রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ১০:২১ অপরাহ্ন
উত্তর : এ বিষয়ে দু’টি মত পরিলক্ষিত হয়। (১) একদিকে শাইখ মুহাম্মাদ ইবনু ছালিহ আল-উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘উচিত হল- এটিকে স্থায়ী সুন্নাহ হিসাবে গ্রহণ না করা। অর্থাৎ বিদ্যালয়ের অনুষ্ঠান বা সম্প্রচার শুরু করার সময় নিয়মিতভাবে কুরআন তিলাওয়াত করাকে স্থায়ী রীতি বানানো উচিত নয়। কারণ কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে সূচনা করা একটি ইবাদত। আর ইবাদতের জন্য শরী‘আতের পক্ষ থেকে প্রমাণ থাকা আবশ্যক। আমি এমন কোন শারঈ নির্দেশনা জানি না, যেখানে উম্মতকে তাদের বক্তব্য, বক্তৃতা, আলোচনা ও এ ধরনের অন্যান্য কার্যক্রম কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু করতে বলা হয়েছে। তবে কেউ যদি কোন বক্তৃতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কুরআনের আয়াত শুরুতে তিলাওয়াত করে, যাতে তা বক্তৃতার ভূমিকা হিসাবে কাজ করে এবং বক্তা সেই তিলাওয়াতকৃত আয়াতগুলোর অর্থ ও তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা করেন, তাহলে এতে কোন অসুবিধা নেই। বরং এটি ভালো কাজ। উদাহরণস্বরূপ, বক্তৃতার বিষয় যদি ছিয়াম হয়, তাহলে বক্তৃতা শুরুর আগে কেউ ছিয়াম-সংক্রান্ত আয়াতগুলো তিলাওয়াত করতে পারে। অথবা বক্তৃতার বিষয় যদি হজ্জ হয়, তাহলে কেউ হজ্জ-সংক্রান্ত আয়াতগুলো তিলাওয়াত করতে পারে। এতে কোন অসুবিধা নেই। কারণ, এ তিলাওয়াতটি সংশ্লিষ্ট বক্তৃতার উপযোগী ভূমিকা হিসাবে কাজ করে এবং আয়াতগুলোর সঙ্গে বক্তৃতার বিষয়ের সামঞ্জস্য রয়েছে। কিন্তু প্রত্যেকবার বক্তৃতা দেয়ার সময়, অথবা যখনই আমরা কোন কথা বলতে চাই, তখনই কুরআন তিলাওয়াত করাকে নিয়মিত সুন্নাহ বা স্থায়ী রীতিতে পরিণত করা সুন্নাতসম্মত নয়’ (ফাতাওয়া নূরুন আলাদ দারব, অডিও রেকর্ডিং নম্বর ২৪৪)।

অন্যত্র শাইখ (রাহিমাহুল্লাহ)-কে প্রশ্ন করা হয়েছিল যে, শাইখ! কোন বৈঠক বা সভা পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু করার বিধান কী? উত্তরে শাইখ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘কুরআনের কোন অংশ তিলাওয়াতের মাধ্যমে সভা শুরু করার ব্যাপারে আমি কোনো ভিত্তি (দলীল) জানি না। তবে এটি প্রচলিত রীতিতে পরিণত হয়েছে। আর উত্তম হল- এমনটি না করা, বরং মহান আল্লাহর প্রশংসা ও গুণগান করে এবং যথাসম্ভব উপযুক্ত কিছু কথা বলে সভার সূচনা করা’  (লিক্বাউল বাব আল-মাফতূহ, লিক্বা নং-২০৩)।

শাইখ বাকর আবু যায়িদ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘এই উম্মতের পূর্ববর্তী নেককার সালাফদের কর্মপদ্ধতিতে যেসব নতুন প্রথার অস্তিত্ব ছিল না, সেগুলোর মধ্যে একটি হল- সম্মেলন, সভা-সমাবেশ, বৈঠক, বক্তৃতা ও সেমিনারের শুরুতে নিয়মিতভাবে পবিত্র কুরআনের কিছু আয়াত তিলাওয়াত করাকে অপরিহার্য রীতিতে পরিণত করা। মুসলিমদের ইতিহাসে ১৩৪২ হিজরীর পর ছাড়া এ প্রথার প্রচলন ঘটেছে বলে আমি জানি না। এর আগে এমনটি ছিল না। অথচ সমগ্র উম্মতের আদর্শ, বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর কর্মপদ্ধতিতে এমন কাজের কোন দৃষ্টান্ত পাওয়া যায় না, তিনি একবারও এমনটি করেছেন বলে জানা নেই। বিশেষত, গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে পরামর্শ করার জন্য যখন তিনি ছাহাবীদের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের একত্র করতেন, তখনও এমনটি করতেন না। তাঁর পর খোলাফায়ে রাশেদীন (রাহিমাহুল্লাহ)-এর কর্মপদ্ধতিও একই ছিল ছাক্বিফার বৈঠক থেকে শুরু করে তাঁদের পরবর্তী সময়ের বিভিন্ন সমাবেশ পর্যন্ত। তাঁদের পর যাঁরা উত্তমভাবে তাঁদের অনুসরণ করেছেন, তাঁদের যুগেও একই অবস্থা ছিল। এ বিধানটি এমন অনুষ্ঠান বা কার্যক্রমের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে, যার সূচনা শরী‘আত সম্মতভাবে করা হয়। কিন্তু কোন অনুষ্ঠান বা কার্যক্রম যদি নিষিদ্ধ, হারাম কিংবা মাকরূহ হয়, তাহলে শরী‘আতসম্মত কারণ না থাকার জন্য সেটির সূচনা কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে করা শরী‘আতসম্মত নয়, বরং তা হারাম। কারণ এর মাধ্যমে আল্লাহ তা‘আলার বাণীকে এমন একটি নিষিদ্ধ সমাবেশে অবমাননার ঝুঁকির মুখে ফেলা হয়। এর উদাহরণ হল- ফুটবল মাঠে নিষিদ্ধ খেলাকে কেন্দ্র করে হারাম বাজির প্রতিযোগিতা, কুস্তি, বক্সিং, পশুদের পরস্পরের সঙ্গে লড়াই করানো, গাড়ি ও মোটরসাইকেলের দৌড় প্রতিযোগিতা ইত্যাদি। এসব কার্যক্রমের মধ্যে হারাম বাজি জড়িত থাকে এবং এগুলো আরও বিভিন্ন হারাম কাজের দিকে নিয়ে যেতে পারে (তাছহীহুদ দু‘আ, পৃ. ২৯৮)।

শাইখ আব্দুর রাযযাক আফীফী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘এটি বিদ‘আতের অন্তর্ভুক্ত। কোন সভা-সমাবেশের আনুষ্ঠানিক সূচনা কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে করাকে একটি নির্দিষ্ট রীতি বানিয়ে নেয়া বিদ‘আত, কারণ এ ব্যাপারে কোন দলীল বর্ণিত হয়নি। তাই এটিকে নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত করা উচিত নয়। তবে মাঝেমধ্যে এমনটি করা জায়েয...। আর অনুষ্ঠানটিতে যদি কোন অন্যায় বা শরী‘আতবিরোধী কর্মকাণ্ড থাকে, তাহলে নিষেধের বিষয়টি আরও জোরালো হয়। কারণ  কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে এমন অন্যায় কর্মকাণ্ডের সূচনা করা কুরআনের প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শনের শামিল আল্লাহ আমাদের রক্ষা করুন। সুতরাং আপনাদের করণীয় হল- প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিতভাবে আবেদন জানানো এবং তাদেরকে অনুরোধ করা, যেন তারা এসব অনুষ্ঠানের সূচনা কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে না করেন। আর আপনিও এ ধরনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত হবেন না এবং তাতে অংশগ্রহণ করবেন না (ইসলাম ওয়েব অফিসিয়াল, https://share.google/1erJfiSNiK1dxjYU3)।

শাইখ ছালিহ আল-মুনাজ্জিদ (হাফিযাহুল্লাহ) বলেন, ‘এ কাজটি সুন্নাতসম্মত নয়। আমাদের জানা মতে, নবী (ﷺ) ও তাঁর ছাহাবীদের কর্মপদ্ধতিতে এর কোন দৃষ্টান্ত ছিল না। সুতরাং এ কাজকে নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত করা দ্বীনের মধ্যে বিদ‘আতের অন্তর্ভুক্ত হবে। আর সর্বোত্তম আদর্শ হল মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর আদর্শ (ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-১০৫৩২৭)।

অন্যদিকে শাইখ ইবনু বায (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘এ বিষয়ে সুস্পষ্ট কোন বক্তব্য আমার জানা নেই। তবে নবী (ﷺ)-এর অভ্যাস ছিল, তিনি যখন তাঁর ছাহাবীদের সঙ্গে একত্রিত হতেন, তখন কুরআন তিলাওয়াত করতেন অথবা ছাহাবীরা তাঁর সামনে কুরআন তিলাওয়াত করতেন। এই বিষয়টিও সেই একই ধরনের কাজের অন্তর্ভুক্ত। তাই আমরা এর মধ্যে কোন বাধা দেখি না। বরং এর মধ্যে অনেক কল্যাণ রয়েছে। এর মাধ্যমে আল্লাহ্র কিতাবের এমন বিষয়গুলোর প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়, যা মানুষের উপকারে আসে। আর কথা শুরু করার জন্য আল্লাহর কিতাবের চেয়ে উত্তম বিষয় আর কী হতে পারে! নবী (ﷺ) যখন তাঁর ছাহাবীদের সঙ্গে একত্রিত হতেন, তখন তিনি তাঁদের সামনে কুরআন তিলাওয়াত করতেন এবং তাঁরা মনোযোগ দিয়ে নীরবে শুনতেন। তিনি তাঁদের শিক্ষা দিতেন, সঠিক পথের দিশা দেখাতেন এবং আল্লাহর বাণীর অর্থ ও তাৎপর্য ব্যাখ্যা করতেন। কখনো কখনো তিনি কোন ছাহাবীকে কুরআন তিলাওয়াত করার নির্দেশও দিতেন। যেমন আব্দুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, ‘একদিন নবী (ﷺ) তাঁর ছাহাবীদের সঙ্গে বসে ছিলেন। তখন তিনি আব্দুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে বললেন, ‘আমাকে কুরআন তিলাওয়াত করে শোনাও’। তিনি বললেন, ‘আমি আপনাকে কুরআন কীভাবে তিলাওয়াত করে শোনাব, অথচ আপনার উপরই তো তা অবতীর্ণ হয়েছে?’ নবী (ﷺ) বললেন, ‘আমি অন্য কারও কাছ থেকে তা শুনতে ভালোবাসি’। তখন আব্দুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রাহিমাহুল্লাহ) সূরা আন-নিসার প্রথম দিক থেকে তিলাওয়াত করতে শুরু করলেন। তিলাওয়াত করতে করতে যখন তিনি আল্লাহ তা‘আলার এই আয়াতে পৌঁছালেন-

فَکَیۡفَ اِذَا جِئۡنَا مِنۡ کُلِّ اُمَّۃٍۭ بِشَہِیۡدٍ وَّ جِئۡنَا بِکَ عَلٰی ہٰۤؤُلَآءِ شَہِیۡدًا

‘তখন কী অবস্থা হবে, যখন আমরা প্রত্যেক উম্মত থেকে একজন সাক্ষী উপস্থিত করব এবং আপনাকেও তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষী হিসাবে উপস্থিত করব?’ (সূরা আন-নিসা : ৪১)। তখন নবী (ﷺ) বললেন, ‘যথেষ্ট হয়েছে’। আব্দুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, ‘আমি তাঁর দিকে তাকিয়ে দেখলাম, তাঁর দুই চোখ থেকে অশ্রু ঝরছিল’ (বুখারী, হা/৫০৫০; মুসলিম, হা/৮০০; শাইখ আব্দুল্লাহ ইবনে বায অফিসিয়াল ওয়েবসাইট, https://binbaz.org.sa/fatwas/4431/%D8%AD%D9%83%D9)। শাইখ মুহাম্মাদ নাছিরুদ্দীন আলবানী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘কুরআনের দশটি আয়াত তিলাওয়াতের মাধ্যমে মাজলিস শুরু করা সালাফদের আমলের অন্তর্ভুক্ত। কোন বৈঠক বা পাঠদানের সূচনায় কুরআনের দশটি আয়াত পাঠ করার বিষয়টিকে আমি পূর্বে আলোচিত বিদ‘আতের অন্তর্ভুক্ত করতে সাহস পাচ্ছি না। কারণ, আমি যখন সিরিয়ার দামেস্কে ছিলাম, তখন ইবনু আসাকিরের তারিখ গ্রন্থে একটি শক্তিশালী আছার পেয়েছি যে, ছাহাবীরা তাঁদের পাঠদান বা দারস কুরআনের দশটি আয়াত দিয়ে শুরু করতেন। তবে মাজলিস শেষ করার ক্ষেত্রে বিষয়টি এমন নয়। বরং মাজলিস শেষ করা উচিত কাফফারাতুল মাজলিসের দু‘আ দিয়ে। এই দু‘আটি সবারই পরিচিত। আপনার প্রশ্নের উত্তর এটাই’  (সিলসিলাতুল হুদা ওয়ান নূর, অডিও রেকর্ডিং নম্বর: ৩৪৮ ও ৪০২)।


প্রশ্নকারী : আব্দুর রঊফ, সাতক্ষীরা।





প্রশ্ন (২২) : জনৈক মহিলা বিয়ের সময় প্রায় ১২ ভরি স্বর্ণ পেয়েছিল। তার অন্য কোন আয় নেই। শুধু স্বামী কিছু হাত খরচ দেন। এক্ষণে ঐ স্বর্ণের যাকাত মহিলা নিজে দিবে, না তার স্বামী দিবেন? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৮) : চরমপন্থা সম্পর্কে ইসলামের বক্তব্য কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২১) : আমার নামটি জাপানিজ শব্দের। আমি আমার নাম পরিবর্তন করতে চাই। নাম পরিবর্তন করলে আক্বীক্বা দিতে হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১২) : পুরুষরা হাতে-পায়ে মেহেদি লাগাতে পারবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৮) : তিন বছর কিংবা পাঁচ বছরের জন্য সাময়িক জন্ম নিয়ন্ত্রণ কাঠি পড়া গ্রহণ করতে পারবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১) : যেকোন কাজ আল্লাহর জন্য করতে চাইলেও মনের মধ্যে রিয়া প্রভাব বিস্তার করে। যেমন ছালাতের ক্ষেত্রে, দান-ছাদাক্বার ক্ষেত্রে। এমতাবস্থায় কী করা উচিত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৫) : কেউ যদি অনলাইনে ফটোগ্রাফি (প্রাণহীন জিনিসের) সেল বিজনেস করে তা কি হারাম হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৩) : শয়তানের ওয়াসওয়াসা কি বান্দার ঈমানকে নষ্ট করে দেয়? শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে বাঁচার উপায় কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৮) : ইসলামী উপায়ে হিকমাহ বা প্রজ্ঞা বৃদ্ধির উপায় কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১) : ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লা-হু’ কিভাবে তাওহীদের সকল প্রকারকে অন্তর্ভুক্ত করে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৯) : হাদীছ থেকে জানা যায় যে, তিন শ্রেণীর মুসলিমদের হত্যা করা যায়। ১. বিবাহিত অবস্থায় যেনা করা ব্যক্তি, ২. হত্যার প্রতিশোধ বা ক্বিছাছের হত্যা, ৩. যারা জাম‘আত থেকে বের হয়ে যাবে। প্রশ্ন হল, হাদীছটি কি ছহীহ? আর জামা‘আত বলতে কী বুঝানো হয়েছে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২২) : যেকোন মসজিদে ই‘তিকাফ করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

ফেসবুক পেজ