রবিবার, ০৭ Jun ২০২৬, ০২:৫৯ অপরাহ্ন
উত্তর : জুয়া একটি গর্হিত অন্যায় এবং কাবীরা গুনাহ। কুরআন ও হাদীছে তা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। এভাবে অর্জিত অর্থ হারাম ও অপবিত্র। প্রশ্নে বর্ণিত ব্যক্তি যদিও এখন আল্লাহর দিকে ফিরে আসতে চায় এটি নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় ও তাওবার পথের প্রথম ধাপ, তবে তার অতীতের জুয়ার উপার্জনের ব্যাপারে শরী‘আতের নির্দেশনা খুবই স্পষ্ট। শরী‘আতের মূলনীতি হলো- المال الحرام لا ينتفع به الإنسان ولو تاب ‘হারাম অর্থ থেকে উপকৃত হওয়া যাবে না, যদি কেউ তওবাও করে’। এ কথা বহু ফিকহবিদ ও মুজতাহিদ ইমামদের বক্তব্যে পাওয়া যায়। ইমাম নববী (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, ‘যদি সম্পদটি প্রকৃত হারাম হয়, যেমন চুরি, ছিনতাই, মদ বিক্রির অর্থ ইত্যাদি, তবে তা থেকে তওবা করার তিনটি শর্ত। যথা: (১) তা ব্যবহার করা বন্ধ করবে, (২) অনুতপ্ত হবে, (৩) মালিককে ফিরিয়ে দিবে, আর যদি মালিককে না চেনে তাহলে দান করে দেবে’ (আর-রওযা, ইমাম নববী, ৯/৩২৫ পৃ.)।

এমতাবস্থায় করণীয় হল- (১) তওবা করা : প্রথম কাজ হল আন্তরিকভাবে তাওবা করা, আল্লাহর কাছে কান্নাকাটি করে ফিরে আসা, ভবিষ্যতে কখনো জুয়ায় জড়াবে না এই দৃঢ় সংকল্প করা। (২) হারাম অর্থ পরিত্যাগ করা : যদি সম্ভব হয়, সেই অর্থ গরীব-দুঃখীদের দান করে দেয়া। তবে, এই দানটি ছওয়াবের নিয়তে হবে না, বরং হারাম অর্থের বোঝা ঝেড়ে ফেলার নিয়তে। (৩) হারাম অর্থ দিয়ে নিজের উপকার করা যাবে না : নিজের জন্য ঘর বানানো, বোনদের বিয়ে দেয়া, ব্যবসা শুরু করা এসব করা হারাম টাকায় বৈধ নয়। কেননা এতে হারাম অর্থের মাধ্যমে হালাল কাজ করার চেষ্টা হয়, যা ইসলামসম্মত নয়। রাসূল (ﷺ) বলেছেন, ‘নিশ্চয় আল্লাহ পবিত্র এবং পবিত্র জিনিস ছাড়া কিছু গ্রহণ করেন না’ (ছহীহ মুসলিম, হা/১০১৫)।

বে ব্যতিক্রম প্রসঙ্গ হল- যদি ঐ ব্যক্তি একেবারে নিঃস্ব হয়ে পড়ে এবং শারঈ ফাতাওয়া বা আলেমগণের মতামত অনুযায়ী সে নিজে যদি গরীব হিসাবে বিবেচিত হয়, তবে কিছু আলেম হারাম টাকা থেকে নিরুপায় অবস্থায় ন্যূনতম প্রয়োজন মেটানোর অনুমতি দেন, তবে সেটিও ছওয়াবের উদ্দেশ্যে নয়, বরং ক্ষতি কমানোর উদ্দেশ্যে। ইবনু তাইমিয়াহ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, ‘যদি কেউ হারাম অর্থ থেকে তাওবা করে এবং মালিককে তা ফেরত দেয়া সম্ভব না হয়, তবে তা মুসলিমদের কল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করা বৈধ’ (মাজমূঊল ফাতাওয়া, ২৯/৩০৮ পৃ.)। অতএব সত্যিকারের আল্লাহমুখী হওয়ার ইচ্ছা থাকলে তার উচিত হবে ঐ হারাম টাকা সমাজের কল্যাণে ফিরিয়ে দেয়া, নিজে হালাল উপার্জনের মাধ্যমে নতুন করে জীবন শুরু করা, আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা, তিনিই সর্বোত্তম রিযিকদাতা।


প্রশ্নকারী : নূরুল্লাহ, কিশোরগঞ্জ, ঢাকা।





প্রশ্ন (২২) : হজ্জের সময় শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ করতে হয় কী কারণে? সেখানে কি শয়তানকে বেঁধে রাখা হয়েছে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৬) : ‘যে ব্যক্তি সকালে ও বিকালে সূর্যোদয়ের আগে ও সূর্যাস্তের আগে ১০০ বার ‘সুবহানাল্লাহ’ বলবে সে যেন একশ’টি হজ্জ আদায় করল বা একশ’টি উট আল্লাহর ওয়াস্তে দান করল। যে ব্যক্তি এই দুই সময়ে ১০০ বার ‘আল-হামদুলিল্লাহ’ বলল সে যেন আল্লাহর পথে জিহাদের জন্য ১০০টি ঘোড়ার পিঠে মুজাহিদ প্রেরণ করলো অথবা আল্লাহর রাস্তায় ১০০ টি গাযওয়া বা অভিযানে শরীক হলো। আর যে ব্যক্তি এই দুই সময়ে ১০০ বার করে ‘লা- ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ পাঠ করলো, সে যেন ইসমাঈল বংশের একশ’ ব্যক্তিকে দাসত্ব থেকে মুক্তি প্রদান করলো। আর যে ব্যক্তি এই দুই সময়ে ১০০ বার করে ‘আল্লাহু আকবার’ বলল, ঐ দিনে তার চেয়ে বেশি আমল আর কেউ করতে পারবে না। তবে যদি কেউ তার সমান এই যিকরগুলো পাঠ করে বা তার চেয়ে বেশি পাঠ করে তাহলে ভিন্ন কথা। (তাহলে সেই শুধু তার উপরে উঠতে পারবে।) ইমাম নাসাঈর বর্ণনায় ‘লা- ইলাহা ইল্লাল্লাহু’-র পরিবর্তে ‘লা- ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু, ওয়া হুআ আলা কুলিল শাইয়্যিন কাদীর’ ১০০ বার পাঠ করার কথা বলা হয়েছে (তিরমিযী, ৫/৫১৩, নং ৩৪৭১; নাসাঈ, আস-সুনানুল কুবরা, ৬/২০৫)। উক্ত মর্মে বর্ণিত হাদীছ কি আমলযোগ্য? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১০) : সাধারণ মানুষ কিভাবে আওয়াল ওয়াক্ত নির্ধারণ করবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৩) : কেউ যদি নিজের চাকরি বা অন্য কোন ব্যস্ততার কারণে রামাযানের শেষ দশ দিন ই‘তিকাফ না করতে পারে, তাহলে একদিন বা দুই অর্থাৎ কম সময় ই‘তিকাফ করতে পারবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৬) : আযানের সময় কোন ওয়ায বা কথা বলা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২২) : কোন জরুরী কারণে মুক্বীম অবস্থায় ছালাত জমা করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৫) : বাংলাদেশী হাজীগণ কোন্ মীক্বাত থেকে ইহরাম বাঁধবেন? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩) : কিভাবে আল্লাহর সাথে শিরক সংঘটিত হয়? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৮) : সুন্নাত ছালাত কি মহিলাদের পিছনে দাঁড়িয়ে আদায় করা যাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৮) : সব শী‘আ কি কাফের? অনেক আলেমও বলে থাকেন যে, শী‘আরা কাফের। কিন্তু সালাফী আলেমগণ ঐভাবে বলতে নিষেধ করেন, কারণ অনেক শী‘আ আছে যারা কাফের নয়। প্রকৃত বিষয়টি কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৫) : যারা ছিয়াম পালন করে না তাদেরকে ফিতরা আদায় করতে হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৯) : পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হওয়ার উদ্দেশ্যে মুহরিম ব্যক্তির জন্য গোসল করা কি জায়েয? মুহরিমের জন্য ইহরামের কাপড় পরিবর্তন করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ