বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:২২ পূর্বাহ্ন
উত্তর : ইসলামে ফরেক্স ট্রেডিং এবং ক্রিপ্টোকারেন্সি ট্রেডিং বৈধতা নির্ধারণ করার জন্য বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করা হয়, যেমন লেনদেনের প্রকৃতি, সূদের উপস্থিতি, জুয়া বা ধোঁকাবাজি। নিচে এই বিষয়গুলো ব্যাখ্যা করা হলো:
১. ফরেক্স ট্রেডিং (Broker এর মাধ্যমে): ফরেক্স ট্রেডিং হল মুদ্রা বিনিময়ের ব্যবসা। এটি বৈধ হতে পারে যদি নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ হয়। যেমন, (ক) স্পট ট্রেডিং: মুদ্রা বিনিময় যদি তাৎক্ষণিক (pot trading) হয় এবং লেনদেনের অর্থ পরিপূর্ণভাবে মালিকানাধীন হয়, তাহলে এটি বৈধ। হাদীছে এসেছে, ‘সোনা সোনার বিনিময়ে, রুপা রুপার বিনিময়ে... সমপরিমাণে এবং তাৎক্ষণিকভাবে (ইয়াদান বিয়াদিন) বিনিময় করো’ (ছহীহ মুসলিম, হা/১৫৮৪)। (খ) মার্জিন ট্রেডিং এবং সূদ: বেশিরভাগ ব্রোকার মার্জিন বা লিভারেজ প্রদান করে, যা সূদের সাথে সংযুক্ত হতে পারে। সূদ ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘যারা সূদ খায়, তারা তার ন্যায় উঠবে, যাকে শয়তান স্পর্শ করে পাগল বানিয়ে দেয়’ (সূরা আল-বাক্বারাহ: ২৭৫)। স্পট ফরেক্স ট্রেডিং যদি সূদ বা জুয়া থেকে মুক্ত হয়, তবে তা বৈধ হতে পারে। তবে মার্জিন বা লিভারেজ ব্যবহার করা হারাম।

২. ক্রিপ্টোকারেন্সি ট্রেডিং (ইরহধহপব-এর মাধ্যমে): ক্রিপ্টোকারেন্সি একটি ডিজিটাল মুদ্রা, যা ব্লকচেইন প্রযুক্তি ব্যবহার করে। ইসলামে এর বৈধতা বিতর্কিত এবং শর্তসাপেক্ষ। মুদ্রার বৈশিষ্ট্য: ক্রিপ্টোকারেন্সিকে মুদ্রা হিসাবে গ্রহণ করা হলে তা বৈধ হতে পারে, যদি এটি প্রতারণামুক্ত হয় এবং হালাল কাজে ব্যবহৃত হয়। হারাম কাজের সম্ভাবনা: ক্রিপ্টোকারেন্সি প্রায়ই মানি লন্ডারিং, প্রতারণা এবং অবৈধ কার্যক্রমে ব্যবহৃত হয়। এই কারণে এর ব্যবহার সংশয় মুক্ত নয়। ফিউচার ট্রেডিং, মার্জিন ট্রেডিং বা উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ট্রেডিং জুয়া বা ধোঁকাবাজির অন্তর্ভুক্ত হতে পারে, যা হারাম।

ক্রিপ্টো ট্রেডিং যদি সরাসরি মুদ্রা ক্রয়-বিক্রয় (pot trading) হয় এবং তা হারাম কাজ থেকে মুক্ত থাকে, তবে এটি বৈধ হতে পারে। তবে এটি ফিউচার বা মার্জিন ট্রেডিংয়ের মাধ্যমে করা হলে হারাম। ইসলামে লেনদেন বা মু‘আমালাত এর ক্ষেত্রে মূলনীতি হল, ‘সবকিছু বৈধ, যতক্ষণ না স্পষ্ট প্রমাণ দ্বারা তা নিষিদ্ধ প্রমাণিত হয়’ (ফাৎহুল বারী, ৪/২৯১; উছূলুস সারাখসী, ২/২০)।


প্রশ্নকারী: আমিনুল ইসলাম, সাভার, ঢাকা।





প্রশ্ন (২৬) : ছহীহ হাদীছ মেনে চলার কারণে কলেজের অন্যান্য ছাত্রীরা তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে থাকে এবং দ্বীনের দাওয়াতকে উপহাস করে। তাদের কাছ থেকে দূরে থাকা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১) : স্ত্রীর ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও আর্থিক সংকটের কারণে স্বামী সন্তান নিতে চাচ্ছে না। এতে পাপ হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪১) : আহলে কিতাবদের সবাই কাফির হওয়া সত্ত্বেও কেন তাদের কন্যাদের সাথে মুসলিম পুরুষদের বিবাহ জায়েয? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৬) কোন্ কোন্ শস্যের যাকাত প্রদান করা ফরয? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২২) : কুশপুত্তলিকা  বানানো যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৫): শাসকের বিরুদ্ধে কখন বিদ্রোহ করা যাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৪) : নারীরা সাজগোজ করে মাহরাম ব্যতীত অন্য পুরুষদের সামনে যেতে পারবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৮) : শবে মি‘রাজ উপলক্ষে ছিয়াম পালন করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৬) : কোন ব্যক্তি জ্বিনের আছর বা বদনযরে আক্রান্ত কি-না সেটা কিভাবে জানা যাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪) : মসজিদের ইমাম যদি বিশ্বাস করে আল্লাহ তা‘আলা তাঁর নূর থেকে মুহাম্মাদ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে সৃষ্টি করেছেন, তাহলে সেই ইমামের পিছনে ছালাত আদায় করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪৫) : ইসলামী শরী‘আতে ‘উকীল বাবা’-এর কোন বিধান আছে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১) : এমপিও ভুক্ত বেসরকারী স্কুলের শিক্ষকদের বেতন থেকে প্রতি মাসে ১০% করে টাকা কেটে রাখা হয় এবং চাকুরি শেষে সর্বশেষ বেতন স্কেলের ১০০ মাসের সমপরিমাণ টাকা দেয়া হয়। উক্ত টাকা কি হালাল হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

ফেসবুক পেজ