উত্তর : যদি কোন ব্যক্তি (নাঊযুবিল্লাহ) নিজের মেয়ের সঙ্গে যিনা বা ধর্ষণের মত অপরাধ করে, তাহলে এর কারণে তার স্ত্রীর সঙ্গে বিদ্যমান বৈধ বিবাহ ভেঙে যায় না এবং স্ত্রী তার জন্য হারাম হয়ে যায় না। কারণ হারাম পন্থায় সংঘটিত কাজ বৈধ নিকাহের উপর প্রভাব ফেলে না। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, وَ اُحِلَّ لَکُمۡ مَّا وَرَآءَ ذٰلِکُمۡ ‘এগুলো ছাড়া অন্যান্য নারী তোমাদের জন্য হালাল করা হয়েছে’ (সূরা আন-নিসা : ২৪)। এ আয়াতের ভিত্তিতে ফক্বীহগণ বলেন, হারাম কাজ নতুন কোন বৈবাহিক নিষেধাজ্ঞা সৃষ্টি করে না। ইমাম ইবনু কুদামাহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন,
ولا تحرم المرأة على زوجها بزناه بأمها أو ابنتها، وهو قول أكثر أهل العلم
‘কোন ব্যক্তি যদি তার স্ত্রীর মা বা মেয়ের সঙ্গে যিনা করে, তাহলে এর দ্বারা স্ত্রী তার জন্য হারাম হয়ে যায় না। এটাই অধিকাংশ আলেমের মত’ (আল-মুগনী, ৯/৫৬৫ পৃ.)। ইমাম নববী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, الزنا لا يثبت به تحريم المصاهرة عندنا، وبه قال جمهور العلماء ‘আমাদের (শাফেঈ) মতে যিনার মাধ্যমে শ্বশুরালয়-সংক্রান্ত হারাম হওয়ার সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয় না। এটাই অধিকাংশ আলেমের মত’ (আল-মাজমূঊ, ১৭/৩৫৬ পৃ.)।
এখন মায়ের করণীয় হল- স্বামীর এ ধরনের অপরাধ প্রমাণিত হলে তা শুধু বড় গুনাহ নয়; বরং জঘন্য অপরাধ এবং ইসলামী রাষ্ট্রে এর জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। এ অবস্থায় স্ত্রীর করণীয় হল- (১) মেয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাকে সেই ব্যক্তির কাছ থেকে সম্পূর্ণ পৃথক রাখা। (২) অপরাধটি যথাযথ কর্তৃপক্ষ বা আদালতের মাধ্যমে বিচারাধীন করার চেষ্টা করা। (৩) যদি স্বামীর সঙ্গে বসবাসে নিজের বা সন্তানের নিরাপত্তা, দ্বীন বা ইযযতের আশঙ্কা থাকে, তাহলে বিচারকের মাধ্যমে বিচ্ছেদ (ত্বালাক্ব বা খুলা) গ্রহণ করা বৈধ; বরং অনেক ক্ষেত্রে তা আবশ্যক হয়ে পড়ে।
প্রশ্নকারী : খাদিজা, চট্টগ্রাম।