বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ০৫:০৭ অপরাহ্ন
উত্তর : ৫ ওয়াক্ত ছালাতের মধ্যে কোন এক ওয়াক্ত ছুটে গেলে কষ্ট পাওয়া ঈমানের লক্ষণ। এটা খুবই বড় নে‘মত। আব্দুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, তোমরা সঠিকভাবে আযানের সাথে সাথে এই পাঁচ ওয়াক্ত ছালাতের প্রতি সবিশেষ নযর রাখবে। কেননা এই পাঁচ ওয়াক্ত ছালাতই হচ্ছে হিদায়াতের পথ। আল্লাহ তাঁর নবী (ﷺ)-এর জন্য হিদায়াতের এ পথ নির্ধারণ করে দিয়েছেন। আমাদের (সাধারণ) ধারণা, স্পষ্ট মুনাফিক্ব ব্যতীত কেউ জামা‘আত থেকে অনুপস্থিত থাকতে পারে না (আবূ দাঊদ, হা/৫৫০; ছহীহ মুসলিম, হা/৬৫৪; নাসাঈ, হা/৮৪৮)।

কিন্তু আপনার সমস্যা গোপন গুনাহের ক্ষেত্রে অপরাধবোধ আসে না। এটা আসলে হৃদয়ের ধীরে ধীরে কঠিন হয়ে যাওয়ার একটি লক্ষণ। গুনাহে অভ্যস্ত হয়ে যাওয়ার কারণে এমনটি হয়ে থাকে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘বরং তাদের অন্তরের উপর মরিচা পড়ে গেছে তাদের কৃতকর্মের কারণে’ (সূরা আল-মুতাফফিফীন : ১৪)। বারবার কোন গুনাহ করলে অন্তর সেটাকে স্বাভাবিক মনে করতে শুরু করে। প্রথমে কষ্ট লাগে, পরে কম লাগে, তারপর আর লাগে না। এই ধ্বংসাত্মক কু-অভ্যাস থেকে মুক্তির জন্য মহা উপদেশ হল:

(১) পাপ থেকে বিরত থাকার জন্য আল্লাহ তা‘আলার নিকট সাহায্য প্রার্থনা করুন (তিরমিযী, হা/৩৫৯১; ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-৩২৯)।

(২) আল্লাহ তা‘আলাকে ভয় করুন। আবূ যার (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, রাসূল (ﷺ) আমাকে বলেছেন,‌ ‘তুমি যেখানেই থাক না কেন আল্লাহ তা‘আলাকে ভয় কর, মন্দ কাজে লিপ্ত হয়ে পড়লে সঙ্গে সঙ্গে ভাল কাজ করতে শুরু কর, তাতে মন্দ দূরীভূত হয়ে যাবে এবং মানুষের সাথে উত্তম আচরণ কর (তিরমিযী, হা/১৯৮৭; আহমাদ, হা/২১৩৯২; ছহীহুত তারগীব, হা/২৬৫৫, ৩১৬০; ছহীহুল জামি‘, হা/৯৭)।

(৩) নির্জনে, গোপনে ও রাতের অন্ধকারে পাপ করা থেকে বাঁচুন। ছাওবান (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, নবী (ﷺ) বলেন, আমি আমার উম্মাতের কতক দল সম্পর্কে অবশ্যই জানি যারা ক্বিয়ামতের দিন তিহামার শুভ্র পর্বতমালার সমতুল্য নেক আমাল নিয়ে উপস্থিত হবে। মহামহিম আল্লাহ সেগুলোকে বিক্ষিপ্ত ধূলিকণায় পরিণত করবেন। ছাওবান (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! তাদের পরিচয় পরিষ্কারভাবে আমাদের নিকট বর্ণনা করুন, যাতে অজ্ঞাতসারে আমরা তাদের অন্তর্ভুক্ত না হই। তিনি বলেন, তারা তোমাদেরই ভ্রাতৃগোষ্ঠী এবং তোমাদের সম্প্রদায়ভুক্ত। তারা রাতের বেলা তোমাদের মতই ইবাদত করবে। কিন্তু তারা এমন লোক যে, একান্ত গোপনে আল্লাহর হারামকৃত বিষয়ে লিপ্ত হবে (ইবনু মাজাহ, হা/৪২৪৫; ছহীহুল জামি‘, হা/৫০২৮, ৭১৭৪; ছহীহুত তারগীব, হা/২৩৪৬; সিলসিলা ছহীহাহ, হা/৫০৫)।

(৪) নির্জনতা ও একাকীত্ব থেকে বাঁচুন। বিশেষ করে পূর্বে যৌন-উত্তেজক কোন কিছু নজরে পড়ে থাকলে নির্জনে যাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে (তিরমিযী, হা/২১৬৫; ইবনু মাজাহ, হা/২৩৬৩; ছহীহুল জামি‘, হা/২৫৪৬)।

(৫) গুনাহের জায়গা ও সুযোগ থেকে দূরে থাকুন। যে পরিবেশ বা মাধ্যম নাফসকে উত্তেজিত করে, তা থেকে দূরে থাকাই সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিকার (সূরা আল-আন‘আম : ১৫১; সূরা আন-নূর : ১৯, ৩১)।

(৬) গুনাহ ছেড়ে দেয়ার জন্য দৃঢ়ভাবে প্রতিজ্ঞা করুন। চক্ষুই হল হৃদয়ের আয়না, যখন কোন জিনিস চোখে ভালো লাগে তখনই তার প্রতি অন্তরে কামনা-বাসনা উদিত হয়‌‌। এমন গুপ্ত অভ্যাসের একটি অন্যতম কারণ হল চোখের দর্শন-তৃপ্তি উপভোগ (সূরা আন-নূর : ৩০-৩১; ছহীহ বুখারী, হা/৬২৪৩; ছহীহ মুসলিম, হা/২৬৫৭; আবূ দাঊদ, হা/২১৫২; তিরমিযী, হা/২৭৭৭; আবূ দাঊদ, হা/২১৪৯দ মুসনাদে আহমাদ, হা/২২৯৭৪, ২২৯৯১, ২৩০২১)।

(৭) নাফসকে বৈধ কাজে ব্যস্ত রাখুন।  যেমন, বিভিন্ন প্রকার ইবাদাত ও যিকির-আযকারে নিজেকে ও নিজের অন্তরকে ব্যস্ত রাখতে হবে। সর্বদা কিছু একটা করতে থাকুন, বই-পুস্তক পড়ুন, অর্থসহ কুরআন তিলাওয়াত করুন, কুরআন অথবা ইসলামী বক্তৃতা শুনুন। বৈধ খেলাধূলা বা সমাজ ও জনকল্যাণমূলক কাজ করুন। পাপাচার ও অন্যায় কাজের জন্য অবসর সময় রাখা যাবে না (তিরমিযী, হা/৩৩৭৫; ইবনু মাজাহ, হা/৩৭৯৩; ছহীহুল জামি‘, হা/৭৭০০; ছহীহুত তারগীব, হা/১৪৯১; মুসনাদে আহমাদ, হা/১৭৬৮০, ১৭৬৯৮)।

(৮) তাক্বওয়া বৃদ্ধির আমল করা : নিয়মিত ওয়াক্তমত ছালাত আদায়, কুরআন পাঠ, সকাল-সন্ধ্যার যিকর ও নফল ছিয়াম নাফসকে নিয়ন্ত্রণে রাখে। আল্লাহ বলেন, ‘আর যদি তোমরা ছিয়াম রাখ, তবে সেটাই তোমাদের জন্য উত্তম যদি তোমরা বুঝ’ (সূরা আল-বাক্বারাহ: ১৮৩)।

(৯) নিজের কৃতকর্মের জন্য বেশি বেশি তাওবাহ ইসতিগফার করতে থাকা (সূরা হূদ : ৩, ৫২; সূরা আন-নূহ : ১০-১২; সূরা আল-ফুরক্বান : ৭০-৭১)।

(১০) ধৈর্যধারণ করতে হবে (ছহীহ বুখারী, হা/১৪৬৯, ৬৪৭০; ছহীহ মুসলিম, হা/১০৫৩; মুসনাদে আহমাদ, হা/১১৮৯০)।

(১১) প্রয়োজনে শরী‘আত মোতাবেক বিবাহ করুন। এই ধ্বংসাত্মক কু-অভ্যাসকে দমন করতে একটি মৌলিক হাতিয়ারের প্রয়োজন, আর তা হল বিবাহ (ছহীহ বুখারী, হা/১৯০৫)।


প্রশ্নকারী : নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, ঢাকা।





প্রশ্ন (১৫) : বর্তমানে অধিকাংশ মসজিদে কাতারের মধ্যে পরস্পরের পায়ের মাঝে ‘চার আঙ্গুল’ পরিমাণ ফাঁক রেখে ছালাত আদায় করা হয় এবং পায়ে পা মিলালে অন্যকে অপমান করা হয় মর্মে ধারণা প্রচলিত আছে। উক্ত ধারণ কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৪) : আমি নিয়মিত কবর খনন করি। আমি জানতে চাচ্ছি যে, কবর খনন করলে কী নেকী হয়? প্রচলিত আছে, যে ১০০টি কবর খনন করবে সে বিনা হিসাবে জান্নাতে যাবে। এর প্রমাণে কোন দলীল আছে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১২) : কবরস্থানের ফাঁকা জায়গায় (যেখানে কবর নেই) জানাযার ছালাত পড়া যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩০) : দোকানের চতুর্দিকে অনেক ছবি আছে। এমন স্থানে ছালাত আদায় করলে ছালাত হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৫) : নবী (ﷺ) বলেন, ‘যে ব্যক্তি গায়রুল্লাহ্‌র জন্য যবহ করে তার ওপর লা‘নত হোক’ এ কথার উদ্দেশ্য কী? কোন মেহমানের জন্য যবহ করা কি গায়রুল্লাহ‌র জন্য যব্হ-এর মধ্যে পড়বে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৯) : পুরুষ চিকিৎসক দ্বারা মহিলাদের চিকিৎসা করালে পাপ হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২২) : যেকোন মসজিদে ই‘তিকাফ করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৮) : কোন্ কোন্ সময় সহবাস করা নিষিদ্ধ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৩) : মদীনা কামারের হাপরের ন্যায়। মদীনা মরিচা (দুষ্ট লোক) বিদূরিত করে এবং ভালকে আরও উজ্জ্বল করে (ছহীহ বুখারী, হা/৬৭৮৫)। উক্ত হাদীছে ব্যাখ্যা কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১০) : এশার ছালাতের জামা‘আত চলাকালীন শেষের দুই রাক‘আতে জামা‘আতে শামিল হলে ইমামের সালাম ফিরানোর পর মাসবূক ব্যক্তি কি পরের বাকি দুই রাক‘আত ছালাতে সূরা ফাতিহার পর অন্য কোন সূরা যোগ করবে, না-কি শুধু সূরা ফাতিহা পড়বে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪) : ছালাতের ওয়াক্ত হওয়ার আগে আযান দেয়া যাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৩) : যারা মিউজিক শুনে তাদের কানে উত্তপ্ত গলিত সীসা ঢেলে দেয়ার হাদীছটি কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

ফেসবুক পেজ