উত্তর : সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কাউকে বিদ‘আতী বলা ও কাউকে কাফির বলার যে রীতি প্রচলিত আছে, তা অনেক ক্ষেত্রেই বাড়াবাড়ি এবং শরী‘আত পরিপন্থী। কেননা রাসূল (ﷺ) বলেছেন, ‘কেউ তার ভাইকে কাফির বললে, তাদের দু’জনের একজনের উপর তা বর্তাবে’ (ছহীহ বুখারী, হা/৬১০৩, ৬১০৪)। অন্য বর্ণনায় তিনি বলেন, ‘কেউ তার ভাইকে ‘কাফির’ বলে সম্বোধন করলে উভয়ের একজনের উপর তা ফিরে আসবে। যাকে কাফির বলা হয়েছে সে কাফির হলে ঠিক আছে, নতুবা কথাটি বক্তার উপরই ফিরে আসবে’ (ছহীহ বুখারী, হা/৬০৪৫)। এগুলো অত্যন্ত গুরুতর শারঈ হুকুম, ব্যক্তিগত পসন্দ-অপসন্দ, দলীয় আনুগত্য বা কয়েকটি পোস্ট/ক্লিপ দেখে এ ধরনের সিদ্ধান্ত দেয়া যায় না। আলিমগণ এ ক্ষেত্রে শর্ত পূরণ এবং প্রতিবন্ধকতা দূর হওয়ার (تحقق الشروط وانتفاء الموانع) কথা বলেছেন (আল-উম্ম, ৬/২০৫; মিনহাজুস সুন্নাহ, ৫/২৩৯; ফাৎহুল বারী, ১২/৩০৪; মাজমূঊ ফাতাওয়া ওয়া রাসাইল ইবনে উছাইমীন, ২/১৩৬ পৃ.)।
এ পদ্ধতি অত্যন্ত বিপজ্জনক। কারণ কোন ব্যক্তির বক্তব্যের পেছনে অজ্ঞতা, ভুল বোঝা, ভুল ব্যাখ্যা, জবরদস্তি, অনিচ্ছাকৃত ভুল ইত্যাদি কারণ থাকতে পারে। আলিমগণ এ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে বলেছেন, কোন ব্যক্তির উপর কুফর/ফিসস/বিদ‘আতীর হুকুম প্রয়োগ করতে হলে সংশ্লিষ্ট শর্তগুলো থাকতে হবে এবং প্রতিবন্ধকতাগুলো দূর হতে হবে (আল-ইসতিগাছাহ, ১/৩৮১; মাজমূঊল ফাতাওয়া ইবনে তাইমিয়্যাহ, ৩/২৩০ ও ৩৫/১৬৪-১৬৫; মাদারিজুস সালিকীন, ১/৩৬৭; মাজমূঊ ফাতাওয়া ইবনে বায, ২/৫২৮-৫২৯ পৃ. দ্র.)।
এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে নিরাপদ নীতি হল-প্রমাণে দৃঢ়তা, ব্যক্তির ব্যাপারে ইনছাফ, হুকুমে সতর্কতা এবং যোগ্য আলিমদের কাছে প্রত্যাবর্তন। এভাবে চললে বিদ‘আতের প্রতিবাদও হবে, আবার অন্যায় তাবদী‘ ও তাকফীর থেকেও বাঁচা যাবে। কারণ, বিদ‘আতী বলার ক্ষেত্রে সব পরিস্থিতির হুকুম এক নয়। ব্যক্তি, বিদ‘আতের প্রকৃতি, বিষয়টির স্পষ্টতা, তার জ্ঞান ও উদ্দেশ্য এসব বিবেচনা করতে হয়। অতএব আহলুস সুন্নাহর নীতিগত পদ্ধতি হল- দলীলের প্রতি ইনসাফ, ব্যক্তির ব্যাপারে যাচাই, শর্ত ও প্রতিবন্ধকতা বিবেচনা, হুজ্জাত প্রতিষ্ঠা এবং যোগ্য আলিমদের কাছে বিষয়টি প্রত্যাবর্তন করা।
প্রশ্নকারী : যাকির, কিশোরগঞ্জ।