রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:০৪ অপরাহ্ন
উত্তর : কল্যাণের আশায় বা আরোগ্য লাভের উদ্দেশ্যে শাখা ধোয়া পানি পান করা হারাম। শায়খ ইবনু বায (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘জিন-পরী, শয়তান, বদনযর বা চোখ লাগা থেকে আরোগ্য লাভের জন্য বাচ্চাদের আশেপাশে রসূন, ম্যাচের কাঠি, শামুক, কড়ি, শঙ্খ ইত্যাদি রাখা, লটকানো বা পরিধান করা শিরকের অন্তর্ভুক্ত। এগুলো পূর্ববর্তী মুশরিকদের আমলের ন্যায়’ (মাজমূঊ ফাতাওয়া ইবনে বায, ২৮/২৯২ পৃ.)। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘(হে নবী!) আপনি বলুন, তাহলে তোমরা ভেবে দেখেছ কি? আল্লাহ আমার অনিষ্ট চাইলে তোমরা তাঁকে ছাড়া যাদেরকে আহ্বান কর, তারা কি সেই অনিষ্ট দূর করতে পারবে? অথবা তিনি আমার প্রতি অনুগ্রহ করতে চাইলে তারা কি সেই অনুগ্রহকে রোধ করতে পারবে?’ (হে নবী!) আপনি বলুন, আমার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট। নির্ভরকারীরা তাঁরই উপর নির্ভর করে থাকে’ (সূরা আয-যুমার : ৩৮)। অর্থাৎ আল্লাহ তা‘আলাই লাভ-ক্ষতি ও কল্যাণ-অকল্যাণের একচ্ছত্র ক্ষমতার অধিকারী। তাঁর একচ্ছত্র ক্ষমতায় হস্তক্ষেপ করা ও কোন ব্যক্তি বা বস্তুকে তাঁর সমতুল্য মনে করা স্পষ্ট শিরক।

আমাদের উচিত আরোগ্য লাভের জন্য বৈধ চিকিৎসা করা অথবা ঝাড়-ফুঁক করা। আবূ হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, রাসূল (ﷺ) বলেছেন, ‘আল্লাহ তা‘আলা এমন কোন ব্যাধি অবতীর্ণ করেননি, যার ঔষধ সৃষ্টি করেননি’ (ছহীহ বুখারী, হা/৫৬৭৮; নাসাঈ, সুনানুল কুবরা, হা/৬৮৬৫, ইবনু মাজাহ, হা/৩৪৩৯)। জাবির (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, রাসূল (ﷺ) বলেছেন, ‘প্রত্যেক রোগের জন্য ঔষধ রয়েছে। সুতরাং যখন রোগের জন্য সঠিক ঔষধ ব্যবহৃত হয়, তখন আল্লাহ তা‘আলার হুকুমে রোগী রোগমুক্ত হয়ে যায়’ (ছহীহ মুসলিম, হা/২২০৪; ছহীহ ইবনু হিব্বান, হা/৬০৬৩)। অনুরূপভাবে বদনযর ও জিন-শয়তানের প্রভাব থেকে মুক্তির জন্য সকাল-সন্ধ্যায় বৈধ ঝাড়-ফুঁক করা এবং সকাল ও সন্ধ্যাকালীন যিকর-আযকারের প্রতি যত্নশীল হতে হবে। আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, ‘কারো ওপর বদনযর লাগলে, কোন বিষাক্ত প্রাণী দংশন করলে এবং পাঁজরে খুঁজলি উঠলে রাসূল (ﷺ) ঝাড়ফুঁক করতে অনুমতি দিয়েছেন’ (ছহীহ বুখারী, হা/৫৭৩৮; ছহীহ মুসলিম, হা/২১৯৫-২১৯৬; ইবনু মাজাহ, হা/৩৫১২; মুসনাদে আহমাদ, হা/২৪৩৪৫)। বিশেষ করে সন্তান-সন্ততির নিরাপত্তার জন্য নিম্নোক্ত দু‘আটি পড়তে হবে। ইবনু আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, নবী (ﷺ) হাসান ও হুসাইন (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর জন্য এই বলে আশ্রয় প্রার্থনা করতেন-

أَعُوْذُ بِكَلِمَاتِ اللهِ التَّامَّةِ مِنْ كُلِّ شَيْطَانٍ وَهَامَّةٍ وَمِنْ كُلِّ عَيْنٍ لَامَّةٍ

‘আমি তোমাদের দু’জনের জন্য আল্লাহর পূর্ণাঙ্গ কালিমাসমূহের মাধ্যমে প্রত্যেক শয়তান, ক্ষতিকর কীট-পতঙ্গ ও বিষাক্ত প্রাণী থেকে এবং সকল প্রকার বদনযর থেকে মুক্তি চাইছি’। অতঃপর তিনি বলতেন, তোমাদের পিতাও (ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম) ইসমাঈল এবং ইসহাক উভয়ের জন্য এ দু‘আ পড়ে আশ্রয় চাইতেন)’ (ছহীহ বুখারী, হা/৩৩৭১; আবূ দাঊদ, হা/৪৭৩৭)। এছাড়াও সকাল-সন্ধ্যায় সূরা ফাতিহা, সূরা ইখলাছ, সূরা ফালাক, সূরা নাস এবং আয়াতুল কুরসী পড়ে বাচ্চাকে ঝাড়ফুঁক করা উচিত।


প্রশ্নকারী : হিজবুল্লাহ বাহার, নারায়ণগঞ্জ।





প্রশ্ন (২৪) : কুরআনে বলা আছে, যারা জাহান্নামে যাবে তারা চিরস্থায়ী জাহান্নামী। কিন্তু ছহীহ বুখারীতে রয়েছে যে, আল্লাহ এক সময় মুসলিম জাহান্নামীদেরকে মাফ করে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। তাহলে কি এই হাদীছটি কুরআনের ঐ আয়াতের সাথে সাংঘর্ষিক নয়? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪) : ফাতাওয়া গ্রহণ ও বর্জনের ক্ষেত্রে শারঈ মানদণ্ড কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৮) : অনেক বক্তা বলেন, জুমু‘আর দিনটি গরীবের হজ্জ। এই দাবী কি সত্য? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২২) : কুরবানীর পরে আইয়ামে তাশরীকের তিন দিন কারা ছিয়াম রাখতে পারবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২) : ইসলামে জমি লিজ দেয়া-নেয়া কি জায়েয? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৫) :  একটি মসজিদের পশ্চিম দিকে পারিবারিক কবরস্থান আছে। কবরস্থানটি মসজিদের জমির আওতাবহির্ভূত। মসজিদের ক্বিবলার ওয়াল হতে আনুমানিক ১৫ থেকে ২০ ফিট দূরে বেশ কয়েকটি কবর আছে। মসজিদের ক্বিবলার ওয়াল ছাড়া সামনে আর আলাদা ভাবে কোন ওয়াল বা চলাচলের রাস্তা নেই। উক্ত মসজিদে ছালাত আদায় শুদ্ধ হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৬) : ‘যে ব্যক্তি সকালে ও বিকালে সূর্যোদয়ের আগে ও সূর্যাস্তের আগে ১০০ বার ‘সুবহানাল্লাহ’ বলবে সে যেন একশ’টি হজ্জ আদায় করল বা একশ’টি উট আল্লাহর ওয়াস্তে দান করল। যে ব্যক্তি এই দুই সময়ে ১০০ বার ‘আল-হামদুলিল্লাহ’ বলল সে যেন আল্লাহর পথে জিহাদের জন্য ১০০টি ঘোড়ার পিঠে মুজাহিদ প্রেরণ করলো অথবা আল্লাহর রাস্তায় ১০০ টি গাযওয়া বা অভিযানে শরীক হলো। আর যে ব্যক্তি এই দুই সময়ে ১০০ বার করে ‘লা- ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ পাঠ করলো, সে যেন ইসমাঈল বংশের একশ’ ব্যক্তিকে দাসত্ব থেকে মুক্তি প্রদান করলো। আর যে ব্যক্তি এই দুই সময়ে ১০০ বার করে ‘আল্লাহু আকবার’ বলল, ঐ দিনে তার চেয়ে বেশি আমল আর কেউ করতে পারবে না। তবে যদি কেউ তার সমান এই যিকরগুলো পাঠ করে বা তার চেয়ে বেশি পাঠ করে তাহলে ভিন্ন কথা। (তাহলে সেই শুধু তার উপরে উঠতে পারবে।) ইমাম নাসাঈর বর্ণনায় ‘লা- ইলাহা ইল্লাল্লাহু’-র পরিবর্তে ‘লা- ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু, ওয়া হুআ আলা কুলিল শাইয়্যিন কাদীর’ ১০০ বার পাঠ করার কথা বলা হয়েছে (তিরমিযী, ৫/৫১৩, নং ৩৪৭১; নাসাঈ, আস-সুনানুল কুবরা, ৬/২০৫)। উক্ত মর্মে বর্ণিত হাদীছ কি আমলযোগ্য? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩) : ধর্মীয় যে কোন কাজের বিনিময়ে অর্থ গ্রহণ করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৮) : শবে মি‘রাজ উপলক্ষে ছিয়াম পালন করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৩) : জনৈক নারী উকিলের মাধ্যমে ত্বালাক্বনামা লিখিয়ে রাখে, কিন্তু বেশ কিছুদিন পরে তা স্বামীর নিকট পৌছায় এবং স্বামী তাতে স্বাক্ষর করেন। প্রশ্ন হল- ত্বালাক্বনামা লিখিত হওয়ার মাধ্যমে বা স্বামীর স্বাক্ষরের পূর্বেই কী ত্বালাক্ব পতিত হয়ে গেছে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৪) : ছালাত শেষে ইমাম যখন সালাম ফিরাবে, তখন মুছল্লীদেরকে কি উক্ত সালামের জবাব প্রদান করতে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৪) : মুওয়াযিযন আযান দেয়ার সময় মসজিদে প্রবেশ করলে ‘তাহিয়্যাতুল মসজিদ’ পড়া শুরু করবে না দাঁড়িয়ে থেকে মুওয়াযিযনের জবাব দিবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

ফেসবুক পেজ