বৃহস্পতিবার, ২৩ Jul ২০২৬, ১২:৩৩ পূর্বাহ্ন
উত্তর : জুয়া একটি গর্হিত অন্যায় এবং কাবীরা গুনাহ। কুরআন ও হাদীছে তা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। এভাবে অর্জিত অর্থ হারাম ও অপবিত্র। প্রশ্নে বর্ণিত ব্যক্তি যদিও এখন আল্লাহর দিকে ফিরে আসতে চায় এটি নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় ও তাওবার পথের প্রথম ধাপ, তবে তার অতীতের জুয়ার উপার্জনের ব্যাপারে শরী‘আতের নির্দেশনা খুবই স্পষ্ট। শরী‘আতের মূলনীতি হলো- المال الحرام لا ينتفع به الإنسان ولو تاب ‘হারাম অর্থ থেকে উপকৃত হওয়া যাবে না, যদি কেউ তওবাও করে’। এ কথা বহু ফিকহবিদ ও মুজতাহিদ ইমামদের বক্তব্যে পাওয়া যায়। ইমাম নববী (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, ‘যদি সম্পদটি প্রকৃত হারাম হয়, যেমন চুরি, ছিনতাই, মদ বিক্রির অর্থ ইত্যাদি, তবে তা থেকে তওবা করার তিনটি শর্ত। যথা: (১) তা ব্যবহার করা বন্ধ করবে, (২) অনুতপ্ত হবে, (৩) মালিককে ফিরিয়ে দিবে, আর যদি মালিককে না চেনে তাহলে দান করে দেবে’ (আর-রওযা, ইমাম নববী, ৯/৩২৫ পৃ.)।

এমতাবস্থায় করণীয় হল- (১) তওবা করা : প্রথম কাজ হল আন্তরিকভাবে তাওবা করা, আল্লাহর কাছে কান্নাকাটি করে ফিরে আসা, ভবিষ্যতে কখনো জুয়ায় জড়াবে না এই দৃঢ় সংকল্প করা। (২) হারাম অর্থ পরিত্যাগ করা : যদি সম্ভব হয়, সেই অর্থ গরীব-দুঃখীদের দান করে দেয়া। তবে, এই দানটি ছওয়াবের নিয়তে হবে না, বরং হারাম অর্থের বোঝা ঝেড়ে ফেলার নিয়তে। (৩) হারাম অর্থ দিয়ে নিজের উপকার করা যাবে না : নিজের জন্য ঘর বানানো, বোনদের বিয়ে দেয়া, ব্যবসা শুরু করা এসব করা হারাম টাকায় বৈধ নয়। কেননা এতে হারাম অর্থের মাধ্যমে হালাল কাজ করার চেষ্টা হয়, যা ইসলামসম্মত নয়। রাসূল (ﷺ) বলেছেন, ‘নিশ্চয় আল্লাহ পবিত্র এবং পবিত্র জিনিস ছাড়া কিছু গ্রহণ করেন না’ (ছহীহ মুসলিম, হা/১০১৫)।

বে ব্যতিক্রম প্রসঙ্গ হল- যদি ঐ ব্যক্তি একেবারে নিঃস্ব হয়ে পড়ে এবং শারঈ ফাতাওয়া বা আলেমগণের মতামত অনুযায়ী সে নিজে যদি গরীব হিসাবে বিবেচিত হয়, তবে কিছু আলেম হারাম টাকা থেকে নিরুপায় অবস্থায় ন্যূনতম প্রয়োজন মেটানোর অনুমতি দেন, তবে সেটিও ছওয়াবের উদ্দেশ্যে নয়, বরং ক্ষতি কমানোর উদ্দেশ্যে। ইবনু তাইমিয়াহ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, ‘যদি কেউ হারাম অর্থ থেকে তাওবা করে এবং মালিককে তা ফেরত দেয়া সম্ভব না হয়, তবে তা মুসলিমদের কল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করা বৈধ’ (মাজমূঊল ফাতাওয়া, ২৯/৩০৮ পৃ.)। অতএব সত্যিকারের আল্লাহমুখী হওয়ার ইচ্ছা থাকলে তার উচিত হবে ঐ হারাম টাকা সমাজের কল্যাণে ফিরিয়ে দেয়া, নিজে হালাল উপার্জনের মাধ্যমে নতুন করে জীবন শুরু করা, আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা, তিনিই সর্বোত্তম রিযিকদাতা।


প্রশ্নকারী : নূরুল্লাহ, কিশোরগঞ্জ, ঢাকা।





প্রশ্ন (২) : ওয়াহহাবী কারা? এটা কি কোন মাযহাব? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৭) : মানুষের সাথে সবসময় যে কারিন জিন থাকে এই জিন কি মানুষের ক্ষতি করতে পারে? এ থেকে বাঁচার উপায় কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৩) : ‘তুমি বিলম্বে সাক্ষাৎ কর, ভালোবাসা বৃদ্ধি পাবে’ মর্মে বর্ণিত হাদীছটি কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১২) : তাহিয়্যাতুল মসজিদ বা দুখুলুল মসজিদ কখন যরূরী আর কখন যরূরী নয়? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৪) : পিতা মারা যাওয়ার আগেই কোন জমি বা ভিটে-মাটি ছেলে-মেয়েদের নামে নির্দিষ্ট করে লিখে দিতে পারবে কি? যাতে করে পরবর্তীতে মেয়েদেরকে তার ছেলে বঞ্চিত করতে না পারে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৫) : কিভাবে নফসের প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩২) : কোন অসুস্থ ব্যক্তি দু‘আ চাইলে শুক্রবারে জুমু‘আর ছালাতের পর সম্মিলিতভাবে মুনাজাত করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১) : ক্বিয়ামতের দিন পশু-পাখিদেরকেও কি পুনরুত্থিত করা হবে? শোনা যায় যে, দশটি প্রাণীও জান্নাতে যাবে। উক্ত দাবী কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৩) : অপবিত্র কাপড় পরিধান অবস্থায় ওযূ করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৯) : প্রজেক্টরের মাধ্যমে মহিলারা ওয়াজ শুনতে পারবে কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৭) : রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দাড়িতে মেহেদী ব্যবহার করেছেন কি-না? দলীলসহ জানতে চাই। - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩১) : তাবলীগ জামায়াতের ‘ফাযায়েলে হজ্জ’ বইয়ের ৯২ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে যে, জামে মসজিদে বার হাজার পাঁচশ’ (১২,৫০০) ছালাতের ছওয়াব। মসজিদে আকছার ছওয়াব বাষট্টি কোটি পঞ্চাশ লক্ষ (৬২,৫০০০০০০), মদীনার মসজিদের ছওয়াব তিন নিল বার খর্ব পঞ্চাশ আরব (৩১২৫০০০০০০০০০০) এবং হারাম শরীফের ছওয়াব একত্রিশ শঙ্ঘ পঁচিশ পদ্ম, (৩১২৫০০০০০০০০০০০০০০০)। উক্ত বর্ণনা কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ