বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:২৩ পূর্বাহ্ন
উত্তর : প্রথমতঃ জেনেশুনে চুরির মাল ক্রয়-বিক্রয় করা নিশ্চিতরূপে হারাম। জেনেশুনে চুরির মাল ব্যবহার করা জায়েয নয়। অনুরূপভাবে যদি সন্দেহ তৈরি হয় যে, পণ্যটি চুরির কি-না? এবং পণ্যটি চুরির হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি, সেক্ষেত্রেও এমন পণ্য ক্রয় করা নাজায়েয। কেননা এমন ক্রয়ের মাধ্যমে পাপ ও সীমালঙ্ঘনে সহযোগিতা করা হয় এবং প্রকৃত মালিকের হাত থেকে পণ্যটি আত্মসাৎ করা হয় এবং যেহেতু এর মাধ্যমে মানুষের উপর যুলুম করা, অন্যায়ের পক্ষে সায় দেয়া এবং অন্যায়কারীর সাথে পাপে অংশগ্রহণ করা হয়। অথচ আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন,  ‘তোমরা সৎকর্ম ও তাক্বওয়ায় পরস্পরকে সহযোগিতা কর এবং মন্দকর্ম ও সীমালঙ্ঘনে একে অন্যের সহযোগিতা করো না। আর আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয় আল্লাহ শাস্তি প্রদানে অত্যধিক কঠোর’ (সূরা আল-মায়িদাহ : ২)। উপরিউক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় ইমাম ইবনু কাছীর (রাহিমাহুল্লাহ) ও ইমাম কুরতুবী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, এখানে আল্লাহ তা‘আলা মুমিন ব্যক্তিদেরকে ভালো কাজে সহযোগিতা করতে আদেশ করেছেন এবং অন্যায়, অসৎ ও হারাম কাজে সাহায্য, সহযোগিতা করতে নিষেধ করেছেন (তাফসীর ইবনু কাছীর, ২/১২; তাফসীরে কুরতুবী, ৬/৪৬-৪৭ পৃ.)। সুতরাং যে ব্যক্তি জেনেশুনে কিংবা সন্দেহ প্রবল হওয়া সত্ত্বেও চুরির পণ্য ক্রয় করেছে তার উপর অপরিহার্য হল- এর জন্য অন্তর থেকে তাওবাহ করা এবং সেই পণ্যটি ফেরত দিয়ে তার অর্থ ফেরত নেয়া। কারণ এরূপ ক্রয়-বিক্রয় সঠিক নয়। আর যে ব্যক্তি জানতে পারবে যে, এটি চুরিকৃত বা আত্মসাৎকৃত পণ্য তার উচিত যে ব্যক্তি এটি চুরি করেছে তাকে নম্রতা, কোমলতা ও প্রজ্ঞা দিয়ে নসিহত করা, যাতে করে সে চুরিকর্ম থেকে ফিরে আসে। দ্বিতীয়তঃ যে ব্যক্তি ক্রয় করার পর জানতে পেরেছে অথবা তার সন্দেহ তৈরি হয়েছে যে, সেটি চুরিকৃত কি-না? তবে সে নিশ্চিত নয়। এক্ষেত্রেও পারলে মূল মালিককে ফিরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করবে। আর মালিক মারা গেলে তার উত্তরাধিকারীদের দিবে। কাউকে না পাওয়া গেলে মুসলিম উম্মাহ্র কল্যাণে দান করে দিবে। তবে এক্ষেত্রে ফেরত দেয়া তার উপর অপরিহার্য নয়। কেননা মূল বিধান হল- ক্রয়-বিক্রয় বিশুদ্ধ হওয়া। আল্লাহই সর্বজ্ঞ (মাজমূঊল ফাতাওয়া ইবনে তাইমিয়্যাহ, ২৯/২৭৬, ২৯/৩২৩ পৃ.; মাজমূঊ ফাতাওয়া ইবনে বায, ১৯/৮৮-৯২ পৃ.; ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-৯৩০৩১, ১০০২০৯)।


প্রশ্নকারী : রুহুল আমীন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ।





প্রশ্ন (২৭) : সফরে সর্বোচ্চ কতদিন পর্যন্ত ক্বছর করা যাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৬) : জনৈক আলেম বলেছেন, সিজদার জন্য যে পরিমাণ জায়গার প্রয়োজন হয় সে পরিমাণ জায়গা বাদ দিয়ে মুছল্লীর সামনে হাঁটাচলা করা যায়। সঠিকটা জানিয়ে উপকৃত করবেন। - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৮) : বিকাশ, রকেট, নগদ বা এ ধরনের মোবাইল ব্যাংকিংয়ের এইচ.আর কিংবা এজেন্ট হিসাবে কাজ করা জায়েয কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২০) : কোন ব্যক্তি নিরুপায় হয়ে সূদভিত্তিক লোন গ্রহণ করে তার নিজস্ব প্রয়োজন মেটায়, তাহলে তার দু‘আ কবুল হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২) : কেক ও চকলেটের উপর ‘আল্লাহ’ লেখা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৮) : গণতন্ত্র কি হারাম? যদি হারাম হয়, তাহলে হারাম প্রক্রিয়ায় নির্বাচিত সরকারের আনুগত্য করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৪) : চুক্তিতে ৩ বছর মেয়াদে নির্ধারিত পরিমাণ অর্থের বিনিময়ে লিচু বা আম বাগান ক্রয় করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৫) : বর্তমানে অধিকাংশ মসজিদে ফজরের ছালাতের জামা‘আত চলা অবস্থায় সুন্নাত পড়া হয়। এটি কি শরী‘আতসম্মত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩২) : ইক্বামতের সময় মুয়াজ্জিন যখন ‘হাইয়্যা আলাছ ছালাহ’ বলবে তখন মুক্তাদী কী বলবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৫) : দু‘আ ইউনুস খতম করা কি শরী‘আত সম্মত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৬) : পড়াশুনার কারণে বাইরে থাকার সুবাদে অনেক সময় একাকী থাকতে হয়। শরী‘আতের দৃষ্টিতে এটা কি জায়েয? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৯) : মোবাইল ফোনের মাধ্যমে রুকইয়া করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

ফেসবুক পেজ