উত্তর : সৃষ্টিজগতের অস্তিত্ব, তার সুসংবদ্ধতা, কারণ-নির্ভরতা, পরিবর্তনশীলতা এবং উদ্দেশ্যময় বিন্যাস পর্যবেক্ষণ করে সৃষ্টিকর্তার ক্ষমতা, জ্ঞান ও একত্বের প্রমাণ করে। আল্লাহ বলেন, اَمۡ خُلِقُوۡا مِنۡ غَیۡرِ شَیۡءٍ اَمۡ ہُمُ الۡخٰلِقُوۡنَ ‘তারা কি কোন কিছু ছাড়াই সৃষ্টি হয়েছে, না-কি তারা নিজেরাই নিজেদের সৃষ্টিকর্তা?’ (সূরা আত-তূর : ৩৫)। মানবসৃষ্টির বিভিন্ন স্তরও স্রষ্টার অস্তিত্ব ও তাঁর পরিকল্পিত সৃষ্টিশক্তির প্রমাণ। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
ثُمَّ جَعَلَ نَسۡلَہٗ مِنۡ سُلٰلَۃٍ مِّنۡ مَّآءٍ مَّہِیۡنٍ- ثُمَّ سَوّٰىہُ وَ نَفَخَ فِیۡہِ مِنۡ رُّوۡحِہٖ
‘অতঃপর তিনি তাঁর বংশধরকে সৃষ্টি করেছেন তুচ্ছ তরল পদার্থের নির্যাস থেকে; তারপর তাকে সুঠাম করেছেন এবং তাতে তাঁর রূহ ফুঁকে দিয়েছেন’ (সূরা আস-সাজদাহ : ৮-৯)। মহাবিশ্বের সুশৃঙ্খলতা একক নিয়ন্ত্রক রবের দিকে নির্দেশ করে। মহান আল্লাহ বলেন, لَوۡ کَانَ فِیۡہِمَاۤ اٰلِہَۃٌ اِلَّا اللّٰہُ لَفَسَدَتَا ‘আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে আল্লাহ ছাড়া অন্য উপাস্য থাকলে উভয়ই অবশ্যই বিশৃঙ্খল হয়ে যেত’ (সূরা আল-আম্বিয়া : ২২)। আব্দুর রহমান ইবনু নাছির আস-সা‘দী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘আমরা ঊর্ধ্বজগৎ ও নিম্নজগৎ এ যা দেখতে পাই সেগুলো পূর্ণ কল্যাণ, শৃঙ্খলা ও সুসমন্বয়ের মধ্যে পরিচালিত হচ্ছে। এতে কোন বিশৃঙ্খলা, ত্রুটি, পারস্পরিক প্রতিরোধ বা বিরোধ নেই। এ বাস্তবতা প্রমাণ করে যে, এ জগতের পরিচালক একজন, এর রব একজন এবং এর ইলাহও একজন। যদি এ জগতের দুই বা ততোধিক পরিচালক ও রব থাকত, তবে এর ব্যবস্থাপনা অবশ্যই বিশৃঙ্খল হয়ে যেত এবং এর ভিত্তিসমূহ ধ্বংস হয়ে পড়ত’ (আস-সা‘দী, তাইসীরুল কারীমির রহমান ফী তাফসীরি কালামিল মান্নান, পৃ. ৫২১)। তবে এ মর্মে আক্বীদা সুদৃঢ় রাখতে হবে যে, বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার কুরআনের চূড়ান্ত তাফসীর নয়; কুরআনের সুস্পষ্ট অর্থই মূল, আর পরিবর্তনশীল বৈজ্ঞানিক তত্ত্বকে চূড়ান্ত আক্বীদাগত দলীল বানানো যাবে না।
প্রশ্নকারী : নাহিদ ইসলাম, সাতক্ষীরা।