রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ১০:২১ অপরাহ্ন
উত্তর : ভালো কাজের প্রতি আন্তরিক আগ্রহ এবং মন্দ কাজের প্রতি তীব্র অনাগ্রহ ও ঘৃণা তৈরি হওয়া আল্লাহ তা‘আলার পক্ষ থেকে বান্দার জন্য এক বিশেষ অনুগ্রহ। পবিত্র কুরআন ও হাদীছে সৎ কাজের প্রতি অনুরাগী হওয়ার এবং মন্দ কাজ থেকে বেঁচে থাকার নানাবিধ মাধ্যম বর্ণনা করা হয়েছে। যেমন:
(১) আল্লাহর প্রতি পূর্ণাঙ্গ ঈমান আনয়ন : এটা মানুষকে সত্য ও সরল পথের দিশা দেয়। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, اِنَّ الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا وَ عَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ یَہۡدِیۡہِمۡ رَبُّہُمۡ بِاِیۡمَانِہِمۡ ‘নিশ্চয় যারা ঈমান আনে এবং সৎকর্ম করে, তাদের রব ঈমানের কারণে তাদেরকে সঠিক পথের দিশা দেন’ (সূরা ইউনুস : ৯)।
(২) আল্লাহর নিকট নিজেকে সম্পূর্ণ সঁপে দেয়া ও হেদায়াতের দু‘আ করা : মানুষ স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়। আল্লাহ তা‘আলার তাওফীক ছাড়া মানুষ একেবারেই অচল। তাই নিজের অক্ষমতা স্বীকার করে আল্লাহর দরবারে বিনম্রভাবে ভালো কাজের তাওফীক্ব চাওয়া আবশ্যক। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, یٰۤاَیُّہَا النَّاسُ اَنۡتُمُ الۡفُقَرَآءُ  اِلَی اللّٰہِ ۚ وَ اللّٰہُ  ہُوَ  الۡغَنِیُّ   الۡحَمِیۡدُ ‘হে মানুষ! তোমরা সবাই আল্লাহর কাছে মুখাপেক্ষী, আর আল্লাহ অভাবমুক্ত ও প্রশংসিত’ (সূরা আল-ফাতির : ১৫)।
(৩) তাক্বওয়া বা আল্লাহর ভীতি অবলম্বন ও সততার ওপর অবিচল থাকা : আল্লাহ তা‘আলাকে ভয় করে জীবন পরিচালনা করলে আল্লাহ বান্দার সংকট দূর করে দেন এবং ভালো কাজের পথ সহজ করে দেন। মহান আল্লাহ বলেন, وَ  مَنۡ یَّتَّقِ اللّٰہَ  یَجۡعَلۡ لَّہٗ  مَخۡرَجًا ۙ- وَّ یَرۡزُقۡہُ  مِنۡ حَیۡثُ لَا یَحۡتَسِبُ ‘আর যে আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার জন্য বের হওয়ার পথ বানিয়ে দেন এবং তাকে এমন স্থান থেকে রিযিক দেন, যা সে কল্পনাও করতে পারে না’ (সূরা আত-ত্বালাক্ব: ২-৩)। অন্যত্র মহান আল্লাহ বলেন, وَ مَنۡ یَّتَّقِ اللّٰہَ  یَجۡعَلۡ لَّہٗ  مِنۡ  اَمۡرِہٖ یُسۡرًا ‘আর যে আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার বিষয়সমূহ সহজ করে দেন’ (সূরা আত-ত্বালাক্ব : ৪)।
(৪) বাবা-মায়ের প্রতি সদাচরণ করা : পিতা-মাতার আনুগত্য ও তাঁদের প্রতি সদ্ব্যবহার নেক কাজের তাওফীক্ব পাওয়ার অন্যতম মাধ্যম। ঈসা (আলাইহিস সালাম)-এর গুণাবলী বর্ণনা করতে গিয়ে আল্লাহ তা‘আলা বলেন, وَّ بَرًّۢا بِوَالِدَتِیۡ ۫ وَ لَمۡ  یَجۡعَلۡنِیۡ جَبَّارًا شَقِیًّا ‘এবং আমাকে আমার মায়ের প্রতি সদাচরণকারী করেছেন, আর তিনি আমাকে অহংকারী ও হতভাগ্য বানাননি’ (সূরা মারিয়াম : ৩২)।
(৫) গোনাহ ও অশ্লীল কাজ থেকে বিরত থাকা এবং ইস্তিগফার করা : পাপ কাজ মানুষের অন্তরের আলো (নূর) নিভিয়ে দেয়। ফলে ভালো-মন্দের পার্থক্য করার অনুভূতি নষ্ট হয়ে যায়। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, فَاِنۡ تَوَلَّوۡا فَاعۡلَمۡ اَنَّمَا یُرِیۡدُ اللّٰہُ اَنۡ یُّصِیۡبَہُمۡ بِبَعۡضِ ذُنُوۡبِہِمۡ ؕ وَ اِنَّ  کَثِیۡرًا مِّنَ  النَّاسِ  لَفٰسِقُوۡنَ ‘সুতরাং তারা যদি মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে জেনে রাখো- আল্লাহ তাদের কোন কোন পাপাচারের কারণে তাদেরকে বিপদে ফেলতে চান; আর নিশ্চয় মানুষের মধ্যে অনেকেই পথভ্রষ্ট’ (সূরা আল-মায়েদাহ : ৪৯)। পাপের প্রভাব দূর করতে বেশি বেশি ইস্তিগফার (ক্ষমা প্রার্থনা) করা প্রয়োজন (সূরা আন-নিসা : ১১০)।
(৬) দান-ছাদাক্বাহ করা : আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে দান করলে আল্লাহ সৎ কাজের পথকে সহজ করে দেন। ইরশাদ হয়েছে,

فَاَمَّا مَنۡ اَعۡطٰی وَ اتَّقٰی-وَ صَدَّقَ بِالۡحُسۡنٰی- فَسَنُیَسِّرُہٗ  لِلۡیُسۡرٰی

‘অতএব যে দান করে ও তাক্বওয়া অবলম্বন করে এবং উত্তম বিষয়কে সত্য বলে বিশ্বাস করে, আমি তার জন্য সুগম করে দেব সহজ পথ’ (সূরা আল-লাইল : ৫-৭)। এছাড়া আরো অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম রয়েছে। যেমন: সৎসঙ্গ গ্রহণ করা। কেননা নেককার ও সৎ লোকদের সঙ্গ অন্তরে আল্লাহর আনুগত্য বাড়ায় (সূরা আল-কাহ্ফ : ২৮);
(৭) হালাল উপার্জন : হালাল রিযিক অন্তরকে আলোকিত করে এবং ইবাদতে একাগ্রতা এনে দেয় (সূরা আল-মুমিনূন : ৫১); আল্লাহর নে‘মতের শুকরিয়া আদায়: আল্লাহর নে‘মতের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলে তিনি নে‘মত ও তাওফীক্ব আরও বাড়িয়ে দেন। আল্লাহ বলেন, لَئِنۡ شَکَرۡتُمۡ لَاَزِیۡدَنَّکُمۡ ‘যদি তোমরা শুকরিয়া আদায় করো, তবে আমি অবশ্যই তোমাদের নে‘মত বাড়িয়ে দেব’ (সূরা ইবরাহীম : ৭)।


প্রশ্নকারী : মুহাম্মাদ ইউনুস, গোদাগাড়ী, রাজশাহী।





প্রশ্ন (১৭) : ব্যবসার ক্ষেত্রে বা বাড়ী-দোকান বিক্রয়ের ক্ষেত্রে সমাজে দালালি প্রথা চালু আছে। এটা কি শরী‘আত সম্মত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২) : মেয়েরা ফ্যাশনেবল/আকর্ষনীয় ব্যাগ ব্যবহার করতে পারবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৭) : নাকের অপারেশন করলে ওযূ এবং ছালাত কিভাবে আদায় করতে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৬): কোন্ কোন্ সময় ছালাত আদায় করা যায় না? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩০) : কিছু বাড়ি আছে যেখানে কল এবং গৃহস্থালির বাসনপত্র সোনার তরল দিয়ে প্রলেপ দেয়া আছে, সেগুলো নেয়া এবং ব্যবহার করা কি হারাম? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১১) : হিবা কী ও কিভাবে সংঘটিত হয়? কোন্ ধরনের বস্তুতে হিবা শুদ্ধ হয়? হিবা এবং ছাদাক্বার মধ্যে পার্থক্য কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৬) : মৃত বা জীবিত ব্যক্তির পক্ষ থেকে বদলী ওমরাহ করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১২) : রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কতজন ছাহাবী বিবাহ করেননি বা সংসার করেননি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৯) : রুকূ অবস্থায় দৃষ্টি কোথায় রাখতে হবে এবং ইমাম যখন ‘সামি‘আল্লাহু লিমান হা‘মদাহ’ বলেন, তখন মুক্তাদীগণও কি ‘সামি‘আল্লাহু লিমান হামিদাহ’ বলবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৪) : ছহীহ মুসলিমে রয়েছে, রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, ‘তোমরা দুনিয়া ও নারী জাতি থেকে সাবধান থাক। কেননা বানী ইসরাঈলের উপর প্রথম যে দুর্ঘটনা ঘটেছিল, তা নারীদের মধ্য হতে ঘটেছিল’ (হা/২৭৪২)। বানী ইসরাঈলের সেই নারী কেন্দ্রিক ঘটনা কী ছিল? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩০) : তারাবীহর ছালাতে এক ব্যক্তি দু’বার দুই জায়গায় ইমামতি করতে পারবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২১) : সন্তানদেরকে দান করার ব্যাপারে শরী‘আতের বিধান কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

ফেসবুক পেজ