উত্তর : ছালাতে হাত বাঁধার নিয়মের ব্যাপারে সমাজে দু’টি পদ্ধতি চালু রয়েছে। যেমন, নাভীর নীচে হাত বাঁধা এবং বুকের উপর হাত বাঁধা। তবে নাভীর নীচে হাত বেঁধে ছালাত আদায় করার পক্ষে যতগুলো বর্ণনা পেশ করা হয়, সেগুলো সবই ত্রুটিপূর্ণ। অর্থাৎ নাভীর নীচে হাত বাঁধার নিয়ম আমলযোগ্য নয় (বিস্তারিত দ্র. জাল হাদীছের কবলে রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ছালাত)। আর ছহীহ হাদীছের দাবী হল- ছালাতে বুকের উপর হাত বেঁধেই ছালাত করা। কেননা রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সর্বদা বুকের উপর হাত বেঁধে ছালাত আদায় করতেন। উক্ত মর্মে একাধিক ছহীহ হাদীছ বর্ণিত হয়েছে।
(১) সাহল বিন সা‘দ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, লোকদেরকে নির্দেশ দেয়া হত, মুছল্লী যেন ছালাতের মধ্যে তার ডান হাত বাম হাতের বাহুর উপর রাখে। আবু হাযেম বলেন, এটা রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর দিকেই ইঙ্গিত করা হত বলে আমি জানি (ছহীহ বুখারী, হা/৭৪০, ১/১০২ পৃ., (ইফাবা হা/৭০৪, ২য় খণ্ড, পৃ. ১০২)। ‘আযান’ অধ্যায়, অনুচ্ছেদ-৮৭ بَابُ وَضْعِ الْيُمْنَى عَلَى الْيُسْرَى)। (২) ওয়ায়েল ইবনু হুজর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, আমি অবশ্যই রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ছালাতের দিকে লক্ষ্য করতাম, তিনি কিভাবে ছালাত আদায় করেন। আমি তাঁর দিকে লক্ষ্য করতাম যে, তিনি ছালাতে দাঁড়াতেন অতঃপর তাকবীর দিতেন এবং কান বরাবর দুই হাত উত্তোলন করতেন। তারপর তাঁর ডান হাত বাম হাতের পাতা, কব্জি ও বাহুর উপর রাখতেন। অতঃপর যখন তিনি রুকূ করার ইচ্ছা করতেন তখন অনুরূপ দুই হাত উত্তোলন করতেন… (নাসাঈ, হা/৮৮৯, ১/১০২ পৃ.; আবু দাঊদ, হা/৭২৭, পৃ. ১০৫; আহমাদ, হা/১৮৮৯০; ছহীহ ইবনে খুযায়মাহ, হা/৪৮০; ইবনু হিব্বান, হা/১৮৬০, সনদ ছহীহ)। (৩) ত্বাঊস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন,
كَانَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَضَعُ يَدَهُ الْيُمْنَى عَلَى يَدِهِ الْيُسْرَى ثُمَّ يَشُدُّ بَيْنَهُمَا عَلَى صَدْرِهِ وَهُوَ فِي الصَّلَاةِ
‘রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ছালাতের মধ্যে তাঁর ডান হাত বাম হাতের উপর রাখতেন এবং উভয় হাত বুকের উপর শক্ত করে ধরে রাখতেন (আবু দাঊদ, হা/৭৫৯, সনদ ছহীহ)। অনুরূপভাবে আরো দেখুন (ছহীহ ইবনে খুযায়মাহ, হা/৪৭৯, ১/২৪৩ পৃ.; বুলূগুল মারাম, হা/২৭৫; আহমাদ, হা/২২০১৭; সনদ হাসান; ইবনু হিব্বান, হা/১৭৬৭; সনদ ছহীহ, ছিফাতু ছালাতিন নাবী, পৃ. ৮৭; ইবনু ক্বাইয়িম, তাহযীব সুনানে আবী দাঊদ, ১/১৩০ – حَدِيث أَبِي حُمَيْدٍ هَذَا حَدِيث صَحِيح)।
প্রশ্নকারী : মিনহাজুল ইসলাম, রংপুর।