বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:২৩ পূর্বাহ্ন
উত্তর : ইসলামে ফরেক্স ট্রেডিং এবং ক্রিপ্টোকারেন্সি ট্রেডিং বৈধতা নির্ধারণ করার জন্য বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করা হয়, যেমন লেনদেনের প্রকৃতি, সূদের উপস্থিতি, জুয়া বা ধোঁকাবাজি। নিচে এই বিষয়গুলো ব্যাখ্যা করা হলো:
১. ফরেক্স ট্রেডিং (Broker এর মাধ্যমে): ফরেক্স ট্রেডিং হল মুদ্রা বিনিময়ের ব্যবসা। এটি বৈধ হতে পারে যদি নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ হয়। যেমন, (ক) স্পট ট্রেডিং: মুদ্রা বিনিময় যদি তাৎক্ষণিক (pot trading) হয় এবং লেনদেনের অর্থ পরিপূর্ণভাবে মালিকানাধীন হয়, তাহলে এটি বৈধ। হাদীছে এসেছে, ‘সোনা সোনার বিনিময়ে, রুপা রুপার বিনিময়ে... সমপরিমাণে এবং তাৎক্ষণিকভাবে (ইয়াদান বিয়াদিন) বিনিময় করো’ (ছহীহ মুসলিম, হা/১৫৮৪)। (খ) মার্জিন ট্রেডিং এবং সূদ: বেশিরভাগ ব্রোকার মার্জিন বা লিভারেজ প্রদান করে, যা সূদের সাথে সংযুক্ত হতে পারে। সূদ ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘যারা সূদ খায়, তারা তার ন্যায় উঠবে, যাকে শয়তান স্পর্শ করে পাগল বানিয়ে দেয়’ (সূরা আল-বাক্বারাহ: ২৭৫)। স্পট ফরেক্স ট্রেডিং যদি সূদ বা জুয়া থেকে মুক্ত হয়, তবে তা বৈধ হতে পারে। তবে মার্জিন বা লিভারেজ ব্যবহার করা হারাম।

২. ক্রিপ্টোকারেন্সি ট্রেডিং (ইরহধহপব-এর মাধ্যমে): ক্রিপ্টোকারেন্সি একটি ডিজিটাল মুদ্রা, যা ব্লকচেইন প্রযুক্তি ব্যবহার করে। ইসলামে এর বৈধতা বিতর্কিত এবং শর্তসাপেক্ষ। মুদ্রার বৈশিষ্ট্য: ক্রিপ্টোকারেন্সিকে মুদ্রা হিসাবে গ্রহণ করা হলে তা বৈধ হতে পারে, যদি এটি প্রতারণামুক্ত হয় এবং হালাল কাজে ব্যবহৃত হয়। হারাম কাজের সম্ভাবনা: ক্রিপ্টোকারেন্সি প্রায়ই মানি লন্ডারিং, প্রতারণা এবং অবৈধ কার্যক্রমে ব্যবহৃত হয়। এই কারণে এর ব্যবহার সংশয় মুক্ত নয়। ফিউচার ট্রেডিং, মার্জিন ট্রেডিং বা উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ট্রেডিং জুয়া বা ধোঁকাবাজির অন্তর্ভুক্ত হতে পারে, যা হারাম।

ক্রিপ্টো ট্রেডিং যদি সরাসরি মুদ্রা ক্রয়-বিক্রয় (pot trading) হয় এবং তা হারাম কাজ থেকে মুক্ত থাকে, তবে এটি বৈধ হতে পারে। তবে এটি ফিউচার বা মার্জিন ট্রেডিংয়ের মাধ্যমে করা হলে হারাম। ইসলামে লেনদেন বা মু‘আমালাত এর ক্ষেত্রে মূলনীতি হল, ‘সবকিছু বৈধ, যতক্ষণ না স্পষ্ট প্রমাণ দ্বারা তা নিষিদ্ধ প্রমাণিত হয়’ (ফাৎহুল বারী, ৪/২৯১; উছূলুস সারাখসী, ২/২০)।


প্রশ্নকারী: আমিনুল ইসলাম, সাভার, ঢাকা।





প্রশ্ন (৪) : হিন্দু-খ্রিস্টান তথা বিধর্মীদের বাড়ীতে যেকোন উপলক্ষে দাওয়াত দিলে কোন মুসলিম তা গ্রহণ করতে পারবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৩) : ‘ধর্ম যার যার উৎসব সবার’ শ্লোগানের শারঈ ভিত্তি কী এবং এরূপ কথায় বিশ্বাস করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৬) : আমি একজন যুবক মানুষ। ৫ ওয়াক্ত ছালাত পড়ি। এক ওয়াক্ত ছুটে গেলে প্রচণ্ড খারাপ লাগে, নিজেকে বড় গুনাহগার মনে হয়। কিন্তু গোপন পাপ করলে অনুশোচনা আসে না। আমি কিভাবে নিজেকে এই পাপ থেকে বিরত রাখব। - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১) : যে সকল দেশে মানবরচিত বিধান দ্বারা বিচার কার্র্য পরিচিালিত হয়, সেখানে বিচারক হওয়া যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৪) : ইবাদতের মধ্যে বিদ‘আত প্রবেশ করলে সম্পূর্ণ আমল কি বাতিল হয়ে যাবে? না-কি যে অংশে বিদ‘আত প্রবেশ করেছে সেটুকু বাতিল হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২১) : আমি কি আমার ছোট বোনের দুধ বোনকে বিবাহ করতে পারব? অনেক উলামায়ে কেরাম ফৎওয়া দিয়েছেন যে, তার সাথে বিবাহ বৈধ নয়। এ বিষয়ে শরী‘আতের বিধান কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৫) : বিভিন্ন স্বর্ণালংকারের দোকানে ব্যবসার উদ্দেশ্যে যে স্বর্ণ গচ্ছিত রাখা হয়, তার যাকাত ফরয কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৯) : দাড়ি চেছে সাইজ করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৭) : প্রচলিত ইফতারের সময়সূচীগুলোতে সূর্যাস্তের সময়ের সাথে আরো ৩/৪/৫ মিনিট যোগ করা থাকে। প্রশ্ন হল- ছিয়াম পালনকারী কোন্ সময় ইফতার করবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৬) : ‘যারা এই দুনিয়ায় অন্ধ তারা আখেরাতেও অন্ধ থাকবে’ দ্বারা কী বুঝানো হয়েছে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৩) : কাদিয়ানীদের বাড়িতে মেহমান হয়ে খাবার খাওয়া যাবে কি? অথবা তাদের দেয়া খাবার খাওয়া যাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৪) : বাচ্চাকে দুধ খাওয়ানোর সময় মা দুধ পানের দু‘আ পাঠ করতে পারবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

ফেসবুক পেজ