রবিবার, ০৭ Jun ২০২৬, ০১:০০ অপরাহ্ন
উত্তর : ব্যাংক যদি সম্পূর্ণ ইসলামিক হয়, সূদী ব্যাংকের সাথে যদি কোন সংশ্লিষ্টতা না থাকে এবং ইসলামী শরী‘আতের মূল নীতিমালার ভিত্তিতেই যদি বিনিয়োগ করা হয়, তাহলে সেখানে অর্থ জমা করা জায়েয। সঊদী আরবের স্থায়ী ফাতাওয়া কমিটি এমনই ফাৎওয়া দিয়েছেন (ফাতাওয়া আল-লাজনা আদ-দায়িমাহ, ১৩তম খণ্ড, পৃ. ৩৬৫-৩৬৬)। ‘ইসলাম ওয়েব’-এর আলিমগণ বলেন, সূদমুক্ত ইসলামী ব্যাংকে অর্থ বিনিয়োগ করা শরী‘আতের দৃষ্টিতে আপত্তিকর নয়। যতক্ষণ পর্যন্ত ব্যাংক ইসলামী শরী‘আত সম্মত পদ্ধতিতে উক্ত বিনিয়োগকৃত অর্থের উপর কাজ করবে বা তাকে বৈধ ও হালাল ব্যবসায় লাগাবে এবং বিনিয়োগকারীকে মূলধনের গ্যারান্টি দেবে না (অর্থাৎ লাভ-লোকসান ও ক্ষতির)। অতঃপর লাভ হলে তা চুক্তি অনুপাতে উভয়ের মধ্যে বণ্টন করে নেবে। চুক্তিপত্রে লাভের শতাংশ উল্লেখ থাকা অপরিহার্য। উপরিউক্ত শর্তানুযায়ী বিনিয়োগ করা এবং লভ্যাংশ গ্রহণ করা বৈধ’ (ইসলাম ওয়েব, ফৎওয়া নং-২৭৮৬৪৭)।

শায়খ ছালিহ আল-মুনাজ্জিদ (হাফিযাহুল্লাহ) বলেন, ‘কয়েকটি শর্ত সাপেক্ষে ইসলামী ব্যাংকে অর্থ বিনিয়োগ করা জায়েয :
(১) ব্যাংক যেন বিনিয়োগকৃত অর্থ বৈধ কাজে লাগায়। যেমন উন্নত প্রকল্প স্থাপন, বিল্ডিং নির্মাণ ইত্যাদি। ব্যাংক কোথায় কোথায় বিনিয়োগ করবে, সেই দিকগুলো যদি নির্দিষ্ট করে উল্লেখ না করে, তাহলে এ বিষয়টি পরিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত এতে অংশগ্রহণ করা জায়েয হবে না।
(২) মূলধনের গ্যারান্টি দেয়া যাবে না। লোকসান বা ক্ষতিগ্রস্ত হলে ব্যাংক মূলধন ফেরত দিতে বাধ্য হবে না। কেননা এটি বাইয়ে মুযারিবাহ এর অন্তর্ভুক্ত। আর বাইয়ে মুযারিবাহতে বিনিয়োগকারীই লোকসানের ভার নেবে’ (ফাতাওয়া আল-লাজনা আদ-দায়িমাহ, ১৪তম খণ্ড, পৃ. ৩৩৪)। আর যদি মূলধন গ্যারান্টিযুক্ত হয়, তাহলে সেটি আসলে একটি ঋণের চুক্তি হিসাবে গণ্য হবে এবং এর থেকে আনিত লভ্যাংশ সূদ হিসাবে বিবেচিত হবে। কেননা ব্যবসা লাভ-ক্ষতি উভয়ের সঙ্গে জড়িত। কখনো আংশিক ক্ষতি, আবার কখনো সম্পূর্ণটাই ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ব্যাংক গ্যারান্টি দেয়া মানে শুধু লভ্যাংশের ভিত্তিতে বিনিয়োগ করা হচ্ছে, যা স্পষ্ট সূদ।
(৩) প্রথম থেকেই উভয়ের সম্মতিক্রমে চুক্তিপত্রে লাভের শতাংশ উল্লেখ থাকতে হবে। সূদী ব্যাংকের মত মাসিক বা বাৎসরিক নির্দিষ্ট শতকরা হারে যেন না হয় (ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-১৫১৩৬৬)।

দেশের কোন ব্যাংকই সূদমুক্ত নয়। ইসলামী ব্যাংকগুলো সূদমুক্ত মর্মে প্রচার করলেও শতভাগ সূদমুক্ত নয়। ব্যাংকগুলো একশ’ভাগ সূদে জড়িত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শর্তের সাথে চুক্তিবদ্ধ। তাছাড়া বিনিয়োগকৃত খাতগুলোও গ্রাহকদের কাছে অস্পষ্ট। অথবা বিনিয়োগও হচ্ছে সূদের ভিত্তিতে। তাই লভ্যাংশ প্রাপ্তির আশায় বিনিয়োগ করার ব্যাপারটি সন্দেহমুক্ত নয়। সেজন্য প্রদত্ত লভ্যাংশ ভক্ষণ করা যাবে না। যেহেতু এগুলো পুরোপুরি সূদমুক্ত নয়, তাই কোন মুসলিমের জন্য এরূপ সন্দেহযুক্ত উপার্জন ভক্ষণ করা উচিত নয়। কেননা ইসলামী শরী‘আতের স্থিরীকৃত নীতিমালাসমূহের মধ্যে রয়েছে, إذا اجتَمَع الحلالُ والحرامُ غُلِّبَ الحرامُ ‘যখন কোন বিষয়ে হালাল ও হারামের মাসআলা একত্রিত হয়, তখন হারামের মাসআলা প্রাধান্য পায়’। অর্থাৎ সেটাকে হারাম বলে গণ্য করতে হবে। নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন,

إِنَّ الْحَلَالَ بَيِّنٌ وَإِنَّ الْحَرَامَ بَيِّنٌ وَبَيْنَهُمَا مُشْتَبِهَاتٌ لَا يَعْلَمُهُنَّ كَثِيْرٌ مِنَ النَّاسِ فَمَنِ اتَّقَى الشُّبُهَاتِ اسْتَبْرَأَ لِدِيْنِهِ وَعِرْضِهِ وَمَنْ وَقَعَ فِي الشُّبُهَاتِ وَقَعَ فِي الْحَرَامِ 

‘নিশ্চয় হালাল স্পষ্ট এবং হারামও স্পষ্ট। আর উভয়ের মাঝে রয়েছে সন্দেহজনক বিষয়। অনেক মানুষই সেগুলোর বাস্তবতা জানে না। যে ব্যক্তি এসব সন্দেহজনক বিষয় থেকে দূরে থাকে সে তার দ্বীন ও মর্যাদাকে নিরাপদে রাখে, আর যে লোক সন্দেহজনক বিষয়ে পতিত হবে সে হারামের মধ্যে লিপ্ত হয়ে পড়বে’ (ছহীহ বুখারী, হা/৫২, ২০৫১; ছহীহ মুসলিম, হা/১৫৯৯)। রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আরো বলেন,

دَعْ مَا يَرِيْبُكَ إِلَى مَا لَا يَرِيْبُكَ فَإِنَّ الصِّدْقَ طُمَأْنِيْنَةٌ وَإِنَّ الْكَذِبَ رِيْبَةٌ

‘যে বিষয়ে তোমার সন্দেহ হয়, তা ছেড়ে দিয়ে যাতে সন্দেহের সম্ভাবনা নেই তা গ্রহণ কর। যেহেতু সত্য হল শান্তি ও স্বস্তি এবং মিথ্যা হল দ্বিধা-সন্দেহ’ (তিরমিযী, হা/২৫১৮; নাসাঈ; হা/৫৭১১, সনদ ছহীহ)। অতএব সচেতন পরহেযগার ব্যক্তির জন্য এ থেকে বিরত থেকে উক্ত অর্থ কোন হালাল ব্যবসায় বিনিয়োগ করাটাই সর্বাধিক উত্তম।


প্রশ্নকারী : মাহবুবা আকতার, শ্যামলী, ঢাকা।





প্রশ্ন (৪) : অনেকেই ইসলামিক ভিডিওগুলো এডিট করে তাতে ব্যাকগ্রাউন্ডে মিউজিক ব্যবহার করে। আবার অনেকে মিউজিকের মত ভোকাল সাউন্ড ব্যবহার করে। এগুলো কি জায়েয? যদি নাজায়েয হয়, তাহলে দীর্ঘদিনের আপলোড করা ভিডিওগুলো কি ডিলিট করতে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
 প্রশ্ন (১৫) : পুরুষের জন্য রেশমের পোশাক পরিধান করার বিধান কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৬) : মুসলিমদের প্রথম কিবলা কোনটি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১০) : সাধারণ মানুষ কিভাবে আওয়াল ওয়াক্ত নির্ধারণ করবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৩) : বিদেশে কাজের কারণে আমরা কয়েকজন জুমু‘আর ছালাতে অংশগ্রহণ করতে পারি না। এখন আমরা কি যোহরের ছালাত আদায় পারব, না-কি জুমু‘আর ছালাত আদায় করব? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৯): নগদ অর্থের যাকাত হিসাব করার পদ্ধতি কী? ধরুন আমার কাছে ২ লক্ষ টাকা আছে। এই অর্থের উপর এক বছর অতিবাহিত হয়েছে। এই সম্পদে যাকাতের পরিমাণ কতটুকু? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৬) : কোন মুসলিমকে কাফের বলার জন্য কোন শর্ত আছে কী? তাকফীরের মূলনীতি কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪) : আমরা দুই ভাই এক বোন। বড় ভাই এক ছেলে সন্তান রেখে বাবার আগেই মারা গেছেন। পরে বাবাও মারা যান। বাবার মারা যাওয়ার পর বাবার অছিয়ত অনুযায়ী ভাতিজাকে বাবার রেখে যাওয়া সম্পদ থেকে আমার সমপরিমাণ অংশ দিয়েছি। আমার কোন ছেলে সন্তান নেই, দুই মেয়ে। এখন আমার ভাতিজা কি আমার মৃত্যুর পর আমার সম্পদের অংশ পাবে? পেলে কত অংশ পাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৩) : ৮০ থেকে ৯০ বছরের ঊর্ধ্ব বয়সী মহিলার স্বামী মারা গেলে, তার জন্য কী কী করণীয়? এ সময় কি তাকে সুসজ্জিত হওয়া ও অলংকার পরিধান করা থেকে বিরত থাকতে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৬) : ‘হস্তমৈথুন’-এর শাস্তি কী? এর থেকে ত‌ওবা করার উপায় কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৪) : তাকবীরে তাহরিমার সময় আঙ্গুলগুলো বাঁকা থাকবে, না-কি সোজা থাকবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১২) : নন মাহরাম এর সঙ্গে কথা বলা কি জায়েয আছে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ