রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:০৫ পূর্বাহ্ন
উত্তর : কুরআনের আয়াত ও হাদীছ পারস্পরিক সাংঘর্ষিক নয়, বরং দু’টিই স্ব-স্ব স্থানে প্রাসঙ্গিক এবং একে অপরের পরিপূরক। সাধারণত আল্লাহ যত জায়গায় خٰلِدِیۡنَ فِیۡہَا ‘তারা জাহান্নামে স্থায়ী হবে’ বলেছেন, তার প্রায় জায়গাতেই কাফির, মুশরিক অথবা মুনাফিকদেরকে সম্বোধন করে বলেছেন। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

وَ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا  وَ کَذَّبُوۡا بِاٰیٰتِنَاۤ اُولٰٓئِکَ اَصۡحٰبُ النَّارِ خٰلِدِیۡنَ فِیۡہَا ؕ وَ  بِئۡسَ الۡمَصِیۡرُ

‘আর যারা কুফরী করবে এবং আমার নিদর্শনসমূহকে অস্বীকার করবে, তারাই জাহান্নামের অধিবাসী; সেখানে তারা স্থায়ী হবে। কত মন্দ ঐ প্রত্যাবর্তনস্থল!’ (সূরা আত-তাগাবূন : ১০)। অন্যত্র তিনি বলেন, ‘নিশ্চয় আহলে কিতাব ও মুশরিকদের মধ্যে যারা কুফরী করেছে, তারা জাহান্নামের আগুনের মধ্যে স্থায়ীভাবে অবস্থান করবে; তারাই সৃষ্টির অধম’ (সূরা আল-বাইয়্যিনাহ : ৬)। তিনি আরো বলেন, ‘আল্লাহ মুনাফিক পুরুষ, মুনাফিক নারী ও কাফিরদেরকে জাহান্নামের আগুনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, সেখানে তারা চিরকাল থাকবে, এটা তাদের জন্য যথেষ্ট। আল্লাহ তাদেরকে অভিশাপ করেছেন। আর তাদের জন্য রয়েছে চিরস্থায়ী শাস্তি’ (সূরা আত-তওবাহ : ৬৮)। এছাড়াও সূরা আল-বাক্বারাহ : ১৬১-১৬২, ১৬৭; সূরা আলে ‘ইমরান : ৮৮; সূরা আন-নিসা : ১৬৯; সূরা আল-মায়িদাহ : ৩৭; সূরা আল-নাহল : ২৮-২৯; সূরা আয-যুমার : ৭২; সূরা আল-গাফির : ৭৬; সূরা আল-হাশর : ১৭ এবং সূরা আল-জিন : ২৩ আয়াতসমূহে বর্ণিত হয়েছে।

হাদীছের মধ্যে যাদের ক্ষমা করার কথা বলা হয়েছে তারা হল- পাপী মুসলিম। রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, لَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ إِلَّا نَفْسٌ مُسْلِمَةٌ ‘মুসলিম ব্যতীত অন্য কোন ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে না’ (ছহীহ বুখারী, হা/৩০৬২, ৪২০৩-৪২০৪, ৬৬০৬; ছহীহ মুসলিম, হা/১১১, ২০৫)। অন্যত্র তিনি বলেন, ‘...এবং আমার উম্মতের অবশিষ্ট লোকদের জাহান্নামীদের সঙ্গে জাহান্নামে প্রবেশ করানো হবে। অতঃপর জাহান্নামবাসীরা বলবে, ‘তোমরা যে আল্লাহর ইবাদত করতে এবং তাঁর সঙ্গে কাউকে শরীক করতে না, আজ তা তোমাদের কোন উপকার করতে পারল না। একথা শুনে আল্লাহ তা‘আলা বলবেন, ‘আমার সম্মানের কসম, আমি অবশ্যই তাদের জাহান্নাম থেকে মুক্ত করে দেবো। সুতরাং তাদের জাহান্নাম থেকে এমতাবস্থায় বের করা হবে যে, তারা জ্বলে-পুড়ে জড়োসড়ো হয়ে গিয়েছিল। অতঃপর তাদের আবে-হায়াত (জীবন) নামক নদীতে প্রবেশ করানো হবে, ফলত স্রোতবাহিত উর্বর পলিতে গজিয়ে উঠা শস্য দানার ন্যায় তারা সজীব হয়ে উঠবে। তাদের ললাটে লিখে দেয়া হবে, ‘এরা আল্লাহর পক্ষ থেকে মুক্তিপ্রাপ্ত দল। অতঃপর তাদের নিয়ে গিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে। জান্নাতবাসীগণ তাদের জাহান্নামবাসী বলে সম্মোধন করলে, আল্লাহ বলবেন, ‘বরং এরা আল্লাহর পক্ষ থেকে মুক্তিপ্রাপ্ত দল’ (মুসনাদে আহমাদ, হা/১২৪৬৯-১২৪৭০; ইবনু খুযাইমা, হা/৬০১; দারেমী, হা/৩৫; ইবনু মানদাহ, হা/৮৭৭, সনদ হাসান)।
অন্যত্র নবী করীম (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ‘...কতকগুলো সম্প্রদায় তাদের গুনাহের কারণে জাহান্নামের আগুনে নিক্ষিপ্ত হবে এবং জাহান্নামের শাস্তি ভোগ করবে। অতঃপর আল্লাহ নিজ রহমতে তাদেরকে ক্ষমা করে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। তাদেরকে ‘জাহান্নামী’ বলা হবে’ (ছহীহ বুখারী, হা/৬৫৫৯, ৬৫৬৬, ৭৪৫০)।


প্রশ্নকারী : শাকিল আহমাদ, ঢাকা।





প্রশ্ন (২৪) : যে ব্যক্তি ক্বিয়ামতের মাঠে স্থাপিত মীযানকে বিশ্বাস করে না তার হুকুম কী হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৮) : শাওয়াল মাসে বিয়ে করা কি সুন্নত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৪) : স্ত্রীকে ত্বালাক্ব দেয়ার নিয়ম কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২১) : একটি ইসলামী কোম্পানীতে মানুষ তাদের উপার্জিত লক্ষ লক্ষ টাকা গচ্ছিত রাখে। কোম্পানী উক্ত টাকা দিয়ে বিভিন্ন ব্যবসা করে। যেমন: জমি ক্রয়-বিক্রয়, প্লট ক্রয়-বিক্রয়, বিদেশ থেকে পাথর ক্রয় ও তা বিক্রয়, ফ্লাট ক্রয়-বিক্রয়, দেশের বিভিন্ন স্থানে শমিং মল পরিচালনা ইত্যাদি। উক্ত ব্যবসা করে কোম্পানী লাখে কখনো ১২০০/-, কখনো ১৩০০/- এভাবে কমবেশি লভ্যাংশ দিয়ে থাকে। এখন আমি উক্ত কোম্পানীতে আমার পেনশনের প্রায় চল্লিশ লক্ষ টাকা রাখতে চাচ্ছি। প্রশ্ন হল- কোম্পানী প্রদত্ত উক্ত লভ্যাংশ গ্রহণ সূদ হবে, না-কি হালাল হবে? উল্লেখ যে, উপরিউক্ত ব্যবসায়ের মধ্যে কোন্ ব্যবসায়ে আমার টাকা ব্যয় হবে তা আমি জানি না এবং শপিং মলে কিছু মিউজিক ও পর্দার সাথে মহিলা রিপ্রেজেনটিভ রয়েছে। - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৬) : এক সফরে একাধিক ওমরাহ করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১২) : নারীদেরকে পড়িয়ে প্রাপ্ত বেতনের অর্থ হালাল হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৩) : আমরা ‘বায়তুল্লাহর মুসাফির’ নামে একটি হজ্জ ও ওমরা সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্ম নিয়ে কাজ করছি। যারা আলেম, ইমাম বা দাঈ হিসাবে আমাদের সাথে যুক্ত থাকবেন, তাদের মাধ্যমে যদি কেউ হজ্জে যান, তাহলে আমরা তাদেরকে একটি নির্দিষ্ট সম্মাননা, ওমরার সুযোগ বা অর্থ দিয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে চাই। এভাবে বলা যায় যে, ‘কেউ যদি আমাদের নির্দিষ্ট সংখ্যক হাজী দেন, তাহলে তাকে ওমরা করানোর ব্যবস্থা করা হবে’। শরী‘আতের দৃষ্টিতে এভাবে কাজ করাটা জায়েয হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৯) : কুরআন তিলাওয়াত, কুরআন মুখস্থ, ইসলামী জ্ঞান চর্চা বা দ্বীনি কাজে প্রতিযোগিতার আয়োজন করা এবং আয়োজকদের পক্ষ থেকে বিজয়ীদের পুরস্কার গ্রহণের বিধান কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২১) : মসজিদের ইমাম জর্দা দিয়ে পান খায় এবং তার কুরআন তেলাওয়াত অশুদ্ধ। তাকে বললে তিনি সংশোধন হন না। এমতাবস্থায় এরূপ ইমামের পিছনে ছালাত আদায় করা যাবে কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২২) : যে জিনিসগুলো সাদাক্বাহ করা হয় সেগুলো ব্যবহার করার হুকুম কী? মসজিদের জন্য কিছু আতর ও কিছু পানির বোতল দান করার পরে মাঝে মাঝে মসজিদের ঐ আতর ও পানি ব্যবহার করার শরী‘আতের বিধান কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৩) : ওযূ না করে আযান দেয়া যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৯) : অফিসে কোন ব্যক্তির কাজ করার পর যদি খুশি হয়ে আমি টাকা না নেয়া সত্ত্বেও ঐ ব্যক্তি জোর করে আমাকে টাকা দেয় এবং বলে আমার মন থেকে হাদিয়া দিয়েছি। তাহলে এইটা জায়েয হবে কিনা? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

ফেসবুক পেজ