রবিবার, ০৭ Jun ২০২৬, ০৩:২৪ অপরাহ্ন
উত্তর : ইসলামে ফরেক্স ট্রেডিং এবং ক্রিপ্টোকারেন্সি ট্রেডিং বৈধতা নির্ধারণ করার জন্য বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করা হয়, যেমন লেনদেনের প্রকৃতি, সূদের উপস্থিতি, জুয়া বা ধোঁকাবাজি। নিচে এই বিষয়গুলো ব্যাখ্যা করা হলো:
১. ফরেক্স ট্রেডিং (Broker এর মাধ্যমে): ফরেক্স ট্রেডিং হল মুদ্রা বিনিময়ের ব্যবসা। এটি বৈধ হতে পারে যদি নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ হয়। যেমন, (ক) স্পট ট্রেডিং: মুদ্রা বিনিময় যদি তাৎক্ষণিক (pot trading) হয় এবং লেনদেনের অর্থ পরিপূর্ণভাবে মালিকানাধীন হয়, তাহলে এটি বৈধ। হাদীছে এসেছে, ‘সোনা সোনার বিনিময়ে, রুপা রুপার বিনিময়ে... সমপরিমাণে এবং তাৎক্ষণিকভাবে (ইয়াদান বিয়াদিন) বিনিময় করো’ (ছহীহ মুসলিম, হা/১৫৮৪)। (খ) মার্জিন ট্রেডিং এবং সূদ: বেশিরভাগ ব্রোকার মার্জিন বা লিভারেজ প্রদান করে, যা সূদের সাথে সংযুক্ত হতে পারে। সূদ ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘যারা সূদ খায়, তারা তার ন্যায় উঠবে, যাকে শয়তান স্পর্শ করে পাগল বানিয়ে দেয়’ (সূরা আল-বাক্বারাহ: ২৭৫)। স্পট ফরেক্স ট্রেডিং যদি সূদ বা জুয়া থেকে মুক্ত হয়, তবে তা বৈধ হতে পারে। তবে মার্জিন বা লিভারেজ ব্যবহার করা হারাম।

২. ক্রিপ্টোকারেন্সি ট্রেডিং (ইরহধহপব-এর মাধ্যমে): ক্রিপ্টোকারেন্সি একটি ডিজিটাল মুদ্রা, যা ব্লকচেইন প্রযুক্তি ব্যবহার করে। ইসলামে এর বৈধতা বিতর্কিত এবং শর্তসাপেক্ষ। মুদ্রার বৈশিষ্ট্য: ক্রিপ্টোকারেন্সিকে মুদ্রা হিসাবে গ্রহণ করা হলে তা বৈধ হতে পারে, যদি এটি প্রতারণামুক্ত হয় এবং হালাল কাজে ব্যবহৃত হয়। হারাম কাজের সম্ভাবনা: ক্রিপ্টোকারেন্সি প্রায়ই মানি লন্ডারিং, প্রতারণা এবং অবৈধ কার্যক্রমে ব্যবহৃত হয়। এই কারণে এর ব্যবহার সংশয় মুক্ত নয়। ফিউচার ট্রেডিং, মার্জিন ট্রেডিং বা উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ট্রেডিং জুয়া বা ধোঁকাবাজির অন্তর্ভুক্ত হতে পারে, যা হারাম।

ক্রিপ্টো ট্রেডিং যদি সরাসরি মুদ্রা ক্রয়-বিক্রয় (pot trading) হয় এবং তা হারাম কাজ থেকে মুক্ত থাকে, তবে এটি বৈধ হতে পারে। তবে এটি ফিউচার বা মার্জিন ট্রেডিংয়ের মাধ্যমে করা হলে হারাম। ইসলামে লেনদেন বা মু‘আমালাত এর ক্ষেত্রে মূলনীতি হল, ‘সবকিছু বৈধ, যতক্ষণ না স্পষ্ট প্রমাণ দ্বারা তা নিষিদ্ধ প্রমাণিত হয়’ (ফাৎহুল বারী, ৪/২৯১; উছূলুস সারাখসী, ২/২০)।


প্রশ্নকারী: আমিনুল ইসলাম, সাভার, ঢাকা।





প্রশ্ন (১৪) : কাফের দেশে স্থায়ীভাবে বসবাস করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৫) : আদম এবং হাওয়া (আলাইহিমাস সালাম)-এর বিয়ে কে পড়িয়েছেন এবং তাদের বিয়ের মোহর কত ছিল? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৯) : নবী করীম (ﷺ) বলেছেন, ‘তাঁর উম্মতকে রামাযান মাসের শেষ রাতে মাফ করা হয়। জিজ্ঞেস করা হল, হে আল্লাহ্র রাসূল (ﷺ)! এটা কি ক্বদরের রাত্রি? তিনি বললেন, না; বরং এই কারণে যে, কর্মচারীর বেতন দেয়া হয়, যখন সে তার কর্ম শেষ করে (আহমাদ, হা/৭৯০৪; মিশকাত, হা/১৯৬৮) মর্মে বর্ণনাটি কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৪) : কেউ যদি মাযারে গরু, ছাগল, হাঁস-মুরগী ও টাকা-পয়সা দান করে, তাহলে শিরক হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৯): এক মহিলা কোন মাহরাম পুরুষ ছাড়া অন্যান্য মহিলার সাথে গিয়ে হজ্জ করে ফেলেছে। তার সেই হজ্জ কী বিশুদ্ধ হয়েছে? না-কি পুনরায় হজ্জ আদায় করতে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩০) : বন্দকী জমি চাষাবাদ করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪১) : কাউকে উৎসাহ দিতে হাততালি দেয়া যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৪) : কোন্ কোন্ পোশাক পরিধান করা যাবে না? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৬) : বাবার অনুমতি ব্যতীত ছেলে ও মেয়ে প্রেম করে বিয়ে করে। বিবাহের অনুষ্ঠানে মেয়ের বড় বোন ও বাগিনা উপস্থিত ছিল। এমনকি বিবাহের পর তারা পালিয়েও যায়নি বরং নিজ নিজ বাড়ি চলে যায়। পরবর্তীতে উভয়ের পিতা-মাতার সম্মতি ও আত্মীয়-স্বজন নিয়ে মেয়ের বাড়ি থেকে মেয়েকে অনুষ্ঠান করে আনা হয় এবং পরের দিন ওয়ালীমা করা হয়। প্রশ্ন হল- তাদের এই বিবাহ কি বৈধ হয়েছে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩০) : হাদীছে বলা হয়েছে যে, খারিজীরা জাহান্নামের কুকুর (ইবনু মাজাহ, হা/১৭৬; সনদ ছহীহ)। কুকুর বলে কী বুঝানো হয়েছে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৭) : নফল ছিয়াম ভেঙ্গে ফেলা যাবে কি এবং ভেঙ্গে ফেলা ছিয়ামের কাযা আদায় করতে হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১০) : কেউ যদি কারো গীবত, নিন্দা, সমালোচনা করে ফেলে এবং পরে যদি সে অনুতপ্ত হয় যে, আমি ঠিক করিনি। তখন যার গীবত করা হয়েছে তার কাছে যদি সে ক্ষমা চাইতে চায়, কিন্তু যার গীবত করেছে তাকে যদি না পায়, তাহলে আল্লাহর কাছে সে কিভাবে ক্ষমা চাইবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ