বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৪৬ পূর্বাহ্ন
উত্তর : ইসলামে ফরেক্স ট্রেডিং এবং ক্রিপ্টোকারেন্সি ট্রেডিং বৈধতা নির্ধারণ করার জন্য বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করা হয়, যেমন লেনদেনের প্রকৃতি, সূদের উপস্থিতি, জুয়া বা ধোঁকাবাজি। নিচে এই বিষয়গুলো ব্যাখ্যা করা হলো:
১. ফরেক্স ট্রেডিং (Broker এর মাধ্যমে): ফরেক্স ট্রেডিং হল মুদ্রা বিনিময়ের ব্যবসা। এটি বৈধ হতে পারে যদি নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ হয়। যেমন, (ক) স্পট ট্রেডিং: মুদ্রা বিনিময় যদি তাৎক্ষণিক (pot trading) হয় এবং লেনদেনের অর্থ পরিপূর্ণভাবে মালিকানাধীন হয়, তাহলে এটি বৈধ। হাদীছে এসেছে, ‘সোনা সোনার বিনিময়ে, রুপা রুপার বিনিময়ে... সমপরিমাণে এবং তাৎক্ষণিকভাবে (ইয়াদান বিয়াদিন) বিনিময় করো’ (ছহীহ মুসলিম, হা/১৫৮৪)। (খ) মার্জিন ট্রেডিং এবং সূদ: বেশিরভাগ ব্রোকার মার্জিন বা লিভারেজ প্রদান করে, যা সূদের সাথে সংযুক্ত হতে পারে। সূদ ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘যারা সূদ খায়, তারা তার ন্যায় উঠবে, যাকে শয়তান স্পর্শ করে পাগল বানিয়ে দেয়’ (সূরা আল-বাক্বারাহ: ২৭৫)। স্পট ফরেক্স ট্রেডিং যদি সূদ বা জুয়া থেকে মুক্ত হয়, তবে তা বৈধ হতে পারে। তবে মার্জিন বা লিভারেজ ব্যবহার করা হারাম।

২. ক্রিপ্টোকারেন্সি ট্রেডিং (ইরহধহপব-এর মাধ্যমে): ক্রিপ্টোকারেন্সি একটি ডিজিটাল মুদ্রা, যা ব্লকচেইন প্রযুক্তি ব্যবহার করে। ইসলামে এর বৈধতা বিতর্কিত এবং শর্তসাপেক্ষ। মুদ্রার বৈশিষ্ট্য: ক্রিপ্টোকারেন্সিকে মুদ্রা হিসাবে গ্রহণ করা হলে তা বৈধ হতে পারে, যদি এটি প্রতারণামুক্ত হয় এবং হালাল কাজে ব্যবহৃত হয়। হারাম কাজের সম্ভাবনা: ক্রিপ্টোকারেন্সি প্রায়ই মানি লন্ডারিং, প্রতারণা এবং অবৈধ কার্যক্রমে ব্যবহৃত হয়। এই কারণে এর ব্যবহার সংশয় মুক্ত নয়। ফিউচার ট্রেডিং, মার্জিন ট্রেডিং বা উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ট্রেডিং জুয়া বা ধোঁকাবাজির অন্তর্ভুক্ত হতে পারে, যা হারাম।

ক্রিপ্টো ট্রেডিং যদি সরাসরি মুদ্রা ক্রয়-বিক্রয় (pot trading) হয় এবং তা হারাম কাজ থেকে মুক্ত থাকে, তবে এটি বৈধ হতে পারে। তবে এটি ফিউচার বা মার্জিন ট্রেডিংয়ের মাধ্যমে করা হলে হারাম। ইসলামে লেনদেন বা মু‘আমালাত এর ক্ষেত্রে মূলনীতি হল, ‘সবকিছু বৈধ, যতক্ষণ না স্পষ্ট প্রমাণ দ্বারা তা নিষিদ্ধ প্রমাণিত হয়’ (ফাৎহুল বারী, ৪/২৯১; উছূলুস সারাখসী, ২/২০)।


প্রশ্নকারী: আমিনুল ইসলাম, সাভার, ঢাকা।





প্রশ্ন (২) : আমার মা রক্তের সম্পর্কের বহির্ভূত এক জনের সাথে কথা বলেন। মাকে তিনি ‘ভাবী’ বলেন এবং আমার মা তাকে ‘ভাই’ বলেন। আমাদের বাড়িতে আসেন এবং ঘণ্টার পর ঘণ্টা সামনাসামনি হয়ে কথা বলেন। এখন সন্তান হিসাবে আমার করণীয় কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৭) : ব্যবসার ক্ষেত্রে বা বাড়ী-দোকান বিক্রয়ের ক্ষেত্রে সমাজে দালালি প্রথা চালু আছে। এটা কি শরী‘আত সম্মত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৪) : ছালাতে কেউ রুকূ‘ পেল কিন্তু সূরা ফাতিহা পড়তে পারল না। এমতাবস্থায় তার উক্ত রাক‘আত গণ্য হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১১) : জনৈক ব্যক্তি আগে ওযনে কম দিত। তখন ইসলাম সম্পর্কে তেমন জানত না। এই পাপ থেকে মুক্তির উপায় কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২০) : রবীঊল আউয়াল মাসে কি নির্দিষ্ট কোন ইবাদত আছে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৯) : ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ’-এর শর্তগুলো জানা কি প্রত্যেক মুসলিমের উপর ফরয? না জানলে কি ব্যক্তি কাফের হয়ে যাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১) : কুরআনের আয়াত বাংলা ভাষায় উচ্চারণ করে পড়া বা লিখা করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৪) : আমার বাবা একটি এনজিও প্রতিষ্ঠানের ব্রাঞ্চ ম্যানেজার। তার কাজ মূলত সদস্যকে ঋণ দেয়া। তার ইনকাম কি হালাল? যদি হালাল না হয় তাহলে তিনি তার বেতনের টাকা দিয়ে আমাকে একটি মোবাইল এবং একটি ল্যাপটপ কিনে দিয়েছেন। এখন আমি এই মোবাইল বা ল্যাপটপ দিয়ে যদি অনলাইনে ফ্রিল্যান্সিং বা কোন কাজ করে টাকা ইনকাম করি তাহলে সেই টাকা কি হালাল হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪) : ফজরের পূর্বে দুই, যোহরের পূর্বে চার ও পরে দুই, মাগরিবের পরে দুই, এশার পরে দুই রাক‘আত দিনে রাতে মোট বার রাক‘আত ছালাতের ফযীলতের কথা আমরা জানি। আমার প্রশ্ন হল- কেউ যদি যোহরের আগের চার রাক‘আত ছালাত পরে আদায় করে তবে কি তিনি সেই ফযীলত পাবেন? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৫) : কুরআন মাজীদ খতম করে পুনরায় সূরা ফাহিতা ও সূরা বাক্বারার শুরু থেকে ‘মুফলিহূন’ পর্যন্ত পড়ার কোন বিধান আছে কী? জনৈক ব্যক্তি বলেন, তিরমিযীর ২৯৪৮ নং হাদীছে এ নির্দেশ রয়েছে। - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪৫) : সুলায়মান (আলাইহিস সালাম)-এর স্ত্রী কতজন ছিলেন? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২১) : ‘যে বিয়েতে খরচ যত কম, সে বিয়েতে বরকত তত বেশি’। হাদীছটি কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

ফেসবুক পেজ