উত্তর : উক্ত শব্দ মৃত ব্যক্তির নামের আগে ব্যবহার করা উচিত নয়। এর পরিবর্তে নিম্নের দু‘আ করা উত্তম- পুরুষের জন্য ‘রহিমাহুল্লাহ’ (رَحِمَهُ اللهُ) ‘আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন’। নারীর জন্য ‘রহিমাহাল্লাহ’ (رَحِمَهَا اللهُ) ‘আল্লাহ তার ওপর রহম করুন’। কারণ ‘মারহূম’ (مَرْحُوْم) আরবী শব্দটির অর্থ, ‘যার ওপর রহম করা হয়েছে’। এটা মৃত ব্যক্তির নামের আগে ব্যবহার করার রীতি সমাজে প্রচলিত আছে। অথচ তার উপর রহম করা হয়েছে কি-না কেউ নিশ্চিত নয়। আর যদি কেউ বিশ্বাস করে যে, ‘আল্লাহ নিশ্চিতভাবেই তাকে ক্ষমা করে জান্নাতী বানিয়ে দিয়েছেন’, তাহলে তা বলা হারাম ও নাজায়েয। কারণ, জান্নাত বা জাহান্নামের সুনির্দিষ্ট সংবাদ একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কেউ জানেন না। তাই ইমাম মুহাম্মাদ ইবনু ছালিহ আল-উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘মরহূম’-এর পরিবর্তে ‘রহিমাহুল্লাহ’ বলা অধিক উত্তম। কারণ মরহুম শব্দটি ইসমুল মাফঊল (কর্মবাচ্য), যা কাজটি অর্জিত হয়ে গেছে বোঝায়, যা দু‘আমূলক বাক্যের বিপরীত’ (মাজমূঊ ফাতাওয়া ওয়া রাসাইল লিইবনিল উছাইমীন, ২/১২৭ পৃ.)।
এ প্রসঙ্গে সঊদী আরবের স্থায়ী ফাতাওয়া কমিটির বলেন, ‘মৃতকে ‘মরহূম’ বলা যদি খবর বা সুনিশ্চিত দাবির ভিত্তিতে হয়, তবে তা নাজায়েয; কারণ তা গাইবের (অদৃশ্যের) বিষয়। তবে যদি দু‘আ ও আল্লাহর রহমতের আশা ব্যক্ত করার উদ্দেশ্যে হয়, তবে কোন অসুবিধা নেই। তবে সবচেয়ে উত্তম হলো ‘রহিমাহুল্লাহ’ বলা’ (ফাতাওয়া আল-লাজনাহ আদ-দাইমাহ, ৯/১৪১ পৃ., ফৎওয়া নং-৮৬৮৬)।
প্রশ্নকারী : মুহাম্মাদ হুসাইন রহমান, যশোর।