উত্তর : হাদীছটি হাসান (সিলসিলা ছহীহাহ, হা/২৩১৮)। এই হাদীছ মানুষের প্রকৃত সুখ ও সমৃদ্ধির একটি গভীর ইসলামী মানদণ্ড তুলে ধরে, তাহল- নিরাপত্তা, সুস্থতা এবং হালাল জীবিকার পর্যাপ্ততা। মানুষের কাছে বিপুল সম্পদ না থাকলেও যদি তার নিরাপত্তা থাকে, শরীর সুস্থ থাকে এবং দিনের প্রয়োজনীয় হালাল রিযিকের ব্যবস্থা থাকে, তবে সে আল্লাহ্র পক্ষ থেকে এমন এক মহান নে‘মতের অধিকারী, যা দুনিয়ার বিপুল সম্পদের চেয়েও মৌলিক ও মূল্যবান। মোল্লা আলী ক্বারী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, তাদের যেন সমগ্র দুনিয়াটাই দিয়ে দেয়া হয়েছে (তুহফাতুল আহওয়াযী, ৭/১১ পৃ.)।
ইমাম আল-মুনাবী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘যার জন্য আল্লাহ তার শরীরের সুস্থতা, যেখানেই সে অবস্থান করুক না কেন সেখানে অন্তরের নিরাপত্তা, এক দিনের খাদ্যের মাধ্যমে জীবনধারণের প্রয়োজনীয় পরিমাণ রিযিক এবং তার পরিবারের নিরাপত্তা-এসব একত্রিত করে দিয়েছেন, প্রকৃতপক্ষে আল্লাহ তার জন্য এমন সব নে‘মত একত্রিত করেছেন, যা দুনিয়ার অধিকারী ব্যক্তিও এর অতিরিক্ত কিছু লাভ করতে পারে না। সুতরাং, এমন ব্যক্তির উচিত নয় যে, সে ঐ দিনটি আল্লাহর নে‘মতের শুকরিয়া ছাড়া অন্যভাবে শুরু করবে। বরং তাকে এসব নে‘মত নে‘মতদাতার আনুগত্যে ব্যবহার করতে হবে; তাঁর অবাধ্যতায় নয় এবং তাঁর যিকির থেকে গাফেল হওয়া চলবে না’ (আল-মুনাবী, ফায়দুল কাদীর, ৬/৮৮ পৃ.)।
প্রশ্নকারী : সালমান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ।