উত্তর : ইসলামে চিকিৎসা গ্রহণ বৈধ; তবে চিকিৎসার কার্যকারিতা আল্লাহর ইচ্ছার উপর নির্ভরশীল, এ বিশ্বাস থাকা আবশ্যক। তাই কোন কবিরাজের ওষুধ, ভেষজ বা অভিজ্ঞতার মাধ্যমে চিকিৎসা নেয়া হারাম নয়, যদি তা শরী‘আতসম্মত ও বৈধ উপায়ে হয়। কিন্তু যদি বিশ্বাস করা হয় যে, কবিরাজ নিজেই অদৃশ্যভাবে রোগ সারিয়ে দিতে পারে, জিন-ভূত নিয়ন্ত্রণ করে, তাবীয-কবচ, শিরকী মন্ত্র, গণনা, নক্ষত্র, ভাগ্য বা অজানা শক্তির মাধ্যমে রোগমুক্তি দেয়, তবে এ বিশ্বাস হারাম; বরং অনেক ক্ষেত্রে তা শিরক পর্যন্ত পৌঁছে যায়। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, وَ اِذَا مَرِضۡتُ فَہُوَ یَشۡفِیۡنِ ‘আর আমি যখন অসুস্থ হই, তখন তিনিই (আল্লাহ) আমাকে সুস্থ করেন’ (সূরা আশ-শূ‘আরা : ৮০)। তিনি আরও বলেন, قُلۡ لَّنۡ یُّصِیۡبَنَاۤ اِلَّا مَا کَتَبَ اللّٰہُ لَنَا ‘(হে নবী!) আপনি বলুন, আল্লাহ আমাদের জন্য যা নির্ধারণ করেছেন, তা ছাড়া অন্য কিছু আমাদের কাছে পৌঁছবে না’ (সূরা আত-তাওবাহ : ৫১)। এসব আয়াত থেকে স্পষ্ট হয় যে, প্রকৃত উপকার ও ক্ষতির মালিক একমাত্র আল্লাহ। চিকিৎসক, কবিরাজ বা ওষুধ কেবল মাধ্যম।
আবূ হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেন, تَدَاوَوْا، فَإِنَّ اللهَ لَمْ يَضَعْ دَاءً إِلَّا وَضَعَ لَهُ دَوَاءً ‘তোমরা চিকিৎসা গ্রহণ কর। কেননা আল্লাহ এমন কোন রোগ সৃষ্টি করেননি, যার জন্য তিনি চিকিৎসাও সৃষ্টি করেননি’ (আবূ দাঊদ, হা/৩৮৫৫; তিরমিযী, হা/২০৩৮, সনদ ছহীহ)। অন্য হাদীছে এসেছে, مَنْ أَتَى عَرَّافًا فَسَأَلَهُ عَنْ شَيْءٍ، لَمْ تُقْبَلْ لَهُ صَلَاةٌ أَرْبَعِينَ لَيْلَةً ‘যে ব্যক্তি কোন গণক বা ভাগ্যবক্তার কাছে গিয়ে কিছু জিজ্ঞাসা করবে, তার চল্লিশ দিনের ছালাত কবুল হবে না’ (ছহীহ মুসলিম, হা/২২৩০)। আরও কঠোরভাবে এসেছে, ‘যে ব্যক্তি কোন জ্যোতিষী বা গণকের কাছে গিয়ে তার কথাকে সত্য বলে বিশ্বাস করল, সে মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর ওপর অবতীর্ণ বিধানের সাথে কুফরী করল’ (আহমাদ, হা/৯৫৩২; আবূ দাঊদ, হা/৩৯০৪, সনদ ছহীহ)।
প্রশ্নকারী : সাব্বির, কাঁচপুর, ঢাকা।