মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৫১ অপরাহ্ন
উত্তর : শরী‘আতের দৃষ্টিতে নবজাতক শিশু সপ্তম দিনের পূর্বে মারা গেলেও তার পক্ষ থেকে ‘আক্বীক্বা দিতে হবে এবং নামকরণ করতে হবে (আল-মাজমূ‘ঊ, ৮ম খণ্ড, পৃ. ৪৪৮: নিহায়াতুল মুহতাজ, ৮ম খণ্ড, পৃ. ১৪৭)। ইমাম ইবনু হায্ম (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, وإنْ مات قبلَ السَّابعِ عُقَّ عنه كما ذَكَرْنا ولا بدَّ ‘নবজাতক সপ্তম দিনের পূর্বে মারা গেলেও তার পক্ষ থেকে ‘আক্বীক্বা করতে হবে, যেমনটি আমরা উল্লেখ করেছি’ (আল-মুহাল্লা, ৬ষ্ঠ খণ্ড, পৃ. ২৩৪-২৩৫)। শায়খ ছালিহ আল-উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, وعليه تُسَنُّ العَقيقةُ ولو مات قبلَ السَّابعِ ‘যদি সে সপ্তম দিনের পূর্বেও মারা যায় তবুও তার পক্ষ থেকে ‘আক্বীক্বা করা সুন্নাত’ (আশ-শারহুল মুমতি‘, ৭ম খণ্ড, পৃ. ৪৯৪)। তিনি আরো বলেন, ‘কোন সন্তান গর্ভে ৪ মাস থাকার পর যদি নষ্ট হয়, মৃত জন্ম হয় অথবা জন্মের পরে ১/২দিন থাকার পরে মারা যায়, তাহলে তার আক্বীক্বা দেয়া এবং নাম রাখা সুন্নাত। কারণ এ শিশুকে ক্বিয়ামতের দিন উঠানো হবে। সুতরাং তাকে সম্ভবপর গোসল দিতে হবে, কাপড় পরাতে হবে, জানাযার ছালাত আদায় করতে হবে এবং মুসলিম কবরস্থানে দাফন করতে হবে’ (উছায়মীন, মাজমূঊ ফাতাওয়া ও রাসাইল, ২৫তম খণ্ড, পৃ. ২২৫-২২৬)। সঊদী আরবের স্থায়ী ফাতাওয়া কমিটি বলেন, وإذا وُلِد الجَنينُ حَيًّا ومات قبلَ اليومِ السَّابعِ سُنَّ أنْ يُعَقَّ عنه في اليومِ السَّابعِ، ويُسمَّى ‘যদি ভ্রুণ জীবিত অবস্থায় ভূমিষ্ঠ হয় এবং সপ্তম দিনের পূর্বেই মারা যায়, সেক্ষেত্রেও সপ্তম দিনে তার পক্ষ থেকে ‘আক্বীক্বা ও নামকরণ করা সুন্নাত’ (ফাতাওয়া আল-লাজনা আদ-দায়িমাহ, ১১তম খণ্ড, পৃ. ৪৪৬-৪৪৭)।

এ প্রসঙ্গে আলিমগণ নিম্নোক্ত দলীল উপস্থাপন করেন। যেমন, উম্মু কুরয (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, আমি নবী করীম (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি, ‏عَنِ الْغُلَامِ شَاتَانِ وَعَنِ الْجَارِيَةِ وَاحِدَةٌ وَلَا يَضُرُّكُمْ ذُكْرَانًا كُنَّ أَمْ إِنَاثًا‏ ‘পুত্র সন্তানের পক্ষ থেকে দু’টি এবং কন্যা সন্তানের পক্ষ থেকে একটি ছাগল ‘আক্বীক্বা করবে। ‘আক্বীক্বার পশু খাসী বা ছাগী যায় হোক না কেন তাতে তোমাদের কোন অসুবিধা নেই’ (আবূ দাঊদ, হা/২৮৩৫; তিরমিযী, হা/১৫১৬; নাসাঈ, হা/৪২১৮, সনদ ছহীহ)। অন্যত্র রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, مَعَ الْغُلَامِ عَقِيْقَتُهُ فَأَهْرِيْقُوْا عَنْهُ دَمًا وَأَمِيْطُوْا عَنْهُ الْأَذَى ‘প্রত্যেক সন্তানের সঙ্গেই ‘আক্বীক্বা সম্পর্কিত। অতএব তার পক্ষ থেকে রক্ত প্রবাহিত (অর্থাৎ ‘আক্বীক্বার জন্তু যব্হ) কর এবং তার অশুচি (চুল, নখ ইত্যাদি) দূর করে দাও’ (ছহীহ বুখারী, হা/৫৪৭১-৫৪৭২; আবূ দাঊদ, হা/২৮৩৯; তিরমিযী, হা/১৫১৫; ইবনু মাজাহ, হা/৩১৬৪; নাসাঈ, হা/৪২১৪; মুসনাদে আহমাদ, হা/১৬২৩৮)।

অতএব উপরিউক্ত হাদীছদ্বয় সাধারণভাবে ইঙ্গিত করছে যে, নবজাতক শিশু ভূমিষ্ঠ হলেই ‘আক্বীক্বার জন্তু যব্হ করতে হবে, সপ্তম দিনের পূর্বে তার মৃত্যু হোক কিংবা না হোক তাতে কোন সমস্যা নেয় (অর্থাৎ ‘আক্বীক্বার সম্পর্ক প্রসূতির সঙ্গে, মৃত্যুর সঙ্গে নয় (ফাতাওয়া আল-লাজনা আদ-দায়িমাহ, ১১তম খণ্ড, পৃ. ৪৪৫; হাশিয়াতুল লাবাদী, ১ম খণ্ড, পৃ.  ১৬০)।


প্রশ্নকারী : সামীউল ইসলাম, মুর্শিদাবাদ, ভারত।





প্রশ্ন (১২) : চাকুরীজীবী ব্যক্তি অফিসের যাবতীয় পণ্য ক্রয় করে। কিছু পণ্য ক্রয় করার সময় দেখা যাচ্ছে পণ্যের দাম ৩০০/৪০০ টাকা, যা সব দোকানে একই দাম। কিন্তু ঐ ব্যক্তি সেই পণ্যটি ২৮০/৩৮০ টাকায় ক্রয় করতে পারে। উক্ত পণ্য ক্রয়ে যে ২০ টাকা সাশ্রয় হল, সেই টাকা কি তিনি নিজে গ্রহণ করতে পারবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৩) : জনৈক ব্যক্তি কুরআন ও ছহীহ হাদীছের কথা বলেন। কিন্তু সে তার পিতা-মাতার সাথে খারাপ ব্যবহার করে। এমনকি পিতার গায়ে হাত তুলে। এমন ব্যক্তির নিকট থেকে জ্ঞান নেয়া যাবে কি?  - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২০) : জ্যোতিষী ও গণকদের বই-পুস্তক ও প্রবন্ধ পড়ার হুকুম কী? তাদের কথা বিশ্বাস করলে কি ৪০ দিনের ছালাত কবুল হবে না? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪৭) : বর্তমানে ঈদের দিন গান-বাজনা এবং বিভিন্ন খেলাধুলার আয়োজন করা হয় কিংবা পরিবারের সদস্যগণ টিভি-সিনেমার পর্দায় নোংরা চলচ্চিত্র র্দশন করে সময় অতিবাহিত করে। এটি শরী‘আত সম্মত কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৫) : যে ব্যক্তি রাসূলের উপর দরূদ পাঠ করতে ভুলে যাবে, সে জান্নাতের পথ ভুলে যাবে’। উক্ত দাবী কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৮) : মানসিক প্রশান্তি লাভের উপায় কী কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৮) : ঈসা (আলাইহিস সালাম)-এর কবর কোথায় হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৩) : হাসান ইবনু আলী বলেন, ‘যে ব্যক্তি এই বিশ আয়াত পড়বে আমি তার এ ব্যাপারে যিম্মাদার হয়ে গেলাম যে, আল্লাহ তাকে যালিম শাসক, অবাধ্য শয়তান, ক্ষতিকর ও হিংস্র জীবজন্তু ও সীমালঙ্ঘনকারী চোর থেকে রক্ষা করবেন। বিশটি আয়াত হল, আয়াতুল কুরসী, সূরা আ‘রাফের ৫৪ থেকে ৫৬ তিন আয়াত, সূরা ছাফফাতের দশ আয়াত, সূরা আর-রহমানের ৩৩ থেকে ৩৫ তিন আয়াত এবং সূরা হাশরের শেষের ২১ থেকে ২৪ চার আয়াত (আদ-দুররুল মানসূর; তারীখু বাখদাদ)। বর্ণনাটি কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২২) : সিজদার সময় মুসল্লীর চোখ কি খোলা থাকবে, না-0কি বন্ধ থাকবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১০) : ইসলামী গণতন্ত্র কি হালাল? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৯) : ঝাড়ফুঁক বৈধ হওয়ার জন্য শরী‘আতে কী কী শর্ত উল্লেখ করা হয়েছে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৮) : মোবাইলের রিংটোন হিসাবে দু‘আ বা কুরআনের আয়াত ব্যবহার করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

ফেসবুক পেজ