে, ‘মাহাদী’ বলা হয়নি। তার নাম কি কোন হাদীছে এসেছে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৫) : কেউ ইসরা অস্বীকার করলে কাফির কিন্তু বাইতুল মাক্বদিস থেকে মি‘রাজ বা ঊর্ধ্বগমন অস্বীকার করলে কাফির হবে না বরং বিদ‘আতী হবে। এ ফৎওয়া কতটুকু সঠিক? কুরআন দ্বারা প্রমাণিত বিষয় অস্বীকার করলে কাফির হয়ে যায় কিন্তু হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত বিষয় অস্বীকার করলে কাফির হয় না। এমন আক্বীদা কি বিশুদ্ধ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২১): শিল্পী ও নর্তকীদের উপার্জন কি হালাল? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৯) : ‘ছালাতুল ইশরাক্ব’, ‘ছালাতুয যুহা’ এবং ‘ছালাতুল আউওয়াবীন’ বলতে কোন্ কোন্ ছালাতকে বুঝানো হয় এবং এই সকল ছালাতের ফযীলত কেমন? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৬): ‘সূরা আল-ফাতিহা সকল রোগের আরোগ্য’ মর্মে বক্তব্য কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

ফেসবুক পেজ