শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:২৭ অপরাহ্ন

উত্তর : ‘আমি তোমাকে ত্বালাক্ব দিলাম’ এভাবে বললে এক ত্বালাক্ব সংঘটিত হবে। এখানে স্বামীর নিয়ত বা ইচ্ছা, উদ্দেশ্য ও মনোবাঞ্ছা বিবেচ্য নয়। কারণ সরাসরি বা স্পষ্ট শব্দে দেয়া ত্বালাক্বের জন্য নিয়তের প্রয়োজন হয় না। এমনকি যদি ধরে নেয়াও হয় যে, স্বামী তার স্ত্রীকে বলল, ‘আমি তোমাকে ত্বালাক্ব দিলাম’ অথচ সে মিথ্যা সংবাদ দেয়ার উদ্দেশ্যে বলেছে, তবুও ত্বালাক্ব কার্যকর হয়ে যাবে (ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-১০৪৮০৩)। ইমাম ইবনে কুদামা (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘যদি সে বলে- ‘আমি তাকে ত্বালাক্ব দিলাম’Ñ অথচ তার উদ্দেশ্য মিথ্যা বলা, তবুও ত্বালাক্ব সংঘটিত হয়ে যাবে। কারণ এখানে ত্বালাক্বের শব্দটি সুস্পষ্ট, যা নিয়ত ছাড়াই কার্যকর হয়’ (আল-মুগনী, ৭/৩০৬ পৃ.)।

দ্বিতীয়তঃ ইসলাম নারী-পুরুষকে বিবাহের মাধ্যমে একটি পবিত্র বন্ধনে আবদ্ধ করেছে। এই বন্ধনের পবিত্রতা ও শুদ্ধতার উপর তাদের ভবিষ্যৎ বংশধারার পবিত্রতা নির্ভর করে। এর ভিত্তিতেই তার স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির উত্তরাধিকার নির্ণীত হয়। তাই এহেন পবিত্র বন্ধনকে ছিন্ন করা ইসলাম পসন্দ করে না। ইসলাম কেবল বাধ্যতামূলক অবস্থায় ত্বালাক্বের অনুমতি দিয়েছে। সুতরাং কোন কারণে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বনিবনা না হলে, তাদের উভয়ের মুক্তির জন্য ইসলাম দিয়েছে ত্বালাক্বের অধিকার। ইসলাম যেমন স্বামীকে ত্বালাক্বের অধিকার দিয়েছে, তেমনি স্ত্রীকেও খুলা’ ত্বালাক্বের অধিকার দিয়েছে। পার্থক্য এতটুকু যে, স্বামী স্ত্রীকে স্বাধীনভাবে ত্বালাক্ব দিতে পারে, আর স্ত্রী স্বামীর কাছ থেকে খুলা’ ত্বালাক্ব নিতে পারে, দিতে পারে না। ত্বালাক্ব হচ্ছে স্বামীর অধিকার। নবী (ﷺ) বলেন ‘ত্বালাক্ব তারই অধিকার যার রয়েছে সহবাসের অধিকার’ (ইবনে মাজাহ, হা/১৭০৫, ২০৮১; সনদ হাসান, ইরওয়াউল গালীল, হা/২০৪১)।

আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘আর স্ত্রীদের মধ্যে যাদের অবাধ্যতার আশঙ্কা কর তাদেরকে সদুপদেশ দাও, তারপর তাদের শয্যা বর্জন কর এবং তাদেরকে প্রহার কর। যদি তারা তোমাদের অনুগত হয়, তবে তাদের বিরুদ্ধে কোন পথ অন্বেষণ কর না। আর তাদের উভয়ের মধ্যে মতবিরোধের আশঙ্কা করলে তোমরা স্বামীর পরিবার থেকে একজন এবং স্ত্রীর পরিবার থেকে একজন সালিশ নিযুক্ত কর, তারা উভয়ে নিস্পত্তি চাইলে আল্লাহ তাদের মধ্যে মীমাংসার অনুকূল অবস্থা সৃষ্টি করবেন। নিশ্চয় আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সবিশেষ অবহিত’ (সূরা আন-নিসা : ৩৪-৩৫)। বুঝা যাচ্ছে স্বামী স্ত্রীকে বিনা কারণে ত্বালাক্ব দিতে পারবে না। অনুরূপভাবে স্ত্রীও বিনা কারণে খুলা’ ত্বালাক্ব চাইতে পারবে না। রাসূল (ﷺ) বলেছেন, ‘যে সমস্ত নারী কোন কারণ ছাড়াই স্বামীর নিকট হতে খুলা’ ত্বালাক্ব চায় তার জন্য জান্নাতের সুগন্ধিও হারাম’ (তিরমিযী, হা/১১৮৬-১১৮৭; আবূ দাঊদ, হা/২২২৬; ইবনে মাজাহ, হা/২০৫৫)।


প্রশ্নকারী : মিতু, ঢাকা।






প্রশ্ন (২৫) : নবী (ﷺ) বলেন, ‘যে ব্যক্তি গায়রুল্লাহ্‌র জন্য যবহ করে তার ওপর লা‘নত হোক’ এ কথার উদ্দেশ্য কী? কোন মেহমানের জন্য যবহ করা কি গায়রুল্লাহ‌র জন্য যব্হ-এর মধ্যে পড়বে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১১) : মাথার চুল ডাস্টবিনে ফেললে কি পাপ হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১) : কেউ না জেনে বিদ‘আতী প্রতিষ্ঠানে বা বিদ‘আতী কাজে দান করলে করণীয় কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৯) : মুক্তিপ্রাপ্ত দলের বৈশিষ্ট্য কী? কোন ব্যক্তির মাঝে যদি উক্ত বৈশিষ্ট্যসমূহের কোন একটি অনুপস্থিত থাকে, তাহলে সে কি মুক্তিপ্রাপ্ত দল হতে বের হয়ে যাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৭) : নবী (ﷺ)-এর ছাহাবী দাহিয়া কালবী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) ইসলাম গ্রহণের পূর্বে তার নিজের মেয়েকে নিষ্ঠুরভাবে পর্বতে নিয়ে হত্যা করেছিল। এই বিষয়টি তিনি ইসলাম গ্রহণের পর নবী (ﷺ)-এর কাছে বর্ণনা করেন। উক্ত ঘটনাটি কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৬) : সকল কাজের শুরুতে বিসমিল্লাহ পড়ার সাথে সাথে দরুদে ইবরাহীম ছওয়াবের আশায় পড়া যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪৮) : মানুষ মারা গেলে চল্লিশা করা কি ঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২১) : মসজিদ কমিটির সদস্য হওয়া সত্ত্বেও ছালাত আদায় করে না। এমন ব্যক্তিকে মসজিদের কমিটিতে রাখা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৫) : সুন্নাত ছালাতের শেষের দু’রাক‘আতে অন্য সূরা মিলাতে হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৭) : জনৈক মুফতি বলেন, যে নিছাব পরিমাণ সম্পদের মালিক তার উপর কুরবানী ওয়াজিব। অন্যথা কুরবানী করা লাগবে না। এর অর্থ হল, তার কাছে সাড়ে সাত ভরি স্বর্ণ বা তার সমপরিমাণ জমানো টাকা থাকা লাগবে। এই ফৎওয়া অনুযায়ী অনেকেই তো কুরবানী করা থেকে বঞ্চিত হবে। উক্ত ফৎওয়া কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৪) : খুলা ত্বালাক্বের কোন ইদ্দত আছে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৬) : আমি একজন যুবক মানুষ। ৫ ওয়াক্ত ছালাত পড়ি। এক ওয়াক্ত ছুটে গেলে প্রচণ্ড খারাপ লাগে, নিজেকে বড় গুনাহগার মনে হয়। কিন্তু গোপন পাপ করলে অনুশোচনা আসে না। আমি কিভাবে নিজেকে এই পাপ থেকে বিরত রাখব। - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

ফেসবুক পেজ