যে কোন সময় (রাতে ও দিনে) পঠিতব্য দু‘আ ও যিকর
দু‘আ-২০ : মহান আল্লাহ যখন মূসা (আলাইহিস সালাম)-কে ফির‘আউনের নিকট যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন, তখন মূসা (আলাইহিস সালাম) বলেছিলেন,
رَبِّ اشۡرَحۡ لِیۡ صَدۡرِیۡ . وَ یَسِّرۡ لِیۡۤ اَمۡرِیۡ . وَ احۡلُلۡ عُقۡدَۃً مِّنۡ لِّسَانِیۡ . یَفۡقَہُوۡا قَوۡلِیۡ
অর্থ: ‘হে আমার প্রতিপালক! আমার বক্ষ প্রশস্ত করে দিন। এবং আমার কর্ম সহজ করে দিন। আমার জিহ্বার জড়তা দূর করে দিন। যাতে তারা আমার কথা বুঝতে পারে’ (সূরা ত্বা-হা : ২৫-২৮)।
দু‘আ-২১ : মূসা (আলাইহিস সালাম) একজনকে ভুলবশত হত্যা করে বলেছিলেন,
رَبِّ اِنِّیۡ ظَلَمۡتُ نَفۡسِیۡ فَاغۡفِرۡ لِیۡ
অর্থ: ‘হে আমার প্রতিপালক! আমি তো আমার নিজের প্রতি যুলুম করেছি; সুতরাং আমাকে ক্ষমা করুন’ (সূরা আল-ক্বাছাছ : ১৬)।
আল-কুরআনে বর্ণিত ছলেহ বান্দাদের দু‘আ ও যিকর
দু‘আ-১ : মূসা (আলাইহিস সালাম)-এর ঈমানদার সাথীবৃন্দ ফেরাউন ও তার প্রধানবর্গের নির্যাতনের ভয়ে ভীত-সন্ত্রস্ত ছিল। মূসা (আলাইহিস সালাম) বললেন, হে আমার সম্প্রদায়! যদি তোমরা আল্লাহর উপর ঈমান রাখো, তবে তাঁরই উপর ভরসা কর। তাঁরা আল্লাহর উপর ভরসা করে বলেছিলেন,
رَبَّنَا لَا تَجۡعَلۡنَا فِتۡنَۃً لِّلۡقَوۡمِ الظّٰلِمِیۡنَ . وَ نَجِّنَا بِرَحۡمَتِکَ مِنَ الۡقَوۡمِ الۡکٰفِرِیۡنَ
অর্থ: ‘হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে এই যালিমদের জন্য ফিতনা স্বরূপ বানাবেন না। আর আমাদেরকে আপনার নিজ রহমতে এই কাফিরদের থেকে মুক্তি দিন’ (সূরা ইউনুস : ৮৫-৮৬)।
দু‘আ-২ : যখন তালূত সৈন্যদলসহ জালূত ও তার সেনাবাহিনীর সম্মুখীন হয়েছিলেন, তখন তারা বলেছিলেন,
رَبَّنَاۤ اَفۡرِغۡ عَلَیۡنَا صَبۡرًا وَّ ثَبِّتۡ اَقۡدَامَنَا وَ انۡصُرۡنَا عَلَی الۡقَوۡمِ الۡکٰفِرِیۡنَ
অর্থ: ‘হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে পূর্ণ সহিষ্ণুতা দান করুন, আর আমাদের কদমকে অটল রাখুন এবং কাফির জাতির উপর আমাদেরকে সাহায্য করুন’ (সূরা আল-বাক্বারাহ : ২৫০)।
দু‘আ-৩ : যখন ঈসা (আলাইহিস সালাম) তাঁর উম্মতের মধ্যে প্রত্যাখ্যান প্রত্যক্ষ করলেন, তখন তিনি বললেন, আল্লাহর উদ্দেশ্যে কে আমার সাহায্যকারী হবে? তখন হাওয়ারিগণ বলেছিলেন, আমরাই আল্লাহর সাহায্যকারী; আমরা আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেছি; এবং সাক্ষী থাকুন যে, আমরা আত্মসমর্পণকারী এবং তাঁরা আরোও বলেছিলেন,
رَبَّنَاۤ اٰمَنَّا بِمَاۤ اَنۡزَلۡتَ وَ اتَّبَعۡنَا الرَّسُوۡلَ فَاکۡتُبۡنَا مَعَ الشّٰہِدِیۡنَ
অর্থ: ‘হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি যা অবতীর্ণ করেছেন, আমরা তা বিশ্বাস করি এবং আমরা রাসূলের অনুসরণ করছি; অতএব সাক্ষীগণের সাথে আমাদেরকে লিপিবদ্ধ করুন’ (সূরা আলে-ইমরান : ৫৩)।
দু‘আ-৪ : মহান আল্লাহ পৃথিবীতে অনেক নবী পাঠিয়েছিলেন। যাদের সহযোদ্ধারা কাফিরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিলেন। পরন্ত আল্লাহর পথে যা সংঘটিত হয়েছিল তাতে তারা নিরুৎসাহ হয়নি, শক্তিহীন হয়নি ও বিচলিত হয়নি। তারা বলেছিলেন,
رَبَّنَا اغۡفِرۡ لَنَا ذُنُوۡبَنَا وَ اِسۡرَافَنَا فِیۡۤ اَمۡرِنَا وَ ثَبِّتۡ اَقۡدَامَنَا وَ انۡصُرۡنَا عَلَی الۡقَوۡمِ الۡکٰفِرِیۡنَ
অর্থ: ‘হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের জন্য আমাদের অপরাধ ও আমাদের বাড়াবাড়ি ক্ষমা করুন ও আমাদের চরণসমূহ সুদৃঢ় করুন এবং অবিশ্বাসীদের উপর আমাদেরকে সাহায্য করুন’ (সূরা আলে-‘ইমরান : ১৪৭)।
দু‘আ-৫ : আছহাবে কাহাফ বা গুহার অধিবাসী যুবকরা গুহায় আশ্রয় নিয়ে বলেছিলেন,
رَبَّنَاۤ اٰتِنَا مِنۡ لَّدُنۡکَ رَحۡمَۃً وَّ ہَیِّیٔۡ لَنَا مِنۡ اَمۡرِنَا رَشَدًا
অর্থ: ‘হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি নিজের থেকে আমাদেরকে অনুগ্রহ দান করুন এবং আমাদের জন্য আমাদের কাজ-কর্ম সঠিকভাবে পরিচালনার ব্যবস্থা করুন’ (সূরা আল-কাহ্ফ : ১০)।