বৃহস্পতিবার, ২৩ Jul ২০২৬, ১২:৩৪ পূর্বাহ্ন
উত্তর : উক্ত ধারণা সঠিক নয়। এটি সুন্নাতকে অবজ্ঞা করার অপকৌশল এবং চূড়ান্ত মিথ্যাচার। কারণ যারা পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ, তারা যদি পরস্পরে দাঁড়িয়ে পায়ে পা মিলিয়ে ছালাত পড়তে পারেন, তাহলে আমাদের সম্মানের হানি হবে কেন? আমাদেরকেও তাঁদের পদাংক অনুসরণ করতে হবে। কারণ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) পায়ে পা, টাখনুর সাথে টাখনু ও কাঁধের সাথে কাঁধ মিলিয়ে ছালাত আদায় করতে বহু হাদীছে নির্দেশ দিয়েছেন। যেমন-
(১) আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন,مَنْ سَدَّ فُرْجَةً فِىْ صَفَّ رَفَعَهُ اللهُ بِهَا دَرَجَةً وَبَنَى لَهُ بَيْتًا فِي الْجَنَّةِ ‘যে ব্যক্তি কাতারের মাঝে ফাঁক বন্ধ করে দাঁড়াবে, এর বিনিময়ে আল্লাহ তার একটি মর্যাদা বৃদ্ধি করে দিবেন এবং তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর নির্মাণ করবেন’ (ত্বাবারাণী, আল-মু‘জামুল আওসাত্ব, হা/৫৭৯৫; সনদ ছহীহ, সিলসিলা ছহীহাহ, হা/১৮৯২)।
(২) আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন,إِنَّ اللهَ وَمَلَائِكَتَهُ يُصَلُّوْنَ عَلَى الَّذِيْنَ يَصِلُوْنَ الصُّفُوْفَ وَمَنْ سَدَّ فُرْجَةً رَفَعَهُ اللهُ بِهَا دَرَجَةً ‘নিশ্চয় আল্লাহ এবং ফেরেশতগণ তাদের প্রতি রহমত বর্ষণ করেন, যারা কাতারবন্দী হয়ে ছালাত আদায় করেন। আর যে ব্যক্তি কাতারের ফাঁক বন্ধ করে দাঁড়ায়, আল্লাহ তা‘আলা এর বিনিময়ে তার মর্যাদা বৃদ্ধি করে দেন’ (ইবনু মাজাহ, হা/৯৯৫; সনদ ছহীহ, সিলসিলা ছহীহাহ, হা/২৫৩২)।
(৩) ইবনু ওমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ‘তোমরা কাতার সোজা করবে, বাহুসমূহকে বরাবর রাখবে, ফাঁক সমূহ বন্ধ করবে এবং তোমাদের ভাইদের হাতের সাথে নম্রতা বজায় রেখে মিলিয়ে দিবে; মধ্যখানে শয়তানের জন্য ফাঁক রাখবে না। যে ব্যক্তি কাতারের মাঝে মিলিয়ে দাঁড়ায়, আল্লাহ তাকে তাঁর নিকটবর্তী করে নেন। আর যে ব্যক্তি কাতারের মাঝে পৃথক করে দেয় আল্লাহও তাকে পৃথক করে দেন’ (আবূ দাঊদ, হা/৬৬৬, সনদ ছহীহ; মিশকাত, হা/১১০২; বঙ্গানুবাদ মিশকাত, হা/১০৩৪, ৩/৬১ পৃ.)।
(৪) নু‘মান ইবনু বাশীর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মুছল্লীদের দিকে মুখ করতেন অতঃপর বলতেন, ‘তোমরা কাতার সোজ কর। এভাবে তিনি তিনবার বলতেন। আমি আল্লাহর কসম করে বলছি, তোমরা তোমাদের কাতার সোজা করবে অথবা আল্লাহ তোমাদের অন্তরের মাঝে ফাটল সৃষ্টি করে দিবেন। রাবী বলেন, অতঃপর আমি দেখতাম, মুছল্লী তার সাথী ভাইয়ের কাঁধে কাঁধ, হাঁটুর পার্শ্বের সাথে হাঁটুর পার্শ্ব এবং টাখনুর সাথে টাখনু ভিড়িয়ে দিত’ (আবূ দাঊদ, হা/৬৬২, সনদ ছহীহ)।
(৫) বারা ইবনু আযেব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কাতারের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্ত পর্যন্ত বরাবর করতেন। তিনি আমাদের বুক ও কাঁধ স্পর্শ করতেন এবং বলতেন, তোমরা পৃথক পৃথক হয়ে দাঁড়াও না। অন্যথা তোমাদের অন্তরসমূহ পৃথক হয়ে যাবে। তিনি আরো বলতেন, নিশ্চয় আল্লাহ এবং ফেরেশতাগণ প্রথম কাতারের মুছল্লীদের উপর রহমত নাযিল করেন’ (আবূ দাঊদ, হা/৬৬৪, সনদ ছহীহ)।
(৬) আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ‘তোমরা তোমাদের কাতার সোজা কর। নিশ্চয় আমি তোমাদেরকে আমার পিছন থেকে দেখতে পাই। আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, আমাদের একজন অপরজনের কাঁধে কাঁধ ও পায়ে পায়ে মিলিয়ে দাঁড়াতেন (ছহীহ বুখারী, হা/৭২৫, (ইফাবা হা/৬৮৯, ২/৯৫ পৃ.)।
(৭) আবূ মাসঊদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ছালাতে আমাদের বাহুগুলোকে পরস্পরের সাথে মিলিয়ে দিতেন এবং বলতেন, সোজা হয়ে দাঁড়াও; পৃথক পৃথক হয়ে দাঁড়াও না। অন্যথা তোমাদের অন্তরসমূহ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। তোমাদের মধ্যে যারা বয়স্ক ও বুদ্ধিমান তারাই যেন আমার নিকটে থাকে। অতঃপর যারা বয়স ও বুদ্ধিতে তাদের ন্যায়, তারা যেন থাকে। অতঃপর যারা উভয় দিক থেকে নিকটবর্তী তারা যেন থাকে। আবু মাসঊদ বলেন, তোমরা আজ অত্যধিক বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছ’ (ছহীহ মুসলিম, হা/৪৩২, (ইফাবা হা/৮৫৪); মিশকাত, হা/১০৮৮; বঙ্গানুবাদ মিশকাত, হা/১০২০, ৩/৫৭ পৃঃ, ‘কাতার সোজা করা’ অনুচ্ছেদ)।
(৮) আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, একদা ছালাতের ইক্বামত দেয়া হল। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের দিকে মুখ ফিরালেন এবং বললেন, তোমরা কাতার সোজা কর এবং পরস্পরে মিলে দাঁড়াও। নিশ্চয় আমি তোমাদেরকে আমার পিছন থেকেও দেখতে পাই’ (ছহীহ বুখারী, হা/৭১৯, (ইফাবা হা/৬৮৪, ২/৯৩ পৃ.); মিশকাত, হা/১০৮৬; বঙ্গানুবাদ মিশকাত, হা/১০১৮, ৩/৫৬ পৃ.)।
(৯) আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ‘তোমরা কাতার সমূহে পরস্পরে মিলে দাঁড়াবে এবং পরস্পরকে কাছে টেনে নিবে। আর তোমাদের ঘাড় সমূহকে সমপর্যায়ে সোজা রাখবে। আমি ঐ সত্তার কসম করে বলছি, যার হাতে আমার প্রাণ রয়েছে, নিশ্চয় আমি শয়তানকে দেখি সে কাতারের ফাঁক সমূহে প্রবেশ করে, কালো ভেড়ার বাচ্চার ন্যায়’ (আবূ দাঊদ, হা/৬৬৭, সনদ ছহীহ; মিশকাত, হা/১০৯৩; বঙ্গানুবাদ মিশকাত, হা/১০২৫, ৩/৫৮ পৃ.)।

সুতরাং কাতারে দাঁড়ানোর সময় পায়ের সাথে পা, টাখনুর সাথে টাখনু এবং কাঁধের সাথে কাঁধ মিলিয়েই দাঁড়াতে হবে। উক্ত হাদীছ সমূহ জানার পরও কেউ যদি এই সুন্নাতকে প্রত্যাখ্যান করে, তবে সে সরাসরি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর আদেশ লংঘন করবে। হাদীছে সীসা ঢালা প্রাচীরের মত দাঁড়াতে বলা হয়েছে, যেমন একটি ইট আরেকটি ইটের উপর রেখে প্রাচীর নির্মাণ করা হয়। সুতরাং পরস্পরের পায়ের মাঝে কোন ফাঁক থাকবে না।


প্রশ্নকারী : তাওহীদুল ইসলাম, সাভার, গাজীপুর।





প্রশ্ন (১৮) : মানসিক প্রশান্তি লাভের উপায় কী কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৮) : জনৈক আলেম বলেন, যে ব্যক্তি বিড়ি-সিগারেট, গুল, জর্দা পান করবে তার চল্লিশ দিনের ছালাত কবুল হবে না। তিনি দলীল হিসাবে ইবনু মাজাহর ৩৩৭৭ নং হাদীছ পেশ করেছেন। উপরিউক্ত নেশাদার দ্রবগুলোর প্রেক্ষিতে উক্ত দলীল পেশ করা যুক্তিযুক্ত হয়েছে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৬) : মসজিদ কমিটি বিবাহ পড়ানোর জন্য ২০০০-৩০০০-৩৫০০ টাকা নিয়ে থাকে। এটা কি জায়েয? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৫) : কোন ব্যক্তি যদি কুরআনের মাছহাফ ব্যতীত মুখস্থ কুরআন তেলাওয়াত করে, তাহলে তার জন্য এক হাযার মর্যাদার সমান নেকী রয়েছে। আর যদি মাছহাফে কুরআন পড়া মুখস্থ পড়ার চেয়ে দুই হাজার মর্যাদার সমান রয়েছে (ত্বাবারাণী, আল-জামেঊল কাবীর হা/৬০১)। বর্ণনাটি কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৫) : এক মেয়ে কুরআন-সুন্নাহ অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করে এমন একজন ছেলেকে বিয়ে করতে চায়। কিন্তু তার মা চায় না, বরং তার জন্য এই দু‘আ করেন যে, সে যেন মারা যায়। ইদানিং মেয়েটি অসুস্থ। এটা কি বদদু‘আর ফল? এক্ষেত্রে করণীয় কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩) : হজ্জ মানুষের পাপকে ধুয়ে দেয়, যেভাবে পানি ময়লাকে ধুয়ে দেয়। এই হাদীছটি কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪) : বিবাহ পড়ানোর পর ইমামকে যে হাদিয়া দেয়া হয় তা নেয়া যাবে কি? মসজিদ কমিটির লোকজন মসজিদ, গোরস্থান ইত্যাদির জন্য বরপক্ষের কাছে দান চায়, দিতে না চাইলে চাপ প্রয়োগ করে টাকা নেয়া হয়। এগুলো কি জায়েয? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২১) : বর্তমানে অধিকাংশ মুদির দোকানে বিড়ি, সিগারেট, গুল, জর্দা ইত্যাদি বিক্রয় করা হয়। প্রশ্ন হল- এ সকল হারাম জিনিস বিক্রয়ের কারণে কি দোকানের অন্য জিনিসগুলো বিক্রয় হারাম হয়ে যাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৪) : ‘মসজিদে হারাম, মসজিদে নববী ও মসজিদে আক্বছা ব্যতীত অন্য কোন মসজিদে ই‘তিকাফ করা যাবে না। এ মর্মে বর্ণিত হাদীছটি কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১) : জনৈক ব্যক্তি চাকুরীরত অবস্থায় মালিককে না জানিয়ে উত্ত প্রতিষ্ঠান থেকে কিছু পণ্য নিয়েছিল। লজ্জার কারণে মালিককে বলতেও পারছে না। কী পরিমাণ জিনিস নিয়েছে সেটাও জানা নেই। আনুমানিক যতটুকু ধারণা আছে তার উপর ভিত্তি করে কি টাকা দিলে হবে না-কি? এমতাবস্থায় করণীয় কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৬) : সাধারণ মানুষ বা আলেম সমাজ যারা সালাফী আক্বীদার, তারা কি নিজের নামের শেষে সালাফী নামটি ব্যবহার করতে পারে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৪) : জনৈক ব্যক্তি রাগ করে বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী তিন ত্বালাক্ব দেয় এবং ৯০ দিন পর সিটিকর্পোরেশন থেকে সার্টিফিকেট নেয়। তাদের দাম্পত্য জীবন ১১ বছরের এবং ১০ বছরের একটি ছেলে সন্তানও আছে। তবে ত্বালাক্ব দেয়ার সময় সে এক ত্বালাক্ব দিয়েছে। এমতাবস্থায় স্ত্রীকে ফিরিয়ে নেয়ার কোন সুযোগ আছে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ