উত্তর : যেকোন পাপের কারণে চেহারার সৌন্দর্য নষ্ট হয়ে যেতে পারে। রাসূল (ﷺ) বলেছেন, ‘নিশ্চয় মুমিন যখন কোন গুনাহ করে, তখন তার অন্তরে একটি কালো দাগ পড়ে। অতঃপর সে যদি তওবা করে, গুনাহ থেকে বিরত হয় এবং ক্ষমা প্রার্থনা করে, তাহলে তার হৃদয় পরিশুদ্ধ করে দেয়া হয়। কিন্তু সে যদি আবার গুনাহ করে, সেই দাগ আরও বৃদ্ধি পায়। এটাই সেই মরিচা যার কথা আল্লাহ তাঁর কিতাবে বলেছেন, کَلَّا بَلۡ ٜ رَانَ عَلٰی قُلُوۡبِہِمۡ مَّا کَانُوۡا یَکۡسِبُوۡنَ ‘কখনো নয়; বরং তারা যা উপার্জন করত, তার কারণে তাদের অন্তরসমূহে মরিচা/আবরণ পড়ে গেছে’ (সূরা আল-মুতাফফিফীন : ১৪; তিরমিযী, হা/৩৩৩৪)। তবে শুধু যেনা নয় বরং যে কোন পাপের প্রভাবে চেহারার সৌন্দর্য নষ্ট হতে পরে। ইমাম ইবনুল ক্বাইয়িম (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন,
إن للسيئة سواداً في الوجه، وظلمة في القبر والقلب... ويكسو صاحبه سواد الوجه وثوب المقت بين الناس...”
‘নিশ্চয় গুনাহের প্রভাবে মানুষের চেহারায় কালিমা নেমে আসে, কবর ও অন্তরে অন্ধকার সৃষ্টি হয়। আর তা তার চেহারায় কালিমার ছাপ ফুটিয়ে তোলে এবং মানুষের মাঝে তার জন্য ঘৃণা ও বিরাগের পোশাক পরিয়ে দেয়’ (আল-জওয়াবুল কাফী, কায়রা: দারুল হাদীছ, পৃ. ১৩৪)। এছাড়া বিশেষ করে যেনার কারণে চেহারার লাবন্য নষ্ট হওয়ার কথাও ইবনুল ক্বাইয়িম (রাহিমাহুল্লাহ) উল্লেখ করেছেন (রওযাতুল মুহিব্বীন লি ইবনিল ক্বাইয়িম, পৃ. ৩৬০-৩৬৩)।
উল্লেখ্য, তবে এ যুক্তিতে কারো চেহারার লাবণ্য কমে গেলে বা চেহারা নষ্ট হয়ে গেলে, সে পাপ/যিনা করেছে বলে ধারণা করা যাবে না।
প্রশ্নকারী : মাশরাফি ইসলাম মিয়াদ, রংপুর।