রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:১৩ অপরাহ্ন
উত্তর : জুয়া একটি গর্হিত অন্যায় এবং কাবীরা গুনাহ। কুরআন ও হাদীছে তা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। এভাবে অর্জিত অর্থ হারাম ও অপবিত্র। প্রশ্নে বর্ণিত ব্যক্তি যদিও এখন আল্লাহর দিকে ফিরে আসতে চায় এটি নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় ও তাওবার পথের প্রথম ধাপ, তবে তার অতীতের জুয়ার উপার্জনের ব্যাপারে শরী‘আতের নির্দেশনা খুবই স্পষ্ট। শরী‘আতের মূলনীতি হলো- المال الحرام لا ينتفع به الإنسان ولو تاب ‘হারাম অর্থ থেকে উপকৃত হওয়া যাবে না, যদি কেউ তওবাও করে’। এ কথা বহু ফিকহবিদ ও মুজতাহিদ ইমামদের বক্তব্যে পাওয়া যায়। ইমাম নববী (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, ‘যদি সম্পদটি প্রকৃত হারাম হয়, যেমন চুরি, ছিনতাই, মদ বিক্রির অর্থ ইত্যাদি, তবে তা থেকে তওবা করার তিনটি শর্ত। যথা: (১) তা ব্যবহার করা বন্ধ করবে, (২) অনুতপ্ত হবে, (৩) মালিককে ফিরিয়ে দিবে, আর যদি মালিককে না চেনে তাহলে দান করে দেবে’ (আর-রওযা, ইমাম নববী, ৯/৩২৫ পৃ.)।

এমতাবস্থায় করণীয় হল- (১) তওবা করা : প্রথম কাজ হল আন্তরিকভাবে তাওবা করা, আল্লাহর কাছে কান্নাকাটি করে ফিরে আসা, ভবিষ্যতে কখনো জুয়ায় জড়াবে না এই দৃঢ় সংকল্প করা। (২) হারাম অর্থ পরিত্যাগ করা : যদি সম্ভব হয়, সেই অর্থ গরীব-দুঃখীদের দান করে দেয়া। তবে, এই দানটি ছওয়াবের নিয়তে হবে না, বরং হারাম অর্থের বোঝা ঝেড়ে ফেলার নিয়তে। (৩) হারাম অর্থ দিয়ে নিজের উপকার করা যাবে না : নিজের জন্য ঘর বানানো, বোনদের বিয়ে দেয়া, ব্যবসা শুরু করা এসব করা হারাম টাকায় বৈধ নয়। কেননা এতে হারাম অর্থের মাধ্যমে হালাল কাজ করার চেষ্টা হয়, যা ইসলামসম্মত নয়। রাসূল (ﷺ) বলেছেন, ‘নিশ্চয় আল্লাহ পবিত্র এবং পবিত্র জিনিস ছাড়া কিছু গ্রহণ করেন না’ (ছহীহ মুসলিম, হা/১০১৫)।

তবে ব্যতিক্রম প্রসঙ্গ হল- যদি ঐ ব্যক্তি একেবারে নিঃস্ব হয়ে পড়ে এবং শারঈ ফাতাওয়া বা আলেমগণের মতামত অনুযায়ী সে নিজে যদি গরীব হিসাবে বিবেচিত হয়, তবে কিছু আলেম হারাম টাকা থেকে নিরুপায় অবস্থায় ন্যূনতম প্রয়োজন মেটানোর অনুমতি দেন, তবে সেটিও ছওয়াবের উদ্দেশ্যে নয়, বরং ক্ষতি কমানোর উদ্দেশ্যে। ইবনু তাইমিয়াহ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, ‘যদি কেউ হারাম অর্থ থেকে তাওবা করে এবং মালিককে তা ফেরত দেয়া সম্ভব না হয়, তবে তা মুসলিমদের কল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করা বৈধ’ (মাজমূঊল ফাতাওয়া, ২৯/৩০৮ পৃ.)। অতএব সত্যিকারের আল্লাহমুখী হওয়ার ইচ্ছা থাকলে তার উচিত হবে ঐ হারাম টাকা সমাজের কল্যাণে ফিরিয়ে দেয়া, নিজে হালাল উপার্জনের মাধ্যমে নতুন করে জীবন শুরু করা, আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা, তিনিই সর্বোত্তম রিযিকদাতা।


প্রশ্নকারী : নূরুল্লাহ, কিশোরগঞ্জ, ঢাকা।





প্রশ্ন (২১) : কোন মেয়ের সাথে বিয়ে ঠিক হওয়ার পর বিয়ে করার পূর্বে তার সাথে ঘুরতে যাওয়া বা হোটেলে খেতে যাওয়া কি জায়েয? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৫) : কাবিননামায় ত্বালাকের অধিকার দেয়া না থাকলে স্বামী তার স্ত্রীকে ত্বালাক্ব দিতে পারবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১) : যাওয়ালের ছালাত বলতে কোন্ ছালাতকে বুঝায়? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৫) : ‘মদ পান করলে ৪০ দিন ছালাত কবুল হয় না’  মর্মে বর্ণিত কথার সত্যতা কতটুকু? আর এ কথা কি ঠিক যে, ‘মদ-গাঁজা সেবন করলে চল্লিশ দিন শরীর অপবিত্র থাকে’?  - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২১) : যারা ছালাত আদায় করে না তারা কি নিজেদেরকে মুসলিম দাবি করতে পারবে না? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৯) : বাড়ির মধ্যে পুরুষরা হাফপ্যান্ট পরতে পারবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৯) : জনৈক ব্যক্তি পূর্বে যাকাত আদায় করেনি। এখন বিগত বছরগুলোর যাকাত কিভাবে আদায় করব? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১) : যে সকল দেশে মানবরচিত বিধান দ্বারা বিচার কার্র্য পরিচিালিত হয়, সেখানে বিচারক হওয়া যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩১) : সা‘দ ইবনু আবী ওয়াক্কাছ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) এর মাতৃভক্তি প্রসঙ্গ সমাজে একটি কাহিনী প্রচলিত আছে। এর সত্যতা কতটুকু? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৮) : আনুমানিক ১২-১৫ বছর আগে দাদা মারা গেলে বন্যার কারণে বাড়িতেই কবর দেয়া হয়। পরে পাকা বাড়ি করার সময় জায়গা কম হয়ে গেলে কবরটির উপর বাড়ি করা হয়। এটা কি অন্যায় হয়েছে? এখন কী করা যেতে পারে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৫) : কবিরাজের উপর বিশ্বাস রাখা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২২) : তারাবীহর ছালাত কত রাক‘আত? কেউ ৮ রাক‘আত পড়ে, কেউ পড়ে ২০ রাক‘আত। কোনটি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

ফেসবুক পেজ