বৃহস্পতিবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৫, ০১:৪৫ অপরাহ্ন
উত্তর : প্রথমতঃ জেনেশুনে চুরির মাল ক্রয়-বিক্রয় করা নিশ্চিতরূপে হারাম। জেনেশুনে চুরির মাল ব্যবহার করা জায়েয নয়। অনুরূপভাবে যদি সন্দেহ তৈরি হয় যে, পণ্যটি চুরির কি-না? এবং পণ্যটি চুরির হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি, সেক্ষেত্রেও এমন পণ্য ক্রয় করা নাজায়েয। কেননা এমন ক্রয়ের মাধ্যমে পাপ ও সীমালঙ্ঘনে সহযোগিতা করা হয় এবং প্রকৃত মালিকের হাত থেকে পণ্যটি আত্মসাৎ করা হয় এবং যেহেতু এর মাধ্যমে মানুষের উপর যুলুম করা, অন্যায়ের পক্ষে সায় দেয়া এবং অন্যায়কারীর সাথে পাপে অংশগ্রহণ করা হয়। অথচ আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন,  ‘তোমরা সৎকর্ম ও তাক্বওয়ায় পরস্পরকে সহযোগিতা কর এবং মন্দকর্ম ও সীমালঙ্ঘনে একে অন্যের সহযোগিতা করো না। আর আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয় আল্লাহ শাস্তি প্রদানে অত্যধিক কঠোর’ (সূরা আল-মায়িদাহ : ২)। উপরিউক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় ইমাম ইবনু কাছীর (রাহিমাহুল্লাহ) ও ইমাম কুরতুবী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, এখানে আল্লাহ তা‘আলা মুমিন ব্যক্তিদেরকে ভালো কাজে সহযোগিতা করতে আদেশ করেছেন এবং অন্যায়, অসৎ ও হারাম কাজে সাহায্য, সহযোগিতা করতে নিষেধ করেছেন (তাফসীর ইবনু কাছীর, ২/১২; তাফসীরে কুরতুবী, ৬/৪৬-৪৭ পৃ.)। সুতরাং যে ব্যক্তি জেনেশুনে কিংবা সন্দেহ প্রবল হওয়া সত্ত্বেও চুরির পণ্য ক্রয় করেছে তার উপর অপরিহার্য হল- এর জন্য অন্তর থেকে তাওবাহ করা এবং সেই পণ্যটি ফেরত দিয়ে তার অর্থ ফেরত নেয়া। কারণ এরূপ ক্রয়-বিক্রয় সঠিক নয়। আর যে ব্যক্তি জানতে পারবে যে, এটি চুরিকৃত বা আত্মসাৎকৃত পণ্য তার উচিত যে ব্যক্তি এটি চুরি করেছে তাকে নম্রতা, কোমলতা ও প্রজ্ঞা দিয়ে নসিহত করা, যাতে করে সে চুরিকর্ম থেকে ফিরে আসে। দ্বিতীয়তঃ যে ব্যক্তি ক্রয় করার পর জানতে পেরেছে অথবা তার সন্দেহ তৈরি হয়েছে যে, সেটি চুরিকৃত কি-না? তবে সে নিশ্চিত নয়। এক্ষেত্রেও পারলে মূল মালিককে ফিরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করবে। আর মালিক মারা গেলে তার উত্তরাধিকারীদের দিবে। কাউকে না পাওয়া গেলে মুসলিম উম্মাহ্র কল্যাণে দান করে দিবে। তবে এক্ষেত্রে ফেরত দেয়া তার উপর অপরিহার্য নয়। কেননা মূল বিধান হল- ক্রয়-বিক্রয় বিশুদ্ধ হওয়া। আল্লাহই সর্বজ্ঞ (মাজমূঊল ফাতাওয়া ইবনে তাইমিয়্যাহ, ২৯/২৭৬, ২৯/৩২৩ পৃ.; মাজমূঊ ফাতাওয়া ইবনে বায, ১৯/৮৮-৯২ পৃ.; ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-৯৩০৩১, ১০০২০৯)।


প্রশ্নকারী : রুহুল আমীন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ।





প্রশ্ন (২৪) : ‘চুরি হওয়া মাল ছাদাক্বাহস্বরূপ’- কথাটি কি ইসলামসম্মত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৪) : বিতর ছালাতের পর যে তিনবার সুব-হানাল মালিকিল কুদ্দূস বলা হয়, তা তৃতীয়বার শেষের কুদ্দূস শব্দটি শুধু টান‌ হবে, না-কি শব্দগুলো টেনে টেনে বলতে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৪) : সুগন্ধি বা পারফিউম ব্যবহার করে কোন মহিলা বাড়ির বাইরে যেতে পারে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৬) : যিলহজ্জ মাসে কয়দিন তাকবীর পাঠ করতে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪) : যে ব্যক্তির জানাযা হয়েছে তার গায়েবানা জানাযা পড়া যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৬) : রাতে ঘুমানোর সময় ওযূ ছাড়াই আয়াতুল কুরছি, সূরা ইখলাছ, সূরা ফালাক্ব ও সূরা নাস পড়া যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১০) : ছিয়াম শুরু করা ও শেষ করার জন্য জ্যোর্তিবিদ্যার উপর নির্ভর করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩০) : ছালাতে তাশাহুদের সময় নযর কোন দিকে রাখতে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৫) : ফরয ছালাতের পর ১৯ বার ‘বিসমিল্লাহ’ পড়া যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩১) : ছালাত শেষে যিকিরগুলো সরবে বলতে হবে, না-কি চুপেচুপে বলতে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৮) : জুমু‘আর দিন কোন্ সময় সূরা কাহ্ফ পড়তে হয়? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৫) : নিম্নের দু‘আটি পড়া যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

ফেসবুক পেজ