বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:২২ পূর্বাহ্ন
উত্তর : ফের্কাবন্দী (اَلْاِفْتِرَاقُ)-এর অর্থ যেকোন মতানৈক্য নয়; বরং বিশেষ বিভক্তিকে ‘ফের্কাবন্দী’ বলা হয়েছে। যে বিভক্তির কারণে উম্মত দলে-উপদলে বিভক্ত হয়ে যায় এবং তাদের পারস্পরিক সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন হারিয়ে ফেলে, একদল আরেক দলের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে, সেটাই হচ্ছে ফের্কাবন্দী। অনুরূপভাবে এই বিভক্তি অন্তরের বিভক্তির দিকেও ইঙ্গিত করে, যার মাধ্যমে পারস্পরিক শত্রুতা ও রাগারাগির জন্ম হয় (শাত্বেবী, আল-ই’তিছাম, ২/৭০০-৭০১ পৃ.; বাকর আবু যায়েদ, হুকমুল ইনতিমা, পৃ. ১০১)। আব্দুল ক্বাহের ইবনু ত্বাহের আত-তামীমী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘নবী করীম (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিন্দিত ফের্কা বলতে ফিক্বহী শাখা-প্রশাখাগত মাসআলা-মাসায়েলে মতভেদকারীদেরকে বুঝাননি, বরং নিন্দা দ্বারা উদ্দেশ্য তারাই, যারা তাওহীদের মূলনীতি, তাক্বদীরের ভাল-মন্দ, নবুওয়াত ও রিসালাতের শর্ত, ছাহাবায়ে কেরামের সাথে আন্তরিক সম্পর্ক বজায় রাখা ইত্যাদি ক্ষেত্রে হক্বপন্থীদের বিরুদ্ধাচরণ করে। কারণ এসব ক্ষেত্রে হক্বপন্থীদের বিরুদ্ধাচরণকারীরা পরস্পরকে কাফের হিসাবে আখ্যায়িত করে থাকে। কিন্তু প্রথম প্রকারের মতভেদকারীরা পরস্পরকে কাফের তো বলেই না, এমনকি বিভক্তিও সৃষ্টি করে না’ (দ্রষ্টব্য : তুহফাতুল আহওয়াযী, ১২/২২২ পৃ.)।

উম্মতের ফের্কাবন্দী বলতে কস্মিনকালেও ছাহাবায়ে কেরাম, তাবেঈন এবং মুজতাহিদ আলিমগণের ইজতিহাদপ্রসূত মতভেদকে বুঝানো হয়নি। অনুরূপভাবে এ ব্যাপারে ইজমা হয়েছে যে, শরী‘আতের ব্যবহারিক শাখা-প্রশাখাগত মাসআলা-মাসায়েলের মতপার্থক্যও ফের্কাবন্দীর আওতাভুক্ত নয় (শাত্বেবী, আল-ই’তিছাম, ২/৭০০-৭০১ পৃ.; তুহফাতুল আহওয়াযী, ৭/৩৩২ পৃ.)। বরং এই প্রকার মতভেদ হওয়া খুবই স্বাভাবিক। ইমাম ইবনুল ক্বাইয়িম (রাহিমাহুল্লাহ) যথার্থই বলেছেন, ‘মানুষের মধ্যে মতভেদ অবশ্যম্ভাবী একটি বিষয়। কেননা তাদের উদ্দেশ্য, বুঝ এবং অনুধাবন শক্তি এক নয়। তবে এ নিয়ে একজন আরেকজনের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করা নিন্দনীয়’ (আছ-ছওয়া‘ইকুল মুরসালাহ ফির-রদ্দি আলাল-জাহমিইয়াহ, ২/৫১৯ পৃ.)। মূলত আক্বীদাগত বিভক্তির কারণে সৃষ্ট দলাদলিকে ফের্কাবন্দী বলা হয়।

প্রশ্নকারী : শরীফুল ইসলাম, জয়পুরহাট।




প্রশ্ন (২১) : প্যান্টের সাথে সংযুক্ত মোজার উপর মাসেহ করার বিধান কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১১) : ‘ইয়া রাসূলাল্লাহ’, ‘ইয়া হাবীবাল্লাহ’ বলা যাবে কি? যেমন- আমার আব্বু, দাদী এবং আত্মীয়-স্বজন অনেকের মুখে শুনি, তারা ভাত খাওয়ার পর বলেন ‘ইয়া রাসূলুল্লাহ’, ‘ইয়া হাবীবাল্লাহ’। এমনকি তারা প্রায় সময় আল্লাহর যিকির না করে এইগুলো বলে থাকেন। এভাবে বললে কি শিরক হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৪) : ছেলের বউ তার শ্বশুরের পা টিপে দিতে পারবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৩) : ‘স্ত্রীকে খুশি করার জন্য এবং যুদ্ধক্ষেত্রে বীরত্ব প্রকাশের জন্য দাড়িতে কলপ ব্যবহার করা যায়’ মর্মে বর্ণিত বর্ণনাটি কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৬) : আমার স্ত্রী ২০২২ এর মার্চ মাসে সন্তান প্রসব করেন, সে জন্য এপ্রিলে ছিয়াম রাখতে পারেননি। পরের বছর সন্তানের বয়স কম থাকায় এবং বাচ্চা যথেষ্ট বুকের দুধ পাবে না, এই জন্য ২০২৩ এর ছিয়াম ও রাখেননি বা রাখতে পারেননি। এমতাবস্থায় আবার সে কনসেপ করে এবং এই রামাযানের (২০২৪) পরেই ডেলিভারি সম্ভব্য সময়। সে জন্য এই বছরের (২০২৪) ছিয়াম রাখতেও পারবে না। তাহলে তার মোট ৩ বারের ছিয়াম ক্বাযা হচ্ছে। এই অবস্থায় শারঈ বিধান কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪) : মসজিদের মেহরাবের দক্ষিণ দেয়ালে থুথু ফেলার জন্য কি জানালা রাখা যাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৯) : জনৈক ব্যক্তি পূর্বে যাকাত আদায় করেনি। এখন বিগত বছরগুলোর যাকাত কিভাবে আদায় করব? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৩) : হারাম পথে উপার্জিত সম্পদ দ্বারা হজ্জ করলে হজ্জ হবে কি? সন্তানের হারাম পথে উপার্জিত অর্থ দিয়ে পিতা-মাতা হজ্জ করতে পারবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৫) : প্রথম স্ত্রী ও দ্বিতীয় স্ত্রীর মোহরনা কি একই হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৬) : বর্তমানে ওয়াকালতি বা আইন পেশায় কাজ করা কি জায়েয? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪১) : জানাজা ছালাতের ছুটে যাওয়া অংশ আদায় করতে হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২) : ঋণ নিয়ে কুরবানী দেয়া যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

ফেসবুক পেজ