শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬, ০১:৪৫ অপরাহ্ন
উত্তর : দালালী বলতে বুঝায়, ক্রেতা ও বিক্রেতার মাঝে মধ্যস্থতা করা বা সংযোগ স্থাপন করা। আর দালাল বলতে বুঝায়- যে বিক্রয়ের কাজ সুসম্পন্ন করার জন্য ক্রেতা ও বিক্রেতার মাঝে মধ্যস্থতাকারী হিসাবে প্রবেশ করে। যাকে নিলামকারী বা ব্রোকার বলা হয়। কারণ সে ক্রেতাকে পণ্যের প্রতি নির্দেশনা দেয় আর বিক্রেতা নির্দেশনা দেয় মূল্যের প্রতি (ফিক্বাহ বিশ্বকোষ বা আল-মাওসূ‘আতুল ফিক্বহিয়্যাহ, ১০/৫১৫ পৃ.)। উক্ত কাজে পারিশ্রমিক হিসাবে কমিশন গ্রহণ করা জায়েয। কেননা বৈধ উপায়ে হালাল কাজের সুযোগ করে দিয়ে কমিশন গ্রহণ করা জায়েয। এটিকেই ইসলামিক পরিভাষায় ‘সামসারাহ’ বা দালালী বলা হয়। আর বৈধ উপায়ে দালালী করা জায়েয। যদিও বর্তমান সময়ে দালালী পরিভাষাটিকে অসৎ অর্থে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। হুনাইনের যুদ্ধের সময় রাসূল (ﷺ) বলেন,

‘যে ব্যক্তি কাউকে নিহত করেছে এবং তার নিকট এর সাক্ষ্য রয়েছে, তার নিকট হতে প্রাপ্ত মাল-সামান তারই প্রাপ্য। তখন আমি (উমার (রাযিয়াল্লাহু আনহু)) দাঁড়িয়ে বললাম, কে আছো যে আমার পক্ষে সাক্ষ্য দিবে? অতঃপর আমি বসে পড়লাম। রাসূল (ﷺ) আবার বললেন, যে ব্যক্তি কাউকে হত্যা করেছে এবং তার নিকট এর সাক্ষ্য রয়েছে, তার নিকট হতে প্রাপ্ত মাল-সামান তারই প্রাপ্য। আমি দাঁড়িয়ে বললাম, কে আছো যে, আমার পক্ষে সাক্ষ্য দিবে? অতঃপর আমি বসে পড়লাম। রাসূল (ﷺ) তৃতীয়বার ঐরূপ বললেন, আমি আবার দাঁড়ালাম, ...’ (ছহীহ বুখারী, হা/৩১৪২, ২১০০)

আলেমগণের সর্বসম্মতিক্রমে দালালী করা বৈধ এবং এর মাধ্যমে বিনিময় গ্রহণ করাও জায়েয। সঊদী আরবের স্থায়ী ফাতাওয়া কমিটি ও শাইখ ইবনু বায (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘বৈধ কাজের জন্য বৈধ চুক্তির ভিত্তিতে ক্রেতা ও বিক্রেতার মাঝে সংযোগ ঘটিয়ে দেয়ার জন্য উভয়ের সম্মতিক্রমে বিনিময় গ্রহণ করা জায়েয’ (ফাতাওয়া আল-লাজনা আদ-দায়িমাহ, ১১/১৭৫, ১৩/১২৫; ফাতাওয়া নূরুন ‘আলাদ র্দাব লিইবনি বায, ১৯/২৬১-২৬২, ১৯/৩৫৮ পৃ.)। অন্যত্র সঊদী আরবের স্থায়ী ফাতাওয়া কমিটিকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে, মধ্যস্থতাকারী হিসাবে চুক্তিকৃত কমিশন নেয়ার বিধান কী? এতে তার কোন পাপ হবে কি? উত্তরে তারা বলেন, ‘যদি বর্ণিত অবস্থা সত্য হয়, তবে আপনার জন্য সেই কমিশন নেয়া জায়েয এবং তাতে কোন পাপ হবে না’ (ফাতাওয়া আল-লাজনা আদ-দায়িমাহ, ১৩/১২৫-১৩১ পৃ.)। তবে তা হতে হবে নির্ধারিত এবং ইনছাফ ভিত্তিক (আল-মাওসূ‘আতুল ফিক্বহিয়্যাহ, ২৬/৬০ পৃ.)।

শাইখ ইবনে বায (রাহিমাহুল্লাহ)-কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে, দোকান বা ফ্ল্যাট খুঁজে দেয় এমন ব্যক্তিকে কি দালালী হিসাবে বিনিময় প্রদান করা যাবে? উত্তরে তিনি বলেন, ‘এতে কোন সমস্যা নেই, কারণ এটি একটি পারিশ্রমিক। তবে শর্ত হল- এতে কোন ধরনের বিশ্বাসঘাতকতা বা প্রতারণা থাকবে না, বরং আমানতদারিতা ও সততার ভিত্তিতে কাজ করতে হবে। যদি তুমি সত্যবাদী হও এবং প্রার্থিত বস্তু খুঁজে দিতে আমানতদারীতা প্রদর্শন কর, যাতে কোন প্রতারণা বা যুলম না থাকে, না ভাড়াটিয়ার প্রতি না বাড়ির মালিকের প্রতি, তাহলে ইনশাআল্লাহ তুমি ভালো কাজ করছ’ (মাজমূঊ ফাতাওয়া ইবনে বায, ১৯/৩৫৮ পৃ.)। বর্ণিত আছে যে, ﺳﺌﻞ ﺍﻹﻣﺎﻡ ﻣﺎﻟﻚ ﺭﺣﻤﻪ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻦ ﺃﺟﺮ ﺍﻟﺴﻤﺴﺎﺭ ﻓﻘﺎﻝ : ﻻ ﺑﺄﺱ ﺑﺬﻟﻚ ‘ইমাম মালিক (রাহিমাহুল্লাহ)-কে দালালীর বিনিময় গ্রহণ করা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে উত্তরে তিনি বলেন, এতে কোন সমস্যা নেই’ (আল-মুদাওয়ানাতুল কুবরা, ৩/৪৬৬ পৃ.)

ইমাম বুখারী (রাহিমাহুল্লাহ) ছহীহ বুখারীর অধ্যায় নং ৩৭, অনুচ্ছেদ নং ১৪, হাদীছ নং ২২৭৪ এর শিরোনামে ‘দালালীর প্রাপ্য প্রসঙ্গে’ বলেছেন, ‘ইবনু সীরীন, ‘আত্বা, ইবরাহীম ও হাসান (রাহিমাহুমুল্লাহ)-এর মত যুগশ্রেষ্ঠ ইমামগণ দালালীর বিনিময় গ্রহণ করাকে দোষনীয় মনে করেননি। ইবনু ‘আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, যদি কেউ বলে যে, তুমি এ কাপড়টি এত দামে বিক্রি করে দাও। নির্ধারিত মূল্যর চেয়ে যা বেশী লাভ হবে তা তোমার। এরূপ চুক্তিতে কোন দোষ নেই। ইবনু সীরীন (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘যদি কেউ বলে যে, এটা এত এত দামে বিক্রি করে দাও, লাভ যা হবে, তা তোমার অথবা তোমার ও আমার মধ্যে সমান হারে বণ্টিত হবে, তবে এরকম চুক্তিতে কোন দোষ নেই। কেননা নবী (ﷺ) বলেছেন, الْمُسْلِمُونَ عِنْدَ شُرُوطِهِمْ ‘মুসলিমগণ তাদের কৃতচুক্তির আওতাধীন’ (আবূ দাঊদ, হা/৩৫৯৪)। (অর্থাৎ শরী‘আত বিরোধী চুক্তি না হলে তা অবশ্যই পূরণীয়, আর দালালীও একটি চুক্তি বিধায় তা বৈধ ও পূরণীয়)। ইমাম কুদামা (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ইবনু সীরীন, ‘আত্বা, নাখঈ ও ইমাম শাফিঈ (রাহিমাহুমুল্লাহ) বলেছেন, ‘নির্ধারিত সময়ের মধ্যে, নির্দিষ্ট কাজের জন্য, চুক্তিকৃত হারে (শতাংশে) দালালীর বিনিময় গ্রহণ করা জায়েয’ (আল-মুগনী, ৮/৪২ পৃ.; ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-৪৫৭২৬)। তবে দালালির মাধ্যমে যদি প্রতারণা উদ্দেশ্য হয়, তাহলে তা হারাম ও নিষিদ্ধ। যে দালালীর মাধ্যমে কোন জিনিসের দাম ন্যায্য মূল্যের চেয়ে বাড়িয়ে বা কমিয়ে দেয়া হয় বা ধোঁকা দেয়া হয় তাকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নিষিদ্ধ ঘোষণা বলেছেন। তিনি বলেছেন, مَنْ غَشَّ فَلَيْسَ مِنِّي ‘যে ব্যক্তি ধোঁকাবাজি ও প্রতারণা করে, সে আমার অন্তর্ভুক্ত নয়’ (ছহীহ মুসলিম, হা/১০১-১০২)। ইমাম তিরমিযী (রাহিমাহুল্লাহ) বর্ণনা করেন যে, كَرِهُوا الْغِشَّ وَقَالُوا الْغِشُّ حَرَامٌ  ‘আলেমদের মতানুযায়ী প্রতারণা ও ধোঁকাবাজি খুবই জঘন্য অপরাধ এবং তাঁরা বলেছেন, প্রতারণা করা হারাম’ (তিরমিযী, হা/১৩১৫)


প্রশ্নকারী : আমীর হামযা, ঢাকা।





প্রশ্ন (৩৫) : বিভিন্ন দল ও গ্রুপের মধ্যে যে মতভেদ বিরাজমান সেক্ষেত্রে একজন মুসলিমের অবস্থান কী হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৫) : নিম্নের দু‘আটি পড়া যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৫) : জনৈক ব্যক্তির উপর তার পিতা-মাতা অযথা যুলুম করে। সে জন্য পিতা-মাতার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করতে চাচ্ছে। এটা কি উচিত হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩১) : মায়ের পেট থেকে মৃত সন্তান জন্ম নিলে তার জানাযা পড়তে হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৬) : ছালাতে মাঝে মধ্যে রুকূতে সিজদার তাসবীহ অথবা সিজদাতে রুকূ-র তাসবীহ পড়ে ফেলি। রুকূ‘-সিজদাহ সম্পূর্ণ হওয়ার পর মনে পড়ে আমি ভুল করেছি। এই ক্ষেত্রে করণীয় কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৫) : পূর্ববর্তী কিতাবগুলো ছহীফা আকারে নাযিল হয়েছিল। এগুলো কি আল্লাহর কালাম? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১২) : অধিক সম্পদ পুলছিরাত পার হতে কষ্টের কারণ হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪১) : মসজিদের ইমাম বলেন, যে ব্যক্তি রামাযান মাসের ২৭ তারিখের রজনী ইবাদতে কাটাবে, তার আমলনামায় আল্লাহ ২৭ হাজার বছরের ইবাদতের তুল্য ছওয়াব প্রদান করবেন এবং জান্নাতে তার জন্য অসংখ্য মনোরম বালাখানা নির্মাণ করবেন, যার সংখ্যা আল্লাহ ব্যতীত কেউ অবগত নন (আশরাফ আলী থানবী, পূর্ণাঙ্গ নামাজ শিক্ষা, পৃ. ৩১০)। উক্ত বর্ণনা কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৬) : জনৈক ব্যক্তি রাগের বশবর্তী হয়ে তার স্ত্রীকে বলে যে, আমার সাথে দেখা করলে কিংবা আমার সাথে কথা বললে ‘তুই আমার মা আর আমি তোর ছেলে’। তারা ভুল বুঝতে পেরে অনুতপ্ত। এক্ষণে তার করণীয় কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৯) : একই কাতারে ইমাম মুক্তাদিরা দাঁড়িয়ে ছালাত আদায় করতে পারবে কি? অনেক সময় দু’জন দাঁড়িয়ে ছালাত শুরু করে পরবর্তীতে তাদের সাথে আরো লোকজন শামিল হয়। এমতাবস্থায় ইমাম সামনে না যেয়ে বা মুক্তাদিদের পিছনে না ঠেলে যদি একই কাতারে থেকে ছলাত শেষ করে তাহলে কি সেটা নাজায়েয হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৬) : আমি একজন ব্যবসায়ীকে কিছু পণ্য কিনে দিয়েছি এবং তাকে বলেছি যে, তার ইনছাফ মত আমাকে যা পার লাভ দিতে। এটা কি সূদ হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩) : নখে রঙ লাগিয়ে তথা নেইল পলিশ লাগিয়ে ছালাত আদায় করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ