বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:২০ পূর্বাহ্ন
উত্তর : সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কাউকে বিদ‘আতী বলা ও কাউকে কাফির বলার যে রীতি প্রচলিত আছে, তা অনেক ক্ষেত্রেই বাড়াবাড়ি এবং শরী‘আত পরিপন্থী। কেননা রাসূল (ﷺ) বলেছেন, ‘কেউ তার ভাইকে কাফির বললে, তাদের দু’জনের একজনের উপর তা বর্তাবে’ (ছহীহ বুখারী, হা/৬১০৩, ৬১০৪)। অন্য বর্ণনায় তিনি বলেন, ‘কেউ তার ভাইকে ‘কাফির’ বলে সম্বোধন করলে উভয়ের একজনের উপর তা ফিরে আসবে। যাকে কাফির বলা হয়েছে সে কাফির হলে ঠিক আছে, নতুবা কথাটি বক্তার উপরই ফিরে আসবে’ (ছহীহ বুখারী, হা/৬০৪৫)। এগুলো অত্যন্ত গুরুতর শারঈ হুকুম, ব্যক্তিগত পসন্দ-অপসন্দ, দলীয় আনুগত্য বা কয়েকটি পোস্ট/ক্লিপ দেখে এ ধরনের সিদ্ধান্ত দেয়া যায় না। আলিমগণ এ ক্ষেত্রে শর্ত পূরণ এবং প্রতিবন্ধকতা দূর হওয়ার (تحقق الشروط وانتفاء الموانع) কথা বলেছেন (আল-উম্ম, ৬/২০৫; মিনহাজুস সুন্নাহ, ৫/২৩৯; ফাৎহুল বারী, ১২/৩০৪; মাজমূঊ ফাতাওয়া ওয়া রাসাইল ইবনে উছাইমীন, ২/১৩৬ পৃ.)।

এ পদ্ধতি অত্যন্ত বিপজ্জনক। কারণ কোন ব্যক্তির বক্তব্যের পেছনে অজ্ঞতা, ভুল বোঝা, ভুল ব্যাখ্যা, জবরদস্তি, অনিচ্ছাকৃত ভুল ইত্যাদি কারণ থাকতে পারে। আলিমগণ এ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে বলেছেন, কোন ব্যক্তির উপর কুফর/ফিসস/বিদ‘আতীর হুকুম প্রয়োগ করতে হলে সংশ্লিষ্ট শর্তগুলো থাকতে হবে এবং প্রতিবন্ধকতাগুলো দূর হতে হবে (আল-ইসতিগাছাহ, ১/৩৮১; মাজমূঊল ফাতাওয়া ইবনে তাইমিয়্যাহ, ৩/২৩০ ও ৩৫/১৬৪-১৬৫; মাদারিজুস সালিকীন, ১/৩৬৭; মাজমূঊ ফাতাওয়া ইবনে বায, ২/৫২৮-৫২৯ পৃ. দ্র.)।

এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে নিরাপদ নীতি হল-প্রমাণে দৃঢ়তা, ব্যক্তির ব্যাপারে ইনছাফ, হুকুমে সতর্কতা এবং যোগ্য আলিমদের কাছে প্রত্যাবর্তন। এভাবে চললে বিদ‘আতের প্রতিবাদও হবে, আবার অন্যায় তাবদী‘ ও তাকফীর থেকেও বাঁচা যাবে। কারণ, বিদ‘আতী বলার ক্ষেত্রে সব পরিস্থিতির হুকুম এক নয়। ব্যক্তি, বিদ‘আতের প্রকৃতি, বিষয়টির স্পষ্টতা, তার জ্ঞান ও উদ্দেশ্য এসব বিবেচনা করতে হয়। অতএব আহলুস সুন্নাহর নীতিগত পদ্ধতি হল- দলীলের প্রতি ইনসাফ, ব্যক্তির ব্যাপারে যাচাই, শর্ত ও প্রতিবন্ধকতা বিবেচনা, হুজ্জাত প্রতিষ্ঠা এবং যোগ্য আলিমদের কাছে বিষয়টি প্রত্যাবর্তন করা।


প্রশ্নকারী : যাকির, কিশোরগঞ্জ।




প্রশ্ন (২৩) : আহলেহাদীছ কাকে বলে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৮) : জুমু‘আর খুতবাহ চলাকালীন খত্বীব কর্তৃক হাত তুলে দু‘আ করা এবং মুক্তাদীগণের হাত তুলে আমীন আমীন বলা কি শরী‘আতসম্মত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৭) : কোন পুরুষ তার স্ত্রীকে ত্বালাক্ব দিয়ে অপর কোন নারীকে বিয়ে করতে পারবে কি? ত্বালাক্ব দেয়ার কারণ হল- একই সাথে দু’জন স্ত্রী রাখার সামর্থ্য তার নেই এবং ইনছাফ করতে পারবে না। আর তার স্ত্রীর প্রতি কোন প্রকার আকর্ষণও নেই। - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৬) : নানীর আপন ভাইয়ের মেয়ে মাহরাম, না-কি গায়রে মাহরাম? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৯) : অনেকে ছেলে বিড়াল দ্বারা মেয়ে বিড়াল এর সাথে ব্রীড করায় বা মেটিং করায় এবং তার বিনিময়ে টাকাও নেয়। এটা কি জায়েয? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৫) : সাহু সিজদা দেয়ার সময় দুই সিজদার মাঝে দু‘আ পড়তে হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৮) : চরমপন্থা সম্পর্কে ইসলামের বক্তব্য কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৭) : শায়খ ইবনু বায (রাহিমাহুল্লাহ) কি নির্দিষ্ট কোন মাযহাবের অনুসরণ করতেন? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩) : মীম, জীম, ইয়াসীন, জান্নাত ইত্যাদি নাম রাখা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৭) : অনেকে দাবী করে, তারাবীহ ও তাহাজ্জুদ পৃথক ছালাত। তাহাজ্জুদ ৮ রাক‘আত, আর তারাবীহ ২০ রাক‘আত। উক্ত দাবী কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৬) : পাঁচটি রাত জেগে ইবাদত করলে তার জন্য জান্নাত যরূরী হয়ে যাবে। (১) তারবিয়ার রাত বা যিলহজ্জের ৮ তারিখের রাত, (২) আরাফার রাত, (৩) কুরবানীর রাত ,(৪) ঈদুল ফিতরের রাত ও (৫) ১৫ শা‘বানের রাত। উক্ত হাদীছটি কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১২) : এমন আত্মীয়-স্বজন, যারা কুফরি কালাম বা যাদু-টোনার মাধ্যমে সংসার ভেঙ্গে দেয়ার চেষ্টা করে, সংসারে অশান্তি সৃষ্টি করে, সংসারের সদস্যদের শারীরিক, মানসিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতির সম্মুখীন করে। এ ধরণের আত্মীয়দের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করলে এবং যোগাযোগ না করলে গুনাহ হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

ফেসবুক পেজ