রবিবার, ০৭ Jun ২০২৬, ০৩:২০ অপরাহ্ন
উত্তর : শরী‘আতের দৃষ্টিতে নবজাতক শিশু সপ্তম দিনের পূর্বে মারা গেলেও তার পক্ষ থেকে ‘আক্বীক্বা দিতে হবে এবং নামকরণ করতে হবে (আল-মাজমূ‘ঊ, ৮ম খণ্ড, পৃ. ৪৪৮: নিহায়াতুল মুহতাজ, ৮ম খণ্ড, পৃ. ১৪৭)। ইমাম ইবনু হায্ম (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, وإنْ مات قبلَ السَّابعِ عُقَّ عنه كما ذَكَرْنا ولا بدَّ ‘নবজাতক সপ্তম দিনের পূর্বে মারা গেলেও তার পক্ষ থেকে ‘আক্বীক্বা করতে হবে, যেমনটি আমরা উল্লেখ করেছি’ (আল-মুহাল্লা, ৬ষ্ঠ খণ্ড, পৃ. ২৩৪-২৩৫)। শায়খ ছালিহ আল-উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, وعليه تُسَنُّ العَقيقةُ ولو مات قبلَ السَّابعِ ‘যদি সে সপ্তম দিনের পূর্বেও মারা যায় তবুও তার পক্ষ থেকে ‘আক্বীক্বা করা সুন্নাত’ (আশ-শারহুল মুমতি‘, ৭ম খণ্ড, পৃ. ৪৯৪)। তিনি আরো বলেন, ‘কোন সন্তান গর্ভে ৪ মাস থাকার পর যদি নষ্ট হয়, মৃত জন্ম হয় অথবা জন্মের পরে ১/২দিন থাকার পরে মারা যায়, তাহলে তার আক্বীক্বা দেয়া এবং নাম রাখা সুন্নাত। কারণ এ শিশুকে ক্বিয়ামতের দিন উঠানো হবে। সুতরাং তাকে সম্ভবপর গোসল দিতে হবে, কাপড় পরাতে হবে, জানাযার ছালাত আদায় করতে হবে এবং মুসলিম কবরস্থানে দাফন করতে হবে’ (উছায়মীন, মাজমূঊ ফাতাওয়া ও রাসাইল, ২৫তম খণ্ড, পৃ. ২২৫-২২৬)। সঊদী আরবের স্থায়ী ফাতাওয়া কমিটি বলেন, وإذا وُلِد الجَنينُ حَيًّا ومات قبلَ اليومِ السَّابعِ سُنَّ أنْ يُعَقَّ عنه في اليومِ السَّابعِ، ويُسمَّى ‘যদি ভ্রুণ জীবিত অবস্থায় ভূমিষ্ঠ হয় এবং সপ্তম দিনের পূর্বেই মারা যায়, সেক্ষেত্রেও সপ্তম দিনে তার পক্ষ থেকে ‘আক্বীক্বা ও নামকরণ করা সুন্নাত’ (ফাতাওয়া আল-লাজনা আদ-দায়িমাহ, ১১তম খণ্ড, পৃ. ৪৪৬-৪৪৭)।

এ প্রসঙ্গে আলিমগণ নিম্নোক্ত দলীল উপস্থাপন করেন। যেমন, উম্মু কুরয (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, আমি নবী করীম (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি, ‏عَنِ الْغُلَامِ شَاتَانِ وَعَنِ الْجَارِيَةِ وَاحِدَةٌ وَلَا يَضُرُّكُمْ ذُكْرَانًا كُنَّ أَمْ إِنَاثًا‏ ‘পুত্র সন্তানের পক্ষ থেকে দু’টি এবং কন্যা সন্তানের পক্ষ থেকে একটি ছাগল ‘আক্বীক্বা করবে। ‘আক্বীক্বার পশু খাসী বা ছাগী যায় হোক না কেন তাতে তোমাদের কোন অসুবিধা নেই’ (আবূ দাঊদ, হা/২৮৩৫; তিরমিযী, হা/১৫১৬; নাসাঈ, হা/৪২১৮, সনদ ছহীহ)। অন্যত্র রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, مَعَ الْغُلَامِ عَقِيْقَتُهُ فَأَهْرِيْقُوْا عَنْهُ دَمًا وَأَمِيْطُوْا عَنْهُ الْأَذَى ‘প্রত্যেক সন্তানের সঙ্গেই ‘আক্বীক্বা সম্পর্কিত। অতএব তার পক্ষ থেকে রক্ত প্রবাহিত (অর্থাৎ ‘আক্বীক্বার জন্তু যব্হ) কর এবং তার অশুচি (চুল, নখ ইত্যাদি) দূর করে দাও’ (ছহীহ বুখারী, হা/৫৪৭১-৫৪৭২; আবূ দাঊদ, হা/২৮৩৯; তিরমিযী, হা/১৫১৫; ইবনু মাজাহ, হা/৩১৬৪; নাসাঈ, হা/৪২১৪; মুসনাদে আহমাদ, হা/১৬২৩৮)।

অতএব উপরিউক্ত হাদীছদ্বয় সাধারণভাবে ইঙ্গিত করছে যে, নবজাতক শিশু ভূমিষ্ঠ হলেই ‘আক্বীক্বার জন্তু যব্হ করতে হবে, সপ্তম দিনের পূর্বে তার মৃত্যু হোক কিংবা না হোক তাতে কোন সমস্যা নেয় (অর্থাৎ ‘আক্বীক্বার সম্পর্ক প্রসূতির সঙ্গে, মৃত্যুর সঙ্গে নয় (ফাতাওয়া আল-লাজনা আদ-দায়িমাহ, ১১তম খণ্ড, পৃ. ৪৪৫; হাশিয়াতুল লাবাদী, ১ম খণ্ড, পৃ.  ১৬০)।


প্রশ্নকারী : সামীউল ইসলাম, মুর্শিদাবাদ, ভারত।





প্রশ্ন (১৫) : ছেলে যদি তার টাকা বা স্ত্রীর স্বর্ণালংকারের উপর যাকাত না দেয়, তাহলে বাবাকে কি তাদের পক্ষ থেকে যাকাত দিতে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৭) : জানাযার ছালাতে ছানা পড়া যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৪) : ছালাতে কেউ রুকূ‘ পেল কিন্তু সূরা ফাতিহা পড়তে পারল না। এমতাবস্থায় তার উক্ত রাক‘আত গণ্য হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২২) : হজ্জ বা ওমরা আদায় করার জন্য কাউকে দায়িত্ব প্রদান করার বিধান কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৭) : কোন আলেম যদি তাবীয ব্যবহার করে, তাহলে তার পিছনে ছালাত আদায় করা কি জায়েয হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৭) : জনৈক আলেম বলেন, কুরবানী দিতে অক্ষম ব্যক্তিগণ কুরবানীর খালেছ নিয়তে যিলহজ্জ মাসের চাঁদ ওঠার পর নখ ও চুল না কাটলে সে আল্লাহর নিকটে তা পূর্ণাঙ্গ কুরবানী হিসাবে গৃহীত হবে। তিনি দলীল হিসাবে মিশকাত হা/১৪৭৯ পেশ করেছেন। সেই সাথে এটাও বলেছেন যে, শু‘আইব আরনাঊত্ব (রাহিমাহুল্লাহ) অত্র হাদীছটিকে হাসান বলেছেন। তবে শায়খ নাছিরুদ্দীন আলবানী (রাহিমাহুল্লাহ) অত্র হাদীছটিকে যঈফ বলেছেন। এখন আমরা দুই শায়খের মধ্যে কার তাহক্বীক্বকে প্রাধান্য দিব? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৬) : খেলার মাঠে আল্লাহর শোকর আদায় করে খেলোয়াড়রা যে সিজদাহ করে সেটা কি জায়েয? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৩) : জনৈক আলেম বলেন, শিশুদের নিয়মিত ঝাড়ফুঁক করলে কান্নাকাটি কম করে। উক্ত বক্তব্য কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩): আমি একজন চাকুরিজীবী। আমার মাসিক বেতন ২০,০০০/- টাকা। আমার পরিবারে সবাই আমার উপর নির্ভর করে। আমি আমার বেতন থেকে সব খরচ প্রদান করি। আমার স্ত্রী, মেয়ে, বাবা, ভাই ও বোন আছে, যাদের খরচ আমি বহন করি। কিন্তু আমার প্রশ্ন হলো আমি আমার সম্পদের যাকাত কীভাবে দিব? আমার সম্পদের উৎস শুধু এই বেতন। কিন্তু আমার সমস্ত বেতন আমার পরিবারে ব্যয় হয়ে যায়। অতএব, আমি কখন যাকাত দিব? কিছু মানুষ বলে যে, বেতন কৃষি ফসলের মত। এতে বর্ষপূর্তির বিষয়টি বিবেচ্য নয়। সুতরাং যখন বেতন পাবেন তখনই যাকাত আবশ্যক হবে। - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩১) : সুন্নাতে মুওয়াক্কাদাহ কাকে বলে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২০) : যে সমস্ত প্রতিষ্ঠানে খ্রিস্টানদের ক্রুশ চিহ্নযুক্ত ইউনিফর্ম পরা বাধ্যতামূলক, সেগুলো পড়ালেখা করা যাবে কি? এক্ষেত্রে  পিতা-মাতার আদেশ অমান্য করলে অবাধ্যতা হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১) : ক্বিয়ামতের দিন পশু-পাখিদেরকেও কি পুনরুত্থিত করা হবে? শোনা যায় যে, দশটি প্রাণীও জান্নাতে যাবে। উক্ত দাবী কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ