শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৪১ অপরাহ্ন

ধর্মীয় সংস্কারের স্বরূপ ও প্রকৃতি

- ড. মুহাম্মাদ বযলুর রহমান*


(২য় কিস্তি) 

ধর্মীয় সংস্কার পরিচিতি (Introduction to Religious Reformation)

‘ধর্মীয় সংস্কার’ একটি ব্যাপক অর্থবোধক শব্দ। এজন্য সবার আগে এটা নিশ্চিত করা দরকার যে, সংস্কারের অর্থ সংজ্ঞায়িত করা, যা খুব সহজ নয়। কেননা শব্দটি ব্যাপক অর্থ প্রকাশ করে থাকে। শব্দটি সম্পর্কে জনগণের মধ্যে সাধারণ অবগতি থাকলেও এর প্রকৃত অর্থ অনেকেই জানেন না। বরং সমাজে এমন কিছু ব্যক্তি রয়েছেন, যারা বিষয়টির সঠিক ব্যাখ্যা না জেনে এর বাহ্যিক অর্থ বুঝে আৎকে উঠেন এবং ধর্মীয় সংস্কারের কথা শুনলেই মনে করেন লড়াই, মারামারি, দ্বন্দ্ব-ফাসাদ ও রক্তারক্তি। এ প্রেক্ষিতে তারা ইসলামের বিরুদ্ধে নানা ধরনের বিষোদগারও করে থাকেন। এ বিষয়টি সামনে রেখে পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য আমাদের শাব্দিক ও পারিভাষিক ধারণার মাধ্যমে সঠিক অর্থ খুঁজে বের করতে হবে এবং অস্পষ্ট ধারণাকে দূর করে সুস্পষ্ট ধারণা ও সিদ্ধান্ত পেশ করতে হবে, যাতে করে ‘ধর্মীয় সংস্কার’ সম্পর্কে সঠিক উপলব্ধি জাতির নিকট দৃঢ়ভাবে উন্মোচন করা যায়। যা নিম্নরূপ:

শাব্দিক বিশ্লেষণ (Acoustic analysis)

‘ধর্মীয় সংস্কার’ একটি প্রাচীন পরিভাষা। যাকে ‘আরবীতে تَجْدِيْدُ الدِّيْنِ বলা হয়। এখানে দু’টি শব্দ রয়েছে। যেমন,

(এক) ‘সংস্কার’

এর আবরী পরিভাষা হল ‘আত-তাজদীদ’ (اَلتَّجْدِيْدُ)।[১] تجديد শব্দটি বাবে تفعيل-এর মাসদার। এটি جَدَّ-يَجِدُّ-تَجْدِيْدًا থেকে উৎপত্তি। শব্দটির অর্থ নিম্নে উল্লেখ করা হল,

১. প্রখ্যাত অভিধানবেত্তা আবূ বাকর আর-রাযী (মৃত ৬৬০ হি./১২৬১ খ্রি.) বলেন, ‘কোন কিছু নতুন করা (تُجَدِّدُ الشَّئِّ), নতুন কিছু (صَارَ جَدِيْدًا)[২], নবীনতর (أَجَدَّه), নবায়ন করা (جَدَّدَه), নতুন হওয়া বা নতুন হিসেবে আসা (اِسْتَجَدَّه), নতুন করে সংঘটিত করা (صَيَّرَهُ جَدِيْدًا)। [৩]

২. তাহির আহমাদ আয-যাভী (১৮৯০-১৯৮৬ খ্রি.) বলেন, وهو ضد البِلي ‘জীর্ণ বা ক্ষয়প্রাপ্ত হওয়ার বিপরীত’।[৪]

৩. জাওহারী[৫] (মৃত ৯৪০ হি./১০০২ খ্রি.) বলেন, صَارَ جَدَِيْدًا وَهُوَ نَقِيْضُ الْخَلْقِ ‘নতুন কিছু করা, যা সৃষ্টির বিপরীত’।[৬]

৪.  আল-ফাইয়ূমী[৭] (মৃ. ১৩৬৮ হি.) বলেন, وَهُوَ خِلَافُ الْقَدِيْمِ ‘নতুন কিছু করা, যা পুরাতনের বিপরীত।[৮]

আল-কুরআনে সরাসরি تَجْدِيْدُ শব্দটি উল্লেখিত হয়নি, যদিও মুশতাক হিসেবে শব্দটি جَدِيد শব্দে ব্যবহৃত হয়েছে। যেমন মহান আল্লাহ বলেন,

اَفَعَیِیۡنَا بِالۡخَلۡقِ الۡاَوَّلِ ؕ بَلۡ ہُمۡ فِیۡ لَبۡسٍ مِّنۡ خَلۡقٍ جَدِیۡدٍ

‘আমি কি প্রথমবার সৃষ্টি করেই ক্লান্ত হয়ে পড়েছি বরং পুনঃসৃষ্টি বিষয়ে তারা সন্দেহ পোষণ করবে?’ (সূরা কাফ : ১৫)। এখানে تَجْدِيْدُ শব্দের মতই অর্থ প্রকাশ করে। যেমন পুনরুত্থিত করা (البعث), পুনর্জীবিতকরণ (الإحياء), পূর্বাবস্থায় আনয়ন (الإعادة)।[৯] এভাবে আল-কুরআনে শব্দটি ৬টি স্থানে বর্ণিত হয়েছে। সবস্থানে যা ‘নতুন সৃষ্টি’ অর্থে উল্লেখিত হয়েছে।[১০] অতএব ‘সংস্কার’ শব্দের শাব্দিক অর্থ হলো, পূর্বের অবস্থায় ফিরে যাওয়া বা পূর্বের অবস্থাকে পুনরুদ্ধার করা। আর এটি সম্পর্কের কোনও অতিরিক্ত বিকাশ নয় বরং এটি পুরানো সময়ের প্রত্যাবর্তন।[১১]

এছাড়া اَلتَّجْدِيْدُ শব্দটি ‘আল-ইয়াক্বযাহ’ (اَلْيَقْظَةُ), ‘আল-ইছলাহ’ (الْإصْلاَحُ), ‘আত-তাগয়ীর’ (اَلتَّغْيِيْرُ)[১২], ‘আল-হাদাছাহ’ (اَلْحَدَاثَةُ), ‘আল-ইসলাহুদ দীনী’ (اَلْإٍصْلَاحُ الدِّيْنِيُّ), ‘আন-নাহজাতুল ইসলামিয়্যাহ (اَلنَّهْضَةُ الْإِسْلَامِيْةُّ), ‘আত-তাতাওউরু’ (اَلتَّطَوُّرُ) ইত্যাদিও আরবীতে ব্যবহৃত হয়।[১৩] মূলত পুনর্গঠন (الإصلاح), পুনর্জাগরণ (النهضة), সংস্কার (التجديد) পরিভাষাগুলো প্রতিশব্দ’।[১৪]

‘সংস্কার’ শব্দটি সম+কৃ+অ(ভ) তথা (সম+কার) শব্দ থেকে উৎসারিত। এর অর্থ পতিত অবস্থা থেকে উদ্ধার, উৎকর্ষ সাধন, উন্নতি বিধান, ত্রুটি বা অপূর্ণতার সংশোধন ইত্যাদি।[১৫] ‘সংস্কার’ বা পুনর্গঠনের ইংরেজী রূপ হল, Reform, Reformation।[১৬] শব্দটি ক্রিয়াবাচক হলে অর্থ হবে To Improve a system, To Improve your behaviour. অর্থাৎ ‘কোন পদ্ধতির উন্নয়ন সাধন করা, তোমার আচরণের উন্নয়ন করা’। আর বিশেষ্যবাচক হলে অর্থ হবে, Change that is made to a social system, an organization, etc. in order to improve or correct it. অর্থাৎ ‘সামাজিক, সংস্থা বা অন্য কোন কিছুর পদ্ধতির পরিবর্তন সাধন করা। কোন কিছুর উন্নতি ও সংশোধনের নির্দেশনা’।[১৭] যদিও চতুর্র্দশ শতাব্দীতে ইংল্যান্ডের যাজক জন ওয়াইক্লিফ প্রথম সংস্কার আন্দোলন সূত্রপাত করেন। পরবর্তীতে জন ওয়াইক্লিফের পথ অনুসরণ করে জন হাস্ সংস্কার আন্দোলন এগিয়ে নেবার চেষ্টা করেন। ক্যাথলিক চার্চ তাকে নিবৃত করার চেষ্টা করে কিন্তু বিরত না হওয়ায় ধর্মদ্রোহিতার অভিযোগ এনে তাকে পুড়িয়ে মারা হয়।[১৮] সংস্কারের অন্য অর্থ হল- পুরাতনকে নতুনরূপে আবির্ভাব ঘটানো অর্থাৎ পুরাতনকে নতুনরূপে ফিরিয়ে আনা এবং সেখানে কোন কিছু পরিমার্জন, পরিবর্তন ও বিকৃত ছাড়াই যে জিনিস প্রথম অবস্থায় প্রত্যাবর্তন করানো হয় তাকেই সংস্কার বলা হয়।[১৯]

(দুই) দ্বীন

দ্বীন (الدين) শব্দটি আরবী دان (দানা) হতে নির্গত। এটি সমাপিকা ক্রিয়া ও অসমাপিকা ক্রিয়া হিসাবে ব্যবহৃত হয়। ফলে শব্দটি বিভিন্ন অর্থ প্রকাশ করে। এজন্য যখন ‘দ্বীন’ শব্দটি সমাপিকা ক্রিয়া হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তখন নিম্নোক্ত অর্থে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। যেমন, পরাক্রমশীলতা, কোনো কিছু জোর করে চাপিয়ে দেয়া; আধিপত্য, রাজত্ব, বাদশাহী; পুরস্কার, বৃত্তি, স্কলারশিপ, প্রতিদান; বিচার, হিসাব-নিকাশ, গণনা; আনুগত্য, বাধ্যগত, অনুগত; অভ্যাস, আচার-আচরণ; দাসত্ব, লাঞ্ছনা, নিয়ন্ত্রণ; সম্মান, সম্ভ্রম। অবাধ্যতা, আনুগত্যহীন। সেবা, পরিচর্যা, কর্তৃত্ব। শাসন। অবস্থা। আর যখন অসমাপিকা ক্রিয়া হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তখন এর সাথে কোনো কোনো অব্যয় যোগ করে একে সমাপিকা ক্রিয়া করা হয়। আর তখন অব্যয়ভেদে এর অর্থ হয়। ১. নিয়ম-নীতি, মাযহাব, পথ বা পন্থা হিসবে মেনে নেয়া। ২. আনুগত্য ও বিনয়-নম্রতা।[২০]

আদ-দ্বীন (الدين) শব্দটি সমাপিকা ক্রিয়া বা অসমাপিকা ক্রিয়া যেভাবেই ব্যবহৃত হোক না কেন, উপরিউক্ত অর্থগুলোর মাঝে পারস্পরিক একটা সম্পর্ক রয়েছে। দেখা যাচ্ছে যে, সকল ক্ষেত্রেই ‘আনুগত্য ও বশ্যতা স্বীকার’ অর্থটি প্রকাশ করছে।[২১] যেমনটি ড. সা‘উদ ইবনু ‘আব্দিল ‘আযীয আল-খালাফ বলেন, ‘যখন কোথাও আনুগত্য ও বশ্যতা পাওয়া যাবে সেখানেই কর্তৃত্ব ও ক্ষমতা থাকবে। যার মাধ্যমে এ আনুগত্য ও বশ্যতা পাওয়া সম্ভব।[২২]

‘দ্বীন’-এর পারিভাষিক অর্থে মুসলিম গবেষকগণ ‘দ্বীন’-এর পরিপূর্ণ সংজ্ঞা দিয়েছেন। কারণ তারা ‘দ্বীন’-কে বুঝেছেন কুরআন, সুন্নাহ ও বিভিন্ন দ্বীনের বাস্তবতা থেকে। তাদের সংজ্ঞাসমূহের মধ্যে প্রসিদ্ধ হচ্ছে, ‘আনুগত্য ও ‘ইবাদাতের উপযুক্ত একমাত্র আল্লাহর উপর বিশ্বাসের নাম দ্বীন’।[২৩] উল্লেখ্য, دين শব্দটির পূর্বে যখন ال দ্বারা নির্দিষ্ট করা হয়, তখন তা দ্বারা শুধু ইসলামকেই নির্দিষ্ট করা হয়। এজন্যই আল-কুরআন ও সুন্নাহয় বর্ণিত دين শব্দটির পূর্বে ال অব্যয় দ্বারা বিশেষিত করা হয়েছে। যার মৌলিক উদ্দেশ্য হলো ইসলাম। তাই অহী বা প্রত্যাদেশের মাধ্যমে প্রাপ্ত অহির বিধানকে দ্বীন বলা হয়।[২৪]

কুরআনুল কারীমে ‘দ্বীন’ শব্দটি সর্বমোট ৮০ (আশি) স্থানে ব্যবহৃত হয়েছে। তন্মধ্যে الدين শব্দটি ৪৭ বার, دين  ৯ বার, دينًا ৪ বার,دينكم  ১০ বার,دينهم  ১০ বার এসেছে।[২৫] এটি বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। যেমন,

১. আনুগত্য : মহান আল্লাহ বলেন, وَ مَنۡ اَحۡسَنُ دِیۡنًا مِّمَّنۡ اَسۡلَمَ  وَجۡہَہٗ لِلّٰہِ وَ ہُوَ مُحۡسِنٌ وَّ اتَّبَعَ مِلَّۃَ اِبۡرٰہِیۡمَ حَنِیۡفًا ؕ وَ اتَّخَذَ اللّٰہُ اِبۡرٰہِیۡمَ خَلِیۡلًا ‘তার চেয়ে দ্বীনে আর কে উত্তম যে সৎকর্মপরায়ণ হয়ে আল্লাহ্র নিকট আত্মসমর্পণ করে এবং একনিষ্ঠভাবে ইবরাহীমের আদর্শ অনুসরণ করে? এবং আল্লাহ ইবরাহীমকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করেছেন’ (সূরা আন-নিসা : ১২৫)। অন্যত্র মহান আল্লাহ বলেন,

قُلۡ  اِنِّیۡۤ اُمِرۡتُ اَنۡ  اَعۡبُدَ اللّٰہَ  مُخۡلِصًا  لَّہُ الدِّیۡنَ.

‘(হে নবী!) আপনি বলুন, আমি তো আদেশপ্রাপ্ত হয়েছি, আল্লাহ্র আনুগত্যে একনিষ্ঠ হয়ে তাঁর ইবাদত করতে’ (সূরা আয-যুমার : ১১)।

২. প্রতিদান ও হিসাব-নিকাশ : মহান আল্লাহ বলেন, اَرَءَیۡتَ  الَّذِیۡ یُکَذِّبُ بِالدِّیۡنِ ‘আপনি কি দেখেছেন তাকে, যে দ্বীনকে অস্বীকার করে?’ (সূরা আল-মা‘উন : ১)। আল্লাহ তা‘আলা আরও বলেন, کَلَّا  بَلۡ تُکَذِّبُوۡنَ بِالدِّیۡنِ  ‘না, কখনো না, তোমরা তো হিসাব-নিকাশকে অস্বীকার করে থাক’ (সূরা আল-ইনফিত্বার : ৯)।

৩. জীবন-ব্যবস্থা : মহান আল্লাহ বলেন, وَ مَنۡ یَّبۡتَغِ غَیۡرَ الۡاِسۡلَامِ دِیۡنًا فَلَنۡ یُّقۡبَلَ مِنۡہُ وَ ہُوَ فِی الۡاٰخِرَۃِ مِنَ الۡخٰسِرِیۡنَ ‘কেউ ইসলাম ছাড়া অন্য কোন দ্বীন গ্রহণ করতে চাইলে তা কখনো কবুল করা হবে না এবং সে হবে আখিরাতে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত’ (সূরা আলে ইমরান : ৮৫)। তিনি আরও বলেন, إِنَّ الدِّيْنَ عِنْدَ اللَّهِ الإسْلَامُ ‘নিঃসন্দেহে ইসলামই আল্লাহ্র নিকট একমাত্র দ্বীন’ (সূরা আলে ইমরান : ১৯)।

৪. মৌলিক আক্বীদা : মহান আল্লাহ বলেন,

شَرَعَ  لَکُمۡ مِّنَ الدِّیۡنِ مَا وَصّٰی بِہٖ نُوۡحًا وَّ الَّذِیۡۤ  اَوۡحَیۡنَاۤ  اِلَیۡکَ وَ مَا وَصَّیۡنَا بِہٖۤ  اِبۡرٰہِیۡمَ  وَ مُوۡسٰی وَ عِیۡسٰۤی اَنۡ  اَقِیۡمُوا الدِّیۡنَ وَ لَا تَتَفَرَّقُوۡا فِیۡہِ

‘তিনি তোমাদের জন্য বিধিবদ্ধ করেছেন দ্বীন; যার নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি নূহকে, আর যা আমি অহী করেছি আপনাকে এবং যার নির্দেশ দিয়েছিলাম ইবরাহীম, মূসা ও ‘ঈসাকে, এ বলে যে, আপনারা দ্বীনকে প্রতিষ্ঠিত করুন এবং তাতে মতভেদ করবেন না’ (সূরা আশ-শূরা : ১৩)।

৫. পথ ও পন্থা : মহান আল্লাহ আরও বলেন, لَکُمۡ  دِیۡنُکُمۡ  وَلِیَ  دِیۡنِ ‘তোমাদের দ্বীন তোমাদের, আমার দ্বীন আমার’ (সূরা আল-কাফিরূন : ৬)।

৬. হুকুম ও বিধান : মহান আল্লাহ বলেন, وَّ لَا تَاۡخُذۡکُمۡ بِہِمَا رَاۡفَۃٌ  فِیۡ  دِیۡنِ اللّٰہِ ‘আল্লাহ্র বিধান কার্যকরীকরণে তাদের প্রতি দয়া যেন তোমাদেরকে প্রভাবান্বিত না করে’ (সূরা আন-নূর : ২)। আরও এসেছে, مَا  کَانَ  لِیَاۡخُذَ اَخَاہُ فِیۡ  دِیۡنِ الۡمَلِکِ  اِلَّاۤ  اَنۡ  یَّشَآءَ  اللّٰہُ ‘রাজার বিধান অনুযায়ী তাঁর সহোদরকে তিনি আটক করতে পারতেন না, আল্লাহ ইচ্ছে না করলে’ (সূরা ইউসুফ : ৭৬)। তিনি আরও বলেন, وَ قَالَ فِرۡعَوۡنُ  ذَرُوۡنِیۡۤ  اَقۡتُلۡ مُوۡسٰی وَ لۡیَدۡعُ  رَبَّہٗ  اِنِّیۡۤ  اَخَافُ اَنۡ یُّبَدِّلَ دِیۡنَکُمۡ اَوۡ اَنۡ یُّظۡہِرَ فِی الۡاَرۡضِ الۡفَسَادَ ‘ফির‘আউন বলল, আমাকে ছেড়ে দাও আমি মূসাকে হত্যা করি এবং সে তার প্রতিপালকের শরণাপন্ন হোক। আমি আশংকা করি যে, সে তোমাদের দ্বীনের পরিবর্তন ঘটাবে অথবা সে পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করবে’ (সূরা গাফির : ২৬)।

৭. ক্বিয়ামত : মহান আল্লাহ বলেন,  إِنَّمَا تُوْعَدُوْنَ لَصَادِقٌ - وَإِنَّ الدِّيْنَ لَوَاقِعٌ ‘তোমাদেরকে প্রদত্ত প্রতিশ্রুতি অবশ্যই সত্য। ক্বিয়ামত অবশ্যম্ভাবী’ (সূরা আয-যারিয়াত : ৫-৬)।

অনুরূপভাবে হাদীছেও ‘দ্বীন’ শব্দটি উল্লেখিত হয়েছে। যেখানে ঈমান ও ইসলামের মূলনীতি এবং ইহসান ও তার প্রকারসমূহের উপর ‘দ্বীন’ শব্দটি দ্বারা মৌলিক নীতিমালাসমূহকে বুঝানো হয়েছে।[২৬]

ধর্মীয় সংস্কার’ (تجديد الدين)-এর পারিভাষিক বিশ্লেষণ (Terminology analysis of religious reform)

উপরোল্লিখিত আলোচনায় স্পষ্ট হয়েছে যে, ‘আদ-দ্বীন’ বলতে ‘ইসলাম’-কে বুঝানো হচ্ছে। সুতরাং আলোচ্য গবেষণাকর্মে ‘তাজদীদুদ দ্বীন’ বলতে আল্লাহর একমাত্র মনোনীত দ্বীন ‘ইসলাম’-এর মধ্যে বিলুপ্তপ্রায় বিধানাবলীর সংস্কারকে বুঝানো হয়েছে। এক্ষণে ধর্মীয় সংস্কারের পারিভাষিক বিশ্লেষণ কেমন হতে পারে সে ব্যাপারে নিম্নে আলোকপাত করা হলো:

(ক) মুহাম্মাদ ‘আব্দুর রাউফ আল-মুনাভী[২৭] (৯৫২-১০৩১ হি.) বলেন,

يجدد ما اندرس من أحكام الشريعة وما ذهب من معالم السنن وخفي من العلوم الدينية الظاهرة والباطنة

‘শরী‘আতের বিধানসমূহের মধ্যে যে বিধানগুলো মুছে গেছে, সুন্নাহ থেকে যা বিলুপ্ত হয়ে গেছে এবং দ্বীনের বাহ্যিক ও আভ্যান্তরীণ যে ‘ইলমসমূহ গোপন করা হয়েছে তাকে পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনাকে ধর্মীয় সংস্কার বলে’।[২৮] তিনি আরো বলেন,

يبين السنة من البدعة ويكثر العلم وينصر أهله ويكسر أهل البدعة ويذلهم

‘বিদ‘আত থেকে সুন্নাহকে সুস্পষ্ট করা, (সুন্নাহর) জ্ঞানকে বৃদ্ধি করা, তার অনুসারীদেরকে সহযোগিতা করা এবং বিদ‘আতীদের প্রচেষ্টা ভেঙ্গে দেয়া ও তাদেরকে লাঞ্ছিত করা’।[২৯]

(খ) ‘আল্লামা শামসুল হক ‘আযীমাবাদী[৩০] (১২৭৩-১৩২৯ হি.) বলেন,

إِحْيَاءُ مَا انْدَرَسَ مِنَ الْعَمَلِ بِالْكِتَابِ وَالسُّنَّةِ وَالْأَمْرُ بِمُقْتَضَاهُمَا وَإِمَاتَةِ مَا ظَهَرَ مِنَ الْبِدَعِ وَالْمُحْدَثَاتِ

‘কুরআন-সুন্নাহ ও ইজতিহাদের (মাধ্যমে ইস্তিম্বাতকৃত মাসাআলাগুলোর মধ্যে) যা বিলুপ্ত হয়ে গেছে, তার পুনুর্জীবিত করা এবং উদ্ভূত বিদ‘আতসমূহেকে দূরীভূত করাই হলো ‘ধর্মীয় সংস্কার’।[৩১]

(গ) ড. ইউসুফ ‘আব্দুল্লাহ আল-কারযাভী[৩২] (জ. ১৯২৬ খ্রি.) বলেন,

لا يعني أبدا التخلص من القديم أو محاولة هدمه وإنما الاحتفاظ به وترميم ما بلي منه وإدخال التحسينات عليه ولولا هذا ما سمي تجديدا لأن التجديد إنما يكون لشيء قديم فالتجديد يقتضي جملة أمور:  ১- الاحتفاظ بجوهر القديم وإبراز طابعه وخصائصه.  ২- ترميم ما بلي منه وتقوية ما ضعف من أركانه. ৩- إدخال تحسينات عليه لا تغير من صفته ولا تبدل من طبيعته

‘পুরাতন হওয়া থেকে সর্বদা মুক্তি দেয়া বা পুরাতনকে ধ্বংস করার প্রয়াস চালানো। মূলত তার স্বকীয়তায় সংরক্ষণ করা এবং যা নষ্ট হয়েছে তা পুনরুদ্ধার করা ও তার উপর অলঙ্কার পরানো। এটা যদি না করা হয়, তবে তাকে সংস্কার বলা যাবে না। এটা মূলত পুরাতন কোন বিষয়ের ক্ষেত্রে হয়। অতএব সংস্কার কয়েকটি বিষয় দাবী করে- (১) সনাতনের মূল অংশ সংরক্ষণ এবং তার মূল প্রকৃতি ও বৈশিষ্ট্যসমূহ প্রকাশ করা, (২) যা নষ্ট হয়ে গেছে তাকে পুনরুদ্ধার করা এবং তার যে সমস্ত রুকন দুর্বল হয়ে গেছে, তাকে শক্তিশালী করা, (৩) তার গুণাবলী ও স্বভাবকে পরিবর্তন-পরিবর্ধন না করেই তার উপর অলঙ্কার পরানো’।[৩৩]

(ঘ) মুহাম্মাদ ইবন শাকির আশ-শারীফ বলেন,

إعادة الدين على النحو الذي كان عليه زمن النبي –صلى الله عليه وآله وسلم-وإعادة الناس إليه على النحو الذي مضى عليه أهل القرون الثلاثة المفضلة؛ فينفى عنه تحريف الغالين وانتحال المبطلين وغلو المتنطعين وتفلت الفاسقين

‘নবী কারীম (ﷺ)-এর যুগে দ্বীন যেরূপ ছিল সেরূপ পুনরুদ্ধার করা এবং তিন যুগের সম্মানিত অধিবাসীগণ যার উপর চলেছিলেন, মানুষদেরকে সেদিকে ফিরিয়ে আনা। অতঃপর সীমালঙ্ঘনকারীদের রদবদল, বাতিলদের মিথ্যারোপ, চরমপন্থীদের বাড়াবাড়ি এবং ফাসিকদের দুর্বলতাকে দূরীভূত করা (হলো ধর্মীয় সংস্কার)’।[৩৪]

(ঙ) প্রখ্যাত লেখক মুহাম্মাদ হাস্সানাইন[৩৫] বলেন,

فالتجديد عبارة عن العودة بالشيء إلى حالته الأولى قبل أن يصيبه البلى

‘সংস্কার হলো কোনকিছুর মাধ্যমে প্রথমাবস্থায় ফিরে আসা, সেটা ধ্বংসে পতিত হওয়ার পূর্বেই’। আর এ অর্থটি আল-কুরআনের নিম্নোক্ত আয়াতের বক্তব্য দ্বারা গৃহীত হয়েছে।[৩৬] মহান আল্লাহ বলেন, وَ قَالُوۡۤاءَ اِذَا کُنَّا عِظَامًا  وَّ  رُفَاتًاءَ اِنَّا  لَمَبۡعُوۡثُوۡنَ  خَلۡقًا جَدِیۡدًا ‘তারা বলে, আমরা অস্থিতে পরিণত ও চূর্ণ-বিচূর্ণ হলেও কি নতুন সৃষ্টিরূপে পুনরুত্থিত হব?’ (সূরা বানী ইসরাঈল: ৪৯)।

(চ) ড. ‘আব্দুল ‘আযীয মুখতার ইবরাহীম আল-আমীন বলেন,

تجديد العقيدة يعني العودة بالأمة إلى ما كان عليه السلف الصالح من الاعتقاد الصحيح الموافق للكتاب والسنة، وفهمهما على منهج السلف الصالح.  وتجديد الشريعة والفقه يعني إحياء الحركة العلمية المبنية على الاستدلال والاستنباط من الكتاب والسنة، وفق قواعد الاستدلال عند الأئمة الأربعة وغيرهم ممن جاء بعدهم من أئمة الهدى، والسير على منهجهم وطريقتهم

‘(ধর্মীয় সংস্কার হলো) ‘আক্বীদাহর সংস্কার অর্থাৎ আল-কুরআন ও সুন্নাহ মোতাবেক সঠিক ‘আক্বীদাহ তথা সালফে সালিহীনের দিকে ফিরে যাওয়া এবং তাদের পদ্ধতি অনুযায়ী শরী‘আতের আহকামগুলো বুঝা। অতঃপর শরী‘আত ও ফিক্বহের সংস্কার অর্থাৎ আল-কুরআন ও সুন্নাহ ভিত্তিক মাসআলা ইস্তিম্বাত ও দলীলাদির অপরিবর্তনীয় ‘ইলমের পুনরুদ্ধার করা। দলীল গ্রহণের ক্ষেত্রে কোন মাযহাবকে অন্য কোন মাযহাবের উপর প্রাধান্য না দিয়ে চার ইমাম এবং পরবর্তীতে তাদের অনুসারী সুপথপ্রাপ্ত ইমামগণের পথ ও পদ্ধতির অনুসরণ করার পদ্ধতির পুনর্জাগরণই ধর্মীয় সংস্কার’।[৩৭]

(ছ) প্রতিষ্ঠিত সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থাকে বহাল রেখে তার দোষত্রুটি সংশোধনের জন্য গৃহীত কর্মকাণ্ডকে ‘সংস্কার’ (Reform) বলে।[৩৮]

অতএব দ্বীনের সার্বিক সংস্কারই ধর্মীয় সংস্কার। অর্থাৎ আল্লাহ তা‘আলা প্রদত্ত পরিচ্ছন্ন ও পরিপূর্ণ দ্বীনের উপর পতিত ও আরোপিত আবর্জনা দূরীকরণ এবং আসল রূপকে উন্মুক্তকরণ। ‘আক্বীদাহ, ‘আমল, সভ্যতা-সংস্কৃতি, শিক্ষা-সাহিত্য, রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজনীতি, পারিবারিক নীতি ও পদ্ধতি, রাষ্ট্রনীতি ও শিল্প ইত্যাদি সহ সকল ক্ষেত্রে ইসলামের আলোকে সংস্কারই ধর্মীয় সংস্কার।

(ইনশাআল্লাহ চলবে)


* শিক্ষক, আল-জামি‘আহ আল-ইসলামিয়্যাহ, খড়খড়ি, রাজশাহী।

তথ্যসূত্র :
[১]  ড. মুহাম্মদ ফজলুর রহমান, আল-মু‘জামুল ওয়াফী, (আধুনিক আবরী-বাংলা অভিধান), (ঢাকা : রিয়াদ প্রকাশনী, তৃতীয় সংস্করণ সেপ্টেম্বর ২০০৬), পৃঃ ২০৭।
[২]  মুহাম্মাদ ইবনু মুকাররম ইবনু মানযূর আল-আফরীকী, লিসানুল ‘আরাব, ৩য় খণ্ড (বৈরূত : দারু সাদির, ১ম সংস্করণ তা.বি.), পৃ. ১০৭; ইবরাহীম মুসতফা ও তার সাথীবৃন্দ, আল-মু‘জামুল ওয়াসীত, ১ম খণ্ড (প্রকাশস্থান বিহীন : দারুদ দা‘ওয়াহ, তা.বি.), পৃ. ১০৯।
[৩] তাহির আহমাদ আয-যাভী, তারতীবুল কামূসিল মুহীত ‘আলা তরীকাতিল মিসবাহিল মুনীর ওয়া আসসাসুল বালাগাহ, ১ম খণ্ড (প্রকাশস্থান বিহীন : দারু ঈসা আল-বাবী আল-হালাবী, ২য় সংস্করণ, তা.বি.), পৃ. ৪৫৪।
[৪] মুহাম্মাদ ইবনু আবী বাকর ইবনু ‘আব্দিল কাদির আর-রাজী, মুখতারুস সিহ্হাহ (বৈরূত : মাকতাবাতুল লিবানান লিন নাশিরূন, ১৪১৫ হি./১৯৯৫ খ্রি.), পৃ. ১১৯; লিসানুল ‘আরব, ৩য় খণ্ড, পৃ. ১০৭; আবুল হাসান ইবনু ‘আলী ইবনু ইসমা‘ঈল ইবনু সীদাহ আল-মুরসী, আল-মুহকামু ওয়াল মুহীতুল ‘আজম, ৭ম খণ্ড (বৈরূত : দারুল কুতুবিল ‘ইলমিয়্যাহ, ২০০০ খ্রি.), পৃ. ১৮৬।
[৫]  জাওহারী খাজাখস্তানের নাইসাপুরে জন্মগ্রহণ করেন। নাম- আবূ নাসর ইসমা‘ঈল ইবন হাম্মাদ আল-জাওহারী। তিনি একজন বিখ্যাত ‘আলিম ও আরবী অভিধানবিদ ছিলেন। ‘তাজুল লুগাহ ওয়া সিহ্হাউল ‘আরাবিয়্যাহ’ নামে আরবী অভিধান প্রণয়ন করে খ্যাতি লাভ করেন। যা ‘আস-সিহ্হাহ’ নামে সমধিক পরিচিত। এই অভিধানটি বৈরূত এর ‘দারুল ‘ইলম লিল মালায়ীন’ থেকে ৬ খণ্ডে প্রকাশিত হয়েছে। দ্রষ্টব্য : https://ar.wikipedia.org/wiki/إسماعيل_بن_حماد_الجوهري
[৬] ইসমা‘ঈল ইবনু হাম্মাদ আল-জাওহারী, আস-সিহহাহু তাজুল লুগাহ ওয়া সিহহাহুল ‘আরাবিয়্যাহ, ২য় খণ্ড (বৈরূত : দারুল ‘ইলমি ওয়াল মালায়ীন, ৪র্থ সংস্করণ ১৪০৭ হি./১৯৮৭ খ্রি.), পৃ. ৪৫৪; লিসানুল ‘আরব, ৩য় খণ্ড, পৃ. ১০৭; মুখতারুস সিহ্হাহ, পৃ. ১১৯।
[৭]  আল-ফাইয়ূমী মিশরের ফাইয়ূম নামক এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন। নাম-আহমাদ ইবন মুহাম্মাদ ইবন ‘আলী আল-মুকরী। তবে তিনি আবুল ‘আব্বাস আল-ফাইয়ূমী নামে সমধিক পরিচিত। তিনি ‘আল-মিসবাহুল মুনীর ফী গারীবিশ শারহিল কাবীর’ সহ আরো কয়েকটি গ্রন্থ রচনা করেন। দ্রষ্টব্য : https://ar.wikipedia.org/wiki/ أبو_العباس_الفيومي.
[৮]  আহমাদ ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু ‘আলী আল-মাকরী আল-ফাইয়ূমী, আল-মিসবাহুল মুনীর ফী গারীবিশ শারহিল কাবীর লির রাফি‘ঈ, ১ম খণ্ড (বৈরূত : আল-মাকতাবুল ‘ইলমিয়্যাহ, তা.বি.), পৃ. ৯২ ।
[৯]  মুহাম্মাদ আল-আমীন ইবনু মুহাম্মাদ ইবনুল মুখতার আশ-শানকীতী, আযওয়াউল বায়ান ফী ইযাহিল কুরআন বিল কুরআন, ৭ম খণ্ড (বৈরূত : দারুল ফিক্র, ১৯৯৫ খ্রি.), পৃ. ৫৩।
[১০]  সূরাহ আর-রা‘দ : ৫; সূরাহ ইবরাহীম : ১৯; সূরাহ আস-সিজদাহ : ১০; সূরাহ সাবা : ৭; সূরাহ ফাতির : ১৬; সূরাহ কাফ :১৫ ।
[১১] তাজদীদুদ দ্বীন : মাফহূমুহু ওয়া যাওয়াবিতুহু ও আছারুহু, পৃ. ১৮। عودة إلي ما سبق أو إن صحت العبارة ترميم ما سبق. فالتجديد ليس تطور إضافيا في العلاقة وإنما عودة إلي سابق العهد.
[১২] তাজদীদুদ দ্বীন : মাফহূমুহু ওয়া যাওয়াবিতুহু ও আছারুহু, পৃ. ৩২।
[১৩] জা‘দ মুহাম্মাদ ‘আব্দুল ‘আযীয, আসরুল হাযারাতুল গারবিয়্যাহ ‘আলাল মুজতামি‘আতিল ইসলামিয়্যাহ (দারুস সালাম, ১ম সংস্করণ ২০১০ খ্রি.), পৃ.১৩৫; মুহাম্মাদ ‘আমারাহ, তাজদীদুদ দুনইয়া বিতাজদীদিদ দীন (মিশর : নাহজাতুল মিসর, ২০০৫ খ্রি.), পৃ. ১৩; তারিক বুশরা, মা-হিয়াতুল মা‘আসারাহ (কায়রো : দারুশ শুরূক, ৩য় সংস্করণ ২০০৭ খ্রি.), পৃ. ২৪-২৬; আল-হাসান আল-‘আলামী, তাজদীদুল ফিকর আল-ইসলামী (মাকতাবাতুত তুরাস আল-ইসলামী, ১ম সংস্করণ ২০০৩ খ্রি.), পৃ. ১৮১-১৮২; সামীহ ‘আতীফ আয-যাইন, আছ-ছাকাফাতু ওয়াছ ছাকাফাতুল ইসলামিয়্যাহ (বৈরূত : দারুল কিতাবিল লুবনানী, ২য় সংস্করণ ১৯৭৯ খ্রি.), পৃ. ৭৫ ।
[১৪] তাজদীদুদ দ্বীন : মাফহূমুহু ওয়া যাওয়াবিতুহু ও আছারুহু, পৃ. ৩১।
[১৫]. শৈলন্দ্র বিশ্বাস, সংসদ বাংলা অভিধান, (কলকাতা : সাহিত্য সংসদ, ৩২ এ আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রোড, কলকাতা ৭০০০০৯, ৪র্থ সংস্করণ ও পুনঃমুদ্রণ ২০১০), পৃঃ ৫৬২।
[১৬]  Zillur Rahman Siddiqui, Bangla Academy English-Bengali Dictionary, (Dhaka : Bangla Academy, Twenty ninth Reprint, July 2005), P. No : 647.
[১৭]  A S Hornby, Oxford Advanced Learner's Dictionary of Current English (United Kingdom : Oxford university Press, Ninth edition 2015), p-1295.
[১৮]  অধ্যাপক ফজলুর রহমান, সেকুলারিজম (ঢাকা : প্রত্যয় প্রকাশনী, ৩য় সংস্করণ ২০১৫), পৃ. ৪০-৪২।
[১৯]  إعادة القديم ورَدُّه إلى ما كان عليه أوَّلَ أمرِه وليس تعديلَه أو تبديله أو تغييره-দাওরুল ঊলামা ফী তাজদীদুদ দ্বীন দ্র. https://www.alukah.net/sharia/0/30703/.
[২০] লিসানুল আরব, ৪র্থ খণ্ড, পৃ. ৪৫৮-৪৬২; মুহাম্মাদ ইবন্ ফারেস, মু‘জামু মাক্বাইসুল লুগাহ, ১ম খণ্ড (বৈরূত : তা.বি.), পৃ. ৩৪২; ইসমাঈল ইবনে হাম্মাদ আল-জাওহারী, আস-সিহাহ, ৫ম খণ্ড (বৈরূত : দারুল গারব, তা.বি.), পৃ. ২১১৮; মুহাম্মাদ ইবনু ইয়া‘কূব আল-ফীরোযাবাদী, আল-কামূসুল মুহীত্ব (বৈরূত : মুওয়াস্সাসাতুর রিসালাহ, তা.বি.), পৃ. ১৫৪৬।
[২১] মু‘জামু মাক্বায়িসিল লুগাহ, ২য় খণ্ড, পৃ. ৩১৯।
[২২] أن الدين يتضمن علاقة بين إثنين فيها إنقياد وخضوع وتسلط وقهر من أحدهما للأخر-সা‘উদ ইবন্ আব্দুল আযীয আল-খালাফ, দিরাসাতুন ফিল আদইয়ান আল-ইয়াহূদিয়্যাহ ওয়ান নাসরানিয়্যাহ (রিয়াদ : মাকতাবাতু আযওয়াইস সালাফ, ১ম সংস্করণ, ১৪২২ হি.), পৃ. ৯; ড. আব্দুল্লাহ দারায, আদ-দ্বীন (কুয়েত : দারুল কালাম, ১৪১০ হি.), পৃ. ৩১।
[২৩] আদ-দ্বীন, পৃ. ৩১।
[২৪] আদ-দ্বীন, পৃ. ৩১।
[২৫] মুহাম্মাদ ফুয়াদ ‘আব্দুল বাকী (সংকলন), আল-মু‘জামুল মুফাহ্হারাস লি আলফাযিল কুরআনিল কারীম (কায়রো : দারুল হাদীস, ১৪২৮ হি./২০০৭ খ্রি.), পৃ. ৩২৯-৩৩০।
[২৬] সহীহ মুসলিম, পৃ. ২৮, হা/৮ ‘ঈমান’ অধ্যায়-১, অনুচ্ছেদ-১; সুনানু আবী দাঊদ, পৃ. ৮৪৮, হা/৪৬৯৫; মুসনাদুল ইমাম আহমাদ ইবনু হাম্বাল, ১ম খণ্ড, পৃ. ৫১, হা/৩৬৭; জামি‘উল উসূল ফী আহাদীসির রাসূল, ১ম খণ্ড, পৃ. ২০৮, হা/২; আল-আহকামুশ শার‘ইয়্যাহ আল-কুবরা, ১ম খণ্ড, পৃ. ৬৮, ২২৭; মিশকাতুল মাসাবীহ, ১ম খণ্ড, পৃ. ১, হা/২।
[২৭] মুহাম্মাদ ‘আব্দুর রাউফ আল-মুনাভী ৯৫২ হিজরীতে মিশরের কায়রোতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১০৩১ হিজরীতে সেখানেই ইন্তিকাল করেন। মূল নাম হলো- মুহাম্মাদ ‘আব্দুর রঊফ ইবন তাজ আল-‘আরিফীন ইবন ‘আলী ইবন জায়নুল ‘আবিদীন আল-মুনাভী আল-কাহিরী। তবে তিনি ‘আল-মুনাভী’ নামে সমধিক পরিচিত। তিনি ছোট-বড় মিলিয়ে ৮০টির মত গ্রন্থ প্রণয়ন করেছেন। তবে ইমাম সুয়ূতী (রহ.) প্রণীত ‘আল-জামি‘উ আস-সাগীর মিন আহাদীসি আল-বাশাইর আন-নাজীর’ গ্রন্থের ব্যাখ্য গ্রন্থ ‘ফায়যুল কাদীর’ রচনা করে খ্যাতি লাভ করেন। দ্রষ্টব্য : https://ar.wikipedia.org/wiki/محمد_عبد_الرؤوف_المناوي
[২৮] মুহাম্মাদ ‘আব্দুর রাউফ আল-মানাভী, ফায়যুল কাদীর, ১ম খণ্ড (বৈরূত : দারুল কুতুবিল ‘ইলমিয়্যাহ, ১ম সংস্করণ, ১৪১৫ হি./১৯৯৪ খ্রি.), পৃ. ১৪।
[২৯] প্রাগুক্ত, ২য় খণ্ড, পৃ. ৩৫৭  ।
[৩০] মূল নাম- আবুত তাইয়িব মুহাম্মাদ শামসুল হক ইবন আমীর ‘আলী ইবন মাকসূদ আস-সিদ্দীকী আল-‘আযীমাবাদী। তিনি ভারতের একজন বিখ্যাত মুহাদ্দিছ ও মুহাক্কিক ছিলেন। নাযীর হুসাইন দেহলভী, হুসাইন ইবন মুহসিন আল-আনসারী, ফাজলুল্লাহ লাক্ষেèৗয়ী, বাশীরুদ্দীন কানূজী, লুতফুল ‘আলী বিহারী এবং ‘আব্দুল লতীফ সিদ্দীকী প্রভৃতি শিক্ষকের নিকট থেকে তিনি ‘ইলম অর্জন করেন। তিনি সুনানু আবী দাঊদের ব্যাখ্যা গ্রন্থ ‘আওনুল মা‘বূদ’ রচনা করে বিশ্বব্যাপী প্রসিদ্ধ অর্জন করেন। এতদ্ব্যতীত তিনি প্রায় ১৬টি মূল্যবান গ্রন্থ রচনা করেন। তিনি ১৩২৯ হিজরীর  রবীউল আওয়াল মাসের ১৯ তারিখে ইন্তিকাল করেন। দ্রষ্টব্য : https://ar.wikipedia.org/wiki/محمد_شمس_الحق_العظيم_آبادي
[৩১] শামসুল হক আল-‘আযীম আবাদী আবুত তাইয়িব, ‘আওনুল মা‘বূদ শারহু সুনানি আবী দাঊদ, ১১তম খণ্ড (বৈরুত : দারুল কুতুবিল ইলমিইয়াহ, ১৪১৫ হি.), পৃ. ২৬০; তাজদীদুদ দ্বীন : মাফহূমুহু ওয়া যাওয়াবিতুহু ও আছারুহু, পৃ. ১৯।
[৩২] ড. ইউসুফ ‘আব্দুল্লাহ আল-কারযাভী একজন মিশরীয় বিখ্যাত ইসলামিক স্কলার। ইসলামের বিভিন্ন বিষয়ে লেখা তার প্রায় ১৭০টি গ্রন্থ রয়েছে। সবগুলোই পাঠক মহলে ব্যাপক সমাদৃত হয়েছে। ‘আল-জাজিরা টেলিভিশনে’ ‘শরী‘আহ এবং জীবন’ নামক এক অনুষ্ঠান তাঁকে পৃথিবীব্যাপী পরিচিত করে তোলে। তিনি মিশরভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংগঠন ‘মুসলিম ব্রাদারহুড’ এর পরামর্শক। তিনি ‘আল-ইত্তিহাদ আল-‘আলামী লি ‘উলামাইল মুসলিমীন’ নামক সংগঠনের প্রধান ছিলেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য কিছু গ্রন্থ হলো- আল-হালাল ওয়াল হারাম ফিল ইসলাম, মিন ফিকহিদ দাওলাতি ফিল ইসলাম, ফিকহুল জিহাদ, ফিকহুয যাকাত, ফিকহুত তাহারাত, ফিকহুস সিয়াম, আল-ইজতিহাদ ফিশ শার‘আীতিল ইসলামিয়্যাহ, আল-মাদখালু লিদ দিরাসাতিশ শারী‘আাতিল ইসলামিয়্যাহ, হাক্বীক্বাতুত তাওহীদ ইত্যাদি। দ্রষ্টব্য : https://ar.wikipedia.org/wiki/يوسف_القرضاوي
[৩৩] ড. ইউসুফ ‘আব্দুল্লাহ আল-কারযাভী, আল-ফিক্বহুল ইসলামী বায়নাল আসালাতি ওয়াত তাজদীদ (কায়রো : মাকতাবাতু ওয়াহবাহ, ২য় সংস্করণ, ১৪২৪ হি.), পৃ. ২৯-৩০। 
[৩৪] মুহাম্মাদ ইবন শাকির আশ-শারীফ, তাজদীদুল খাত্ত্বাব আদ-দ্বীনী বাইনাত তা’সীলি ওয়াত তাহরীফ (রিয়াদ : মাজাল্লাতুল বায়ান, ১ম সংস্করণ, ১৪১৫ হি./২০০৪ খ্রি.), পৃ. ১৩। 
[৩৫] মুহাম্মাদ হাস্সানাইন উম্মুল কোরা, মক্কা আল-মুকাররমার কুল্লিয়া বিভাগের শিক্ষক।
[৩৬] তাজদীদুদ দ্বীন : মাফহূমুহু ওয়া যাওয়াবিতুহু ও আছারুহু, পৃ. ১৯।
[৩৭] ড. ‘আব্দুল ‘আযীয মুখতার ইবরাহীম আল-আমীন, মাজাল্লা-তুত তাজদীদ ফিদ দ্বীন ‘আরযীন ও তাকভীম (সা‘ঊদী ‘আরব : মাকতাবাতুর রুশদ, ১ম সংস্করণ, ২০১১ খ্রি.), পৃ. ১৪ ও ৩৩।
[৩৮]  হারুনুর রশীদ, রাজনীতিকোষ (ঢাকা : মাওলা ব্রাদার্স, তৃতীয় মুদ্রণ, জানুয়ারী ২০০৮ খ্রি.), পৃ. ৩৭৫।




প্রসঙ্গসমূহ »: সমাজ-সংস্কার
কোটা নয়, মেধাই হোক প্রকৃত মূল্যায়ন - ড. মুহাম্মাদ বযলুর রহমান
ইসলামী রাষ্ট্রে আইন ও বিচার ব্যবস্থার স্বরূপ - হাসিবুর রহমান বুখারী
ধর্মীয় সংস্কারের স্বরূপ ও প্রকৃতি (২য় কিস্তি) - ড. মুহাম্মাদ বযলুর রহমান
শী‘আ মতবাদের স্বরূপ ও তাদের বিভ্রান্তি (শেষ কিস্তি) - অনুবাদ : ড. মো: আমিনুল ইসলাম
মুসলিমদের সাহায্য করা ও তার পদ্ধতি - শায়খ মতিউর রহমান মাদানী
উপদেশ প্রদানের আদব ও শর্তসমূহ - আল-ইখলাছ ডেস্ক
দারস-তাদরীস ও ইলমী হালাকার পুনর্জাগরণ: বাস্তবতা, সংকট ও দাওয়াতী রূপরেখা - আব্দুল হাকীম বিন আব্দুল হাফীজ
রাফেযী শী‘আদের বিভ্রান্তি: মুসলিম উম্মাহর জন্য বিষফোঁড়া - ড. মুহাম্মাদ বযলুর রহমান
কালজয়ী লেখনীর ইতিকথা - আযহারুল ইসলাম
ধর্মীয় সংস্কারের স্বরূপ ও প্রকৃতি - ড. মুহাম্মাদ বযলুর রহমান
ইসলামী রাষ্ট্রে আইন ও বিচার ব্যবস্থার স্বরূপ - হাসিবুর রহমান বুখারী
ইসকনের বর্বরতা, ভারতে মুসলিম বিদ্বেষ অখণ্ড ভারত প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন - তানযীল আহমাদ

ফেসবুক পেজ